মুসলিম উম্মাহর জন্য বিজ্ঞাপনমুক্ত মডার্ন ইসলামিক এপ্লিকেশন উপহার দিতে আমাদের সাহায্য করুন। আপনার এই দান সদাকায়ে জারিয়া হিসেবে আমল নামায় যুক্ত হবে ইন শা আল্লাহ।
আসসালামু আলাইকুম,
এই ওয়েবসাইটটি নিয়মিত চালু রাখতে প্রতি মাসেই সার্ভার ও টেকনিক্যাল খরচ বহন করতে হয়। দুঃখজনকভাবে বর্তমানে এই খরচ বহন করার মতো পর্যাপ্ত ফান্ড আমাদের নেই।
🌿 আপনার একটি দান হতে পারে অসংখ্য মানুষের হিদায়াতের মাধ্যম
Hadith.one–এ প্রতিটি হাদিস পড়া, শেখা ও শেয়ার করার মাধ্যমে আপনি হতে পারেন সদকাহ জারিয়াহর অংশীদার।
🤲 আল্লাহর রাস্তায় আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতার মাধ্যমে এই দাওয়াহ প্ল্যাটফর্মটি চালু রাখতে সাহায্য করুন।
🔗 আজই দান করুন এবং এই খিদমতের সাথে যুক্ত থাকুন
জাযাকাল্লাহু খাইরান,
আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।
রাফেযীদের নিকট মুত‘আহ্ বা (Contract Marriage) এর অনেক বড় ফযিলত রয়েছে। নাউযুবিল্লাহি
মিন যালেক। ফাতুহুল্লাহ্ আল-কাশানী ‘‘মিনহাজুস সাদেক্বীন’’ কিতাবে জা‘ফার আস্-সাদেক এর উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘‘নিশ্চয় এই মুত‘আহ্ বিবাহ আমার ও আমার পূর্ব পুরুষের ধর্মীয় নীতি। অতএব যে ব্যক্তি এই নীতির উপর আমল করল সেই আমার দীনের উপর আমল করল। আর যে ব্যক্তি এটাকে অস্বীকার করল সে আমার দীনকেই অস্বীকার করল। শুধু তাই নয় বরং সে মুরতাদ হয়ে গেল। আর এই বিবাহের ফলে যে সন্তান জন্ম গ্রহণ করবে সেই সন্তানের মর্যাদা স্থায়ী স্ত্রীর সন্তানের চাইতে অধিক। মুত‘আহ্ বিবাহ অস্বীকারকারী কাফের মুরতাদ।’’
আল-কুম্মী ‘‘মান লা ইয়াহ্যুরহুল ফাক্বীহ্’’ গ্রন্থে আব্দুল্লাহ্ বিন সিনানের উদ্ধৃতি দিয়ে উল্লেখ করেন, তিনি
আবু আব্দুল্লাহ্ হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, ‘‘নিশ্চয় আল্লাহ্ তা‘আলা আমাদের (শিয়া) উপর প্রত্যেক নেশা জাতীয় পানীয় হারাম করেছেন এবং এর বিনিময়ে তাদেরকে মুত‘আহ্ বিবাহের বৈধতা দিয়েছেন।’’
মুল্লা ফাতহুলাহ্ আল-কাশানীর ‘‘তাফসীর মিনহাজুস্ সাদেক্বীন’’ গ্রন্থে এসেছে যে, ‘‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি একবার মুত‘আহ্ বিবাহ করবে তার এক তৃতীয়াংশ জাহান্নাম থেকে মুক্ত করা হবে, যে ব্যক্তি দুইবার মুত‘আহ্ বিবাহ করবে তার দুই তৃতীয়াংশ জাহান্নাম থেকে মুক্ত করা হবে। আর যে ব্যক্তি তিনবার মুত‘আহ্ বিবাহ করবে তাকে সম্পূর্ণরূপে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করা হবে।’’
উক্ত গ্রন্থে আরো এসেছে, ‘‘নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন : যে ব্যক্তি একবার মুত‘আহ্ বিবাহ করবে সে মহান আল্লাহর অসন্তোষ থেকে নিরাপদ থাকবে, যে দুইবার মুত‘আহ্ বিবাহ করবে তাকে নেককার পূণ্যবানদের সাথে হাশর করানো হবে, আর যে ব্যক্তি তিনবার মুত‘আহ্ বিবাহ করবে সে জান্নাতে আমার সাথে থাকবে।’’
উক্ত গ্রন্থে আরো বর্ণিত হয়েছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি একবার মুত‘আহ্ বিবাহ করবে সে হুসাইনের মর্যাদা লাভ করবে, যে দুইবার মুত‘আহ্ বিবাহ করবে তার মর্যাদা হবে হাসানের ন্যায়, আর যে তিনবার মুত‘আহ বিবাহ করবে তার মর্যাদা হবে আলী ইবনে আবি তালেবের ন্যায়, এবং যে ব্যক্তি চারবার মুত‘আহ্ বিবাহ করবে তার মর্যাদা হবে আমার মর্যাদার ন্যায়।’’
প্রকৃত পক্ষে রাফেযী শিয়ারা মুত‘আহ্ বিবাহের ক্ষেত্রে সংখ্যার শর্তারোপ করে না। ‘‘ফুরুউল-কাফী’’ ও ‘‘আত-তুকইয়া ফী ফিকহে আহলিল বায়ত’’ গ্রন্থে রয়েছে, তিনি আবু আব্দুল্লাহ্ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, ‘‘আমি তাকে মুত‘আহ্ বিবাহের সংখ্যা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করি যে, মুত‘আহ্ বিবাহ কি চারটি? তিনি বলেন, তুমি একহাজার মুত‘আহ্ বিবাহ কর, কেননা এরা তো ভাড়াটিয়া (অতএব তোমার সাধ্যানুযায়ী যত পারো ভাড়া নাও)।
মুহাম্মাদ বিন মুসলিম আবু জা‘ফার হতে বর্ণনা করেন, তিনি মুত‘আহর ব্যাপারে বলেন, এর সংখ্যা শুধু চার-ই নয়, কারণ মুত‘আহ্ বিবাহে তালাক নেই এবং সে উত্তরাধিকারীও হয় না, এরা তো শুধুমাত্র ভাড়ায় খাটে।’’
এটা কিভাবে আল্লাহর মনোনীত দীন হতে পারে ? অথচ আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন,
(আরবি)
‘‘আর যারা তাদের নিজদের লজ্জাস্থানের হিফাযতকারী। তবে তাদের স্ত্রী ও তাদের ডান হাত যার মালিক হয়েছে তারা ছাড়া, নিশ্চয় এতে তারা নিন্দিত হবে না। অতঃপর যারা এদের ছাড়া অন্যকে কামনা করে তারাই সীমালঙ্ঘনকারী।’’ সূরা মুমিনুন : (৫-৭)
উক্ত আয়াতে প্রমাণিত হয় যে, নিকাহ্ তথা বিবাহের মাধ্যমে স্ত্রী ও মালিকানাভূক্ত দাসীদের বৈধ করা হয়েছে, এর বাইরে সব হারাম। আর মুত‘আহ্ হচ্ছে ভাড়ায় খাটুনী নারী। সে আসলে স্ত্রী নয়। যে কারণে সে স্বামীর উত্তরাধিকারী হয় না এবং তাকে তালাক দেয়ারও প্রয়োজন হয় না। অতএব সে মহিলা ব্যাভিচারী যেনাকারী। আল্লাহর নিকট এরূপ অপকর্ম থেকে পানাহ্ চাই।
ফযিলাতুশ শায়েখ আব্দুল্লাহ্ বিন জিবরিন রহ. বলেন, ‘‘রাফেযী শিয়ারা মুত‘আহ্ বিবাহ বৈধতার জন্য সূরা নিসার নিম্নোক্ত আয়াতটি হিসেবে পেশ করে।
(আরবি)
‘‘আর (হারাম করা হয়েছে) নারীদের মধ্য থেকে সধবাদেরকে। তবে তোমাদের ডান হাত যাদের মালিক হয়েছে (দাসীগণ) তারা ছাড়া। এটি তোমাদের উপর আল্লাহর বিধান এবং এরা ছাড়া সকল নারীকে তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে যে, তোমরা তোমাদের অর্থের বিনিময়ে তাদেরকে চাইবে বিবাহ করে, অবৈধ যৌনাচারে লিপ্ত হয়ে নয়। সুতরাং তাদের মধ্যে তোমরা যাদেরকে ভোগ করেছ তাদেরকে তাদের নির্ধারিত মোহর দিয়ে দাও। আর নির্ধারণের পর যে ব্যাপারে তোমরা পরস্পর সম্মত হবে তাতে তোমাদের উপর কোন অপরাধ নেই। নিশ্চয় আল্লাহ মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।’’ (সূরা আন নিসা : ২৪)
কুরআনে বর্ণিত বিবাহ সংক্রান্ত সকল আয়াতই উক্ত ভ্রান্ত ধারণা প্রত্যাখ্যান করে। যেমন আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন,
(আরবি)
‘‘হে মুমিনগণ, তোমাদের জন্য হালাল নয় যে, তোমরা জোর করে নারীদের ওয়ারিছ হবে।’’ (সূরা আন নিসা : ১৯)
(আরবি)
‘‘আর যদি তোমরা এক স্ত্রীর স্থলে অন্য স্ত্রীকে বদলাতে চাও আর তাদের কাউকে তোমরা প্রদান করেছ প্রচুর সম্পদ, তবে তোমরা তা থেকে কোন কিছু নিও না। তোমরা কি তা নেবে অপবাদ এবং প্রকাশ্য গুনাহের মাধ্যমে?’’ (সূরা আন নিসা : ২০)
আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন,
(আরবি)
‘‘আর তোমরা বিবাহ করো না নারীদের মধ্য থেকে যাদেরকে বিবাহ করেছে তোমাদের পিতৃপুরুষগণ। তবে পূর্বে যা সংঘটিত হয়েছে (তা ক্ষমা করা হল)। নিশ্চয় তা হল অশ্লীলতা ও ঘৃণিত বিষয় এবং নিকৃষ্ট পথ।’’ (সূরা আন- নিসা : ২২)
(আরবি)
‘‘তোমাদের উপর হারাম করা হয়েছে তোমাদের মাতাদেরকে।’’ (সূরা আন নিসা : ২৩)
বিবাহের ক্ষেত্রে বংশীয় ও সাময়িক কারণে মুহাররামাত তথা নিষিদ্ধ মহিলাসমূহ বর্ণনা করার পর আল্লাহ্ বলেন,
(আরবি)
‘‘এবং এরা ছাড়া সকল নারীকে তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে।’’ (সূরা আন নিসা : ২৪)
অর্থাৎ উল্লেখিত মহিলাগণ ব্যতীত তোমাদের জন্য অন্য মহিলাদের বিবাহ করা বৈধ করা হয়েছে। অতএব হালাল পন্থায় উপভোগ করার জন্য তাদেরকে যখন বিবাহ করবে তখন তাদের জন্য ধার্যকৃত মোহর প্রদান কর। নির্ধারিত মোহর থেকে তারা যদি সন্তুষ্টচিত্তে কিছু মাফ করে দেয়, তবে এতে তোমাদের কোন গোনাহ্ হবে না।
জমহুর সাহাবা ও তৎপরবর্তী সকলে এভাবেই এই আয়াতের তাফসীর করেছেন।’’ [ইমাম মুসলিম সাবুরা ইবনে মাবাদ আল জুহানী থেকে এই মর্মে হাদীস বর্ণনা করেন যে, তিনি একদা রাসূল সা.-র সাথে ছিলেন এমতাবস্থায় রাসুল সা. বলেন, হে মানব মন্ডলী! আমি তোমাদেরকে নারীদের নিকট থেকে ফায়দা গ্রহণের (মুত‘আহ্ বিবাহের) অনুমতি দিয়েছিলাম কিন্তু আল্লাহ্ তা‘আলা তা কিয়ামত পর্যন্ত হারাম করেছেন অতএব তোমাদের মধ্যে যার নিকট এরূপ মহিলা রয়েছে সে যেন তার পথ উম্মুক্ত করে দেয় এবং তাকে যা দিয়েছে তা থেকে কিছু ফেরত না দেয়। (মুসলিম, হাদীস নং ১৪০৬, বিবাহ অধ্যায়)]
অনুরূপভাবে তাদেরই শায়খ আল-তুসী ‘‘তাহযীবুল আহকাম’’ গ্রন্থে মুত‘আহ্ বিবাহকে ঘৃণিত ও নিন্দনীয় বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘‘উক্ত মহিলা যদি সম্মানিত ও উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন পরিবারের হয় তাহলে তার সাথে মুত‘আহ্ বিবাহ করা জায়েয নয়। কেননা এতে তার পরিবারের লোক আত্মমর্যাদার হানি বোধ করবে এবং উক্ত মহিলাও লজ্জা ও অপমান বোধ করবে।’’
শুধু এখানেই সীমিত নয় বরং রাফেযীরা মহিলাদের পায়খানার দ্বারে যৌন সঙ্গম করাও জায়েয করেছে। ‘‘আল-ইস্তেবছার’’ গ্রন্থে আলী ইবনুল হাকামের উদ্ধৃতিতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, ‘‘আমি সাফওয়ানকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি রেযাকে বলি যে, জনৈক ব্যক্তি একটি মাসআলাহ্ সম্পর্কে আপনাকে জিজ্ঞেস করার জন্য আমাকে নির্দেশ দিয়েছে, কিন্তু আমি তা আপনাকে জিজ্ঞেস করতে লজ্জাবোধ করছি। রেযা বলেন, সে প্রশ্নটি কি? তিনি বলেন, পুরুষ কি নারীর পায়খানার দ্বারে যৌন সঙ্গম করতে পারে? তিনি বলেন, হ্যাঁ পারবে, এটা তার অধিকার।’’
সোশ্যাল মিডিয়ায় হাদিস শেয়ার করুন
Or Copy Link
https://hadith.one/bn/book/708/17
রিডিং সেটিংস
Bangla
English
Bangla
Indonesian
Urdu
System
System
Dark
Green
Teal
Purple
Brown
Sepia
আরবি ফন্ট নির্বাচন
Kfgq Hafs
Kfgq Hafs
Qalam
Scheherazade
Kaleel
Madani
Khayma
অনুবাদ ফন্ট নির্বাচন
Kalpurush
Kalpurush
Rajdip
Bensen
Ekushe
Alinur Nakkhatra
Dhakaiya
Saboj Charulota
Niladri Nur
22
17
সাধারণ সেটিংস
আরবি দেখান
অনুবাদ দেখান
রেফারেন্স দেখান
হাদিস পাশাপাশি দেখান
এই সদাকা জারিয়ায় অংশীদার হোন
মুসলিম উম্মাহর জন্য বিজ্ঞাপনমুক্ত মডার্ন ইসলামিক এপ্লিকেশন উপহার দিতে আমাদের সাহায্য করুন। আপনার এই দান সদাকায়ে জারিয়া হিসেবে আমল নামায় যুক্ত হবে ইন শা আল্লাহ।