hadith book logo

মোবাইল ফোন ব্যবহার বৈধতার সীমা কতটুকু

লেখকঃ মুফীজুল ইসলাম আব্দুল আযীয • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১০

মোবাইল ফোন ও মসজিদ মসজিদে প্রবেশের পূর্বেই কি মোবাইল/রিংটোন বন্ধ করা জরুরি?

নামাজ অন্যান্য ইবাদত থেকে একটু ভিন্নতর ইবাদত। এই ইবাদত হলো সরাসরি মহান আল্লাহর সাথে কথা বলার এক চমৎকার মাধ্যম। এ কারণেই নামাজ অবস্থায় একাগ্রতা ও খুশু-খুযুর প্রতি যেরূপ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে অন্য কোনো ইবাদতের বেলায় তেমনটি করা হয়নি। যেমন, পবিত্র কোরআনে আল্লাহ রাববুল আলামিন ইরশাদ করেন,

قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ ﴿১﴾ الَّذِينَ هُمْ فِي صَلَاتِهِمْ خَاشِعُونَ ﴿২﴾ ( المؤمنون : ১-২)

ঐসব ঈমানদার সফলতা লাভ করেছে, যারা স্বীয় নামাজে একাগ্রচিত্ত ও বিনয়-নম্র। (সূরা মুমিনুন: ১-২) অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন,

فَوَيْلٌ لِلْمُصَلِّينَ ﴿৪﴾ الَّذِينَ هُمْ عَنْ صَلَاتِهِمْ سَاهُونَ ﴿৫﴾ الَّذِينَ هُمْ يُرَاءُونَ ﴿৬﴾ ( الماعون :৪-৬)

যেসব নামাজি স্বীয় নামাজের ব্যাপারে অমনোযোগী এবং লোক দেখানো নামাজ পড়ে তাদের ধ্বংস অনিবার্য। (সূরা মাঊন: ৪-৬)

হাদিস শরিফে নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

যারা খুশু-খুযু অর্থাৎ আল্লাহর ভয় অন্তরে ধারণ করে একাগ্রচিত্তে বিনয়ের সাথে নামাজ আদায় করে তাদের জন্য আকাশের দরজা খুলে যায় এবং নামাজির জন্য আল্লাহর দরবারে সুপারিশ করে।

মোটকথা নামাজের খুশু-খুযুর প্রতি সর্বাধিক গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে। তাই প্রতিটি মুসলির জন্য মসজিদে প্রবেশের আগেই মোবাইল একেবারে বন্ধ না করলেও রিংটোন বন্ধ করে দেওয়া আবশ্যক। কারণ, মসজিদের ভিতর রিংটোন বেজে উঠলে শুধু স্বীয় একাগ্রতাই নষ্ট হবে না, অন্য নামাজিদের একাগ্রতাও নষ্ট হবে। [মাসিক আল কাউসার, মে'০৮ সংখ্যা, পৃষ্ঠাঃ ১৮]