hadith book logo

মোবাইল ফোন ব্যবহার বৈধতার সীমা কতটুকু

লেখকঃ মুফীজুল ইসলাম আব্দুল আযীয • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৮২

গভীর রাতে কল করা

বর্তমানে মোবাইল কোম্পানিগুলো যত অফার দিচ্ছে তার অধিকাংশই শুরু হয় রাত বারটা থেকে। এ সুযোগকে কাজে লাগানোর জন্য কেউ কেউ রাত বারটার পর কিংবা আরো গভীর রাতে পরিচিতজনদের কাছে ফোন করে থাকে। অথচ আশ্চর্যের কথা হলো, পয়সা বাঁচানোর তাগিদে একটি বারও সে ভেবে দেখে না যে, আমি যার কাছে কল করছি তিনি হয়তো এখন বিশ্রাম নিচ্ছেন। অফার চলাকালে কল দেওয়ার দ্বারা আমার কয়টা পয়সা বাঁচবে ঠিকই, কিন্তু তার তো আরামের নিদ্রা ভঙ্গ হলো! পূর্ব পরিচিতি কিংবা অধিক ঘনিষ্ঠতার কারণে তিনি হয়তো কিছু বলবেন না, কিন্তু তাই বলে একজন মানুষকে এভাবে কষ্ট দেওয়া কি উচিত?

আল্লামা মুফতি মুহাম্মদ শফি রহ. লিখেছেন, খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া কারো নামাজ, ঘুম বা জরুরি কাজের সময় ফোন করা জায়েয নেই। কারণ এভাবে ফোন করার মাধ্যমে তাকে ঐরূপ কষ্টই দেওয়া হয় যেমন কষ্ট দেওয়া হয়, অনুমতি ছাড়া কারো ঘরে প্রবেশ ও তার স্বাধীনতা বিনষ্টকরণের মাধ্যমে।

মোটকথা, মোবাইল কোম্পানিগুলোর অফার গ্রহণ করতে গিয়ে এভাবে যখন তখন ফোন করে মানুষকে কষ্ট দেওয়া অবশ্যই পরিহার যোগ্য। তাছাড়া ইশার নামাজের পর দুনিয়াবি কথাবার্তা বলাও শরিয়ত পছন্দ করে না। যেমন সাহাবি আবু বারযা রা. বলেন, নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইশার নামাজের পূর্বে ঘুমানো এবং ঈশার নামাজের পর (দুনিয়াবি) কথাবার্তা বলা অপছন্দ করতেন।

তবে যদি কারো নিশ্চিত জানা থাকে যে, আমি যার কাছে কল করছি তিনি এখন জাগ্রত আছেন এবং তার সাথে এসময় কথা বললে কোনো অসুবিধা হবে না তাহলে তার কাছে কল করাতে কোনো দোষ নেই। অনুরূপভাবে কোনো কথা যদি এমন জরুরি হয় যা এখনই বলা দরকার তবে তাও বলাতে কোনো অসুবিধা নেই। [মাআরিফুল কোরআন, খন্ডঃ ৬, পৃষ্ঠাঃ ৩৯৪ তিরমিযি শরিফ, খন্ডঃ ১, পৃষ্ঠাঃ ৪২]