১
শিয়াদের আকীদা-বিশ্বাস
লেখকঃ আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আস সালাফী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৩
রাজা‘আত বা পুর্নজন্ম সম্পর্কে রাফেযীদের বিশবাস
রাফেযীরাই সর্ব প্রথম রাজা‘আতের বিষয়টি আবিস্কার করে। আল-মুফীদ বলেন, ‘‘বহু মৃত ব্যক্তির রাজা‘আত তথা পুর্নজন্ম নিয়ে ফিরে আসার ব্যাপারে ইমামীগণ ঐক্যমত হয়েছেন।’’
আর এটি হচ্ছে এই যে, তাদের সর্বশেষ ইমাম শেষ যামানায় পুর্নজন্ম নিয়ে ফিরে আসবে। সিরদাব নামক স্থান হতে বের হবে এবং রাজনৈতিকদের মধ্যে যারা তাদের বিরোধী থাকবে তাদের সকলকে হত্যা করবে। যুগ যুগ ধরে তাদের যে অধিকার বিভিন্ন দল হরণ করে আসছিল, শিয়াদের নিকট তিনি তা ফিরিয়ে দিবেন।
সৈয়দ মুরতাযা ‘‘আল-মাসায়েলুন নাসেরিয়াহ্’’ গ্রন্থে বলেন, নিশ্চয় আবু বকর রা. ও ওমর রা.-কে তাদের বারোতম ইমাম, ইমাম মাহদীর যামানায় একটি গাছে ফাঁসি দেবে। ফাঁসিতে ঝুলানোর পূর্বে গাছটি থাকবে কাঁচা। ফাঁসিতে ঝুলানোর পর গাছটি শুকিয়ে যাবে।
আল-মাজলেসী ‘‘হাক্কুল ইয়াক্বীন’’ গ্রন্থে মুহাম্মাদ আল-বাকের এর উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘‘যখন ইমাম মাহদী আত্ম প্রকাশ করবেন তখন তিনি উম্মুল মু‘মিনীন আয়েশা রা.-কে পূনরায় জীবিত করবেন এবং তার উপর হদ্দ (ব্যভিচারের শাস্তি) কায়েম করবেন।’’
এভাবেই তাদের মধ্যে পুর্নজন্ম রহস্য বিস্তার লাভ করলে, তারা বলতে শুরু করে যে, সমস্ত শিয়া ও তাদের ইমাম ও ইমাম বিরোধিরা রাজা‘আত তথা পুর্নজন্ম নিবে। মূলত এরূপ ভ্রান্ত বিশ্বাসীরা মানুষের অন্তরে হিংসার বিষ ছড়াচ্ছে। এটা সাবায়ী গ্রুপের পরকাল অস্বীকার করার একটি অপকৌশল মাত্র। প্রকৃতপক্ষে শী’আরা তাদের বিরোধিদের থেকে প্রতিশোধ গ্রহণের জন্যই রাজা‘আতের ন্যায় ভ্রান্ত বিশ্বাসের চালু করেছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে যে, কারা শিয়াদের বিরোধী?
নিন্মোক্ত বর্ণনা দ্বারা আহলে সুন্নাতের উপর রাফেযীদের হিংসা-বিদ্বেষ ও ইহুদ ও নাছারাদের সাথে তাদের বন্ধুত্বের ভাব স্পষ্ট প্রমাণিত হয়। আল-মাজলেসী ‘‘বেহারুল আনওয়ার’’ গ্রন্থে উল্লেখ করেন ‘‘আবু আব্দুল্লাহ্ বলেন, হে আবু মুহাম্মাদ! আমি দেখছি যে, ইমাম মাহদী তার পরিবার-পরিজন নিয়ে সাহ্লাহ্ মসজিদে অবতরণ করবেন ...।
অতএব সন্ধি চুক্তিতে আবদ্ধদের (ইহুদ ও খৃষ্টানদের) বিষয়টি তার নিকট কিরূপ হবে? তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে যেভাবে তারা জিযয়া দিয়েছে, সেভাবে তাকেও তারা জিযয়া দেবে। তিনি বলেন, আমি বললাম, অতএব আপনাদের শত্রু নাসেবীদের (আহলে সুন্নাতের) অবস্থা কি হবে? তিনি বলেন, যে আমাদের দেশে আমাদের নীতির ব্যতিক্রম করবে তাদের কোন অংশই থাকবে না। নিশ্চয় আল্লাহ্ তা‘আলা আমাদের কায়েম তথা ইমাম মাহদী আগমনের সময় তাদের রক্ত আমাদের জন্য বৈধ করে দিয়েছেন। বর্তমানে যা আমাদের ও তোমাদের উপর হারাম করা হয়েছে। অতএব তোমাদের মধ্যে কেউ যেন প্রবঞ্চিত না হয়। যখন আমাদের কায়েম তথা ইমাম মাহদী আসবেন তখন তিনি আল্লাহ্, তাঁর রাসূল ও আমাদের সকলের পক্ষ হতে প্রতিশোধ গ্রহণ করবেন।
ভেবে দেখুন হে মুসলিম জাতি! শিয়াদের মাহদী কিভাবে ইহুদী ও নাছারাদের নিকট হতে জিযয়া তথা কর আদায় করবে। আর তাদের নীতি বিরোধী তথা আহলে সুন্নাতের রক্ত বৈধ ঘোষণা করবে। কেউ হয়তবা বলতে পারে যে, এটা তাদের জন্য যারা আহলে বায়তের সাথে হিংসা করে। আর প্রকৃতপক্ষে আহলে সুন্নাতেরা কখনই আহলে বায়তের প্রতি হিংসার মনোভাব পোষণ করে না। অতএব রাফেযীরা মাহদীর পক্ষ হতে যে শাস্তির ঘোষণা দেয়, তা মূলত আহলে সুন্নতের জন্য নয়। এ ব্যাপারে আমাদের বক্তব্য হচ্ছে, এর উদ্দেশ্য মূলত আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতই। নাসেবী বলতে রাফেযীরা এদেরকেই বুঝায়। এ বিষয়ে আরো বিস্তারিত জানতে চাইলে হুসাইন আলে উছফুর আল দারাজী আল বাহরাইনী কৃত ‘‘আল মাহাসিনুন নাফসানিয়াহ্’’ ও ইউসূফ আল বাহরানীর ‘‘আশ্শিহাবুছ ছাকেব ফী বায়ানি মা‘নান্নাসেব’’ নামক বইটি পড়ুন। আল্লাহ তাআলা বলেন :
(আরবি)
‘‘নিশ্চয় যারা তাদের দীনকে বিচ্ছিন্ন করেছে এবং দল-উপদলে বিভক্ত হয়েছে, তাদের কোন ব্যাপারে তোমার দায়িত্ব নেই। তাদের বিষয়টি তো আল্লাহর নিকট। অতপর তিনি তাদের খবর দেবেন যা তারা করত।’’ (সূরা আল আনআম : ১৫৯)
আর এটি হচ্ছে এই যে, তাদের সর্বশেষ ইমাম শেষ যামানায় পুর্নজন্ম নিয়ে ফিরে আসবে। সিরদাব নামক স্থান হতে বের হবে এবং রাজনৈতিকদের মধ্যে যারা তাদের বিরোধী থাকবে তাদের সকলকে হত্যা করবে। যুগ যুগ ধরে তাদের যে অধিকার বিভিন্ন দল হরণ করে আসছিল, শিয়াদের নিকট তিনি তা ফিরিয়ে দিবেন।
সৈয়দ মুরতাযা ‘‘আল-মাসায়েলুন নাসেরিয়াহ্’’ গ্রন্থে বলেন, নিশ্চয় আবু বকর রা. ও ওমর রা.-কে তাদের বারোতম ইমাম, ইমাম মাহদীর যামানায় একটি গাছে ফাঁসি দেবে। ফাঁসিতে ঝুলানোর পূর্বে গাছটি থাকবে কাঁচা। ফাঁসিতে ঝুলানোর পর গাছটি শুকিয়ে যাবে।
আল-মাজলেসী ‘‘হাক্কুল ইয়াক্বীন’’ গ্রন্থে মুহাম্মাদ আল-বাকের এর উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘‘যখন ইমাম মাহদী আত্ম প্রকাশ করবেন তখন তিনি উম্মুল মু‘মিনীন আয়েশা রা.-কে পূনরায় জীবিত করবেন এবং তার উপর হদ্দ (ব্যভিচারের শাস্তি) কায়েম করবেন।’’
এভাবেই তাদের মধ্যে পুর্নজন্ম রহস্য বিস্তার লাভ করলে, তারা বলতে শুরু করে যে, সমস্ত শিয়া ও তাদের ইমাম ও ইমাম বিরোধিরা রাজা‘আত তথা পুর্নজন্ম নিবে। মূলত এরূপ ভ্রান্ত বিশ্বাসীরা মানুষের অন্তরে হিংসার বিষ ছড়াচ্ছে। এটা সাবায়ী গ্রুপের পরকাল অস্বীকার করার একটি অপকৌশল মাত্র। প্রকৃতপক্ষে শী’আরা তাদের বিরোধিদের থেকে প্রতিশোধ গ্রহণের জন্যই রাজা‘আতের ন্যায় ভ্রান্ত বিশ্বাসের চালু করেছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে যে, কারা শিয়াদের বিরোধী?
নিন্মোক্ত বর্ণনা দ্বারা আহলে সুন্নাতের উপর রাফেযীদের হিংসা-বিদ্বেষ ও ইহুদ ও নাছারাদের সাথে তাদের বন্ধুত্বের ভাব স্পষ্ট প্রমাণিত হয়। আল-মাজলেসী ‘‘বেহারুল আনওয়ার’’ গ্রন্থে উল্লেখ করেন ‘‘আবু আব্দুল্লাহ্ বলেন, হে আবু মুহাম্মাদ! আমি দেখছি যে, ইমাম মাহদী তার পরিবার-পরিজন নিয়ে সাহ্লাহ্ মসজিদে অবতরণ করবেন ...।
অতএব সন্ধি চুক্তিতে আবদ্ধদের (ইহুদ ও খৃষ্টানদের) বিষয়টি তার নিকট কিরূপ হবে? তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে যেভাবে তারা জিযয়া দিয়েছে, সেভাবে তাকেও তারা জিযয়া দেবে। তিনি বলেন, আমি বললাম, অতএব আপনাদের শত্রু নাসেবীদের (আহলে সুন্নাতের) অবস্থা কি হবে? তিনি বলেন, যে আমাদের দেশে আমাদের নীতির ব্যতিক্রম করবে তাদের কোন অংশই থাকবে না। নিশ্চয় আল্লাহ্ তা‘আলা আমাদের কায়েম তথা ইমাম মাহদী আগমনের সময় তাদের রক্ত আমাদের জন্য বৈধ করে দিয়েছেন। বর্তমানে যা আমাদের ও তোমাদের উপর হারাম করা হয়েছে। অতএব তোমাদের মধ্যে কেউ যেন প্রবঞ্চিত না হয়। যখন আমাদের কায়েম তথা ইমাম মাহদী আসবেন তখন তিনি আল্লাহ্, তাঁর রাসূল ও আমাদের সকলের পক্ষ হতে প্রতিশোধ গ্রহণ করবেন।
ভেবে দেখুন হে মুসলিম জাতি! শিয়াদের মাহদী কিভাবে ইহুদী ও নাছারাদের নিকট হতে জিযয়া তথা কর আদায় করবে। আর তাদের নীতি বিরোধী তথা আহলে সুন্নাতের রক্ত বৈধ ঘোষণা করবে। কেউ হয়তবা বলতে পারে যে, এটা তাদের জন্য যারা আহলে বায়তের সাথে হিংসা করে। আর প্রকৃতপক্ষে আহলে সুন্নাতেরা কখনই আহলে বায়তের প্রতি হিংসার মনোভাব পোষণ করে না। অতএব রাফেযীরা মাহদীর পক্ষ হতে যে শাস্তির ঘোষণা দেয়, তা মূলত আহলে সুন্নতের জন্য নয়। এ ব্যাপারে আমাদের বক্তব্য হচ্ছে, এর উদ্দেশ্য মূলত আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতই। নাসেবী বলতে রাফেযীরা এদেরকেই বুঝায়। এ বিষয়ে আরো বিস্তারিত জানতে চাইলে হুসাইন আলে উছফুর আল দারাজী আল বাহরাইনী কৃত ‘‘আল মাহাসিনুন নাফসানিয়াহ্’’ ও ইউসূফ আল বাহরানীর ‘‘আশ্শিহাবুছ ছাকেব ফী বায়ানি মা‘নান্নাসেব’’ নামক বইটি পড়ুন। আল্লাহ তাআলা বলেন :
(আরবি)
‘‘নিশ্চয় যারা তাদের দীনকে বিচ্ছিন্ন করেছে এবং দল-উপদলে বিভক্ত হয়েছে, তাদের কোন ব্যাপারে তোমার দায়িত্ব নেই। তাদের বিষয়টি তো আল্লাহর নিকট। অতপর তিনি তাদের খবর দেবেন যা তারা করত।’’ (সূরা আল আনআম : ১৫৯)