১
চার ইমামের আকীদাহ - মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান
লেখকঃ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৯
ইলমুল কালাম ও দীনের বিষয়ে তর্কবিতর্ক করা থেকে তার নিষেধ করা
ইমাম আবূ হানীফা বলেন, প্রবৃত্তির অনুসারীরা বাসরাতে অনেক। আমি ইলমে কালামকে সবচেয়ে সম্মানি ইলম ধারণা করে তাতে বিশেবারের অধিক প্রবেশ করি; কখনো তাতে একবছর বা তার চেয়ে বেশি আবার কখনো কম সময় অবস্থান করি।
তিনি আরো বলেন, আমি ইলমু কালাম (তর্কশাস্ত্র) শিখে-শিখে সে স্তরে পৌঁছলাম যে স্তরে পৌঁছার কারণে আমার দিকে আঙ্গুলসমূহ দ্বারা ইঙ্গিত করা হয়। আর আমি হাম্মাদ ইবন আবূ সুলাইমানের মজলিসের নিকটেই বসতাম। একদা এক মহিলা এসে বলল, এক ব্যক্তির একজন বাঁদী স্ত্রী আছে, সে তাকে সুন্নাহ পদ্ধতিতে তালাক দিতে চায়, তাকে কয় তালাক দিবে?
আমি বুঝতে পারলাম না তাকে কি বলব, তাই আমি তাকে নির্দেশ দিলাম যেন হাম্মাদকে বিষয়টি জিজ্ঞাসা করে এবং ফিরে এসে যেন আমাকে জানায়। সে হাম্মাদকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, হায়েয এবং সহবাস থেকে মুক্ত পবিত্র অবস্থায় তাকে এক তালাক দেবে তারপর দুই হায়েয পর্যন্ত এ অবস্থায় রেখে দেবে। তারপর যখন সে গোসল করে পবিত্র হবে, তখন সে অন্যান্য স্বামীর জন্য হালাল হয়ে যাবে। মহিলাটি ফিরে এসে আমাকে বিষয়টি অবহিত করল। তখন আমি বললাম, ইলমুল কালামে আমার আর কোনো দরকার নেই। আমি আমার জুতা দুটো নিলাম এবং হাম্মাদের নিকট এসে বসলাম।
এবং তিনি বলেন, আমর ইবন উবাইদকে আল্লাহ লা‘নত করুক। কারণ, সে মানুষের জন্য ইলমে কালাম যে বিষয়ে কথা বলাতে মানুষের কোন উপকার হয় না তার পথ খুলেছে।
এক লোক তাকে জিজ্ঞাসা করল, জিসিম ও আরায (আল্লাহর শরীর ও সিফাত) সম্পর্কে তর্কশাস্ত্রে মানুষ যা আবিষ্কার করেছে সে সস্পর্কে আপনার মতামত কি? তিনি বললেন, এগুলো হচ্ছে দার্শনিকদের কথাবার্তা। তুমি আসার ও সালাফদের পথ গ্রহণ কর। আর তুমি প্রত্যেক নব আবিষ্কৃত বস্তু থেকে বেঁচে থাকো। কারণ এ গুলো সবই বিদ‘আত।
হাম্মাদ ইবন আবি হানীফা বলেন, আমার পিতা একদিন আমার নিকট প্রবেশ করলেন। তখন আমার নিকট কালামবিদদের কতক লোক উপস্থিত ছিল। আমরা তখন কোনো একটি বিষয় নিয়ে তর্কাতর্কি করছিলাম। এতে আমাদের আওয়াজ উঁচা হলো। আমি যখন বাড়ির ভিতরে তার আগমন শুনতে পারলাম তার নিকট গেলাম। তখন তিনি আমাকে বললেন, হে হাম্মাদ তোমার নিকট কারা? আমি বললাম অমুক অমুক। আমার নিকট যারা ছিল তাদের নাম উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন, তোমরা কি নিয়ে আছো? আমি বললাম, (ইলমুল কালামের) অমুক অমুক অধ্যায়ে। তখন তিনি আমাকে বললেন, হে হাম্মাদ! তুমি কালাম বর্জন করো।
তিনি বলেন, আমি আমার পিতাকে কখনো এলোমেলো পাইনি এবং এমন লোকদের মধ্যেও নয় যে কোন বিষয়ে আদেশ দিয়ে তা থেকে আবার নিষেধ করে। আমি তাকে বললাম, হে আমার পিতা, তুমিই কি আমাকে তা শেখার নির্দেশ দাও নি? তিনি বললেন, অবশ্যই, হে আমার ছেলে। তবে আমি আজকে তোমাকে তার থেকে নিষেধ করছি। আমি বললাম কেন? তিনি বললেন, হে আমার ছেলে কালামের বিভিন্ন শাখা-প্রশাখায় বিতর্ককারী এরা সবাই যাদেরকে তুমি দেখেছো এক কথা ও একই দীনের ওপর ছিল, অবশেষে শয়তান তাদের সম্পর্ক নষ্ট করল এবং তাদের মাঝে দুশমণি ও মতবিরোধ সৃষ্টি করে দিল ফলে তারা বিপরীত মুখী হয়ে পড়ল।
এবং আবূ হানীফা আবূ ইউসূফকে বলেন, তুমি জন সাধারণকে দীনের মৌলিক বিষয়ে কালাম সম্পর্কে কথা বলা থেকে বিরত থাকবে। কারণ তারা এমন লোক যারা তোমার অন্ধ অনুকরণ করবে, ফলে সেটা নিয়েই ব্যস্ত হয়ে যাবে।
এ হলো ইমাম আবূ হানীফা রাহিমাহুল্লাহ এর কিছু বাণী এবং দীনের মৌলিক বিষয়ে তিনি যা বিশ্বাস করতেন তার বর্ণনা এবং ইলমুল কালাম ও মুতাকাল্লিমীনের বিপক্ষে তার অবস্থান।
তিনি আরো বলেন, আমি ইলমু কালাম (তর্কশাস্ত্র) শিখে-শিখে সে স্তরে পৌঁছলাম যে স্তরে পৌঁছার কারণে আমার দিকে আঙ্গুলসমূহ দ্বারা ইঙ্গিত করা হয়। আর আমি হাম্মাদ ইবন আবূ সুলাইমানের মজলিসের নিকটেই বসতাম। একদা এক মহিলা এসে বলল, এক ব্যক্তির একজন বাঁদী স্ত্রী আছে, সে তাকে সুন্নাহ পদ্ধতিতে তালাক দিতে চায়, তাকে কয় তালাক দিবে?
আমি বুঝতে পারলাম না তাকে কি বলব, তাই আমি তাকে নির্দেশ দিলাম যেন হাম্মাদকে বিষয়টি জিজ্ঞাসা করে এবং ফিরে এসে যেন আমাকে জানায়। সে হাম্মাদকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, হায়েয এবং সহবাস থেকে মুক্ত পবিত্র অবস্থায় তাকে এক তালাক দেবে তারপর দুই হায়েয পর্যন্ত এ অবস্থায় রেখে দেবে। তারপর যখন সে গোসল করে পবিত্র হবে, তখন সে অন্যান্য স্বামীর জন্য হালাল হয়ে যাবে। মহিলাটি ফিরে এসে আমাকে বিষয়টি অবহিত করল। তখন আমি বললাম, ইলমুল কালামে আমার আর কোনো দরকার নেই। আমি আমার জুতা দুটো নিলাম এবং হাম্মাদের নিকট এসে বসলাম।
এবং তিনি বলেন, আমর ইবন উবাইদকে আল্লাহ লা‘নত করুক। কারণ, সে মানুষের জন্য ইলমে কালাম যে বিষয়ে কথা বলাতে মানুষের কোন উপকার হয় না তার পথ খুলেছে।
এক লোক তাকে জিজ্ঞাসা করল, জিসিম ও আরায (আল্লাহর শরীর ও সিফাত) সম্পর্কে তর্কশাস্ত্রে মানুষ যা আবিষ্কার করেছে সে সস্পর্কে আপনার মতামত কি? তিনি বললেন, এগুলো হচ্ছে দার্শনিকদের কথাবার্তা। তুমি আসার ও সালাফদের পথ গ্রহণ কর। আর তুমি প্রত্যেক নব আবিষ্কৃত বস্তু থেকে বেঁচে থাকো। কারণ এ গুলো সবই বিদ‘আত।
হাম্মাদ ইবন আবি হানীফা বলেন, আমার পিতা একদিন আমার নিকট প্রবেশ করলেন। তখন আমার নিকট কালামবিদদের কতক লোক উপস্থিত ছিল। আমরা তখন কোনো একটি বিষয় নিয়ে তর্কাতর্কি করছিলাম। এতে আমাদের আওয়াজ উঁচা হলো। আমি যখন বাড়ির ভিতরে তার আগমন শুনতে পারলাম তার নিকট গেলাম। তখন তিনি আমাকে বললেন, হে হাম্মাদ তোমার নিকট কারা? আমি বললাম অমুক অমুক। আমার নিকট যারা ছিল তাদের নাম উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন, তোমরা কি নিয়ে আছো? আমি বললাম, (ইলমুল কালামের) অমুক অমুক অধ্যায়ে। তখন তিনি আমাকে বললেন, হে হাম্মাদ! তুমি কালাম বর্জন করো।
তিনি বলেন, আমি আমার পিতাকে কখনো এলোমেলো পাইনি এবং এমন লোকদের মধ্যেও নয় যে কোন বিষয়ে আদেশ দিয়ে তা থেকে আবার নিষেধ করে। আমি তাকে বললাম, হে আমার পিতা, তুমিই কি আমাকে তা শেখার নির্দেশ দাও নি? তিনি বললেন, অবশ্যই, হে আমার ছেলে। তবে আমি আজকে তোমাকে তার থেকে নিষেধ করছি। আমি বললাম কেন? তিনি বললেন, হে আমার ছেলে কালামের বিভিন্ন শাখা-প্রশাখায় বিতর্ককারী এরা সবাই যাদেরকে তুমি দেখেছো এক কথা ও একই দীনের ওপর ছিল, অবশেষে শয়তান তাদের সম্পর্ক নষ্ট করল এবং তাদের মাঝে দুশমণি ও মতবিরোধ সৃষ্টি করে দিল ফলে তারা বিপরীত মুখী হয়ে পড়ল।
এবং আবূ হানীফা আবূ ইউসূফকে বলেন, তুমি জন সাধারণকে দীনের মৌলিক বিষয়ে কালাম সম্পর্কে কথা বলা থেকে বিরত থাকবে। কারণ তারা এমন লোক যারা তোমার অন্ধ অনুকরণ করবে, ফলে সেটা নিয়েই ব্যস্ত হয়ে যাবে।
এ হলো ইমাম আবূ হানীফা রাহিমাহুল্লাহ এর কিছু বাণী এবং দীনের মৌলিক বিষয়ে তিনি যা বিশ্বাস করতেন তার বর্ণনা এবং ইলমুল কালাম ও মুতাকাল্লিমীনের বিপক্ষে তার অবস্থান।