১
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেভাবে পবিত্রতা অর্জন করতেন
লেখকঃ মোস্তাফিজুর রহমান ইবন আব্দুল আযীয আল-মাদানী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২০৪
৭. মুস্তাহাযা মহিলার ক্ষেত্রে প্রতি ওয়াক্ত সালাতের জন্য অথবা দু’ ওয়াক্ত সালাত একত্রে পড়ার জন্য গোসল করা:
মুস্তাহাযাহ্ মহিলার ক্ষেত্রে প্রতি বেলা সালাতের জন্য অথবা দু’বেলা সালাত একত্রে পড়ার জন্য গোসল করা মুস্তাহাব।
‘আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
«اسْتُحِيْضَتْ أُمُّ حَبِيْبَةَ بِنْتُ جَحْشٍ فِيْ عَهْدِ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، فَأَمَرَهَا بِالْغُسْلِ لِكُلِّ صَلاَةٍ» .
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে উম্মু হাবীবা বিনতে জাহ্শ্ মুস্তাহাযা হলে তিনি তাকে প্রতি বেলা সালাতের জন্য গোসল করতে আদেশ করেন”। [আবু দাউদ, হাদীস নং ২৯২।]
হাম্না বিনতে জাহাশ রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার ইস্তিহাযা হলে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমার করণীয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন,
«سَآمُرُكِ بِأَمْرَيْنِ أَيَّهُمَا فَعَلْتِ أَجْزَأَ عَنْكِ مِنَ الآخَرِ، وَإِنْ قَوِيْتِ عَلَيْهِمَا فَأَنْتِ أَعْلَـمُ، حَتَّى أَنْ قَالَ : وَإِنْ قَوِيْتِ عَلَى أَنْ تُؤَخِّرِيْ الظُّهْرَ وَتُعَجِّلِيْ الْعَصْرَ فَتَغْتَسِلِيْنِ وَتَجْمَعِيْنَ بَيْنَ الصَّلاَتَيْنِ ؛ الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ، وَتُؤَخِّرِيْنَ الْمَغْرِبَ وَتُعَجِّلِيْنَ الْعِشَاءَ، ثُمَّ تَغْتَسِلِيْنَ وَتَجْمَعِيْنَ بَيْنَ الصَّلاَتَيْنِ فَافْعَلِيْ، وَتَغْتَسِلِيْنَ مَعَ الْفَجْـرِ فَافْعَلِيْ، وَصُوْمِيْ إِنْ قَدِرْتِ عَلَى ذَلِكِ، وَهَذَا أَعْجَبُ الأَمْرَيْنِ إِلَيَّ» .
“আমি তোমাকে দু’টি কাজের আদেশ করবো। তার মধ্য হতে যে কাজটিই তুমি করো না কেন তা তোমার জন্য যথেষ্ট হবে। আর যদি তুমি উভয়টাই করতে পার সে ব্যাপারে তুমিই ভালো জানো। পরিশেষে তিনি বলেন, আর যদি তুমি জোহরকে পিছিয়ে এবং আসরকে এগিয়ে একবার গোসল করে উভয় সালাত একত্রে পড়তে পার তাহলে তা করবে। তেমনিভাবে যদি মাগরিবকে পিছিয়ে এবং ইশাকে এগিয়ে একবার গোসল করে উভয় সালাত একত্রে পড়তে পার তাহলে তা করবে। অনুরূপভাবে যদি ফজরের জন্য গোসল করে ফজরের সালাতটুকু পড়তে পার তাহলে তা করবে এবং সম্ভব হলে সাওম রাখবে। তবে উভয় কাজের মধ্যে এটিই আমার নিকট অধিক পছন্দনীয়”। [আবু দাউদ, হাদীস নং ২৮৭।]
জানা আবশ্যক যে, মুস্তাহাযা মহিলার জন্য ঋতুস্রাবের নির্ধারিত সময়টি পার হয়ে গেলে একবার গোসল করা ওয়াজিব। এরপর প্রতি বেলা সালাত অথবা দু’বেলা সালাত একত্রে পড়ার জন্য গোসল করা মুস্তাহাব। তা না করলে প্রতি বেলা সালাতের জন্য অবশ্যই অযু করতে হবে।
‘আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
«اسْتُحِيْضَتْ أُمُّ حَبِيْبَةَ بِنْتُ جَحْشٍ وَهِيَ تَحْتَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ سَبْعَ سِنِيْنَ فَقَالَ لَهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : إِذَا أَقْبَلَتِ الْـحَيْضَةُ فَدَعِي الصَّلاَةَ، وَإِذَا أَدْبَرَتْ فَاغْتَسِلِيْ وَصَلِّيْ» .
“আব্দুর রহমান ইবন ‘আউফের স্ত্রী উম্মু হাবীবা বিনতে জাহ্শ সাত বছর যাবৎ ইস্তিহাযার পীড়ায় পীড়িত ছিল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে উদ্দেশ্য করে বললেন: ঋতুস্রাবের নির্ধারিত সময় আসলে তুমি সালাত বন্ধ রাখবে। আর যখন ঋতুস্রাবের নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যায় তখন গোসল করে সালাত পড়বে”। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২২৮; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩৩৩; আবু দাউদ, হাদীস নং ২৮৫।]
যায়নাব বিনতে আবী সালামাহ্ রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
«أَمَرَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيه وسلم أُمَّ حَبِيْبَةَ أَنْ تَغْتَسِلَ عِنْدَ كُلِّ صَلاَةٍ وَتُصَلِّيَ، وَفِيْ رِوَايَةٍ : إِنْ قَوِيْتِ فَاغْتَسِلِيْ لِكُلِّ صَلاَةٍ ؛ وَإِلاَّ فَاجْمَعِيْ» .
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মু হাবীবাকে প্রতি বেলা সালাতের জন্য গোসল করে সালাত আদায় করতে আদেশ করেন। অন্য বর্ণনায় রয়েছেঃ যদি পার তাহলে প্রতি বেলা সালাতের জন্য গোসল করবে। তা না পারলে দু’ বেলা সালাতের জন্য একবার গোসল করে তা একসঙ্গে আদায় করবে”। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩২৭; আবু দাউদ, হাদীস নং ২৯৩।]
ফাতিমা বিনতে আবী হুবাইশ রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে মুস্তাহাযা থাকাবস্থায় বলেন,
«إِذَا كَانَ دَمُ الْحَيْضِ فَإِنَّهُ دَمٌ أَسْوَدُ يُعْرَفُ، فَإِذَا كَانَ ذَلِكَ فَأَمْسِكِيْ عَنِ الصَّلاَةِ، فَإِذَا كَانَ الآخَرُ فَتَوَضَّئِيْ وَصَلِّيْ، وَفِيْ رِوَايَةٍ : اغْتَسِلِيْ، ثُمَّ تَوَضَّئِيْ لِكُلِّ صَلاَةٍ وَصَلِّيْ» .
“ঋতুস্রাব মহিলাদের নিকট পরিচিত। তা কালো বর্ণের। অতএব, ঋতুস্রাব চলাকালীন সালাত বন্ধ রাখবে। আর ইস্তিহাযা হলে অযু করে সালাত পড়বে। অন্য বর্ণনায় রয়েছেঃ ঋতুস্রাব শেষে গোসল করবে। এরপর প্রতি বেলা সালাতের জন্য অযু করে সালাত আদায় করবে”। [আবু দাউদ, হাদীস নং ২৯৮, ৩০৪।]
‘আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
«اسْتُحِيْضَتْ أُمُّ حَبِيْبَةَ بِنْتُ جَحْشٍ فِيْ عَهْدِ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، فَأَمَرَهَا بِالْغُسْلِ لِكُلِّ صَلاَةٍ» .
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে উম্মু হাবীবা বিনতে জাহ্শ্ মুস্তাহাযা হলে তিনি তাকে প্রতি বেলা সালাতের জন্য গোসল করতে আদেশ করেন”। [আবু দাউদ, হাদীস নং ২৯২।]
হাম্না বিনতে জাহাশ রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার ইস্তিহাযা হলে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমার করণীয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন,
«سَآمُرُكِ بِأَمْرَيْنِ أَيَّهُمَا فَعَلْتِ أَجْزَأَ عَنْكِ مِنَ الآخَرِ، وَإِنْ قَوِيْتِ عَلَيْهِمَا فَأَنْتِ أَعْلَـمُ، حَتَّى أَنْ قَالَ : وَإِنْ قَوِيْتِ عَلَى أَنْ تُؤَخِّرِيْ الظُّهْرَ وَتُعَجِّلِيْ الْعَصْرَ فَتَغْتَسِلِيْنِ وَتَجْمَعِيْنَ بَيْنَ الصَّلاَتَيْنِ ؛ الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ، وَتُؤَخِّرِيْنَ الْمَغْرِبَ وَتُعَجِّلِيْنَ الْعِشَاءَ، ثُمَّ تَغْتَسِلِيْنَ وَتَجْمَعِيْنَ بَيْنَ الصَّلاَتَيْنِ فَافْعَلِيْ، وَتَغْتَسِلِيْنَ مَعَ الْفَجْـرِ فَافْعَلِيْ، وَصُوْمِيْ إِنْ قَدِرْتِ عَلَى ذَلِكِ، وَهَذَا أَعْجَبُ الأَمْرَيْنِ إِلَيَّ» .
“আমি তোমাকে দু’টি কাজের আদেশ করবো। তার মধ্য হতে যে কাজটিই তুমি করো না কেন তা তোমার জন্য যথেষ্ট হবে। আর যদি তুমি উভয়টাই করতে পার সে ব্যাপারে তুমিই ভালো জানো। পরিশেষে তিনি বলেন, আর যদি তুমি জোহরকে পিছিয়ে এবং আসরকে এগিয়ে একবার গোসল করে উভয় সালাত একত্রে পড়তে পার তাহলে তা করবে। তেমনিভাবে যদি মাগরিবকে পিছিয়ে এবং ইশাকে এগিয়ে একবার গোসল করে উভয় সালাত একত্রে পড়তে পার তাহলে তা করবে। অনুরূপভাবে যদি ফজরের জন্য গোসল করে ফজরের সালাতটুকু পড়তে পার তাহলে তা করবে এবং সম্ভব হলে সাওম রাখবে। তবে উভয় কাজের মধ্যে এটিই আমার নিকট অধিক পছন্দনীয়”। [আবু দাউদ, হাদীস নং ২৮৭।]
জানা আবশ্যক যে, মুস্তাহাযা মহিলার জন্য ঋতুস্রাবের নির্ধারিত সময়টি পার হয়ে গেলে একবার গোসল করা ওয়াজিব। এরপর প্রতি বেলা সালাত অথবা দু’বেলা সালাত একত্রে পড়ার জন্য গোসল করা মুস্তাহাব। তা না করলে প্রতি বেলা সালাতের জন্য অবশ্যই অযু করতে হবে।
‘আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
«اسْتُحِيْضَتْ أُمُّ حَبِيْبَةَ بِنْتُ جَحْشٍ وَهِيَ تَحْتَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ سَبْعَ سِنِيْنَ فَقَالَ لَهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : إِذَا أَقْبَلَتِ الْـحَيْضَةُ فَدَعِي الصَّلاَةَ، وَإِذَا أَدْبَرَتْ فَاغْتَسِلِيْ وَصَلِّيْ» .
“আব্দুর রহমান ইবন ‘আউফের স্ত্রী উম্মু হাবীবা বিনতে জাহ্শ সাত বছর যাবৎ ইস্তিহাযার পীড়ায় পীড়িত ছিল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে উদ্দেশ্য করে বললেন: ঋতুস্রাবের নির্ধারিত সময় আসলে তুমি সালাত বন্ধ রাখবে। আর যখন ঋতুস্রাবের নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যায় তখন গোসল করে সালাত পড়বে”। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২২৮; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩৩৩; আবু দাউদ, হাদীস নং ২৮৫।]
যায়নাব বিনতে আবী সালামাহ্ রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
«أَمَرَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيه وسلم أُمَّ حَبِيْبَةَ أَنْ تَغْتَسِلَ عِنْدَ كُلِّ صَلاَةٍ وَتُصَلِّيَ، وَفِيْ رِوَايَةٍ : إِنْ قَوِيْتِ فَاغْتَسِلِيْ لِكُلِّ صَلاَةٍ ؛ وَإِلاَّ فَاجْمَعِيْ» .
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মু হাবীবাকে প্রতি বেলা সালাতের জন্য গোসল করে সালাত আদায় করতে আদেশ করেন। অন্য বর্ণনায় রয়েছেঃ যদি পার তাহলে প্রতি বেলা সালাতের জন্য গোসল করবে। তা না পারলে দু’ বেলা সালাতের জন্য একবার গোসল করে তা একসঙ্গে আদায় করবে”। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩২৭; আবু দাউদ, হাদীস নং ২৯৩।]
ফাতিমা বিনতে আবী হুবাইশ রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে মুস্তাহাযা থাকাবস্থায় বলেন,
«إِذَا كَانَ دَمُ الْحَيْضِ فَإِنَّهُ دَمٌ أَسْوَدُ يُعْرَفُ، فَإِذَا كَانَ ذَلِكَ فَأَمْسِكِيْ عَنِ الصَّلاَةِ، فَإِذَا كَانَ الآخَرُ فَتَوَضَّئِيْ وَصَلِّيْ، وَفِيْ رِوَايَةٍ : اغْتَسِلِيْ، ثُمَّ تَوَضَّئِيْ لِكُلِّ صَلاَةٍ وَصَلِّيْ» .
“ঋতুস্রাব মহিলাদের নিকট পরিচিত। তা কালো বর্ণের। অতএব, ঋতুস্রাব চলাকালীন সালাত বন্ধ রাখবে। আর ইস্তিহাযা হলে অযু করে সালাত পড়বে। অন্য বর্ণনায় রয়েছেঃ ঋতুস্রাব শেষে গোসল করবে। এরপর প্রতি বেলা সালাতের জন্য অযু করে সালাত আদায় করবে”। [আবু দাউদ, হাদীস নং ২৯৮, ৩০৪।]