hadith book logo

চার ইমামের আকীদাহ - মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান

লেখকঃ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৪

ইলমুল কালাম এবং দীনের বিষয়ে ঝগড়া করা থেকে তার নিষেধ করা:

ইবন আব্দুল বারর মুস‘আব ইবন আব্দুল্লাহ আয-যুবাইরী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, মালেক ইবন আনাস বলতেন, দীনের বিষয়ে বিতর্ক করাকে আমি অপছন্দ করি। মদীনাবাসীগণ সর্বদা তা অপছন্দ করতেন এবং তা থেকে নিষেধ করতেন। যেমন জাহামের মতামত নিয়ে কথা বলা, কাদার ও এ ধরনের বিষয়ে কথা বলা। তিনি যে বিষয়ে আমল আছে সে বিষয়েই কথা বলতে পছন্দ করতেন। কিন্তু আল্লাহর দীনের বিষয়ে বা আল্লাহ সম্পর্কে কথা বলা অপেক্ষা চুপ থাকা আমার কাছে বেশি প্রিয়। কারণ, আমি আমার শহরবাসীকে দেখেছি তারা দীনের যে বিষয়ের অধীন আমল নেই সে বিষয়ে কথা বলতে নিধেধ করতেন।

আবূ নু‘আইম আব্দুল্লাহ ইবন নাফে‘ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, আমি মালেককে বলতে শুনেছি: যদি কোন ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শির্ক করা ব্যতীত সব ধরনের কবীরা গুনাহে লিপ্ত হয়, অতঃপর সে এসব বিদ‘আত ও প্রবৃত্তি—কালাম শাস্ত্র—থেকে মুক্ত হয় সে জান্নাতে যাবে।

হারোভী ইসহাক ইবন ঈসা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, মালেক বলেছেন, যে ব্যক্তি ইলমুল কালামের মাধ্যমে দীন তালাশ করবে সে নাস্তিকে পরিণত হবে, যে ব্যক্তি স্পর্শমণি দ্বারা সম্পদ তালাশ করবে সে সর্বহারা হবে, আর যে ব্যক্তি বিরল হাদীস তালাশ করবে সে মিথ্যা বলবে।

খতীব ইসহাক ইবন ঈসা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: আমি মালেক ইবন আনাসকে দীনের বিষয়ে ঝগড়ার নিন্দা করতে শুনেছি। তিনি বলেন, যখনই এক ব্যক্তি থেকে অধিক ঝগড়াটে অপর ব্যক্তি আমাদের কাছে আসে তখন সে আমাদের কাছে চায় যেন, আমরা জীবরীল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট যা নিয়ে এসেছেন তা যেন আমরা প্রত্যাখ্যান করি।

হারাবী আব্দুর রহমান ইবন মাহদী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, আমি মালেকের নিকট প্রবেশ করলাম তখন তার নিকট এক লোক কিছু জিজ্ঞাসা করছিল। তিনি বললেন, সম্ভাবত তুমি আমর ইবন উবাইদের ছাত্র। তার উপর আল্লাহর লা’নত বর্ষিত হোক। কারণ সেই ইলমুল কালামের বিদ‘আত আবিষ্কার করেছে। কালাম বা তর্কশাস্ত্র যদি ইলম হতো তাহলে সাহাবী, তাবে‘ঈগণ এ ব্যাপারে কথা বলতেন। যেমনভাবে তারা শরীয়তের হুকুম-আহকাম ও বিধি-বিধান সম্পর্কে কথা বলেছেন।

হারাভী আশহাব ইবন আব্দুল আযীয থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, আমি মালেককে বলতে শুনেছি, তোমরা বিদ‘আত থেকে বেঁচে থাকো। তাকে বলা হলো, হে আবূ আব্দুল্লাহ! বিদ‘আত কি? তিনি বললেন, বিদ‘আতী হলো যারা আল্লাহর নাম, তাঁর সিফাতসমূহ, তার কালাম, ইলম ও কুদরাত সম্পর্কে ইলমুল কালাম দ্বারা কথা বলে এবং সাহাবী ও উত্তমভাবে তাদের অনুসারী তাবে‘ঈগণ যে বিষয়ে চুপ ছিলেন সে বিষয়ে তারা চুপ থাকে না।

আবূ নু‘আইম শাফে‘ঈ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, মালেক ইবন আনাসের নিকট যখন কোন প্রবৃত্তির পুজারী আসত তিনি বলতেন, আমি আমার রব ও দীনের ব্যাপারে সুস্পষ্ট প্রমাণের ওপর আছি। আর তুমি সন্দেহ পোষণকারী। তাই তুমি সন্দিহান লোকের কাছে যাও এবং তার সাথে বিতর্ক কর।

ইবন আব্দুল বার মুহাম্মাদ ইবন আহমাদ ইবন খুয়াইয মিনদাদ আল-মাসরী আল-মালেকী থেকে বর্ণনা করেন। তিনি তার কিতাব আল-খিলাফে ইজারা অধ্যায়ে লিখেছেন, ইমাম মালেক বলেছেন, প্রবৃত্তির পুজারী, বিদ‘আতী ও নজুমীদের কিতাবসমূহে বন্ধকী লেন-দেন করা বৈধ নয়। তিনি কিছু কিতাবের নাম উল্লেখ করেন। তারপর তিনি বলেন, আমাদের সাথীদের নিকট প্রবৃত্তির পুজারী ও বিদআতীদের কিতাব হলো কালামী সম্প্রদায় থেকে মু‘তাযিলা ও অন্যান্যদের কিতাব। এ বিষয়ে ইজারাহ বাতিল।

তাওহীদ, ঈমান, সাহাবীগণ এবং ইলমে কালাম ও অন্যান্য বিষয়ে ইমাম মালেকের মতামত ও অবস্থান এখানে তুলে ধরা হলো।