hadith book logo

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেভাবে পবিত্রতা অর্জন করতেন

লেখকঃ মোস্তাফিজুর রহমান ইবন আব্দুল আযীয আল-মাদানী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫৬

ঋতুবতী মহিলার কুরআন পাঠ:

জুনুবী ব্যক্তি ও ঋতুবতী মহিলার জন্য কুরআন শরীফ মুখস্থ তিলাওয়াত করা হারাম হওয়ার ব্যাপারে বিশুদ্ধ কোনো হাদীস পাওয়া যায় না। তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পেশাব করার সময় যখন জনৈক সাহাবি তাঁকে সালাম দেন তখন তিনি অযু না করে সালামের উত্তর দেওয়া অপছন্দ করেন। এ থেকে আমাদের বুঝতে অসুবিধে হয় না যে, জুনুবী ব্যক্তি ও ঋতুবতী মহিলার জন্য কুরআন তিলাওয়াত করা অবশ্যই অপছন্দনীয়।

মুহাজির ইবন ক্বুনফুয রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

«أَتَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيه وسلم وَهُـوَ يَبُوْلُ، فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ، فَلَمْ يَرُدَّ عَلَيَّ حَتَّى تَوَضَّأَ، ثُمَّ اعْتَذَرَ إِلَيَّ فَقَالَ : إِنِّيْ كَرِهْتُ أَنْ أَذْكُرَ اللهَ -عَزَّ وَجَلَّ- إِلاَّ عَلَى طُهْرٍ» .

“আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলাম যখন তিনি প্রস্রাব করছিলেন। অতঃপর আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সালাম দিলে তিনি অযু না করা পর্যন্ত অত্র সালামের উত্তর দেন নি। এতদ্ কারণে তিনি আমার নিকট এ বলে কৈফিয়ত দিয়েছেন যে, পবিত্র না হয়ে আল্লাহ তা‘আলার নাম উচ্চারণ করা আমার নিকট খুবই অপছন্দনীয়”। [আবু দাউদ, হাদীস নং ১৭; ইবন মাজাহ, হাদীস নং ২৮৫।]

তবে কুরআন তিলাওয়াত ছাড়া অন্য কোনো যিকির করায় কোনো অসুবিধে নেই। কেননা, ‘আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হজ করতে গিয়ে আমি ঋতুবতী হয়ে গেলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন:

«اِفْعَلِيْ مَا يَفْعَلُ الْحَاجُّ غَيْرَ أَنْ لاَ تَطُوْفِيْ بِالْبَيْتِ حَتَّى تَطْهُرِيْ»

“তুমি বাইতুল্লাহ তাওয়াফ ব্যতীত সব কাজই করতে পার যা হাজী সাহেবগণ করে থাকেন। তবে তাওয়াফ করবে পবিত্র হয়ে”। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৯৪, ১৬৫০; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১২১১।]

উম্মে ‘আতিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

«أَمَرَنَا رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيه وسلم أَنْ نُخْرِجَهُنَّ فِي الْفِطْرِ وَالأَضْحَى، الْعَوَاتِقَ وَالْـحُيَّضَ وَذَوَاتِ الْـخُدُوْرِ، فَأَمَّا الْـحُيَّضُ فَيَعْتَزِلْنَ الصَّلاَةَ وَيَشْهَدْنَ الـْخَيْرَ وَدَعْوَةَ الْـمُسْلِمِيْنَ وَيُكَبِّرْنَ مَعَ النَّاسِ» .

“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে আদেশ করেছেন যেন আমরা বয়স্কা, ঋতুবতী ও পর্দানশীন যুবতী মহিলারদেরকে নিয়ে দু’ ঈদের সালাতে উপস্থিত হই। তবে ঋতুবতীরা সালাতে উপস্থিত হবে না। শুধু তারা মুসলিমদের সাথে দো‘আয় ও কল্যাণকর কাজে অংশ নিবে এবং সবার সাথে তাকবীর বলবে”। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৯৭৪; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৮৯০।]

আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

«كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيه وسلم يَذْكُرُ اللهَ عَلَى كُلِّ أَحْيَانِهِ» .

“নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বদা আল্লাহ্’র যিকিরে মগ্ন থাকতেন”। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩৭৩।]

উক্ত হাদীসগুলোর প্রতি গভীর দৃষ্টি দিলে এ ব্যাপারটি সহজে উদঘাটিত হয় যে, জুনুবী ও ঋতুবতী মহিলাদের জন্য সাধারণ যিকির করায় কোনো অসুবিধে নেই। তবে কোনো হাফিযা মহিলা যদি কুরআন শরীফ ভুলে যাওয়ার আশঙ্কা করে তা হলে সে মুখস্থ কুরআন পড়তে ও কাউকে শুনাতে পারে।