hadith book logo

চার ইমামের আকীদাহ - মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান

লেখকঃ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫

দ্বিতীয়ত: সিফাত সাব্যস্ত এবং জাহমিয়্যাদের প্রতিবাদ তার বাণী:

তিনি বলেন, আল্লাহকে মাখলুকের গুণে গুণান্বিত করা যাবে না। আর তাঁর রাগ ও খুশি তাঁর সিফাতসমূহ থেকে দুটি সিফাত নির্দিষ্ট ধরন ব্যতীত। এটি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের আকীদাহ। তিনি রাগ করেন ও খুশি হন। এমন বলা যাবে না যে, তার রাগ মানে তাঁর শাস্তি এবং তাঁর খুশি মানে তাঁর সাওয়াব। আমরা তাঁকে সেভাবেই গুণান্বিত করব যেভাবে তিনি তার নিজের সত্তাকে গুণান্বিত করেছেন। তিনি এক, অমুখাপেক্ষী, তিনি কাউকে জন্ম দেননি, তাকে কেউ জন্ম দেয়নি। তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই। তিনি চিরঞ্জীব, ক্ষমতাবান, সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা এবং প্রজ্ঞাবান। আল্লাহর হাত তাদের হাতের উপরে। তাঁর হাত মাখলুকের হাতের মতো নয় এবং তাঁর চেহারা সৃষ্টির চেহারার মতো নয়।

তিনি আরো বলেন, তার রয়েছে হাত, রয়েছে চেহারা ও নাফ্স, যেমনটি আল্লাহ তা‘আলা কুরআনে উল্লেখ করেছেন। অতএব কুরআনে আল্লাহ তা‘আলা যা উল্লেখ করেছেন, যেমন তাঁর চেহারা, হাত ও নাফসের উল্লেখ তা সব তাঁর সিফাত নির্দিষ্ট ধরন ছাড়াই। এমন বলা যাবে না যে, তাঁর হাত হলো তার কুদরত বা তার নি‘আমত। কারণ এতে সিফাতকে বাতিল করা হয়। আর এটিই কাদারিয়া ও মু‘তাযিলাদের কথা।

তিনি আরো বলেন, কারো জন্য আল্লাহর সত্তা সম্পর্কে কথা বলা উচিত নয়। বরং তিনি নিজেকে যে গুণাবলী দ্বারা গুণান্বিত করেছেন তাকে তা দ্বারাই গুণান্বিত করতে হবে নিজস্ব রায়ের উপর ভিত্তি করে তাঁর ব্যাপারে কিছু বলবে না। বিশ্বজাহানের রব আল্লাহ তা‘আলা সুমহান।

যখন তাকে নুযুলে ইলাহী সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলো তিনি বলেন, তিনি নাযিল হন কোনো ধরন ছাড়াই।

আবূ হানীফা বলেন, আল্লাহকে উপর থেকে ডাকা হবে নীচ থেকে নয়। কারণ, নীচ কোন ভাবেই রুবুবিয়্যাত ও উলুহিয়্যাতের গুণ হতে পারে না।

তিনি আরো বলেন, তিনি রাগ করেন ও সন্তুষ্ট হন। এ কথা বলা যাবে না যে, তার রাগ তার শাস্তি এবং তার সন্তুষ্টি তার সাওয়াব।

তিনি আরো বলেন, তিনি তাঁর কোনো সৃষ্টির মতো নন এবং তাঁর কোন মাখলুক তাঁর মতো নয়। তিনি তাঁর নাম ও সিফাতসমূহ দ্বারা সর্বদা গুণান্বিত রয়েছেন এবং সর্বদা থাকবেন।

তিনি আরো বলেন, তাঁর সিফাতসমূহ মাখলুকের সিফাতসমূহের বিপরীত। তিনি জানেন, তবে আমাদের জানার মতো নয়। তিনি ক্ষমতা রাখেন, তবে আমাদের ক্ষমতার মতো নয়, তিনি দেখেন তবে আমাদের দেখার মতো নয়। তিনি শোনেন তবে আমাদের শোনার মতো নয়। তিনি কথা বলেন তবে আমাদের কথার মতো নয়।

তিনি আরো বলেন, আল্লাহ তাআলাকে মাখলুকের গুণাবলী দ্বারা গুণান্বিত করা যাবে না।

তিনি আরো বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলাকে মানুষের কোনো গুণ দ্বারা গুণান্বিত করবে সে কুফরী করল।

তিনি আরো বলেন, আর তার সিফাতসমূহ সত্তাগত ও কর্মগত। সত্তাগত সিফাতগুলো হচ্ছে হায়াত, কুদরাত, ইলম, কালাম, শ্রবন, দর্শন এবং ইচ্ছা। আর কর্মগত সিফাতগুলো হচ্ছে, সৃষ্টি করা, রিযিক দেওয়া, আবিষ্কার করা, উদ্ভাবন করা, তৈরী করাসহ অন্যান্য কর্মগত সিফাত। তিনি তাঁর নামসমূহ ও সিফাতসমূহ দ্বারা আদিতে বিশেষিত ছিলেন এবং অনন্তেও থাকবেন।

তিনি আরো বলেন, তিনি তাঁর কর্মগত বিশেষণের মাধ্যমে সর্বদা কর্মরত। কর্ম করা তাঁর অনাদি সিফাত। আর আল্লাহ তাআলা হলেন কর্তা। আর কর্ম তাঁর অনাদি সিফাত। আর কর্মের ফলাফল মাখলুক, তবে আল্লাহ তাআলার কর্ম মাখলুক নয়।

তিনি আরো বলেন, যে বলে আমার রব আসমানে না যমীনে, আমি তা জানি না, সে কুফরী করল। অনুরূপভাবে সে ব্যক্তিও (কুফরী করল) যে বলে, তিনি আরশে, তবে আরশ যমীনে না আসমানে তা জানি না।

আর তিনি ঐ মহিলাকে বলেন, যে তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিল যে,তোমার ইলাহ কোথায় যার তুমি এবাদত কর? তিনি বললেন, আল্লাহ তা‘আলা আসমানে যমীনে নয়। ফলে তাঁকে এক ব্যক্তি বলল, আল্লাহর বাণীটি দেখেছেন ?আর তিনি তোমাদের সাথেই।আল হাদীদ : ৪তিনি বললেন, তা হলো যেমন তুমি কোন ব্যক্তিকে লিখ, আমি তোমার সাথেই আছি, অথচ তুমি তার থেকে অদৃশ্যে।

তিনি বলেন, অনুরূপভাবে আল্লাহর হাত তাদের হাতের উপরে, তবে তা তার মাখলুকের হাতসমূহের মতো নয়।

তিনি আরো বলেন, আল্লাহ আসমানে রয়েছেন যমীনে নয়। ফলে তাকে এক লোক বলল, আল্লাহ তাআলার বাণীটি দেখেছেন ?আর তিনি তোমাদের সাথেই।আল হাদীদ : ৪তিনি বললেন, তা হলো যেমন তুমি কোন ব্যক্তিকে লিখ, আমি তোমার সাথেই আছি অথচ তুমি তার থেকে অদৃশ্যে।

তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা (মুসার সাথে) কথা বলেছেন; মূসা আলাইহিস সালাম (আল্লাহর সাথে) কথা বলেননি।

তিনি বলেন, তিনি নিজে কথা বলার কারণেই কথক (মুতাকাল্লিম) আর কালাম হলো একটি অনাদি সিফাত।

তিনি বলেন, আর তিনি কথা বলেন তবে আমাদের কথার মতো নয়।

তিনি বলেন, মূসা আলাইহিস সালাম আল্লাহর কথা শুনেছেন। যেমনটি আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,আর আল্লাহ মূসার সাথে সুস্পষ্টভাবে কথা বলেছেন।আন নিসা : ১৬৪

তিনি বলেন, কথা আল্লাহ তা‘আলাই বলেছেন; মূসা আলাইহিস সালাম কথা বলেননি।

তিনি বলেন, কুরআন আল্লাহর কালাম, মাসাহেফে লিপিবদ্ধ, অন্তরে সংরক্ষিত এবং যবানে পঠিত। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর নাযিলকৃত।

তিনি বলেন, কুরআন মাখলুক নয়।