hadith book logo

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেভাবে পবিত্রতা অর্জন করতেন

লেখকঃ মোস্তাফিজুর রহমান ইবন আব্দুল আযীয আল-মাদানী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৭

অদৃশ্য পবিত্রতা :

অদৃশ্য পবিত্রতা বলতে শির্ক ও সকল পাপ থেকে নিষ্কৃতি পাওয়াকে বুঝানো হয়। শির্ক থেকে মুক্তি তাওহীদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে এবং পাপ থেকে মুক্তি পুণ্যময় কর্মসম্পাদনের মাধ্যমেই সম্ভব। মূলতঃ অদৃশ্য পবিত্রতা দৃশ্যময় পবিত্রতার চাইতে অনেক অনেক গুণ বেশী গুরুত্বপূর্ণ। বরং বলতে হয় : শির্ক বিদ্যমান থাকাবস্থায় কোনোভাবেই শারীরিক পবিত্রতার্জন সম্ভবপর নয়।

আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿إِنَّمَا ٱلۡمُشۡرِكُونَ نَجَسٞ﴾ [ التوبة : ٢٨ ]

“মুশরিকরা একেবারেই অপবিত্র”। [সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ২৮]

এর বিপরীতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«إِنَّ الْـمُؤْمِنَ لاَيَنْجُسُ»

“ঈমানদার ব্যক্তি সত্যিকারার্থে কখনোই একেবারে অপবিত্র হতে পারে না”। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৮৩; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩৭১।]

তাই প্রতিটি মুসলিমের কর্তব্য, নিজ অন্তরাত্মাকে শির্ক ও সন্দেহের পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত করা। আর তা একমাত্র সম্ভব আল্লাহতে দৃঢ় বিশ্বাস, একনিষ্ঠতা ও তাওহীদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে। তেমনিভাবে নিজ অন্তঃকরণকে হিংসা-বিদ্বেষ, শত্রুতা, ফাঁকি-ধাপ্পাবাজি, দেমাগ-আত্মগরিমা, আত্মশ্লাঘা তথা আত্মপ্রশংসা এবং যে কোনো পুণ্যময় কর্ম অন্যকে দেখিয়ে বা শুনিয়ে করার প্রবণতা জাতীয় পাপ-পঙ্কিলতা থেকে নিজকে পরিচ্ছন্নকরণ প্রতিটি মুসলমানের একান্ত কর্তব্য। আর তা একমাত্র সম্ভব সকল গুনাহ থেকে সত্যিকার তাওবার মাধ্যমে। ঈমানের দু’টি অঙ্গের এটিই হচ্ছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। আর অন্যটি হচ্ছে বাহ্যিক পবিত্রতা।