১
চার ইমামের আকীদাহ - মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান
লেখকঃ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২৫
পরিশিষ্ট:
উপরের আলোচনা দ্বারা আমাদের কাছে সুস্পষ্ট হয়ে গেলো যে, আকীদার ক্ষেত্রে চার ইমামের বক্তব্য ছিল এক ও অভিন্ন। শুধু ঈমানের মাসআলা ছাড়া তাদের সকলের আকীদাহ এক। ইমানের মাসআলায় ইমাম আবূ হানীফা ভিন্ন মত পোষণ করেছেন। এদত্ব সত্তেও বলা হয়ে থাকে যে, তিনি ঈমান বিষয়ে তার মতামত থেকে ফিরে এসেছেন।
এই আকীদাহ মুসলিমগণকে এক কালিমার ওপর একত্র করা এবং দীনের ব্যাপারে তাদেরকে দলাদলি থেকে বাঁচানোর উপযুক্ত মাধ্যম। কারণ এসব আকীদাহ আল্লাহর কিতাব ও রাসূলের সুন্নাত থেকেই গৃহিত হয়েছে। খুব কম মানুষই এসব ইমামের আকীদাহ বুঝে এবং ভালোভাবে জানে ও ভালোভাবে শিখে। বরং এ কথা ছড়িয়ে গেছে যে, এসব ইমাম আকীদাহ সম্পর্কিত বক্তব্যগুলোর জ্ঞান আল্লাহর নিকট সোপর্দ করতেন এবং তাঁরা কুরআন-সুন্নাহ শুধু পাঠ করা ব্যতীত আর কিছুই জানতেন না। যেন আল্লাহ অনর্থক অহী নাযিল করেছেন।
অথচ আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন:আমি তোমার প্রতি নাযিল করেছি এক বরকতময় কিতাব, যাতে তারা এর আয়াতসমূহ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে এবং যাতে বুদ্ধিমানগণ উপদেশ গ্রহণ করে।সূরা সাদ : ২৯আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,আর নিশ্চয় এ কুরআন সৃষ্টিকুলের রবেরই নাযিলকৃত। বিশ্বস্ত আত্মা এটা নিয়ে অবতরণ করেছে। তোমার হৃদয়ে, যাতে তুমি সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত হও। সুস্পষ্ট আরবী ভাষায়।আশ-শু‘আরা : ১৯২, ১৯৫আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,নিশ্চয় আমি একে আরবী কুরআনরূপে নাযিল করেছি যাতে তোমরা বুঝতে পার।ইউছুফ : ২
আমি তোমার প্রতি নাযিল করেছি এক বরকতময় কিতাব, যাতে তারা এর আয়াতসমূহ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে এবং যাতে বুদ্ধিমানগণ উপদেশ গ্রহণ করে।
সূরা সাদ : ২৯
আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,
আর নিশ্চয় এ কুরআন সৃষ্টিকুলের রবেরই নাযিলকৃত। বিশ্বস্ত আত্মা এটা নিয়ে অবতরণ করেছে। তোমার হৃদয়ে, যাতে তুমি সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত হও। সুস্পষ্ট আরবী ভাষায়।
আশ-শু‘আরা : ১৯২, ১৯৫
আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,
নিশ্চয় আমি একে আরবী কুরআনরূপে নাযিল করেছি যাতে তোমরা বুঝতে পার।
ইউছুফ : ২
আল্লাহ তা‘আলা কুরআন নাযিল করেছেন, যাতে তার আয়াতসমূহে চিন্তা করা হয় এবং তা দ্বারা উপদেশ গ্রহন করা যায়। তিনি সংবাদ দেন যে, তিনি কুরআনকে সুস্পষ্ট আরবী ভাষায় নাযিল করেছেন, যাতে মানুষ তার অর্থ জানে ও বুঝে। আল্লাহ যেহেতু তার আয়াতসমূহ চিন্তা করার জন্য স্পষ্ট আরবী ভাষায় নাযিল করেছেন, তাই যাদের প্রতি এটি নাযিল করা হয়েছে, সুস্পষ্ট আরবী ভাষার দাবি অনুযায়ী তাদের জন্য এর অর্থ জানা সহজ হওয়া আবশ্যক। কুরআন যদি এমন হতো যে, তার অর্থ জানা সম্ভব নয়, তাহলে তা নাযিল করা অনর্থক হতো। কারণ কোনো সম্প্রদায়ের নিকট এমন শব্দমালা নাযিল করে কোনো লাভ নেই, যা তাদের নিকট অর্থবিহীন শব্দের স্থলাভিষিক্ত; যার কোন অর্থ নেই।
এ ধরনের কথা বলা, সাহাবী, তাবে‘ঈ ও তাদের পরবর্তী ইমামগণের আকিদার ওপর অপবাদ এবং এমন কিছু তাদের দিকে ছুড়ে মারা যার থেকে তারা সম্পূর্ণ মুক্ত। তারা নবুওয়তী যুগের নিকটবর্তী হওয়ার কারণে ওহীর নসসমূহের অর্থ জানেন ও বুঝেন। বরং এ বিষয়ে সব মানুষের চেয়ে তাঁঁরাই বেশী হকদার। তারা এমন কতক ইবাদাত দ্বারা আল্লাহর ইবাদাত করেন যা তারা কুরআন ও সুন্নাহের প্রমাণ থেকে বুঝেছেন এবং তারা তা আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ সত্য ও বিধান বলে বিশ্বাস করেছেন। বস্তুত যে রাস্তা তাদেরকে তাদের মা‘বুদের নিকট পৌঁছে দেয় সে রাস্তাকে যখন তারা চিনেছেন তাহলে কীভাবে তারা তাদের মা‘বুদকে পরিপূর্ণ সিফাতের সাথে চিনবে না এবং নসসমূহের অর্থ জানবে না, যা আল্লাহ নিজেই তার বান্দাদের জানিয়েছেন?!
মোট কথা এ চার ইমামের আকীদা হলো বিশুদ্ধ আকীদা যা কুরআন ও সুন্নাহের পরিষ্কার ঝর্ণাধারা থেকে এসেছে, তার সাথে ব্যাখ্যা, অস্বীকার করা বা সাদৃশ্য বা তুলনার লেশও যুক্ত হয় না। সাদৃশবাদী ও মুয়াত্তীল আল্লাহর সিফাত থেকে তাই বুঝেছে যা মাখলুকের সাথে প্রযোজ্য হয়। আর এটি হচ্ছে আল্লাহ তার বান্দাদেরকে যে ফিতরাতের ওপর সৃষ্টি করেছেন তার সম্পূর্ণ পরীপন্থী। কারণ, (বান্দারা স্বভাগতভাবে জানে) আল্লাহর মতো কোন কিছুই হয় না, না তার সত্বার মতো হয়, না তার সিফাতের মতো হয়, না তার কর্মসমূহে মতো হয়।
আল্লাহর নিকট আমার প্রার্থনা যে, তিনি এই পুস্তিকা দ্বারা মুসলিমগণের উপকার করেন এবং তাদেরকে এক আকীদাহ ও এক পথের ওপর একত্র করেন, যা কুরআন ও সুন্নাহের আকীদাহ এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শ ও তাঁর সুন্নাত। আল্লাহই ইচ্ছার পিছনে। তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনিই উত্তম অভিভাবক।
আমাদের শেষ দাবি হলো, সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্যে, যিনি সৃষ্টিকুলের রব।
আর আল্লাহ সালাত নাযিল করুন আমাদের নবী মুহাম্মাদের ওপর।
এই আকীদাহ মুসলিমগণকে এক কালিমার ওপর একত্র করা এবং দীনের ব্যাপারে তাদেরকে দলাদলি থেকে বাঁচানোর উপযুক্ত মাধ্যম। কারণ এসব আকীদাহ আল্লাহর কিতাব ও রাসূলের সুন্নাত থেকেই গৃহিত হয়েছে। খুব কম মানুষই এসব ইমামের আকীদাহ বুঝে এবং ভালোভাবে জানে ও ভালোভাবে শিখে। বরং এ কথা ছড়িয়ে গেছে যে, এসব ইমাম আকীদাহ সম্পর্কিত বক্তব্যগুলোর জ্ঞান আল্লাহর নিকট সোপর্দ করতেন এবং তাঁরা কুরআন-সুন্নাহ শুধু পাঠ করা ব্যতীত আর কিছুই জানতেন না। যেন আল্লাহ অনর্থক অহী নাযিল করেছেন।
অথচ আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন:আমি তোমার প্রতি নাযিল করেছি এক বরকতময় কিতাব, যাতে তারা এর আয়াতসমূহ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে এবং যাতে বুদ্ধিমানগণ উপদেশ গ্রহণ করে।সূরা সাদ : ২৯আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,আর নিশ্চয় এ কুরআন সৃষ্টিকুলের রবেরই নাযিলকৃত। বিশ্বস্ত আত্মা এটা নিয়ে অবতরণ করেছে। তোমার হৃদয়ে, যাতে তুমি সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত হও। সুস্পষ্ট আরবী ভাষায়।আশ-শু‘আরা : ১৯২, ১৯৫আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,নিশ্চয় আমি একে আরবী কুরআনরূপে নাযিল করেছি যাতে তোমরা বুঝতে পার।ইউছুফ : ২
আমি তোমার প্রতি নাযিল করেছি এক বরকতময় কিতাব, যাতে তারা এর আয়াতসমূহ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে এবং যাতে বুদ্ধিমানগণ উপদেশ গ্রহণ করে।
সূরা সাদ : ২৯
আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,
আর নিশ্চয় এ কুরআন সৃষ্টিকুলের রবেরই নাযিলকৃত। বিশ্বস্ত আত্মা এটা নিয়ে অবতরণ করেছে। তোমার হৃদয়ে, যাতে তুমি সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত হও। সুস্পষ্ট আরবী ভাষায়।
আশ-শু‘আরা : ১৯২, ১৯৫
আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,
নিশ্চয় আমি একে আরবী কুরআনরূপে নাযিল করেছি যাতে তোমরা বুঝতে পার।
ইউছুফ : ২
আল্লাহ তা‘আলা কুরআন নাযিল করেছেন, যাতে তার আয়াতসমূহে চিন্তা করা হয় এবং তা দ্বারা উপদেশ গ্রহন করা যায়। তিনি সংবাদ দেন যে, তিনি কুরআনকে সুস্পষ্ট আরবী ভাষায় নাযিল করেছেন, যাতে মানুষ তার অর্থ জানে ও বুঝে। আল্লাহ যেহেতু তার আয়াতসমূহ চিন্তা করার জন্য স্পষ্ট আরবী ভাষায় নাযিল করেছেন, তাই যাদের প্রতি এটি নাযিল করা হয়েছে, সুস্পষ্ট আরবী ভাষার দাবি অনুযায়ী তাদের জন্য এর অর্থ জানা সহজ হওয়া আবশ্যক। কুরআন যদি এমন হতো যে, তার অর্থ জানা সম্ভব নয়, তাহলে তা নাযিল করা অনর্থক হতো। কারণ কোনো সম্প্রদায়ের নিকট এমন শব্দমালা নাযিল করে কোনো লাভ নেই, যা তাদের নিকট অর্থবিহীন শব্দের স্থলাভিষিক্ত; যার কোন অর্থ নেই।
এ ধরনের কথা বলা, সাহাবী, তাবে‘ঈ ও তাদের পরবর্তী ইমামগণের আকিদার ওপর অপবাদ এবং এমন কিছু তাদের দিকে ছুড়ে মারা যার থেকে তারা সম্পূর্ণ মুক্ত। তারা নবুওয়তী যুগের নিকটবর্তী হওয়ার কারণে ওহীর নসসমূহের অর্থ জানেন ও বুঝেন। বরং এ বিষয়ে সব মানুষের চেয়ে তাঁঁরাই বেশী হকদার। তারা এমন কতক ইবাদাত দ্বারা আল্লাহর ইবাদাত করেন যা তারা কুরআন ও সুন্নাহের প্রমাণ থেকে বুঝেছেন এবং তারা তা আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ সত্য ও বিধান বলে বিশ্বাস করেছেন। বস্তুত যে রাস্তা তাদেরকে তাদের মা‘বুদের নিকট পৌঁছে দেয় সে রাস্তাকে যখন তারা চিনেছেন তাহলে কীভাবে তারা তাদের মা‘বুদকে পরিপূর্ণ সিফাতের সাথে চিনবে না এবং নসসমূহের অর্থ জানবে না, যা আল্লাহ নিজেই তার বান্দাদের জানিয়েছেন?!
মোট কথা এ চার ইমামের আকীদা হলো বিশুদ্ধ আকীদা যা কুরআন ও সুন্নাহের পরিষ্কার ঝর্ণাধারা থেকে এসেছে, তার সাথে ব্যাখ্যা, অস্বীকার করা বা সাদৃশ্য বা তুলনার লেশও যুক্ত হয় না। সাদৃশবাদী ও মুয়াত্তীল আল্লাহর সিফাত থেকে তাই বুঝেছে যা মাখলুকের সাথে প্রযোজ্য হয়। আর এটি হচ্ছে আল্লাহ তার বান্দাদেরকে যে ফিতরাতের ওপর সৃষ্টি করেছেন তার সম্পূর্ণ পরীপন্থী। কারণ, (বান্দারা স্বভাগতভাবে জানে) আল্লাহর মতো কোন কিছুই হয় না, না তার সত্বার মতো হয়, না তার সিফাতের মতো হয়, না তার কর্মসমূহে মতো হয়।
আল্লাহর নিকট আমার প্রার্থনা যে, তিনি এই পুস্তিকা দ্বারা মুসলিমগণের উপকার করেন এবং তাদেরকে এক আকীদাহ ও এক পথের ওপর একত্র করেন, যা কুরআন ও সুন্নাহের আকীদাহ এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শ ও তাঁর সুন্নাত। আল্লাহই ইচ্ছার পিছনে। তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনিই উত্তম অভিভাবক।
আমাদের শেষ দাবি হলো, সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্যে, যিনি সৃষ্টিকুলের রব।
আর আল্লাহ সালাত নাযিল করুন আমাদের নবী মুহাম্মাদের ওপর।