১
সূরা আত-তাওবার তাফসীর
লেখকঃ জাকেরুল্লাহ আবুল খায়ের • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১০
মসজিদুল হারামে প্রবেশে মুশরিকদের প্রতি নিষেধাজ্ঞা আরোপ:
আল্লাহ তা‘আলা দ্বীনী ও আত্মিক দিক থেকে পবিত্র তাঁর মুমিন বান্দাগণকে নির্দেশ প্রদান করেন তারা যেন দ্বীনী ভাবে অপবিত্র মুশরিকদেরকে মসজিদুল হারামে প্রবেশে বাধা দান করে। আর তারা যেন এই আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পরে এর নিকটবর্তী না হয়। এই আয়াতটি নবম হিজরি সনে অবতীর্ণ হয়। এ কারণে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে বৎসর আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর সঙ্গী হিসেবে প্রেরণ করেন। আর তাঁকে নির্দেশ দেন যে, তিনি যেন মুশরিকদের মাঝে ঘোষণা করেন, এ বৎসরের পর কোনো মুশরিক যেন হজ না করে আর উলঙ্গ হয়ে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ না করে। আল্লাহ তা‘আলা এ ফায়সালা পূর্ণ করেন আর এটাকে শরীয়ত হিসেবে জারি করেন। আব্দুর রাযযাক বর্ণনা করেন, জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ এই আয়াত:
إِنَّمَا ٱلۡمُشۡرِكُونَ نَجَسٞ فَلَا يَقۡرَبُواْ ٱلۡمَسۡجِدَ ٱلۡحَرَامَ بَعۡدَ عَامِهِمۡ هَٰذَا “মুশরিকরা অপবিত্র, কাজেই এ বছরের পর তারা যেন মসজিদে হারামের নিকট না আসে” সম্পর্কে বলেন: তবে সে যদি দাস অথবা যিম্মী হয় তবে ভিন্ন কথা। ইমাম আবু আমর আল-আউযায়ী বলেন: ওমর ইবনু আব্দুল আযীয (তাঁর গভর্নরকে) লিখে পাঠান যে, ইয়াহূদী ও নাসারাদেরকে মুসলিমবৃন্দের মসজিদসমূহে প্রবেশে বাধা প্রদান কর, আর তিনি তার এই নির্দেশের সাথে আল্লাহ তা‘আলার এই বাণীও লিখে পাঠান: إِنَّمَا ٱلۡمُشۡرِكُونَ نَجَسٞ “মুশরিকরা অপবিত্র”।
‘আতা বলেন: হারামের (পবিত্র এলাকার) সম্পূর্ণ অংশই মসজিদ। কেননা আল্লাহ তা‘আলা বলেন: فَلَا يَقۡرَبُواْ ٱلۡمَسۡجِدَ ٱلۡحَرَامَ بَعۡدَ عَامِهِمۡ هَٰذَا “কাজেই এ বছরের পর তারা যেন মসজিদে হারামের নিকট না আসে”।
এই সম্মানিত আয়াতটি প্রমাণ করে যে, মুশরিকরা অপবিত্র, যেভাবে তা মুমিনগণের পবিত্রতার প্রমাণ বহন করে। এ ব্যাপারে সহীহ হাদিসে এসেছে: ‘মু’মিন অপবিত্র হয় না।’
আল্লাহ তা‘আলার বাণী: وَإِنۡ خِفۡتُمۡ عَيۡلَةٗ فَسَوۡفَ يُغۡنِيكُمُ ٱللَّهُ مِن فَضۡلِهِۦٓ إِن شَآءَۚ “তোমরা যদি দারিদ্রতার ভয় কর, তবে অচিরেই তাঁর অনুগ্রহের মাধ্যমে তোমাদেরকে অভাব-মুক্ত করে দেবেন”। মুহাম্মদ ইবনু ইসহাক বলেন: কেননা লোকেরা বলতে লাগলো: আমাদের হাট-বাজার বন্ধ হয়ে যাবে, আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য ধ্বংস হয়ে যাবে আর আমরা যা উপার্জন করেছি তা বিফলে যাবে। ফলে আল্লাহ তা‘আলা এই আয়াত: وَإِنۡ خِفۡتُمۡ عَيۡلَةٗ فَسَوۡفَ يُغۡنِيكُمُ ٱللَّهُ مِن فَضۡلِهِۦٓ إِن شَآءَۚ “তোমরা যদি দারিদ্রতার ভয় কর, তবে অচিরেই তাঁর অনুগ্রহের মাধ্যমে তোমাদেরকে অভাব-মুক্ত করে দেবেন”। এছাড়া অন্যান্য উপায়ে, إِنْ شَاءَ “আল্লাহ ইচ্ছে করলে” وَهُمۡ صَٰغِرُونَ “তারা বশ্যতা সহকারে” এই পর্যন্ত নাযিল করেন। অর্থাৎ তোমরা যে সে সমস্ত বাজার বন্ধের আশঙ্কা করছ এটা তার পরিবর্তে, ফলে আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে শির্কের বিষয় থেকে তাদের যা বন্ধ হয়ে গেছে তার বিনিময় প্রদান করেন। তিনি তাদেরকে আহলে কিতাবীদের নিকট থেকে জিযিয়া (ট্যাক্স) গ্রহণের ব্যবস্থা করেন। আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা, মুজাহিদ, ইকরিমা, সাঈদ ইবনু জুবাইর, কাতাদা, দাহ্হাক এবং অন্যান্যদের থেকে এরূপ বর্ণিত হয়েছে।
إِنَّ اللَّهَ عَلِيم “নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ” অর্থাৎ কিসে তোমাদের মঙ্গল রয়েছে, حَكِيم “মহা বিজ্ঞানী” অর্থাৎ যে বিষয়ে তিনি নির্দেশ দেন আর যা থেকে নিষেধ করেন। কেননা তিনি তাঁর কথা ও কর্মসমূহে নিখুঁত, তাঁর বান্দাদের এবং তাঁর সিদ্ধান্তে ইনসাফের অধিকারী। এ কারণে তিনি সে সমস্ত আয়-উপার্জনের পরিবর্তে তাদেরকে জিযিয়ার সম্পদ প্রদান করেন, যা তারা জিম্মিদের নিকট থেকে গ্রহণ করে।
إِنَّمَا ٱلۡمُشۡرِكُونَ نَجَسٞ فَلَا يَقۡرَبُواْ ٱلۡمَسۡجِدَ ٱلۡحَرَامَ بَعۡدَ عَامِهِمۡ هَٰذَا “মুশরিকরা অপবিত্র, কাজেই এ বছরের পর তারা যেন মসজিদে হারামের নিকট না আসে” সম্পর্কে বলেন: তবে সে যদি দাস অথবা যিম্মী হয় তবে ভিন্ন কথা। ইমাম আবু আমর আল-আউযায়ী বলেন: ওমর ইবনু আব্দুল আযীয (তাঁর গভর্নরকে) লিখে পাঠান যে, ইয়াহূদী ও নাসারাদেরকে মুসলিমবৃন্দের মসজিদসমূহে প্রবেশে বাধা প্রদান কর, আর তিনি তার এই নির্দেশের সাথে আল্লাহ তা‘আলার এই বাণীও লিখে পাঠান: إِنَّمَا ٱلۡمُشۡرِكُونَ نَجَسٞ “মুশরিকরা অপবিত্র”।
‘আতা বলেন: হারামের (পবিত্র এলাকার) সম্পূর্ণ অংশই মসজিদ। কেননা আল্লাহ তা‘আলা বলেন: فَلَا يَقۡرَبُواْ ٱلۡمَسۡجِدَ ٱلۡحَرَامَ بَعۡدَ عَامِهِمۡ هَٰذَا “কাজেই এ বছরের পর তারা যেন মসজিদে হারামের নিকট না আসে”।
এই সম্মানিত আয়াতটি প্রমাণ করে যে, মুশরিকরা অপবিত্র, যেভাবে তা মুমিনগণের পবিত্রতার প্রমাণ বহন করে। এ ব্যাপারে সহীহ হাদিসে এসেছে: ‘মু’মিন অপবিত্র হয় না।’
আল্লাহ তা‘আলার বাণী: وَإِنۡ خِفۡتُمۡ عَيۡلَةٗ فَسَوۡفَ يُغۡنِيكُمُ ٱللَّهُ مِن فَضۡلِهِۦٓ إِن شَآءَۚ “তোমরা যদি দারিদ্রতার ভয় কর, তবে অচিরেই তাঁর অনুগ্রহের মাধ্যমে তোমাদেরকে অভাব-মুক্ত করে দেবেন”। মুহাম্মদ ইবনু ইসহাক বলেন: কেননা লোকেরা বলতে লাগলো: আমাদের হাট-বাজার বন্ধ হয়ে যাবে, আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য ধ্বংস হয়ে যাবে আর আমরা যা উপার্জন করেছি তা বিফলে যাবে। ফলে আল্লাহ তা‘আলা এই আয়াত: وَإِنۡ خِفۡتُمۡ عَيۡلَةٗ فَسَوۡفَ يُغۡنِيكُمُ ٱللَّهُ مِن فَضۡلِهِۦٓ إِن شَآءَۚ “তোমরা যদি দারিদ্রতার ভয় কর, তবে অচিরেই তাঁর অনুগ্রহের মাধ্যমে তোমাদেরকে অভাব-মুক্ত করে দেবেন”। এছাড়া অন্যান্য উপায়ে, إِنْ شَاءَ “আল্লাহ ইচ্ছে করলে” وَهُمۡ صَٰغِرُونَ “তারা বশ্যতা সহকারে” এই পর্যন্ত নাযিল করেন। অর্থাৎ তোমরা যে সে সমস্ত বাজার বন্ধের আশঙ্কা করছ এটা তার পরিবর্তে, ফলে আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে শির্কের বিষয় থেকে তাদের যা বন্ধ হয়ে গেছে তার বিনিময় প্রদান করেন। তিনি তাদেরকে আহলে কিতাবীদের নিকট থেকে জিযিয়া (ট্যাক্স) গ্রহণের ব্যবস্থা করেন। আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা, মুজাহিদ, ইকরিমা, সাঈদ ইবনু জুবাইর, কাতাদা, দাহ্হাক এবং অন্যান্যদের থেকে এরূপ বর্ণিত হয়েছে।
إِنَّ اللَّهَ عَلِيم “নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ” অর্থাৎ কিসে তোমাদের মঙ্গল রয়েছে, حَكِيم “মহা বিজ্ঞানী” অর্থাৎ যে বিষয়ে তিনি নির্দেশ দেন আর যা থেকে নিষেধ করেন। কেননা তিনি তাঁর কথা ও কর্মসমূহে নিখুঁত, তাঁর বান্দাদের এবং তাঁর সিদ্ধান্তে ইনসাফের অধিকারী। এ কারণে তিনি সে সমস্ত আয়-উপার্জনের পরিবর্তে তাদেরকে জিযিয়ার সম্পদ প্রদান করেন, যা তারা জিম্মিদের নিকট থেকে গ্রহণ করে।