hadith book logo

সহীহ হাদীসের আলোকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়তের প্রমাণ

লেখকঃ শাইখ মুকবিল ইবন হাদী আল ওয়াদি‘য়ী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩

ইমাম ইবন তাইমিয়্যাহ রহ. বলেন, (পৃ. ১৬) অলৌকিক ঘটনা তিন প্রকার:

প্রথম প্রকার: ব্যক্তিকে এসব অলৌকিক ঘটনা দ্বারা ভালো ও আল্লাহর তাকওয়ার কাজে সাহায্য করা হবে। এটা আমাদের নবী ও তাঁর অনুসারীদের অবস্থা। তাদের অলৌকিক ঘটনা দীনের পক্ষে প্রমাণ পেশের জন্য অথবা মুসলিমদের প্রয়োজন পূরণের জন্য হয়ে থাকে।

দ্বিতীয় প্রকার: এ সব অলৌকিক ঘটনা দ্বারা বৈধ কাজে সাহায্য নেওয়া, যেমন প্রয়োজনীয় জায়েয কাজে জিনদের দ্বারা সাহায্য নেওয়া। এটা মধ্যম ধরণের অলৌকিক ঘটনা। এ অলৌকিকতা দ্বারা ব্যক্তির মর্যাদা বাড়ে বা কমে না। এটা নবী সুলাইমান আলাইহিস সালাম কর্তৃক জিন জাতিকে কাজে লাগানোর সাদৃশ।

প্রথম প্রকারের উদাহরণের অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে, আমাদের নবীকে জিনদের কাছে প্রেরণ তাদের নিকট ঈমানের দাওয়াত দেওয়ার জন্য। এটা জায়েয কাজে জিনদেরকে ব্যবহার করার চেয়েও উত্তম। যেমন জায়েয কাজে ব্যবহার করেছিলেন সুলাইমান আলাইহিস সালাম। তিনি জিনদেরকে প্রাসাদ, ভাস্কর্য, সুবিশাল হাউযের মত বড় পাত্র ও স্থির হাড়ি ইত্যাদি তৈরি করায় ব্যবহার করতেন। আল্লাহ বলেন,

﴿ يَعۡمَلُونَ لَهُۥ مَا يَشَآءُ مِن مَّحَٰرِيبَ وَتَمَٰثِيلَ وَجِفَانٖ كَٱلۡجَوَابِ وَقُدُورٖ رَّاسِيَٰتٍۚ ٱعۡمَلُوٓاْ ءَالَ دَاوُۥدَ شُكۡرٗاۚ وَقَلِيلٞ مِّنۡ عِبَادِيَ ٱلشَّكُورُ ١٣ ﴾ [ سبا : ١٣ ]

“তারা তৈরী করত সুলাইমানের ইচ্ছানুযায়ী তার জন্য প্রাসাদ, ভাস্কর্য, সুবিশাল হাউযের মত বড় পাত্র ও স্থির হাড়ি। ‘হে দাঊদ পরিবার, তোমরা কৃতজ্ঞতাস্বরূপ আমল করে যাও এবং আমার বান্দাদের মধ্যে অল্পই কৃতজ্ঞ’’। [সূরা সাবা : ১৩]

আল্লাহ আরো বলেছেন,

﴿ وَمَن يَزِغۡ مِنۡهُمۡ عَنۡ أَمۡرِنَا نُذِقۡهُ مِنۡ عَذَابِ ٱلسَّعِيرِ ١٢ ﴾ [ سبا : ١٢ ]

“তাদের মধ্যে যে আমার নির্দেশ থেকে বিচ্যুত হয় তাকে আমরা জ্বলন্ত আগুনের আযাব আস্বাদন করাব”। [সূরা সাবা : ১২]

আমাদের নবীকে জিনদের নিকট ঈমান ও আল্লাহর ইবাদাতের দাওয়াত সহকারে প্রেরণ করা হয়েছিল, যেমনিভাবে তিনি মানুষের কাছে প্রেরিত হয়েছিলেন। অতঃপর যারাই তাঁর অনুসরণ করেছে তারাই সুখী ও সৌভাগ্যবান হয়েছেন। এটা সুলাইমান আলাইহিস সালামের চেয়েও মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পূর্ণাঙ্গতার উপর প্রমাণ। যেমনিভাবে আল্লাহর বান্দা ও রাসূল গুণ নবী ও বাদশাহ গুণের চেয়ে বেশি পূর্ণাঙ্গ। ইউসুফ, দাউদ ও সুলাইমান আলাইহিমুস সালামগণ নবী ও বাদশাহ ছিলেন, আর মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সালাম আল্লাহর বান্দা ও রাসূল ছিলেন, যেমন ইবরাহীম, মূসা ও ঈসা আলাইহিমুস সালামগণ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল ছিলেন। বান্দাহ ও রাসূল হওয়ার এগুণ বেশি মর্যাদাবান এবং তাদের উম্মতগণও বেশি মর্যাদাবান।

তৃতীয় প্রকার হলো: হারাম কাজ যেমন, অশ্লীল কর্মকাণ্ড, যুলুম, শির্ক, মিথ্যাকথা ইত্যাদি কাজে অলৌকিক কর্মকাণ্ড ব্যবহার করা। এগুলো জাদুকর, গণক, কাফের ও পাপাচারীদের কাজের সমগোত্রীয় কাজ। যেমন বিদ‘আতী রেফা‘ঈ সম্প্রদায়, তারা মানুষকে শির্ক, অন্যায়ভাবে হত্যা ও পাপাচারের কাজে কিছু অলৌকিক ঘটনার সাহায্য নিয়ে থাকে। আর এ তিনটি কাজই আল্লাহ তা‘আলা হারাম ঘোষণা করেছেন তাঁর নিম্নোক্ত বাণীতে,

﴿ وَٱلَّذِينَ لَا يَدۡعُونَ مَعَ ٱللَّهِ إِلَٰهًا ءَاخَرَ وَلَا يَقۡتُلُونَ ٱلنَّفۡسَ ٱلَّتِي حَرَّمَ ٱللَّهُ إِلَّا بِٱلۡحَقِّ وَلَا يَزۡنُونَۚ وَمَن يَفۡعَلۡ ذَٰلِكَ يَلۡقَ أَثَامٗا ٦٨ ﴾ [ الفرقان : ٦٧ ]

“আর যারা আল্লাহর সাথে অন্য ইলাহকে ডাকে না এবং যারা আল্লাহ যে নফসকে হত্যা করা নিষেধ করেছেন যথার্থ কারণ ছাড়া তাকে হত্যা করে না। আর যারা ব্যভিচার করে না। আর যে তা করবে সে আযাবপ্রাপ্ত হবে”। [সূরা আল-ফুরকান: ৬৭]

আর এজন্যই তাদের এসব কাজ গণক, কবি ও পাগলের কর্মপদ্ধতির সমগোত্রীয়। আর আল্লাহ তাঁর নবীকে পাগল, কবি ও গণক হওয়া থেকে পবিত্র ঘোষণা করেছেন। কারণ তারা যে সব গায়েবী বিষয়ের সংবাদ প্রদান করে তা তো কেবল তাদের উপর সওয়ার হওয়া শয়তানদের মাধ্যমেই প্রাপ্ত হয়ে থাকে। তাদের মধ্যে যারা শয়তানদেরকে মা‘বুদ হিসেবে গ্রহণ করে তারা শয়তানদের থেকে আরও বেশি শক্তিশালী অলৌকিক অবস্থা পেতে সক্ষম হয়। বস্তুত তারা পাগলদের অন্তর্ভুক্ত। তাই তো তাদের এক শাইখ বলেছেন, তাদের সঙ্গী সাথী যারা এ ধরনের অলৌকিক ঘটনা ঘটায় তারা বেঈমান হয়ে মারা যায়। আর তাদের সামা তথা ভক্তিমূলক গান ও তাদের ওয়াজদ তথা আবেগ-উচ্ছাস তা তো কবিদের কবিতার মতই। এজন্যই তাদেরকে যারা দেখেছেন তারা তাদেরকে ভারতের মূর্তিপূজারী মুশরিকদের সাথে তুলনা করেছেন।