hadith book logo

চার ইমামের আকীদাহ - মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান

লেখকঃ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২০

পঞ্চম অধ্যায় ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বলের আকীদাহ তাওহীদ বিষয়ে তার বাণী:

তাবকাতুল হানাবিলা গ্রন্থে এসেছে: ইমাম আহমাদকে তাওয়াক্কুল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, ফলে তিনি বললেন, মাখলুক থেকে আশাকে নিরাশের সাথে ছিন্ন করে দেওয়া।

হাম্বলের পরীক্ষার ওপর লিখিত “আল-মিহনাহ’ গ্রন্থে এসেছে, ইমাম আহমাদ বলেছেন: আল্লাহ আজ্জা ওয়াজাল্লা আদি থেকেই কথক (মুতাকাল্লিম)। আর কুরআন সব বিবেচনাতেই আল্লাহ আজ্জা ওয়াজাল্লার কালাম মাখলুক নয়। আল্লাহ তাঁর নিজের সত্তাকে যেসব গুণ দ্বারা বিশেষিত করেছেন তার চেয়ে বেশি কিছু দ্বারা তাঁকে বিশেষিত করা যাবে না।

ইবন আবী ইয়া‘লা আবূ বকর আল-মারওয়াযী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি আহমদ ইবন হাম্বালকে সেসব হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছি, যেগুলো জাহমিয়ারা আল্লাহর সিফাত, দিদার, ইসরা ও আরশের ঘটনার ক্ষেত্রে প্রত্যাখ্যান করে, তিনি সেগুলোকে সহীহ বললেন। আর বলেছেন, উম্মত এগুলোকে কবুল করে নিয়েছে। আর হাদীসগুলো যেভাবে আসছে সেভাবেই থাকবে।

কিতাবুস সুন্নাহতে আব্দুল্লাহ ইবন আহমাদ বলেন, আহমাদ বলেছেন: যে এ ধারণা করে, আল্লাহ কথা বলেন না সে কাফির। তবে আমরা এ হাদীসসমূহ যেভাবে এসেছে সেভাবেই বর্ণনা করি।

লালাকায়ী হাম্বাল থেকে বর্ণনা করেন, তিনি ইমাম আহমাদকে আল্লাহর দিদার সম্পর্কে জিজ্ঞাস করেছেন, ফলে তিনি বললেন, হাদীসগুলো সহীহ। আমরা তার প্রতি ঈমান আনি ও তা স্বীকার করি। বস্তুত যেসব হাদীস নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বিশুদ্ধ সনদে বর্ণিত হয়েছে, আমরা তার প্রতি ঈমান আনি ও স্বীকার করি।

ইবনুল জাওযী তাঁর ‘মানাকিব’ গ্রন্থে মুসাদ্দাদ (ইবন মুসারহাদ) এর জন্যে রচিত আহমাদ ইবন হাম্বলের কিতাবটি উল্লেখ করেছেন, তাতে রয়েছে: তোমরা আল্লাহকে সেসব গুণে গুনান্বিত করো, যা দ্বারা তিনি নিজেকে গুনান্বিত করেছেন এবং আল্লাহ থেকে তোমরা সেসব দোষ-ত্রুটি নাকচ করো, যা তিনি তার নিজের থেকে নাকোচ করেছেন।

আহমাদ রচিত ‘আর-রদ আলাল জাহমিয়া’ কিতাবে তার বাণী এভাবে এসেছে: জাহাম ইবন সাফওয়ান বলে, আল্লাহ স্বীয় কিতাবে নিজেকে যা দ্বারা গুনান্বিত করেছেন অথবা (আল্লাহর কোনো গুণ) তাঁর রাসূল থেকে বর্ণনা করেছে, সে কাফির ও সাদৃশ্যবাদীদের অর্ন্তভুক্ত।

ইবনু তাইমিয়্যাহ “আদ-দারউ” কিতাবে ইমাম আহমাদের কথা বর্ণনা করেন: আমরা ঈমান আনি যে, আল্লাহ যেভাবে ও যেমন চেয়েছেন সেভাবে আরশের ওপর রয়েছেন কোনো ধরণ বর্ণনাকারীর ধরণ ও সংজ্ঞা বর্ণনাকারীর সংজ্ঞা ছাড়াই। আল্লাহর সিফাতসমূহ তার থেকেই এবং তাঁর জন্যেই। তিনি তেমনই যেমনটি নিজেকে গুণান্বিত করেছেন। তাকে চক্ষুসমূহ আয়ত্ব করতে পারে না।

ইবনু ইয়া‘লা আহমাদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি এ বিশ্বাস করে যে, আল্লাহকে আখিরাতে দেখা যাবে সে কাফির কুরআনকে মিথ্যা সাব্যস্তকারী।

ইবন আবি ইয়া‘লা আব্দুল্লাহ ইবন আহমাদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি আমার পিতাকে এক সম্প্রদায় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম, যারা বলেন, আল্লাহ যখন মূসার সাথে কথা বলেছেন, তখন তিনি আওয়াজের সাথে কথা বলেননি। তখন আমার পিতা বললেন, আল্লাহ আওয়াজের সাথে কথা বলেছেন। আর এ সব হাদীস যেভাবে এসেছে সেভাবেই আমরা বর্ণনা করি।

লালাকাঈ’ আব্দূস ইবন মালিক আল-আত্তার থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আবূ আব্দুল্লাহ আহমাদ ইবন হাম্বলকে বলতে শুনেছি: কুরআন আল্লাহর কালাম, তা মাখলুক নয়। মাখলুক নয় বলতে দুর্বল হবে না। কারণ, আল্লাহর কালাম আল্লাহর থেকেই। আর তার থেকে কোন বস্তুই মাখলুক নয়।