১
সহীহ হাদীসের আলোকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়তের প্রমাণ
লেখকঃ শাইখ মুকবিল ইবন হাদী আল ওয়াদি‘য়ী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১০০
হাজ্জাজ ইবন ইউসূফের অত্যাচার ও মুখতার ইবন আবী উবাইদ আস-সাকাফীর মিথ্যাচার সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভবিষ্যৎবাণী
عَنْ أَبِي نَوْفَلٍ، رَأَيْتُ عَبْدَ اللهِ بْنَ الزُّبَيْرِ عَلَى عَقَبَةِ الْمَدِينَةِ، قَالَ : فَجَعَلَتْ قُرَيْشٌ تَمُرُّ عَلَيْهِ، وَالنَّاسُ حَتَّى مَرَّ عَلَيْهِ عَبْدُ اللهِ بْنُ عُمَرَ، فَوَقَفَ عَلَيْهِ فَقَالَ : السَّلَامُ عَلَيْكَ، أَبَا خُبَيْبٍ السَّلَامُ عَلَيْكَ أَبَا خُبَيْبٍ السَّلَامُ عَلَيْكَ أَبَا خُبَيْبٍ أَمَا وَاللهِ لَقَدْ كُنْتُ أَنْهَاكَ عَنْ هَذَا، أَمَا وَاللهِ لَقَدْ كُنْتُ أَنْهَاكَ عَنْ هَذَا، أَمَا وَاللهِ لَقَدْ كُنْتُ أَنْهَاكَ عَنْ هَذَا، أَمَا وَاللهِ إِنْ كُنْتَ، مَا عَلِمْتُ، صَوَّامًا، قَوَّامًا، وَصُولًا لِلرَّحِمِ، أَمَا وَاللهِ لَأُمَّةٌ أَنْتَ أَشَرُّهَا لَأُمَّةٌ خَيْرٌ، ثُمَّ نَفَذَ عَبْدُ اللهِ بْنُ عُمَرَ، فَبَلَغَ الْحَجَّاجَ مَوْقِفُ عَبْدِ اللهِ وَقَوْلُهُ، فَأَرْسَلَ إِلَيْهِ، فَأُنْزِلَ عَنْ جِذْعِهِ، فَأُلْقِيَ فِي قُبُورِ الْيَهُودِ، ثُمَّ أَرْسَلَ إِلَى أُمِّهِ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ، فَأَبَتْ أَنْ تَأْتِيَهُ، فَأَعَادَ عَلَيْهَا الرَّسُولَ : لَتَأْتِيَنِّي أَوْ لَأَبْعَثَنَّ إِلَيْكِ مَنْ يَسْحَبُكِ بِقُرُونِكِ، قَالَ : فَأَبَتْ وَقَالَتْ : وَاللهِ لَا آتِيكَ حَتَّى تَبْعَثَ إِلَيَّ مَنْ يَسْحَبُنِي بِقُرُونِي، قَالَ : فَقَالَ : أَرُونِي سِبْتَيَّ فَأَخَذَ نَعْلَيْهِ، ثُمَّ انْطَلَقَ يَتَوَذَّفُ، حَتَّى دَخَلَ عَلَيْهَا، فَقَالَ : كَيْفَ رَأَيْتِنِي صَنَعْتُ بِعَدُوِّ اللهِ؟ قَالَتْ : رَأَيْتُكَ أَفْسَدْتَ عَلَيْهِ دُنْيَاهُ، وَأَفْسَدَ عَلَيْكَ آخِرَتَكَ، بَلَغَنِي أَنَّكَ تَقُولُ لَهُ : يَا ابْنَ ذَاتِ النِّطَاقَيْنِ أَنَا، وَاللهِ ذَاتُ النِّطَاقَيْنِ، أَمَّا أَحَدُهُمَا فَكُنْتُ أَرْفَعُ بِهِ طَعَامَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَطَعَامَ أَبِي بَكْرٍ مِنَ الدَّوَابِّ، وَأَمَّا الْآخَرُ فَنِطَاقُ الْمَرْأَةِ الَّتِي لَا تَسْتَغْنِي عَنْهُ، أَمَا إِنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَدَّثَنَا، «أَنَّ فِي ثَقِيفٍ كَذَّابًا وَمُبِيرًا» فَأَمَّا الْكَذَّابُ فَرَأَيْنَاهُ، وَأَمَّا الْمُبِيرُ فَلَا إِخَالُكَ إِلَّا إِيَّاهُ، قَالَ : فَقَامَ عَنْهَا وَلَمْ يُرَاجِعْهَا .
আবু নাওফাল রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবন যুবাইর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে মদীনার উপত্যকায় দেখলাম। কুরাইশ বংশের লোকেরা তাকে অতিক্রম করে যেত এবং অপরাপর লোকও (অভিশপ্ত হাজ্জাজ তাকে ফাঁসী দিয়ে ঝুলিয়ে রেখেছিল)। অবশেষে আবদুল্লাহ ইবন উমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুও তার কাছ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি তার পাশে দাঁড়ালেন এবং বললেন, হে খুবাইরের পিতা! আসসালামু আলাইকা, হে খুবাইরের পিতা! আসসালামু আলাইকা! হে আবু খুবাইব। আসসালামু আলাইকা। আল্লাহর শপথ! আমি তোমাকে এ (খিলাফতের দাবীদার হওয়া) থেকে নিষেধ করেছিলাম। আল্লাহর শপথ! আমি তোমাকে এ থেকে বিরত থাকতে বলেছিলাম। আল্লাহর শপথ! আমি তোমাকে এ থেকে বারণ করেছিলাম। আল্লাহর শপথ! আমি যতদূর জানি- তুমি ছিলে সাওম পালনকারী, রাতে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ইবাদকারী এবং আত্মীয়ার সম্পর্ক সম্মিলনকারী। আল্লাহর শপথ! যারা তোমার সাথে দুর্ব্যবহার করেছে তাদের চেয়ে তুমি উত্তম। অতঃপর আবদুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু চলে গেলেন। তার অবস্থান এবং মন্তব্য (ইবন যুবাইর সম্পর্কে) হাজ্জাজের কানে পৌঁছলো। এই ইতর লোক পাঠিয়ে তার (ইবনে যুবাইরের) লাশ ফাঁসীকাষ্ঠ থেকে নামিয়ে ইহুদীদের কবরে তা নিক্ষেপ করায়। অতঃপর সে তার (আবদুল্লাহ) মা আসমা বিনতে আবু বাক্র রাদিয়াল্লাহু ‘আনহার কাছে তাকে ডেকে আনার জন্য লোক পাঠায়। কিন্তু তিনি হাজ্জাজের কাছে উপস্থিত হয়ে অস্বীকৃতি জানান। সে আবারো তাকে ডেকে নেওয়ার জন্য দূত পাঠায় এবং বলে যে, তুমি স্বেচ্ছায় আসলে আসো অন্যথায় আমি এমন লোক পাঠাবো, যে তোমার চুলের বেনী ধরে টেনে নিয়ে আসবে। রাবী বলেন, এবারও তিনি অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করে বললেন, তুমি যতক্ষণ এমন ব্যক্তিকে না পাঠাবে, যে আমার চুলের বেনী ধরে টেনে নিতে পারে- আমি ততক্ষণ তোমার কাছে যাব না। রাবী বলেন, হাজ্জাজ বলল, আমার জুতা আনো, সে জুতা পরল এবং সদর্পে রওনা হল। অবশেষে আসমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা ঘরে এসে পৌঁছলো। সে বলল, তুমি দেখেছ আমি আল্লাহর দুশমনের সাথে কিরূপ ব্যবহার করেছি। তিনি উত্তরে বললেন, আমি দেখেছি, তুমি তার পার্থিব জীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছ আর সে তোমার আখরাতকে বরবাদ করে দিয়েছে। আমি জানতে পেরেছি তুমি তাকে বলেছ, হে দুটি কোমর-বন্ধনীর পুত্র। আল্লাহর শপথ! আমি নিশ্চিতই দুই কোমরবন্ধ ব্যবহারকারিনী। একটি কোমর বন্ধ হচ্ছে- আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আবু বাকর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু খাদ্যদ্রব্য বেঁধে তুলে রাখাতাম যাতে পশু তা খেয়ে ফেলতে না পারে। আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে সেই কোমরবন্ধ যা মহিলাদের প্রয়োজন। সাবধান! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, “সাকীফ গোত্র থেকে এক মিত্যাবাদী এবং এক নরহত্যাকারীর আবির্ভাব হবে”। মিথ্যাবাদীকে আমরা অবশ্যই দেখেছি। আর গণহত্যাকারী তোমাকে ছাড়া আর কাউকে আমি মনে করি না। এ কথা শুনে হাজ্জাজ উঠে পড়ল এবং তার কথার কোনো প্রতিউত্তর করল না। [মুসলিম, হাদীস নং ২৫৪৫।]
আবু নাওফাল রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবন যুবাইর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে মদীনার উপত্যকায় দেখলাম। কুরাইশ বংশের লোকেরা তাকে অতিক্রম করে যেত এবং অপরাপর লোকও (অভিশপ্ত হাজ্জাজ তাকে ফাঁসী দিয়ে ঝুলিয়ে রেখেছিল)। অবশেষে আবদুল্লাহ ইবন উমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুও তার কাছ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি তার পাশে দাঁড়ালেন এবং বললেন, হে খুবাইরের পিতা! আসসালামু আলাইকা, হে খুবাইরের পিতা! আসসালামু আলাইকা! হে আবু খুবাইব। আসসালামু আলাইকা। আল্লাহর শপথ! আমি তোমাকে এ (খিলাফতের দাবীদার হওয়া) থেকে নিষেধ করেছিলাম। আল্লাহর শপথ! আমি তোমাকে এ থেকে বিরত থাকতে বলেছিলাম। আল্লাহর শপথ! আমি তোমাকে এ থেকে বারণ করেছিলাম। আল্লাহর শপথ! আমি যতদূর জানি- তুমি ছিলে সাওম পালনকারী, রাতে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ইবাদকারী এবং আত্মীয়ার সম্পর্ক সম্মিলনকারী। আল্লাহর শপথ! যারা তোমার সাথে দুর্ব্যবহার করেছে তাদের চেয়ে তুমি উত্তম। অতঃপর আবদুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু চলে গেলেন। তার অবস্থান এবং মন্তব্য (ইবন যুবাইর সম্পর্কে) হাজ্জাজের কানে পৌঁছলো। এই ইতর লোক পাঠিয়ে তার (ইবনে যুবাইরের) লাশ ফাঁসীকাষ্ঠ থেকে নামিয়ে ইহুদীদের কবরে তা নিক্ষেপ করায়। অতঃপর সে তার (আবদুল্লাহ) মা আসমা বিনতে আবু বাক্র রাদিয়াল্লাহু ‘আনহার কাছে তাকে ডেকে আনার জন্য লোক পাঠায়। কিন্তু তিনি হাজ্জাজের কাছে উপস্থিত হয়ে অস্বীকৃতি জানান। সে আবারো তাকে ডেকে নেওয়ার জন্য দূত পাঠায় এবং বলে যে, তুমি স্বেচ্ছায় আসলে আসো অন্যথায় আমি এমন লোক পাঠাবো, যে তোমার চুলের বেনী ধরে টেনে নিয়ে আসবে। রাবী বলেন, এবারও তিনি অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করে বললেন, তুমি যতক্ষণ এমন ব্যক্তিকে না পাঠাবে, যে আমার চুলের বেনী ধরে টেনে নিতে পারে- আমি ততক্ষণ তোমার কাছে যাব না। রাবী বলেন, হাজ্জাজ বলল, আমার জুতা আনো, সে জুতা পরল এবং সদর্পে রওনা হল। অবশেষে আসমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা ঘরে এসে পৌঁছলো। সে বলল, তুমি দেখেছ আমি আল্লাহর দুশমনের সাথে কিরূপ ব্যবহার করেছি। তিনি উত্তরে বললেন, আমি দেখেছি, তুমি তার পার্থিব জীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছ আর সে তোমার আখরাতকে বরবাদ করে দিয়েছে। আমি জানতে পেরেছি তুমি তাকে বলেছ, হে দুটি কোমর-বন্ধনীর পুত্র। আল্লাহর শপথ! আমি নিশ্চিতই দুই কোমরবন্ধ ব্যবহারকারিনী। একটি কোমর বন্ধ হচ্ছে- আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আবু বাকর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু খাদ্যদ্রব্য বেঁধে তুলে রাখাতাম যাতে পশু তা খেয়ে ফেলতে না পারে। আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে সেই কোমরবন্ধ যা মহিলাদের প্রয়োজন। সাবধান! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, “সাকীফ গোত্র থেকে এক মিত্যাবাদী এবং এক নরহত্যাকারীর আবির্ভাব হবে”। মিথ্যাবাদীকে আমরা অবশ্যই দেখেছি। আর গণহত্যাকারী তোমাকে ছাড়া আর কাউকে আমি মনে করি না। এ কথা শুনে হাজ্জাজ উঠে পড়ল এবং তার কথার কোনো প্রতিউত্তর করল না। [মুসলিম, হাদীস নং ২৫৪৫।]