১
চার ইমামের আকীদাহ - মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান
লেখকঃ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৬
ইমাম আবূ হানীফার বাণীসমূহ:তাকদীরের বিষয়ে
এক লোক ইমাম আবূ হানীফার এর নিকট তাকদীর—বিষয়ে বিতর্ক করার জন্যে আসল। তিনি তাকে বললেন, তুমি কি জান না যে, তাকদীরে দৃষ্টি দানকারী সূর্যের দুই চোখে দৃষ্টি দানকারীর মতো। যত বেশি দৃষ্টি দিবে তত বেশী হয়রানি বাড়বে।
ইমাম আবূ হানিফা বলেন, আল্লাহ তা‘আলা সকল সৃষ্টি সম্পর্কে তার সৃষ্টি হওয়ার পূর্বেই অবগত ছিলেন।
তিনি আরো বলেন, আল্লাহ তাআলা অস্তিত্বহীন বস্তুকে তার অস্তিত্বহীন অবস্থায় অস্তিত্বহীন হালতে জানেন। তিনি যখন তা সৃষ্টি করবেন কেমন হবে তাও তিনি জানেন। আল্লাহ তাআলা অস্তিত্বশীল বস্তুকে অস্তিত্বশীল অবস্থায় অস্তিত্বশীল হালতে জানেন এবং তার ধ্বংস কিভাবে হবে তাও তিনি জানেন।
ইমাম আবূ হানিফা বলেন, আর তার তাকদীর লাওহে মাহফুজে রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, আর আমরা স্বীকার করি যে, আল্লাহ তাআলা কলমকে লিখার নির্দেশ দিয়েছেন, তখন কলম বলল, হে আমার রব! আমি কি লিখবো? তখন আল্লাহ তাআলা বললেন, কিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু হবে তা লিপিবদ্ধ করো। কারণ আল্লাহ তাআলা বলেন,আর তারা যা করেছে, সব কিছুই ‘আমলনামায়’ রয়েছে।আর ছোট বড় সব কিছুই লিখিত আছে।আল-কামার : ৫২,৫৩
ইমাম আবূ হানীফা বলেন, দুনিয়া ও আখিরাতে তাঁর চাওয়া ছাড়া কিছুই হয় না।
ইমাম আবূ হানীফা বলেন, আল্লাহ সমস্ত বস্তু সৃষ্টি করেছেন, তবে কোন বস্তু থেকে নয়।
তিনি আরো বলেন, আল্লাহ তাআলা সৃষ্টি করার আগেই স্রষ্টা ছিলেন।
তিনি আরো বলেন, আমরা স্বীকার করি যে, বান্দা তার আমল, তার স্বীকারোক্তি ও তার জ্ঞানসহই মাখলুক। কর্তাই যখন মাখলুক তার কর্ম মাখলুক হওয়ার আরো বেশি উপযুক্ত।
তিনি বলেন, বান্দাদের সবকর্ম যেমন নড়চড় করা ও স্থীর থাকা তাদেরই উপার্জন, তবে আল্লাহ তাআলা তার স্রষ্টা। আর এ সবই তার চাওয়া, ইলম, ফায়সালা ও নির্ধারণ দ্বারা হয়।
ইমাম আবূ হানীফা আরো বলেন, বান্দাদের সবকর্ম যেমন নড়চড় করা ও স্থীর থাকা প্রকৃত পক্ষে তাদের উর্পাজন, আর তা সৃষ্টি করেছেন আল্লাহ। এ গুলো সবই তাঁর চাওয়া, ইলম, ফায়সালা ও নির্ধারণ অনুযায়ী হয়। নেক আমলসমূহ আল্লাহর আদেশ এবং তার মুহাব্বত, সন্তুষ্টি, ইলম, চাওয়া, ফয়সালা ও নির্ধারণ অনুযায়ী অবধারিত হয়েছে। আর পাপসমূহ তাঁর ইলম, ফায়সালা, নির্ধারণ ও চাওয়া অনুযায়ী হয়, তবে তাঁর মুহাব্বত, সন্তুষ্টি ও তাঁর নির্দেশে হয় না।
তিনি আরো বলেন, আল্লাহ তাআলা মাখলুককে কুফর ও ঈমান থেকে মুক্তাবস্থায় সৃষ্টি করেছেন। তারপর তিনি তাদেরকে সম্বোধন করেছেন, আদেশ দিয়েছেন ও নিষেধ করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি কুফরী করলো আল্লাহ তাকে অপধস্থ করার কারণেই সে নিজের কর্ম, অস্বীকার ও তার সত্যকে প্রত্যাখ্যান করার দ্বারা কুফরী করলো। আর যে ব্যক্তি ঈমান আনয়ন করলো সে আল্লাহর তাওফীক ও সাহায্য প্রাপ্ত হয়েই নিজের কর্ম, স্বীকারোক্তি ও সত্যারোপ দ্বারা ঈমান আনয়ন করলো।
আর তিনি বলেন, আল্লাহ তা‘আলা আদম সন্তানদের তার মেরুদণ্ড থেকে পরমাণুর আকৃতিতে বের করেছেন, তারপর তাদের জ্ঞানবান করেছেন। তারপর তাদের সম্বোধন করেছেন ও ঈমান আনার নির্দেশ দিযেছেন এবং কুফর থেকে নিষেধ করেছেন, ফলে তারা তার রুবুবিয়্যাত স্বীকার করে। এটি ছিল তাদের ঈমান। তারা এ ফিতরাতের ওপর জন্ম গ্রহণ করে। তারপর যে কুফরী করল সে (ফিতরাত) পরিবর্তন ও বিকৃতি করল। আর যে ঈমান আনল ও বিশ্বাস করল সে তার ওপর অটুট থাকল ও স্থায়ী হল।
তিনি আরো বলেন, তিনিই সবকিছু নির্ধারণ ও ফায়সালা করেছেন। দুনিয়া ও আখিরাতে কোনো কিছুই হয় না তার চাওয়া, ইলম, ফায়সালা, নির্ধারণ ও লাওহে মাহফুযে তার লিখনি ছাড়া।
তিনি আরো বলেন, আল্লাহ তা‘আলা তার সৃষ্টির কাউকে কুফরের ওপর বাধ্য করেন নি আর না ঈমানের ওপর, তবে তিনি তাদেরকে অসংখ্য ব্যক্তিরূপে সৃষ্টি করেছেন। ঈমান ও কুফর বান্দাদের কর্ম। যে কুফরী করে তার কুফরী করা অবস্থায় আল্লাহ তাকে কাফির বলেই জানেন। তারপর যখন সে ঈমান আনে তিনি তাকে মুমিন হিসেবে জানেন এবং তার ইলমের কোনো পরিবর্তন ছাড়া তিনি তাকে ভালো বাসেন।
ইমাম আবূ হানিফা বলেন, আল্লাহ তা‘আলা সকল সৃষ্টি সম্পর্কে তার সৃষ্টি হওয়ার পূর্বেই অবগত ছিলেন।
তিনি আরো বলেন, আল্লাহ তাআলা অস্তিত্বহীন বস্তুকে তার অস্তিত্বহীন অবস্থায় অস্তিত্বহীন হালতে জানেন। তিনি যখন তা সৃষ্টি করবেন কেমন হবে তাও তিনি জানেন। আল্লাহ তাআলা অস্তিত্বশীল বস্তুকে অস্তিত্বশীল অবস্থায় অস্তিত্বশীল হালতে জানেন এবং তার ধ্বংস কিভাবে হবে তাও তিনি জানেন।
ইমাম আবূ হানিফা বলেন, আর তার তাকদীর লাওহে মাহফুজে রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, আর আমরা স্বীকার করি যে, আল্লাহ তাআলা কলমকে লিখার নির্দেশ দিয়েছেন, তখন কলম বলল, হে আমার রব! আমি কি লিখবো? তখন আল্লাহ তাআলা বললেন, কিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু হবে তা লিপিবদ্ধ করো। কারণ আল্লাহ তাআলা বলেন,আর তারা যা করেছে, সব কিছুই ‘আমলনামায়’ রয়েছে।আর ছোট বড় সব কিছুই লিখিত আছে।আল-কামার : ৫২,৫৩
ইমাম আবূ হানীফা বলেন, দুনিয়া ও আখিরাতে তাঁর চাওয়া ছাড়া কিছুই হয় না।
ইমাম আবূ হানীফা বলেন, আল্লাহ সমস্ত বস্তু সৃষ্টি করেছেন, তবে কোন বস্তু থেকে নয়।
তিনি আরো বলেন, আল্লাহ তাআলা সৃষ্টি করার আগেই স্রষ্টা ছিলেন।
তিনি আরো বলেন, আমরা স্বীকার করি যে, বান্দা তার আমল, তার স্বীকারোক্তি ও তার জ্ঞানসহই মাখলুক। কর্তাই যখন মাখলুক তার কর্ম মাখলুক হওয়ার আরো বেশি উপযুক্ত।
তিনি বলেন, বান্দাদের সবকর্ম যেমন নড়চড় করা ও স্থীর থাকা তাদেরই উপার্জন, তবে আল্লাহ তাআলা তার স্রষ্টা। আর এ সবই তার চাওয়া, ইলম, ফায়সালা ও নির্ধারণ দ্বারা হয়।
ইমাম আবূ হানীফা আরো বলেন, বান্দাদের সবকর্ম যেমন নড়চড় করা ও স্থীর থাকা প্রকৃত পক্ষে তাদের উর্পাজন, আর তা সৃষ্টি করেছেন আল্লাহ। এ গুলো সবই তাঁর চাওয়া, ইলম, ফায়সালা ও নির্ধারণ অনুযায়ী হয়। নেক আমলসমূহ আল্লাহর আদেশ এবং তার মুহাব্বত, সন্তুষ্টি, ইলম, চাওয়া, ফয়সালা ও নির্ধারণ অনুযায়ী অবধারিত হয়েছে। আর পাপসমূহ তাঁর ইলম, ফায়সালা, নির্ধারণ ও চাওয়া অনুযায়ী হয়, তবে তাঁর মুহাব্বত, সন্তুষ্টি ও তাঁর নির্দেশে হয় না।
তিনি আরো বলেন, আল্লাহ তাআলা মাখলুককে কুফর ও ঈমান থেকে মুক্তাবস্থায় সৃষ্টি করেছেন। তারপর তিনি তাদেরকে সম্বোধন করেছেন, আদেশ দিয়েছেন ও নিষেধ করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি কুফরী করলো আল্লাহ তাকে অপধস্থ করার কারণেই সে নিজের কর্ম, অস্বীকার ও তার সত্যকে প্রত্যাখ্যান করার দ্বারা কুফরী করলো। আর যে ব্যক্তি ঈমান আনয়ন করলো সে আল্লাহর তাওফীক ও সাহায্য প্রাপ্ত হয়েই নিজের কর্ম, স্বীকারোক্তি ও সত্যারোপ দ্বারা ঈমান আনয়ন করলো।
আর তিনি বলেন, আল্লাহ তা‘আলা আদম সন্তানদের তার মেরুদণ্ড থেকে পরমাণুর আকৃতিতে বের করেছেন, তারপর তাদের জ্ঞানবান করেছেন। তারপর তাদের সম্বোধন করেছেন ও ঈমান আনার নির্দেশ দিযেছেন এবং কুফর থেকে নিষেধ করেছেন, ফলে তারা তার রুবুবিয়্যাত স্বীকার করে। এটি ছিল তাদের ঈমান। তারা এ ফিতরাতের ওপর জন্ম গ্রহণ করে। তারপর যে কুফরী করল সে (ফিতরাত) পরিবর্তন ও বিকৃতি করল। আর যে ঈমান আনল ও বিশ্বাস করল সে তার ওপর অটুট থাকল ও স্থায়ী হল।
তিনি আরো বলেন, তিনিই সবকিছু নির্ধারণ ও ফায়সালা করেছেন। দুনিয়া ও আখিরাতে কোনো কিছুই হয় না তার চাওয়া, ইলম, ফায়সালা, নির্ধারণ ও লাওহে মাহফুযে তার লিখনি ছাড়া।
তিনি আরো বলেন, আল্লাহ তা‘আলা তার সৃষ্টির কাউকে কুফরের ওপর বাধ্য করেন নি আর না ঈমানের ওপর, তবে তিনি তাদেরকে অসংখ্য ব্যক্তিরূপে সৃষ্টি করেছেন। ঈমান ও কুফর বান্দাদের কর্ম। যে কুফরী করে তার কুফরী করা অবস্থায় আল্লাহ তাকে কাফির বলেই জানেন। তারপর যখন সে ঈমান আনে তিনি তাকে মুমিন হিসেবে জানেন এবং তার ইলমের কোনো পরিবর্তন ছাড়া তিনি তাকে ভালো বাসেন।