১
সূরা আত-তাওবার তাফসীর
লেখকঃ জাকেরুল্লাহ আবুল খায়ের • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৭
মুশরিকদের বন্ধুত্ব পরিত্যাগের নির্দেশ যদিও তারা নিকটাত্মীয় হয়:
যারা আল্লাহ তা‘আলাকে অস্বীকার করে তাদের বিরুদ্ধাচরণ করার জন্য আল্লাহ তা‘আলা নির্দেশ দেন, যদিও তারা পিতৃপুরুষ, অথবা সন্তানসন্ততি হয়ে থাকে, আর তাদের সাথে বন্ধুত্ব করতে নিষেধ করেন। যখন তারা ঈমানের ওপরে কুফরিকে পছন্দ করে নেয়। আর এ বলে তাদের প্রতি হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেন:
﴿لَّا تَجِدُ قَوۡمٗا يُؤۡمِنُونَ بِٱللَّهِ وَٱلۡيَوۡمِ ٱلۡأٓخِرِ يُوَآدُّونَ مَنۡ حَآدَّ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ وَلَوۡ كَانُوٓاْ ءَابَآءَهُمۡ أَوۡ أَبۡنَآءَهُمۡ أَوۡ إِخۡوَٰنَهُمۡ أَوۡ عَشِيرَتَهُمۡۚ أُوْلَٰٓئِكَ كَتَبَ فِي قُلُوبِهِمُ ٱلۡإِيمَٰنَ وَأَيَّدَهُم بِرُوحٖ مِّنۡهُۖ وَيُدۡخِلُهُمۡ جَنَّٰتٖ تَجۡرِي مِن تَحۡتِهَا ٱلۡأَنۡهَٰرُ﴾ [ المجادلة : ٢٢ ]
“আল্লাহ ও শেষ দিবসে ঈমান আনয়নকারী এমন কোনো দল তুমি পাবে না যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের বিরোধিতাকারীদেরকে ভালোবাসে- হোক না এই বিরোধীরা তাদের পিতা, পুত্র, তাদের ভাই অথবা তাদের জ্ঞাতি গোষ্ঠী। আল্লাহ এদের অন্তরে ঈমান বদ্ধমূল করে দিয়েছেন আর নিজের পক্ষ থেকে রূহ দিয়ে তাদেরকে শক্তিশালী করেছেন। তাদেরকে তিনি দাখিল করবেন জান্নাতে, যার তলদেশ দিয়ে বয়ে চলেছে নির্ঝরিণী।” [সূরা আল-মুজাদালাহ: ২২]
হাফিয আবু বকর আল বাইহাক্বী আব্দুল্লাহ ইবনু শাওযাবের হাদিস বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: বদরের দিন আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহর পিতা তার পুত্রের (আবু উবাইদাহ ইবনুল র্জারাহর) সম্মুখে দেব-দেবীর প্রশংসা করতে থাকে আর আবু উবাইদাহ তার থেকে সরে যেতে থাকেন। এরপর জাররাহ যখন নাছোড় বান্দার মত দেব-দেবীদের প্রশংসা করতেই থাকে আবু উবাইদাহ তখন তার মুখোমুখি হয়ে তাকে হত্যা করে ফেলেন। তখন এ ঘটনার প্রেক্ষিতে আল্লাহ তা‘আলা অবতীর্ণ করেন: لا تَجِدُ قَوْمًا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ يُوَادُّونَ مَنْ حَادَّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ “আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী এমন কোনো দল তুমি পাবে না যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরোধিতা-কারীদেরকে ভালোবাসে” এরপর আল্লাহ তা‘আলা তাঁর রাসূলকে নির্দেশ দেন যেন তিনি ঐ সকল লোকদের প্রতি হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেন, যারা আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং তাঁর পথে জিহাদ করার ওপরে তাদের পরিবার-পরিজন, নিকটাত্মীয় এবং নিজ গোত্রকে প্রাধান্য দেয়। তিনি বলেন:
قُلۡ إِن كَانَ ءَابَآؤُكُمۡ وَأَبۡنَآؤُكُمۡ وَإِخۡوَٰنُكُمۡ وَأَزۡوَٰجُكُمۡ وَعَشِيرَتُكُمۡ وَأَمۡوَٰلٌ ٱقۡتَرَفۡتُمُوهَا “বল, ‘যদি তোমাদের বাপ-দাদাগণ, তোমাদের সন্তান-সন্তুতি, তোমাদের ভাই-বেরাদর, তোমাদের স্ত্রীগণ, তোমাদের গোষ্ঠীর লোকেরা এবং ধন-সম্পদ যা তোমরা অর্জন করেছ” অর্থাৎ যা তোমরা কামাই করেছ, অর্জন করেছ, وَتِجَٰرَةٞ تَخۡشَوۡنَ كَسَادَهَا وَمَسَٰكِنُ تَرۡضَوۡنَهَآ “আর ব্যবসা তোমরা যার মন্দার ভয় কর আর বাসস্থান যা তোমরা ভালোবাস” অর্থাৎ তোমরা একে পছন্দ কর, কেননা তা আরামদায়ক ও ভালো। অর্থাৎ এ সব বিষয়গুলো যদি أَحَبَّ إِلَيۡكُم مِّنَ ٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦ وَجِهَادٖ فِي سَبِيلِهِۦ فَتَرَبَّصُواْ “আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও তাঁর পথে জিহাদ করা হতে যদি (এসব) তোমাদের নিকট প্রিয়তর হয়, তাহলে অপেক্ষা কর” অর্থাৎ প্রতীক্ষায় থাক তোমাদের উপরে তাঁর কী ধরণের শাস্তি ও গযব আপতিত হয়। এ কারণে আল্লাহ তা‘আলা বলেন: حَتَّىٰ يَأۡتِيَ ٱللَّهُ بِأَمۡرِهِۦۗ وَٱللَّهُ لَا يَهۡدِي ٱلۡقَوۡمَ ٱلۡفَٰسِقِينَ “যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁর চূড়ান্ত ফায়সালা তোমাদের কাছে নিয়ে আসেন আর আল্লাহ অবাধ্য আচরণকারীদেরকে সঠিক পথ প্রদর্শন করেন না।”
ইমাম আহমদ বর্ণনা করেন, যাহরাহ ইবনু মা‘বাদ তাঁর দাদা থেকে বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলাম এমন সময় যখন তিনি ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু-এর হাত ধরে ছিলেন। ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁকে বললেন: “হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমার নিকট সকল কিছু থেকে অধিক প্রিয় তবে আমার নিজেকে ছাড়া। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমান লাভ করতে পারবে না; যতক্ষণ না আমি তার নিকট তার নিজের থেকে অধিক প্রিয় না হই। এরপর ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: আল্লাহর শপথ, আপনি এখন আমার নিকট আমার জানের চেয়েও অধিক প্রিয়। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: এখন হে ওমর! ইমাম বুখারী এককভাবে এ হাদিস বর্ণনা করেছেন।
ইমাম আহমাদ, আবু দাউদ, বর্ণনা করেন, শব্দগুলো আবু দাউদের, আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: তোমরা যদি ‘ঈনাহ’ (বাকীতে বিক্রয় করে আবার ক্রেতা থেকে কমদামে কিনে রাখা)-এর লেনদেন কর, গরুর লেজ ধর, চাষাবাদে লিপ্ত থাকাকে পছন্দ কর আর জিহাদ পরিত্যাগ কর, আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের ওপরে অপমানকে চাপিয়ে দিবেন আর তোমরা তোমাদের দীনে ফিরে না যাওয়া পর্যন্ত সেটা তোমাদের থেকে পৃথক হবে না।”
﴿لَقَدۡ نَصَرَكُمُ ٱللَّهُ فِي مَوَاطِنَ كَثِيرَةٖ وَيَوۡمَ حُنَيۡنٍ إِذۡ أَعۡجَبَتۡكُمۡ كَثۡرَتُكُمۡ فَلَمۡ تُغۡنِ عَنكُمۡ شَيۡٔٗا وَضَاقَتۡ عَلَيۡكُمُ ٱلۡأَرۡضُ بِمَا رَحُبَتۡ ثُمَّ وَلَّيۡتُم مُّدۡبِرِينَ ٢٥ ثُمَّ أَنزَلَ ٱللَّهُ سَكِينَتَهُۥ عَلَىٰ رَسُولِهِۦ وَعَلَى ٱلۡمُؤۡمِنِينَ وَأَنزَلَ جُنُودٗا لَّمۡ تَرَوۡهَا وَعَذَّبَ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْۚ وَذَٰلِكَ جَزَآءُ ٱلۡكَٰفِرِينَ ٢٦ ﴾ [ التوبة : ٢٥، ٢٦ ]
“২৫. বস্তুত: আল্লাহ তোমাদেরকে বহু যুদ্ধ ক্ষেত্রে সাহায্য করেছেন আর হুনায়নের যুদ্ধের দিন, তোমাদের সংখ্যার আধিক্য তোমাদেরকে গর্বে মাতোয়ারা করে দিয়েছিল; কিন্তু তা তোমাদের কোনো কাজে আসে নি, জমিন তার বিশালতা নিয়ে তোমাদের কাছে সংকীর্ণই হয়ে গিয়েছিল, আর তোমরা পিছন ফিরে পালিয়ে গিয়েছিলে। ২৬. তারপর আল্লাহ তাঁর রাসূলের উপর, আর মুমিনদের উপর তাঁর প্রশান্তির অমিয়ধারা বর্ষণ করলেন আর পাঠালেন এমন এক সেনাবাহিনী যা তোমরা দেখতে পাও নি। অতঃপর তিনি কাফিরদেরকে শাস্তি প্রদান করলেন। এভাবেই আল্লাহ কাফিরদেরকে প্রতিফল দিয়ে থাকেন।” [সূরা আত-তাওবাহ্: ২৫-২]
﴿لَّا تَجِدُ قَوۡمٗا يُؤۡمِنُونَ بِٱللَّهِ وَٱلۡيَوۡمِ ٱلۡأٓخِرِ يُوَآدُّونَ مَنۡ حَآدَّ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ وَلَوۡ كَانُوٓاْ ءَابَآءَهُمۡ أَوۡ أَبۡنَآءَهُمۡ أَوۡ إِخۡوَٰنَهُمۡ أَوۡ عَشِيرَتَهُمۡۚ أُوْلَٰٓئِكَ كَتَبَ فِي قُلُوبِهِمُ ٱلۡإِيمَٰنَ وَأَيَّدَهُم بِرُوحٖ مِّنۡهُۖ وَيُدۡخِلُهُمۡ جَنَّٰتٖ تَجۡرِي مِن تَحۡتِهَا ٱلۡأَنۡهَٰرُ﴾ [ المجادلة : ٢٢ ]
“আল্লাহ ও শেষ দিবসে ঈমান আনয়নকারী এমন কোনো দল তুমি পাবে না যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের বিরোধিতাকারীদেরকে ভালোবাসে- হোক না এই বিরোধীরা তাদের পিতা, পুত্র, তাদের ভাই অথবা তাদের জ্ঞাতি গোষ্ঠী। আল্লাহ এদের অন্তরে ঈমান বদ্ধমূল করে দিয়েছেন আর নিজের পক্ষ থেকে রূহ দিয়ে তাদেরকে শক্তিশালী করেছেন। তাদেরকে তিনি দাখিল করবেন জান্নাতে, যার তলদেশ দিয়ে বয়ে চলেছে নির্ঝরিণী।” [সূরা আল-মুজাদালাহ: ২২]
হাফিয আবু বকর আল বাইহাক্বী আব্দুল্লাহ ইবনু শাওযাবের হাদিস বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: বদরের দিন আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহর পিতা তার পুত্রের (আবু উবাইদাহ ইবনুল র্জারাহর) সম্মুখে দেব-দেবীর প্রশংসা করতে থাকে আর আবু উবাইদাহ তার থেকে সরে যেতে থাকেন। এরপর জাররাহ যখন নাছোড় বান্দার মত দেব-দেবীদের প্রশংসা করতেই থাকে আবু উবাইদাহ তখন তার মুখোমুখি হয়ে তাকে হত্যা করে ফেলেন। তখন এ ঘটনার প্রেক্ষিতে আল্লাহ তা‘আলা অবতীর্ণ করেন: لا تَجِدُ قَوْمًا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ يُوَادُّونَ مَنْ حَادَّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ “আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী এমন কোনো দল তুমি পাবে না যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরোধিতা-কারীদেরকে ভালোবাসে” এরপর আল্লাহ তা‘আলা তাঁর রাসূলকে নির্দেশ দেন যেন তিনি ঐ সকল লোকদের প্রতি হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেন, যারা আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং তাঁর পথে জিহাদ করার ওপরে তাদের পরিবার-পরিজন, নিকটাত্মীয় এবং নিজ গোত্রকে প্রাধান্য দেয়। তিনি বলেন:
قُلۡ إِن كَانَ ءَابَآؤُكُمۡ وَأَبۡنَآؤُكُمۡ وَإِخۡوَٰنُكُمۡ وَأَزۡوَٰجُكُمۡ وَعَشِيرَتُكُمۡ وَأَمۡوَٰلٌ ٱقۡتَرَفۡتُمُوهَا “বল, ‘যদি তোমাদের বাপ-দাদাগণ, তোমাদের সন্তান-সন্তুতি, তোমাদের ভাই-বেরাদর, তোমাদের স্ত্রীগণ, তোমাদের গোষ্ঠীর লোকেরা এবং ধন-সম্পদ যা তোমরা অর্জন করেছ” অর্থাৎ যা তোমরা কামাই করেছ, অর্জন করেছ, وَتِجَٰرَةٞ تَخۡشَوۡنَ كَسَادَهَا وَمَسَٰكِنُ تَرۡضَوۡنَهَآ “আর ব্যবসা তোমরা যার মন্দার ভয় কর আর বাসস্থান যা তোমরা ভালোবাস” অর্থাৎ তোমরা একে পছন্দ কর, কেননা তা আরামদায়ক ও ভালো। অর্থাৎ এ সব বিষয়গুলো যদি أَحَبَّ إِلَيۡكُم مِّنَ ٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦ وَجِهَادٖ فِي سَبِيلِهِۦ فَتَرَبَّصُواْ “আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও তাঁর পথে জিহাদ করা হতে যদি (এসব) তোমাদের নিকট প্রিয়তর হয়, তাহলে অপেক্ষা কর” অর্থাৎ প্রতীক্ষায় থাক তোমাদের উপরে তাঁর কী ধরণের শাস্তি ও গযব আপতিত হয়। এ কারণে আল্লাহ তা‘আলা বলেন: حَتَّىٰ يَأۡتِيَ ٱللَّهُ بِأَمۡرِهِۦۗ وَٱللَّهُ لَا يَهۡدِي ٱلۡقَوۡمَ ٱلۡفَٰسِقِينَ “যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁর চূড়ান্ত ফায়সালা তোমাদের কাছে নিয়ে আসেন আর আল্লাহ অবাধ্য আচরণকারীদেরকে সঠিক পথ প্রদর্শন করেন না।”
ইমাম আহমদ বর্ণনা করেন, যাহরাহ ইবনু মা‘বাদ তাঁর দাদা থেকে বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলাম এমন সময় যখন তিনি ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু-এর হাত ধরে ছিলেন। ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁকে বললেন: “হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমার নিকট সকল কিছু থেকে অধিক প্রিয় তবে আমার নিজেকে ছাড়া। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমান লাভ করতে পারবে না; যতক্ষণ না আমি তার নিকট তার নিজের থেকে অধিক প্রিয় না হই। এরপর ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: আল্লাহর শপথ, আপনি এখন আমার নিকট আমার জানের চেয়েও অধিক প্রিয়। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: এখন হে ওমর! ইমাম বুখারী এককভাবে এ হাদিস বর্ণনা করেছেন।
ইমাম আহমাদ, আবু দাউদ, বর্ণনা করেন, শব্দগুলো আবু দাউদের, আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: তোমরা যদি ‘ঈনাহ’ (বাকীতে বিক্রয় করে আবার ক্রেতা থেকে কমদামে কিনে রাখা)-এর লেনদেন কর, গরুর লেজ ধর, চাষাবাদে লিপ্ত থাকাকে পছন্দ কর আর জিহাদ পরিত্যাগ কর, আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের ওপরে অপমানকে চাপিয়ে দিবেন আর তোমরা তোমাদের দীনে ফিরে না যাওয়া পর্যন্ত সেটা তোমাদের থেকে পৃথক হবে না।”
﴿لَقَدۡ نَصَرَكُمُ ٱللَّهُ فِي مَوَاطِنَ كَثِيرَةٖ وَيَوۡمَ حُنَيۡنٍ إِذۡ أَعۡجَبَتۡكُمۡ كَثۡرَتُكُمۡ فَلَمۡ تُغۡنِ عَنكُمۡ شَيۡٔٗا وَضَاقَتۡ عَلَيۡكُمُ ٱلۡأَرۡضُ بِمَا رَحُبَتۡ ثُمَّ وَلَّيۡتُم مُّدۡبِرِينَ ٢٥ ثُمَّ أَنزَلَ ٱللَّهُ سَكِينَتَهُۥ عَلَىٰ رَسُولِهِۦ وَعَلَى ٱلۡمُؤۡمِنِينَ وَأَنزَلَ جُنُودٗا لَّمۡ تَرَوۡهَا وَعَذَّبَ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْۚ وَذَٰلِكَ جَزَآءُ ٱلۡكَٰفِرِينَ ٢٦ ﴾ [ التوبة : ٢٥، ٢٦ ]
“২৫. বস্তুত: আল্লাহ তোমাদেরকে বহু যুদ্ধ ক্ষেত্রে সাহায্য করেছেন আর হুনায়নের যুদ্ধের দিন, তোমাদের সংখ্যার আধিক্য তোমাদেরকে গর্বে মাতোয়ারা করে দিয়েছিল; কিন্তু তা তোমাদের কোনো কাজে আসে নি, জমিন তার বিশালতা নিয়ে তোমাদের কাছে সংকীর্ণই হয়ে গিয়েছিল, আর তোমরা পিছন ফিরে পালিয়ে গিয়েছিলে। ২৬. তারপর আল্লাহ তাঁর রাসূলের উপর, আর মুমিনদের উপর তাঁর প্রশান্তির অমিয়ধারা বর্ষণ করলেন আর পাঠালেন এমন এক সেনাবাহিনী যা তোমরা দেখতে পাও নি। অতঃপর তিনি কাফিরদেরকে শাস্তি প্রদান করলেন। এভাবেই আল্লাহ কাফিরদেরকে প্রতিফল দিয়ে থাকেন।” [সূরা আত-তাওবাহ্: ২৫-২]