১
মোবাইল ফোন ব্যবহার বৈধতার সীমা কতটুকু
লেখকঃ মুফীজুল ইসলাম আব্দুল আযীয • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৭৩
মোবাইল ফোনে বিয়ে
আমাদের দেশের অনেককেই বিভিন্ন কারণে স্বদেশের সীমানা পেরিয়ে ভিন্ দেশে পাড়ি জমাতে হয়। যাপন করতে হয় প্রবাসী জীবন। এসব প্রবাসীদের সমস্যার অন্ত নেই। ঝামেলারও শেষ নেই। প্রবাসের অসংখ্য সমস্যার মধ্যে বিয়ের বিষয়টি অন্যতম। কেননা কর্মব্যস্ততা, পড়াশুনা, আসা-যাওয়ার ব্যয়ভার, বিমানের টিকেট করার জটিলতা ইত্যাদি কারণে পাত্র ও পাত্রীপক্ষ মিলে বিয়ে ঠিকঠাক করলেই তাৎক্ষণিকভাবে দেশে এসে বিয়ে সম্পন্ন করা তাদের পক্ষে অনেক সময় সম্ভব হয়ে ওঠে না। অথচ বিয়ে তাদের করতেই হবে। তাছাড়া পছন্দমত পাত্র-পাত্রী তো চাইলেই পাওয়া যায় না! প্রবাসীদের এসব সমস্যা বিবেচনা করেই অতি সম্প্রতি মোবাইল ফোন বা টেলিফোনে বিয়ের প্রচলন হয়েছে।
মোবাইল বা টেলিফোনে বিয়ের ক্ষেত্রে সাধারণত দেখা যায়, বিয়ে ঠিকঠাক হলে নির্ধারিত দিনে পাত্র-পাত্রী উভয়পক্ষের অভিভাবক, বর-কনে ও উকিল-সাক্ষীরা দু'দেশের দু'টি ফোনের পাশে জড়ো হন। তারপর ফোনে একপক্ষ ঈজাব তথা বিয়ের প্রস্তাব দিলে অপর পক্ষ কবুল তথা প্রস্তাব গ্রহণ করেন এবং উভয় দিকের সাক্ষীরা তা শুনেন। এভাবেই বিয়ে সম্পন্ন হয়। র্
আপাতদৃষ্টিতে টেলিফোনে বিয়েকে অনেক সহজ ও সুবিধাজনক মনে হয়। বিদেশ থেকে আসা যাওয়ার খরচ বাঁচে। বাঁচে সময়ও। তাছাড়া নানা ঝামেলাও এড়ানো যায়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে টেলিফোনে বিয়েতে কিছু সুবিধার পাশাপাশি বেশকিছু অসুবিধাও রয়েছে। যেমন আইন অনুসারে সঙ্গে সঙ্গে বিয়েটি রেজেস্ট্রি করা যায় না। কারণ রেজেস্ট্রির জন্য বর-কনে উভয়কে রেজেস্ট্রি বইয়ে স্বাক্ষর করতে হয়। পাত্র-পাত্রীর অনুপস্থিতিতে স্বাক্ষরের অভাবে দ্রুত রেজিস্ট্রি করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে বহুমুখী সমস্যার আশঙ্কা তীব্র হয়ে উঠে। যেমন, কোনো কারণে যে কোনো পক্ষের বিয়ে অস্বীকার, সাক্ষীদের পক্ষে অপর পক্ষকে সনাক্ত করতে না পারা, স্বামী-স্ত্রীর দীর্ঘদিন দেখা-সাক্ষাৎ না হওয়ায় দাম্পত্য-কলহ প্রভৃতি।
তবে এসব সমস্যার চাইতে বড় কথা হলো, ইসলামের দৃষ্টিতে ফোনের মাধ্যমে বিবাহ শুদ্ধ হয় না। কারণ ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী বিয়ে সঠিক ও শুদ্ধ হওয়ার জন্য বর-কনে অথবা তাদের উকিলকে বিবাহের মজলিশে সশরীরে উপস্থিত থাকতে হবে। সেই সাথে সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত থাকতে হবে দুজন পুরুষ কিংবা একজন পুরুষ ও দু'জন মহিলাকে। সহজ কথায়, বিবাহ সহিহ হওয়ার জন্য বিবাহের মজলিশে উভয়পক্ষ ও সাক্ষীদের উপস্থিতি শর্ত। ফোনে বিয়ের ক্ষেত্রে যেহেতু এসব শর্ত পাওয়া যায় না তাই ফোনের মাধ্যমে বিবাহ শুদ্ধ হয় না।
অবশ্য ফোনে বিবাহ শুদ্ধ হওয়ার একটি বিকল্প পদ্ধতি আছে। তাহলো, পাত্র বা পাত্রী নিজের পক্ষ থেকে ফোনের মাধ্যমে কোনো আপনজন বা অন্য কোনো লোককে উকিল বানাবে। উক্ত উকিল, দু'জন সাক্ষীর সামনে প্রস্তাব পেশ করবেন। তখন অপরপক্ষ (পাত্র বা পাত্রী বা তাদের উকিল) কবুল তথা প্রস্তাব গ্রহণ করবেন। এতে বিবাহ হয়ে যাবে। কারণ এখানে উভয়পক্ষ (অর্থাৎ বর বা বরের উকিল এবং কনে বা কনের উকিল) ও সাক্ষীগণের উপস্থিতি একই মজলিশে পাওয়া গেছে। [জাদীদ ফেকহী মাসায়িল, খন্ডঃ ১, পৃষ্ঠাঃ ২৪৮ ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া, খন্ডঃ ১১, পৃষ্ঠাঃ ১৬৩ ফাতাওয়ায়ে নিজামিয়া, খন্ডঃ ২, পৃষ্ঠাঃ ২০৭]
মোবাইল বা টেলিফোনে বিয়ের ক্ষেত্রে সাধারণত দেখা যায়, বিয়ে ঠিকঠাক হলে নির্ধারিত দিনে পাত্র-পাত্রী উভয়পক্ষের অভিভাবক, বর-কনে ও উকিল-সাক্ষীরা দু'দেশের দু'টি ফোনের পাশে জড়ো হন। তারপর ফোনে একপক্ষ ঈজাব তথা বিয়ের প্রস্তাব দিলে অপর পক্ষ কবুল তথা প্রস্তাব গ্রহণ করেন এবং উভয় দিকের সাক্ষীরা তা শুনেন। এভাবেই বিয়ে সম্পন্ন হয়। র্
আপাতদৃষ্টিতে টেলিফোনে বিয়েকে অনেক সহজ ও সুবিধাজনক মনে হয়। বিদেশ থেকে আসা যাওয়ার খরচ বাঁচে। বাঁচে সময়ও। তাছাড়া নানা ঝামেলাও এড়ানো যায়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে টেলিফোনে বিয়েতে কিছু সুবিধার পাশাপাশি বেশকিছু অসুবিধাও রয়েছে। যেমন আইন অনুসারে সঙ্গে সঙ্গে বিয়েটি রেজেস্ট্রি করা যায় না। কারণ রেজেস্ট্রির জন্য বর-কনে উভয়কে রেজেস্ট্রি বইয়ে স্বাক্ষর করতে হয়। পাত্র-পাত্রীর অনুপস্থিতিতে স্বাক্ষরের অভাবে দ্রুত রেজিস্ট্রি করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে বহুমুখী সমস্যার আশঙ্কা তীব্র হয়ে উঠে। যেমন, কোনো কারণে যে কোনো পক্ষের বিয়ে অস্বীকার, সাক্ষীদের পক্ষে অপর পক্ষকে সনাক্ত করতে না পারা, স্বামী-স্ত্রীর দীর্ঘদিন দেখা-সাক্ষাৎ না হওয়ায় দাম্পত্য-কলহ প্রভৃতি।
তবে এসব সমস্যার চাইতে বড় কথা হলো, ইসলামের দৃষ্টিতে ফোনের মাধ্যমে বিবাহ শুদ্ধ হয় না। কারণ ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী বিয়ে সঠিক ও শুদ্ধ হওয়ার জন্য বর-কনে অথবা তাদের উকিলকে বিবাহের মজলিশে সশরীরে উপস্থিত থাকতে হবে। সেই সাথে সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত থাকতে হবে দুজন পুরুষ কিংবা একজন পুরুষ ও দু'জন মহিলাকে। সহজ কথায়, বিবাহ সহিহ হওয়ার জন্য বিবাহের মজলিশে উভয়পক্ষ ও সাক্ষীদের উপস্থিতি শর্ত। ফোনে বিয়ের ক্ষেত্রে যেহেতু এসব শর্ত পাওয়া যায় না তাই ফোনের মাধ্যমে বিবাহ শুদ্ধ হয় না।
অবশ্য ফোনে বিবাহ শুদ্ধ হওয়ার একটি বিকল্প পদ্ধতি আছে। তাহলো, পাত্র বা পাত্রী নিজের পক্ষ থেকে ফোনের মাধ্যমে কোনো আপনজন বা অন্য কোনো লোককে উকিল বানাবে। উক্ত উকিল, দু'জন সাক্ষীর সামনে প্রস্তাব পেশ করবেন। তখন অপরপক্ষ (পাত্র বা পাত্রী বা তাদের উকিল) কবুল তথা প্রস্তাব গ্রহণ করবেন। এতে বিবাহ হয়ে যাবে। কারণ এখানে উভয়পক্ষ (অর্থাৎ বর বা বরের উকিল এবং কনে বা কনের উকিল) ও সাক্ষীগণের উপস্থিতি একই মজলিশে পাওয়া গেছে। [জাদীদ ফেকহী মাসায়িল, খন্ডঃ ১, পৃষ্ঠাঃ ২৪৮ ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া, খন্ডঃ ১১, পৃষ্ঠাঃ ১৬৩ ফাতাওয়ায়ে নিজামিয়া, খন্ডঃ ২, পৃষ্ঠাঃ ২০৭]