১
শিয়াদের আকীদা-বিশ্বাস
লেখকঃ আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আস সালাফী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২৪
শিআদের দ্বারা রচিত : সূরা ‘‘আল-বেলায়াহ্’’ {ফাসলুল খেতাব নামক গ্রন্থ থেকে}
হে মু‘মিনগণ, তোমরা ঈমান আনয়ন করো দুই নুরের প্রতি। আমি তাদের দুজনকে অবতীর্ণ করেছি, তারা তোমাদের নিকট আমার আয়াত তেলাওয়াত করবে, মহা কঠিন দিবসের আযাব সম্পর্কে তোমাদেরকে সতর্ক করবে। দুই নুর একে অপরের অংশ আর আমি সর্ব শ্রোতা ও সর্ব জ্ঞাতা। নিশ্চয় যারা আয়াতসমূহে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের অঙ্গিকার পূর্ণ করে তাদের জন্য রয়েছে অসংখ্য নেয়ামত পূর্ণ জান্নাত। ঈমান আনার পর যারা অঙ্গিকার ভঙ্গ করে ও রাসূলকে দেয়া ওয়াদা ভঙ্গ করে, তারা (জাহিম) তথা জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে। যারা নিজেদের নফসের উপর যুলুম করেছে ও রাসূলের অসীর (অসীয়তকৃত ব্যক্তির) না ফরমানী করেছে, তাদেরকে ফুটন্ত গরম পানি পান করানো হবে।
নিশ্চয় আল্লাহ্ আসমান ও যমীনকে যেভাবে চেয়েছেন সেভাবে আলোকিত করেছেন। ফেরেশ্তাদের থেকে বাছাই করে মু‘মিনদের অন্তর্ভূক্ত করেছেন। আল্লাহ্ যা ইচ্ছা তা-ই করেন। তিনি ব্যতীত কোন ইলাহ্ নেই, তিনি পরম করুণাময় অতীব দয়ালু। তাদের পূর্বে যারা তাদের রাসূলদের সাথে চক্রান্ত করেছে তাদের ঐ চক্রান্তের কারণে তাদেরকে পাকড়াও করা হয়েছে। নিশ্চয় আল্লাহ্ তা‘আলা আ‘দ ও ছামুদ জাতিকে তাদের কৃত কর্মের কারণে ধংস করে তোমাদের জন্য উপদেশ বানিয়েছেন তারপরও কি তোমরা ভয় করবে না? মুসা ও তার ভাই হারুনের উপর ফেরাউন অত্যাচার করেছিল, ফলে আমি তাকে ও তার অনুসারীদেরকে নদী গর্ভে ডুবিয়ে দিয়েছি, যেন তারা তোমাদের জন্য নিদর্শন হয়ে থাকে। অথচ তোমরা অধিকাংশই ফাসেক। নিশ্চয় মহান আল্লাহ্ তাদেরকে কিয়ামত দিবসে একত্রিত করবেন অতঃপর যখন তাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হবে তখন তারা কোনই জবাব দিতে সক্ষম হবে না। নিশ্চয় জাহান্নামই হবে তাদের আসল ঠিকানা, নিশ্চয় আল্লাহ্ তা‘আলা সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময়।
হে রাসূল! আমার সতর্ক বাণী পৌঁছে দাও, তারা অচিরেই জানতে পারবে। যারাই আমার আয়াত ও হুকুমকে অস্বীকার করেছে তারাই ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তেমনিভাবে যারা আপনার অঙ্গিকার পূর্ণ করেছে তাদেরকেই নেয়ামতপূর্ণ জান্নাত দ্বারা পুরস্কৃত করেছি। নিশ্চয় আল্লাহ্ ক্ষমাশীল মহান পুরস্কার দাতা। আর নিশ্চয় আলী রা. মুত্তাকীদের অন্তর্ভূক্ত, আমি অবশ্যই কিয়ামত দিবসে তার পূর্ণ হক আদায় করব। আমরা তার উপর কৃত অত্যাচার সম্পর্কে গাফেল নই। তোমার পরিবারের মধ্যে তাকেই অধিক সম্মানিত করেছি। যারা ঈমান আনার পর কুফরী করেছে তাদের বলুন, তোমরা দুনিয়ার জীবনে চাকচিক্য চেয়েছ, আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল তোমাদেরকে যে ওয়াদা দিয়েছেন তা তোমরা ভুলে গেছ, তোমরা অঙ্গিকার ভঙ্গ করেছ অথচ ইতোমধ্যেই তোমাদের জন্য কিছু দৃষ্টান্ত পেশ করেছি, যেন তোমরা হেদায়েত প্রাপ্ত হও।
হে রাসূল, তোমার নিকট আমরা স্পষ্ট আয়াতসমূহ নাযিল করেছি, কে মু‘মিন অবস্থায় মারা যাবে আর তোমার মৃত্যুর পর কে উত্তরাধিকার হবে, তার বর্ণনা তাতে স্পষ্ট রয়েছে। অতএব তাদের থেকে তুমি মুখ ফিরিয়ে নাও, তারা এ থেকে বিমুখ রয়েছে। আমরা সে দিন তাদেরকে উপস্থিত করব যেদিন কোন কিছু তাদের কোন উপকার করতে পারবে না। তাদের প্রতি কোন রহম করা হবে না। তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নাম, যেখান থেকে পলায়ন করার কোন উপায় নেই। অতএব তোমার রবের নামের প্রশংসা কর এবং তার জন্য সিজদায় অবনত হও। আর মুসা ও হারুনকে প্রেরণ করেছি। তারা হারুনের সাথে বিদ্রোহ করে, অতঃপর তিনি ধৈর্য ধারন করেন ফলে তাদের মধ্য হতে অনেককেই বানর ও শুকরে পরিণত করেছি এবং কিয়ামত পর্যন্ত তাদের উপর লা‘নত করেছি। অতএব ধৈর্য ধারন করুন তারা অচিরেই দেখবে। পূর্ববর্তী রাসূলদের ন্যায় তোমাকেও হুকুম দিয়েছি এবং তোমার জন্য তাদের মধ্য হতে একজন ওসী মনোনিত করেছি। অতএব যে তোমাকে ও তোমার ওসীকে প্রত্যাখ্যান করবে এবং আমার নির্দেশ হতে বিমুখ হবে, আমি-ই তাকে ফিরিয়ে আনব। তাদের কুফরীর মাধ্যমে কিছু আনন্দ উপভোগ করুক। অতএব অঙ্গিকার ভঙ্গকারীদের ব্যাপারে তুমি কিছুই জিজ্ঞেস করো না।
হে রাসূল, যারা ঈমান এনেছে তাদের কাঁধে তোমার জন্য অঙ্গিকার রেখেছি। অতএব সে অঙ্গিকার গ্রহণ কর ও শোকর গোজারদের অন্তর্ভূক্ত হও। নিশ্চয় আলী রাতের বেলায় বিনীতভাবে সিজদাকারী। সে পরকালকে ভয় করে। সে তার রবের প্রতিদান কামনা করে। বলুন, যারা আমার আযাব সম্পর্কে অবহিত হওয়ার পরও অত্যাচার করে তারা কি তার বরাবর হতে পারে? আমি অচিরেই তাদের গলদেশে রশি পেঁচিয়ে দেব তখন তারা নিজেদের কর্মের ফলে অনুশোচনা করবে। আমরা অবশ্যই তোমাকে তার সৎ সন্তান সম্পর্কে শুভ সংবাদ দিয়েছি। আর তারা আমাদের নির্দেশের ব্যতিক্রম করে না। অতএব কিয়ামত পর্যন্ত তাদের জীবিত ও মৃত সকলের উপর আমার রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। আর যারা আপনার পরে তাদের উপর আমার অসন্তোষ কামনা করে তারাতো নিকৃষ্ট ও ক্ষতিগ্রস্থ কওম। যারা আমার ঐ রহমত প্রাপ্ত ব্যক্তিদের নীতির অনুসরণ করে তারা সর্বাবস্থায় শান্তি ও নিরাপত্তা লাভ করে। সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক মহান আল্লাহর জন্য।’’
নিশ্চয় আল্লাহ্ আসমান ও যমীনকে যেভাবে চেয়েছেন সেভাবে আলোকিত করেছেন। ফেরেশ্তাদের থেকে বাছাই করে মু‘মিনদের অন্তর্ভূক্ত করেছেন। আল্লাহ্ যা ইচ্ছা তা-ই করেন। তিনি ব্যতীত কোন ইলাহ্ নেই, তিনি পরম করুণাময় অতীব দয়ালু। তাদের পূর্বে যারা তাদের রাসূলদের সাথে চক্রান্ত করেছে তাদের ঐ চক্রান্তের কারণে তাদেরকে পাকড়াও করা হয়েছে। নিশ্চয় আল্লাহ্ তা‘আলা আ‘দ ও ছামুদ জাতিকে তাদের কৃত কর্মের কারণে ধংস করে তোমাদের জন্য উপদেশ বানিয়েছেন তারপরও কি তোমরা ভয় করবে না? মুসা ও তার ভাই হারুনের উপর ফেরাউন অত্যাচার করেছিল, ফলে আমি তাকে ও তার অনুসারীদেরকে নদী গর্ভে ডুবিয়ে দিয়েছি, যেন তারা তোমাদের জন্য নিদর্শন হয়ে থাকে। অথচ তোমরা অধিকাংশই ফাসেক। নিশ্চয় মহান আল্লাহ্ তাদেরকে কিয়ামত দিবসে একত্রিত করবেন অতঃপর যখন তাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হবে তখন তারা কোনই জবাব দিতে সক্ষম হবে না। নিশ্চয় জাহান্নামই হবে তাদের আসল ঠিকানা, নিশ্চয় আল্লাহ্ তা‘আলা সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময়।
হে রাসূল! আমার সতর্ক বাণী পৌঁছে দাও, তারা অচিরেই জানতে পারবে। যারাই আমার আয়াত ও হুকুমকে অস্বীকার করেছে তারাই ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তেমনিভাবে যারা আপনার অঙ্গিকার পূর্ণ করেছে তাদেরকেই নেয়ামতপূর্ণ জান্নাত দ্বারা পুরস্কৃত করেছি। নিশ্চয় আল্লাহ্ ক্ষমাশীল মহান পুরস্কার দাতা। আর নিশ্চয় আলী রা. মুত্তাকীদের অন্তর্ভূক্ত, আমি অবশ্যই কিয়ামত দিবসে তার পূর্ণ হক আদায় করব। আমরা তার উপর কৃত অত্যাচার সম্পর্কে গাফেল নই। তোমার পরিবারের মধ্যে তাকেই অধিক সম্মানিত করেছি। যারা ঈমান আনার পর কুফরী করেছে তাদের বলুন, তোমরা দুনিয়ার জীবনে চাকচিক্য চেয়েছ, আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল তোমাদেরকে যে ওয়াদা দিয়েছেন তা তোমরা ভুলে গেছ, তোমরা অঙ্গিকার ভঙ্গ করেছ অথচ ইতোমধ্যেই তোমাদের জন্য কিছু দৃষ্টান্ত পেশ করেছি, যেন তোমরা হেদায়েত প্রাপ্ত হও।
হে রাসূল, তোমার নিকট আমরা স্পষ্ট আয়াতসমূহ নাযিল করেছি, কে মু‘মিন অবস্থায় মারা যাবে আর তোমার মৃত্যুর পর কে উত্তরাধিকার হবে, তার বর্ণনা তাতে স্পষ্ট রয়েছে। অতএব তাদের থেকে তুমি মুখ ফিরিয়ে নাও, তারা এ থেকে বিমুখ রয়েছে। আমরা সে দিন তাদেরকে উপস্থিত করব যেদিন কোন কিছু তাদের কোন উপকার করতে পারবে না। তাদের প্রতি কোন রহম করা হবে না। তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নাম, যেখান থেকে পলায়ন করার কোন উপায় নেই। অতএব তোমার রবের নামের প্রশংসা কর এবং তার জন্য সিজদায় অবনত হও। আর মুসা ও হারুনকে প্রেরণ করেছি। তারা হারুনের সাথে বিদ্রোহ করে, অতঃপর তিনি ধৈর্য ধারন করেন ফলে তাদের মধ্য হতে অনেককেই বানর ও শুকরে পরিণত করেছি এবং কিয়ামত পর্যন্ত তাদের উপর লা‘নত করেছি। অতএব ধৈর্য ধারন করুন তারা অচিরেই দেখবে। পূর্ববর্তী রাসূলদের ন্যায় তোমাকেও হুকুম দিয়েছি এবং তোমার জন্য তাদের মধ্য হতে একজন ওসী মনোনিত করেছি। অতএব যে তোমাকে ও তোমার ওসীকে প্রত্যাখ্যান করবে এবং আমার নির্দেশ হতে বিমুখ হবে, আমি-ই তাকে ফিরিয়ে আনব। তাদের কুফরীর মাধ্যমে কিছু আনন্দ উপভোগ করুক। অতএব অঙ্গিকার ভঙ্গকারীদের ব্যাপারে তুমি কিছুই জিজ্ঞেস করো না।
হে রাসূল, যারা ঈমান এনেছে তাদের কাঁধে তোমার জন্য অঙ্গিকার রেখেছি। অতএব সে অঙ্গিকার গ্রহণ কর ও শোকর গোজারদের অন্তর্ভূক্ত হও। নিশ্চয় আলী রাতের বেলায় বিনীতভাবে সিজদাকারী। সে পরকালকে ভয় করে। সে তার রবের প্রতিদান কামনা করে। বলুন, যারা আমার আযাব সম্পর্কে অবহিত হওয়ার পরও অত্যাচার করে তারা কি তার বরাবর হতে পারে? আমি অচিরেই তাদের গলদেশে রশি পেঁচিয়ে দেব তখন তারা নিজেদের কর্মের ফলে অনুশোচনা করবে। আমরা অবশ্যই তোমাকে তার সৎ সন্তান সম্পর্কে শুভ সংবাদ দিয়েছি। আর তারা আমাদের নির্দেশের ব্যতিক্রম করে না। অতএব কিয়ামত পর্যন্ত তাদের জীবিত ও মৃত সকলের উপর আমার রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। আর যারা আপনার পরে তাদের উপর আমার অসন্তোষ কামনা করে তারাতো নিকৃষ্ট ও ক্ষতিগ্রস্থ কওম। যারা আমার ঐ রহমত প্রাপ্ত ব্যক্তিদের নীতির অনুসরণ করে তারা সর্বাবস্থায় শান্তি ও নিরাপত্তা লাভ করে। সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক মহান আল্লাহর জন্য।’’