১
মোবাইল ফোন ব্যবহার বৈধতার সীমা কতটুকু
লেখকঃ মুফীজুল ইসলাম আব্দুল আযীয • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৩৪
ওয়েলকাম টিউন হিসেবে তিলাওয়াতের ব্যবহারও জায়েয নয়
গান, মিউজিক ইত্যাদির ব্যবহার নাজায়েয হওয়ার কারণে অনেকেই ওয়েলকাম টিউন হিসেবে কোরআন তিলাওয়াত, আজান ইত্যাদি ডাউনলোড করে থাকে। এবং এক্ষেত্রে তাদের উদ্দেশ্যও ভালো থাকে। তারা মনে করে, এরূপ করার ফলে ডায়ালকারী লোকেরা কিছু সময়ের জন্য হলেও কোরআনে কারিমের তিলাওয়াত শুনল, আজানের সুমধুর ধ্বনিতে তাদের হৃদয়-মন পরিতৃপ্ত হলো। কিন্তু আপাতদৃষ্টিতে এরূপ করা ভালো মনে হলেও এর বেশ কয়েকটি খারাপ দিক রয়েছে। যার একটিই এ থেকে বিরত থাকার জন্য যথেষ্ট। যেমন-
১. পবিত্র কোরআন মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ তাআলার কালাম। তাঁর এই কালামকে একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্যই পড়া ও শুনার বিধান রয়েছে। এ উদ্দেশ্য ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে ব্যবহার নিঃসন্দেহে কোরআনুল কারিমের শান ও মর্যাদার পরিপন্থী।
২. যার কাছে কল করা হলো তার সাথে সংযোগ সৃষ্টি হয়েছে কিনা তা বুঝার জন্যই ওয়েলকাম টোন ব্যবহৃত হয়। আচ্ছা আপনারাই বলুন তো, আল্লাহর মহান কালামকে কি এই কাজে ব্যবহার করা উচিত? এই কাজে তিলাওয়াতের ব্যবহার কি অপাত্রে পবিত্র কোরআনের ব্যবহার নয়? অনুরূপভাবে শরিয়তের বড় এক নিদর্শন- আজানকে এই কাজে ব্যবহার করা কি সমীচীন? এ কি আজানের মর্যাদাকে ক্ষুন্ন করা নয়?
৩. যিনি ফোন করেন তিনিই ওয়েলকাম টোন শুনেন, যিনি রিসিভ করেন তিনি শুনেন না। ফলে এমন হওয়া অস্বাভাবিক নয় যে, রিসিভকারী তেলাওয়াতের এমন স্থানে রিসিভ করে বসবেন যেখানে থেমে গেলে আয়াতের অর্থই বদলে যায়। যেমন, পবিত্র কোরআনের একটি আয়াতে আছে- ‘লা তাক্বরাবুস্ সালাতা ওয়া আনতুম সুকারা' যার অর্থ হলো, তোমরা নামাজের ধারে কাছেও যেও না যে অবস্থায় তোমরা মাতাল থাক। এখানে ‘লা তাক্বরাবুস্ সালাতা' অর্থ- তোমরা নামাজের ধারে কাছেও যেও না, আর ‘ওয়া আনতুম সুকারা' অর্থ- যে অবস্থায় তোমরা মাতাল থাক। এখন ‘লা তাক্বরাবুস্ সালাতা' বলার সাথে সাথে যদি মোবাইল রিসিভ করা হয় তাহলে আয়াতের অর্থের মধ্যে কেমন বিকৃতি ঘটে তা আপনারাই একটু চিন্তা করে দেখুন। অনুরূপভাবে ওয়েলকাম টিউন্স হিসেবে আজান চলাকালে কেউ যদি ‘লা ইলাহা' পর্যন্ত উচ্চারিত হওয়ার পর ফোন রিসিভ করে ফেলে তাহলে অর্থ দাঁড়ায়- ‘কোনো মাবুদ নেই'। যা অর্থের মারাত্মক বিকৃতি। এ সমস্যার কারণেও কোরআন তিলাওয়াত ও আজানকে ওয়েলকাম টিউন হিসেবে ব্যবহার করা জায়েয নেই।
৪. ব্যস্ততার সময় ফোনে কথা বললে কানে তিলাওয়াতের ধ্বনি আসলেও তা মনোযোগ সহকারে শোনা হয় না। অথচ পবিত্র কোরআনে আল্লাহ রাববুল আলামিন বলেছেন- যখন কোরআন পড়া হয় তখন তোমরা মনোযোগ সহকারে শোনো ও চুপ থাকো। মোটকথা এক্ষেত্রে তিলাওয়াতের হক আদায় করা সম্ভব হয় না বিধায় ওয়েলকাম টিউন হিসেবে তিলাওয়াতের ব্যবহার জায়েয নয়। [আলাতে জাদীদাহ কি শরয়ি আহকাম, পৃষ্ঠাঃ ১৭১ আত্ তিবইয়ান ফি আদাবি হামালাতিল কোরআন, পৃষ্ঠাঃ ৪৬ আলমগীরি খন্ডঃ ৫, পৃষ্ঠাঃ ৩১৫ রদ্দুল মুহতার, খন্ডঃ ১, পৃষ্ঠাঃ ৫১৮ হককুত্ তিলাওয়াহ, পৃষ্ঠাঃ ৪০১ আল মুগনী, খন্ডঃ ৪, পৃষ্ঠাঃ ৪৮২]
১. পবিত্র কোরআন মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ তাআলার কালাম। তাঁর এই কালামকে একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্যই পড়া ও শুনার বিধান রয়েছে। এ উদ্দেশ্য ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে ব্যবহার নিঃসন্দেহে কোরআনুল কারিমের শান ও মর্যাদার পরিপন্থী।
২. যার কাছে কল করা হলো তার সাথে সংযোগ সৃষ্টি হয়েছে কিনা তা বুঝার জন্যই ওয়েলকাম টোন ব্যবহৃত হয়। আচ্ছা আপনারাই বলুন তো, আল্লাহর মহান কালামকে কি এই কাজে ব্যবহার করা উচিত? এই কাজে তিলাওয়াতের ব্যবহার কি অপাত্রে পবিত্র কোরআনের ব্যবহার নয়? অনুরূপভাবে শরিয়তের বড় এক নিদর্শন- আজানকে এই কাজে ব্যবহার করা কি সমীচীন? এ কি আজানের মর্যাদাকে ক্ষুন্ন করা নয়?
৩. যিনি ফোন করেন তিনিই ওয়েলকাম টোন শুনেন, যিনি রিসিভ করেন তিনি শুনেন না। ফলে এমন হওয়া অস্বাভাবিক নয় যে, রিসিভকারী তেলাওয়াতের এমন স্থানে রিসিভ করে বসবেন যেখানে থেমে গেলে আয়াতের অর্থই বদলে যায়। যেমন, পবিত্র কোরআনের একটি আয়াতে আছে- ‘লা তাক্বরাবুস্ সালাতা ওয়া আনতুম সুকারা' যার অর্থ হলো, তোমরা নামাজের ধারে কাছেও যেও না যে অবস্থায় তোমরা মাতাল থাক। এখানে ‘লা তাক্বরাবুস্ সালাতা' অর্থ- তোমরা নামাজের ধারে কাছেও যেও না, আর ‘ওয়া আনতুম সুকারা' অর্থ- যে অবস্থায় তোমরা মাতাল থাক। এখন ‘লা তাক্বরাবুস্ সালাতা' বলার সাথে সাথে যদি মোবাইল রিসিভ করা হয় তাহলে আয়াতের অর্থের মধ্যে কেমন বিকৃতি ঘটে তা আপনারাই একটু চিন্তা করে দেখুন। অনুরূপভাবে ওয়েলকাম টিউন্স হিসেবে আজান চলাকালে কেউ যদি ‘লা ইলাহা' পর্যন্ত উচ্চারিত হওয়ার পর ফোন রিসিভ করে ফেলে তাহলে অর্থ দাঁড়ায়- ‘কোনো মাবুদ নেই'। যা অর্থের মারাত্মক বিকৃতি। এ সমস্যার কারণেও কোরআন তিলাওয়াত ও আজানকে ওয়েলকাম টিউন হিসেবে ব্যবহার করা জায়েয নেই।
৪. ব্যস্ততার সময় ফোনে কথা বললে কানে তিলাওয়াতের ধ্বনি আসলেও তা মনোযোগ সহকারে শোনা হয় না। অথচ পবিত্র কোরআনে আল্লাহ রাববুল আলামিন বলেছেন- যখন কোরআন পড়া হয় তখন তোমরা মনোযোগ সহকারে শোনো ও চুপ থাকো। মোটকথা এক্ষেত্রে তিলাওয়াতের হক আদায় করা সম্ভব হয় না বিধায় ওয়েলকাম টিউন হিসেবে তিলাওয়াতের ব্যবহার জায়েয নয়। [আলাতে জাদীদাহ কি শরয়ি আহকাম, পৃষ্ঠাঃ ১৭১ আত্ তিবইয়ান ফি আদাবি হামালাতিল কোরআন, পৃষ্ঠাঃ ৪৬ আলমগীরি খন্ডঃ ৫, পৃষ্ঠাঃ ৩১৫ রদ্দুল মুহতার, খন্ডঃ ১, পৃষ্ঠাঃ ৫১৮ হককুত্ তিলাওয়াহ, পৃষ্ঠাঃ ৪০১ আল মুগনী, খন্ডঃ ৪, পৃষ্ঠাঃ ৪৮২]