hadith book logo

চার ইমামের আকীদাহ - মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান

লেখকঃ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১০

তৃতীয় অধ্যায় ইমাম মালেক ইবন আনাসের আকীদাহ তাওহীদ বিষয়ে তাঁর বাণী:

হারাভী শাফে‘ঈ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন : ইমাম মালেককে কালাম (তর্কশাস্ত্র) ও তাওহীদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো। তিনি বললেন, নবীর প্রতি এ ধারণা করা অসম্ভব যে, তিনি তার উম্মতকে এস্তেঞ্জা শিখিয়েছেন অথচ তাদের তাওহীদ শিখাননি। তাওহীদ হলো তাই যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যেমন : “আমাকে মানুষের সাথে যুদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যতক্ষণ না তারা বলবে, আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য ইলাহ নেই। যার দ্বারা জান ও মাল নিরাপদ থাকে তাই প্রকৃত তাওহীদ।

দারাকুতনী ওয়ালীদ ইবন মুসলিম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, আমি মালেক, সাওরী, আওযা‘ঈ ও লাইস ইবন সা‘আদকে সিফাত সংক্রান্ত হাদীসসমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তারা বললেন, এগুলো যেভাবে এসেছে সেভাবেই রেখে দাও।

ইবন আবদুল বার বলেন, ইমাম মালেককে জিজ্ঞাসা করা হলো, কিয়ামতের দিন কি আল্লাহকে দেখা যাবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ । আল্লাহ আয্যা অজাল্লা বলেন,সেদিন কতক মুখমন্ডল হবে হাস্যোজ্জ্বল। তাদের রবের প্রতি দৃষ্টিনিক্ষেপকারী।আল-কিয়ামাহ : ২২আর তিনি অপর সম্প্রদায়ের জন্য বলেন,কখনো নয়, নিশ্চয় সেদিন তারা তাদের রব থেকে পর্দার আড়ালে থাকবে।আল-মুতাফফিফীন : ১৫আর কাযী আয়ায ইবন নাফে ও আশহাব থেকে ‘তারতীবুল মাদারিক’ নামক গ্রন্থে বলেন, তারা উভয়ে বললো : হে আবূ আব্দুল্লাহ তাদের একদল কি অপর দলের চেয়ে বেশি হবে?সেদিন কতক মুখমন্ডল হবে হাস্যোজ্জ্বল। তাদের রবের প্রতি দৃষ্টিনিক্ষেপকারী।তারা আল্লাহর দিকে দৃষ্টি দেবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ, তাদের এ দু’চোখ দ্বারা। আমি তাকে বললাম, কতক সম্প্রদায় বলে, আল্লাহর দিকে তাকানো যাবে না। এখানে দেখার অর্থ হলো, সাওয়াবের অপেক্ষা করা। তিনি বললেন, তারা মিথ্যা বলেছে, বরং আল্লাহর দিকেই তাকানো হবে। তুমি কি মূসা আলাইহিস সালাম এর কথা শোননি? তিনি বলেছেন, “হে আমার রব! আপনি আমাকে দেখা দিন, আমি আপনাকে দেখব”। (আল-আরাফ : ১৪৩) তুমি কি মনো করো মূসা তার রবের নিকট অসম্ভব কিছু চেয়েছেন? আল্লাহ বলেন,তুমি আমাকে কখনো দেখবে না।আল-আরাফ : ১৪৩অর্থাৎ, দুনিয়াতে। কারণ, এটি হলো ক্ষণস্থায়ী ঘর। আর অস্থায়ী বস্তু দ্বারা চিরস্থায়ী বস্তু দেখা যায় না। যখন তারা স্থায়ী ঘরের দিকে যাবে তখন তারা স্থায়ী বস্তু দ্বারা স্থায়ী বস্তু দেখবে। আল্লাহ বলেন,কখনো নয়, নিশ্চয় সেদিন তারা তাদের রব থেকে পর্দার আড়ালে থাকবে।আল-মুতাফফিফীন : ১৫

আবূ নু‘আইম জা‘ফর ইবন আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, আমরা মালেক ইবন আনাসের নিকট উপস্থিত ছিলাম এমতাবস্থায় এক লোক তার কাছে এসে বলল, হে আবূ আব্দুল্লাহ! “রহমান আরশের ওপর ওঠেছেন” কিভাবে ওঠেছেন ?

তার এ প্রশ্নের কারণে মালিক যে কষ্ট পেলেন অন্য কোনো কারণে তিনি এরূপ কষ্ট পাননি। তিনি যমীনের দিকে তাকালেন ও তার হাতে থাকা লাঠি দিয়ে ঠুকতে লাগলেন, এমনকি তার শরীরে ঘাম বেরিয়ে আসল। অতঃপর তিনি মাথা উঠালেন ও লাঠিটি নিক্ষেপ করলেন এবং বললেন, (আরশে ওঠার) ধরণ বোধগম্য নয়, তবে তার ওপরে ওঠা অজানা বিষয় নয়। আর তার প্রতি ঈমান আনা ওয়াজিব এবং তার সম্পর্কে প্রশ্ন করা বিদ‘আত। আর আমি তোমাকে একজন বিদ‘আতি মনে করি। আর তাকে বের করে দেয়ার নির্দেশ দিলেন, ফলে তাকে বের করে দেওয়া হলো।

আবূ নু‘আইম ইয়াহইয়া ইবন রাবী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি মালেক ইবন আনাসের নিকট উপস্থিত ছিলাম, এমতাবস্থায় তার কাছে এক লোক আসল ও বলল, হে আবূ আব্দুল্লাহ! যে বলে কুরআন মাখলুক আপনি তার সম্পর্কে কি বলেন?

মালিক বললেন, সে জিন্দিক—বদ্বীন, তাকে হত্যা করো। সে বলল, হে আবূ আব্দুল্লাহ! আমি একটি শোনা কথা বর্ণনা করছি। তিনি বললেন, আমি তা কারো হতে শুনিনি কেবল তোমার থেকেই শুনেছি। তিনি এ কথাকে মারাত্মক জানলেন।

ইবন আব্দুল বার আব্দুল্লাহ ইবন নাফে‘ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, মালেক ইবন আনাস বলতেন, যে ব্যক্তি এ কথা বলে যে, কুরআন মাখলুক তাকে প্রহার করে শাস্তি দেওয়া হবে এবং তাওবা না করা পর্যন্ত বন্দী করে রাখা হবে।

আবূ দাউদ আব্দুল্লাহ ইবন নাফে‘ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, মালেক বলেছেন, আল্লাহ আসমানে আর তার ইলম সব জায়গায়।