hadith book logo

শিয়াদের আকীদা-বিশ্বাস

লেখকঃ আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আস সালাফী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১১

ইমামদের ব্যাপারে রাফেযীদের বিশ্বাস

রাফেযীদের দাবী : ইমামগণ নিষ্পাপ, তারা গায়েব জানেন। আল-কুলাইনী ‘‘উসুলুল কাফী’’ গ্রন্থে উল্লেখ করেন, ‘‘ইমাম জাফার সাদেক বলেন, আমরা হলাম আল্লাহর ইলমের ভান্ডার। আমরা আল্লাহর নির্দেশাবলীর অনুবাদক। আমরা নিষ্পাপ কওম। আমাদের আনুগত্য করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং আমাদের ফরমানী থেকে নিষেধ করা হয়েছে। আসমানের নীচে ও যমীনের উপরে বিদ্যমান সকলের জন্য আমরা আল্লাহর পরিপূর্ণ হুজ্জাত তথা দলীল।’’

উক্ত গ্রন্থের অনুচ্ছেদ ‘‘নিশ্চয় ইমামগণ যখন জানার ইচ্ছা করেন তখনই তারা তা জেনে যান’’-এ জা‘ফার সূত্রে কুলাইনী উল্লেখ করেন, ‘‘নিশ্চয় একজন ইমাম যখন জানার ইচ্ছা করেন তখনই তিনি তা জেনে যান, আর ইমামগণ কখন মৃত্যু বরণ করবেন, তাও তারা জানেন, তারা নিজেদের ইচ্ছা ব্যতীত মৃত্যু বরণ করেন না।’’

খুমাইনী ‘‘তাহরীরুল ওয়াসীলাহ্’’ গ্রন্থে বলেন, ‘‘নিশ্চয় ইমামের প্রশংসিত স্থান ও উচ্চ মর্যাদা রয়েছে। জগত পরিচালনার খেলাফতও তার উপর ন্যাস্ত। তার নেতৃত্ব ও কর্তৃত্বের প্রতি জগতের সব কিছুই অনুগত।’’

তিনি আরো বলেন, ‘‘নিশ্চয় আমাদের বারো ইমামের সাথে আল্লাহর কিছু বিশেষ মুহূর্ত রয়েছে। যা তার নৈকট্য লাভে ধন্য কোন ফেরেশ্তারও নেই। এমনকি কোন নবী রাসূলেরও নেই।’’

রাফেযীরা তাদের ইমামদের ব্যাপারে সীমালঙ্ঘন করে বলেছে যে, নবী মুহাম্মাদ ব্যতীত সকল নবীর চাইতে তাদের ইমামদের ফযিলত ও মর্যাদা বেশী। আল-মাজলেসী ‘‘মিরআতুল উকুল’’ গ্রন্থে উল্লেখ করেন, ‘‘ইমামগণ আমাদের নবী মুহাম্মাদ ব্যতীত সকল নবীর চেয়ে উত্তম ও অধিক সম্মানের অধিকারী।’’

ইমামদের ব্যাপারে রাফেযীদের সীমালঙ্ঘন এখানেই শেষ নয়, বরং তারা বলে, জগত পরিচালনার দায়িত্ব ইমামদের। আল খু-ই ‘‘মিসবাহুল ফুকাহা’’ গ্রন্থে বলেন, সমস্ত জগতের পরিচালার দায়িত্ব তাদের রয়েছে, এতে কোন সন্দেহ নেই। বিভিন্ন সূত্র থেকে এরূপই প্রতীয়মান হয়। কারণ, তারাই হচ্ছেন সব কিছুর মিডিয়া অর্থাৎ তাদের দ্বারাই সব কিছুর অস্তিত্ব। তারাই সকল সৃষ্টির মূল কারণ। অতএব, যদি তারা না হতেন তাহলে কোন মানুষই সৃষ্টি হতো না। তাদের জন্যই সকল মানুষের সৃষ্টি। তাদের দ্বারাই সকলের অস্তিত্ব। এদের কারণেই সৃষ্টির শ্রীবৃদ্ধি। শুধু তা-ই নয় বরং সৃষ্টিকর্তা ব্যতীত তাদের হাতেই রয়েছে সৃষ্টিজগত পরিচালনার কর্তৃত্ব। আর এ সব পরিচালনার কর্তৃত্বব আল্লাহর কর্তৃত্বের ন্যায়।’’ আল্লাহ তাদের সীমালঙ্ঘন ও পদস্খলন থেকে আমাদের রক্ষা করুন। ইমামগণ কিভাবে এ সৃষ্টি জগতের অস্তিত্বের মিডিয়া বা মাধ্যম হতে পারেন? ইমামগণ কিভাবে এই সৃষ্টি জগতের অস্তিত্বের কারণ হতে পারেন? ইমামগণ কিভাবে মানুষ সৃষ্টির কারণ হতে পারেন? কিভাবে ইমামদের জন্য মানুষ সৃষ্টি হতে পারে? অথচ আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন,

(আরবি)

‘‘আর জিন ও মানুষকে কেবল এজন্যই সৃষ্টি করেছি যে তারা আমার ইবাদাত করবে।’’ (সূরা আজ-জারিয়াত : ৫৬)

পবিত্র কুরআন ও সহীহ্ সুন্নাহ্ থেকে বিচ্যুত এরূপ ভ্রান্ত ও পথভ্রষ্ঠ আক্বীদা থেকে মহান আল্লাহর

নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি।

শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ্ রহ্. বলেন, ‘‘রাফেযী শিয়ারা ধারণা করে যে, দীন তাদের পীর-পুরোহিতদের ইচ্ছার উপর ন্যাস্ত। তারা যা হালাল বলবে তাই হালাল। এবং তারা যা হারাম বলবে তাই হারাম। তারা যে বিধান রচনা করবে তাই শরীআত বলে গণ্য।’’

সম্মানিত পাঠক! আলী রা. এর ব্যাপারে তাদের বাড়াবাড়ি, শিরক ও কুফরী সম্পর্কে যদি জানতে চান, তাহলে তাদের আধুনিককালের কবি শায়খ ইবরাহীম আল-আমলীর রচিত ছন্দগুলো পড়ুন :

হে আবু হাসান তুমিতো ইলাহের চক্ষু

এবং তাঁরই মহান কুদরতের ঠিকানা

তুমিতো অদৃশ্যের জ্ঞানের আয়ত্বকারী

তোমাকে ফাঁকি দিয়ে কেউ নিজেকে গোপন করতে পারে?

তুমি-ই সমস্ত জগতের পরিচালক

সৃষ্টি জগতের সাগর নালা তোমারই

তোমারই সব কর্তৃত্ব যদি চাও আগামী কাল জিন্দা করবে

নয়তবা মুখমন্ডলের সম্মুখ ভাগে হেঁচড়ে তুলবে।