১
মোবাইল ফোন ব্যবহার বৈধতার সীমা কতটুকু
লেখকঃ মুফীজুল ইসলাম আব্দুল আযীয • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২
লেখকের কথা
মোবাইল ফোনকে কেন্দ্র করে একটি বই লিখার ইচ্ছা বহুদিন থেকেই আমার ছিল। এই বই প্রকাশের মাধ্যমে সে ইচ্ছা পূরণ হতে যাচ্ছে। তাই মহান আল্লাহর দরবারে জানাই লাখো-কোটি শুকরিয়া।
যুগে যুগে বিজ্ঞানীগণ যত নতুন নতুন জিনিস আবিষ্কার করেছেন হক্বানী উলামায়ে কেরাম নিরলস প্রচেষ্টার মাধ্যমে কোরআন-হাদিস মন্থন করে সেসব ক্ষেত্রে শরিয়তের দৃষ্টিভঙ্গি ও তৎসম্পর্কিত যাবতীয় মাসআলা-মাসায়েল অত্যন্ত সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে লিপিবদ্ধ করে গেছেন। ভবিষ্যতেও যত নতুন জিনিস আবিষ্কার হবে উলামায়ে কেরাম কোরআন ও সুন্নাহের আলোকে তার সঠিক সমাধান পেশ করে যাবেন, ইনশাআল্লাহ।
বর্তমান বিশ্বে যেসব নতুন আবিষ্কার অতি দ্রুত শহর-বন্দর ও গ্রাম-গঞ্জের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে পড়েছে তন্মধ্যে মোবাইল ফোন একটি উল্লেখযোগ্য আবিষ্কার। ধনী-গরীব, পুরুষ-মহিলা, যুবক-বৃদ্ধ- সকলের হাতেই এখন মোবাইল ফোন শোভা পায়। ক্ষুদ্র এই যন্ত্রটি আবিষ্কারের ফলে একদিকে যেমন সুযোগ-সুবিধার বিশাল দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে তেমনি মোবাইলের মাধ্যমে মহামূল্যবান সময় নষ্টসহ নানাবিধ গুনাহের কাজে জড়িয়ে পড়ারও সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে মারাত্মকভাবে। অনেকে মোবাইলকে প্রয়োজনের চেয়ে অপ্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহার করছে বেশি। আবার অনেকে ব্যবহার করছে অন্যায় কাজে।
টেলিভিশন, সিনেমা ইত্যাদি দেখা গুনাহের কাজ- একথা সবার জানা থাকার কারণে উচুঁ পর্যায়ের দীনদার লোকেরা তো বটেই, অসংখ্য সাধারণ দীনদার লোকেরাও অন্তত লোক-লজ্জার ভয়ে হলেও এসব থেকে দূরে থাকত। কিন্তু মোবাইল ফোন আবিষ্কারের পর উহার বৈধতার সুযোগ নিয়ে অনেক লোক তাকে ‘জায়েয ও বৈধ ব্যবহারের পাশাপাশি নানাবিধ অবৈধ ও গুনাহের কাজে' ব্যবহার করছে। যেমন, গান শোনা, ছবি তোলা, ছবি দেখা, ভিডিও করা ইত্যাদি। মোবাইলের মাধ্যমে এসব গুনাহের কাজ ইচ্ছা করলে লোকচক্ষুর অন্তরালেও করা সম্ভব বিধায় এসবের পরিমাণ ও মাত্রা দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপরন্তু মোবাইল ও তার বিভিন্ন বিষয়ের শরয়ি বিধান সম্পর্কে না জানার কারণে অসংখ্য লোক বুঝতেই পারছে না যে, মোবাইল দ্বারা কিভাবে তাদের গুনাহ হয়ে যাচ্ছে। বুঝতে পারছে না, মোবাইল ব্যবহারের কোন্ কোন্ ক্ষেত্রে অহরহ তাদের ভুল-ত্রুটি সংঘটিত হচ্ছে।
মোবাইল ফোন ব্যবহারঃ বৈধতার সিমা কতটুকু?- এই বইখানা আমি এজন্য লিখেছি, যাতে পাঠকবৃন্দ বুঝতে পারেন, মোবাইল নামক এই বৈধ যন্ত্রটির বৈধতারও একটি সিমা আছে। যতক্ষণ এই সিমার ভিতর থেকে তা ব্যবহার করা হবে ততক্ষণই তা আমাদের জন্য কল্যাণ ও মঙ্গল বয়ে আনবে। কিন্তু যখনই সিমা অতিক্রম করা হবে- তখনই তা আমাদের জন্য কল্যাণের না হয়ে অকল্যাণের বস্তু হিসেবে পরিগণিত হবে। যার অনিবার্য ফল হিসেবে আমাদের জন্য বরাদ্দ হবে- ফেতনা-ফাসাদ, অশান্তি ও পেরেশানি। সেই সাথে পরকালীন কঠিন শাস্তি তো আছেই!
পূর্ববর্তী বইগুলোতে এই বইয়ের এলানে এর নাম দেওয়া হয়েছিল মোবাইল ফোনঃ বৈধতার সিমা কতুটুক? কিন্তু পরে বড়দের সাথে পরামর্শ করে উক্ত নামটির মধ্যে সামান্য পরিবর্তন করে বর্তমান নামটি রাখা হয়েছে।
আমি এই গ্রন্থে মোবাইল সংক্রান্ত ৩টি ঘটনা ও প্রয়োজনীয় মাসায়েলগুলো খুব সহজ ভাষায় লিপিবদ্ধ করে কয়েকজন মুফতী সাহেবকে দেখিয়েছি। তাদের পরামর্শ নিয়েছি। চেষ্টা করেছি, এই বইটি যেন মোবাইল ফোন বিষয়ক একটি পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থের রূপ লাভ করে। এক্ষেত্রে মাসিক আল কাউসারসহ বেশকিছু পত্র-পত্রিকা আমার যথেষ্ট উপকারে এসেছে। সত্যি বলতে কি, এসব পত্র-পত্রিকার সহায়তা না নিলে এই বইয়ের সমাপ্তি হয়তো আরো অনেক পরে হতো।
মোবাইল সংক্রান্ত আরও কয়েকটি শিক্ষণীয় ঘটনা এই বইয়ে লিপিবদ্ধ করার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু স্থান সংকুলান না হওয়ায় সেই ইচ্ছার বাস্তবায়ন সম্ভব হলো না। তবে এসব ঘটনা পরবর্তী বই আদর্শ যুবক-যুবতী-২-এর মধ্যে অবশ্যই লিখব, ইনশাআল্লাহ। একই কারণে অর্থাৎ জায়গার অভাবে পাঠকের মতামতও মাত্র এক পৃষ্ঠায় দেওয়া হলো। আশা করি পাঠকবৃন্দ এ বিষয়টিকে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
বই প্রকাশের ক্ষেত্রে আমাকে যারা নানাভাবে সহযোগিতা করেছেন তাদের মধ্যে মুফতী শফীউল্লাহ, মুফতী হুযাইফা, মুফতী জহিরুল ইসলাম ও মাস্টার আব্দুল হালীমের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। জিকির">দোয়া করি, আল্লাহ তাআলা তাদের সবাইকে জান্নাতুল ফিরদাউসের আ'লা মাকাম নসীব করুন এবং এই বইকে লেখক, প্রকাশক ও সম্পাদকসহ সকলের নাজাতের ওসিলা হিসেবে কবুল করুন। আমীন।
দোয়াপ্রার্থী
মুহাম্মদ মুফীজুল ইসলাম
যুগে যুগে বিজ্ঞানীগণ যত নতুন নতুন জিনিস আবিষ্কার করেছেন হক্বানী উলামায়ে কেরাম নিরলস প্রচেষ্টার মাধ্যমে কোরআন-হাদিস মন্থন করে সেসব ক্ষেত্রে শরিয়তের দৃষ্টিভঙ্গি ও তৎসম্পর্কিত যাবতীয় মাসআলা-মাসায়েল অত্যন্ত সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে লিপিবদ্ধ করে গেছেন। ভবিষ্যতেও যত নতুন জিনিস আবিষ্কার হবে উলামায়ে কেরাম কোরআন ও সুন্নাহের আলোকে তার সঠিক সমাধান পেশ করে যাবেন, ইনশাআল্লাহ।
বর্তমান বিশ্বে যেসব নতুন আবিষ্কার অতি দ্রুত শহর-বন্দর ও গ্রাম-গঞ্জের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে পড়েছে তন্মধ্যে মোবাইল ফোন একটি উল্লেখযোগ্য আবিষ্কার। ধনী-গরীব, পুরুষ-মহিলা, যুবক-বৃদ্ধ- সকলের হাতেই এখন মোবাইল ফোন শোভা পায়। ক্ষুদ্র এই যন্ত্রটি আবিষ্কারের ফলে একদিকে যেমন সুযোগ-সুবিধার বিশাল দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে তেমনি মোবাইলের মাধ্যমে মহামূল্যবান সময় নষ্টসহ নানাবিধ গুনাহের কাজে জড়িয়ে পড়ারও সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে মারাত্মকভাবে। অনেকে মোবাইলকে প্রয়োজনের চেয়ে অপ্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহার করছে বেশি। আবার অনেকে ব্যবহার করছে অন্যায় কাজে।
টেলিভিশন, সিনেমা ইত্যাদি দেখা গুনাহের কাজ- একথা সবার জানা থাকার কারণে উচুঁ পর্যায়ের দীনদার লোকেরা তো বটেই, অসংখ্য সাধারণ দীনদার লোকেরাও অন্তত লোক-লজ্জার ভয়ে হলেও এসব থেকে দূরে থাকত। কিন্তু মোবাইল ফোন আবিষ্কারের পর উহার বৈধতার সুযোগ নিয়ে অনেক লোক তাকে ‘জায়েয ও বৈধ ব্যবহারের পাশাপাশি নানাবিধ অবৈধ ও গুনাহের কাজে' ব্যবহার করছে। যেমন, গান শোনা, ছবি তোলা, ছবি দেখা, ভিডিও করা ইত্যাদি। মোবাইলের মাধ্যমে এসব গুনাহের কাজ ইচ্ছা করলে লোকচক্ষুর অন্তরালেও করা সম্ভব বিধায় এসবের পরিমাণ ও মাত্রা দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপরন্তু মোবাইল ও তার বিভিন্ন বিষয়ের শরয়ি বিধান সম্পর্কে না জানার কারণে অসংখ্য লোক বুঝতেই পারছে না যে, মোবাইল দ্বারা কিভাবে তাদের গুনাহ হয়ে যাচ্ছে। বুঝতে পারছে না, মোবাইল ব্যবহারের কোন্ কোন্ ক্ষেত্রে অহরহ তাদের ভুল-ত্রুটি সংঘটিত হচ্ছে।
মোবাইল ফোন ব্যবহারঃ বৈধতার সিমা কতটুকু?- এই বইখানা আমি এজন্য লিখেছি, যাতে পাঠকবৃন্দ বুঝতে পারেন, মোবাইল নামক এই বৈধ যন্ত্রটির বৈধতারও একটি সিমা আছে। যতক্ষণ এই সিমার ভিতর থেকে তা ব্যবহার করা হবে ততক্ষণই তা আমাদের জন্য কল্যাণ ও মঙ্গল বয়ে আনবে। কিন্তু যখনই সিমা অতিক্রম করা হবে- তখনই তা আমাদের জন্য কল্যাণের না হয়ে অকল্যাণের বস্তু হিসেবে পরিগণিত হবে। যার অনিবার্য ফল হিসেবে আমাদের জন্য বরাদ্দ হবে- ফেতনা-ফাসাদ, অশান্তি ও পেরেশানি। সেই সাথে পরকালীন কঠিন শাস্তি তো আছেই!
পূর্ববর্তী বইগুলোতে এই বইয়ের এলানে এর নাম দেওয়া হয়েছিল মোবাইল ফোনঃ বৈধতার সিমা কতুটুক? কিন্তু পরে বড়দের সাথে পরামর্শ করে উক্ত নামটির মধ্যে সামান্য পরিবর্তন করে বর্তমান নামটি রাখা হয়েছে।
আমি এই গ্রন্থে মোবাইল সংক্রান্ত ৩টি ঘটনা ও প্রয়োজনীয় মাসায়েলগুলো খুব সহজ ভাষায় লিপিবদ্ধ করে কয়েকজন মুফতী সাহেবকে দেখিয়েছি। তাদের পরামর্শ নিয়েছি। চেষ্টা করেছি, এই বইটি যেন মোবাইল ফোন বিষয়ক একটি পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থের রূপ লাভ করে। এক্ষেত্রে মাসিক আল কাউসারসহ বেশকিছু পত্র-পত্রিকা আমার যথেষ্ট উপকারে এসেছে। সত্যি বলতে কি, এসব পত্র-পত্রিকার সহায়তা না নিলে এই বইয়ের সমাপ্তি হয়তো আরো অনেক পরে হতো।
মোবাইল সংক্রান্ত আরও কয়েকটি শিক্ষণীয় ঘটনা এই বইয়ে লিপিবদ্ধ করার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু স্থান সংকুলান না হওয়ায় সেই ইচ্ছার বাস্তবায়ন সম্ভব হলো না। তবে এসব ঘটনা পরবর্তী বই আদর্শ যুবক-যুবতী-২-এর মধ্যে অবশ্যই লিখব, ইনশাআল্লাহ। একই কারণে অর্থাৎ জায়গার অভাবে পাঠকের মতামতও মাত্র এক পৃষ্ঠায় দেওয়া হলো। আশা করি পাঠকবৃন্দ এ বিষয়টিকে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
বই প্রকাশের ক্ষেত্রে আমাকে যারা নানাভাবে সহযোগিতা করেছেন তাদের মধ্যে মুফতী শফীউল্লাহ, মুফতী হুযাইফা, মুফতী জহিরুল ইসলাম ও মাস্টার আব্দুল হালীমের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। জিকির">দোয়া করি, আল্লাহ তাআলা তাদের সবাইকে জান্নাতুল ফিরদাউসের আ'লা মাকাম নসীব করুন এবং এই বইকে লেখক, প্রকাশক ও সম্পাদকসহ সকলের নাজাতের ওসিলা হিসেবে কবুল করুন। আমীন।
দোয়াপ্রার্থী
মুহাম্মদ মুফীজুল ইসলাম