hadith book logo

সহীহ হাদীসের আলোকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়তের প্রমাণ

লেখকঃ শাইখ মুকবিল ইবন হাদী আল ওয়াদি‘য়ী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৪

চতুর্দশ পরিচ্ছেদ: জাহেলী যুগের নানা অন্যায় কাজ থেকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুতঃপবিত্র ছিলেন।

عَنْ جَابِر بْن عَبْدِ اللَّهِ، يُحَدِّثُ «أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَنْقُلُ مَعَهُمُ الحِجَارَةَ لِلْكَعْبَةِ وَعَلَيْهِ إِزَارُهُ»، فَقَالَ لَهُ العَبَّاسُ عَمُّهُ : يَا ابْنَ أَخِي، لَوْ حَلَلْتَ إِزَارَكَ فَجَعَلْتَ عَلَى مَنْكِبَيْكَ دُونَ الحِجَارَةِ، قَالَ : «فَحَلَّهُ فَجَعَلَهُ عَلَى مَنْكِبَيْهِ، فَسَقَطَ مَغْشِيًّا عَلَيْهِ، فَمَا رُئِيَ بَعْدَ ذَلِكَ عُرْيَانًا صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ» .

জাবির ইবন ‘আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়সাল্লাম (নবুওয়াতের পূর্বে) কুরাইশদের সাথে কা’বার (মেরামতের) জন্য পাথর তুলে দিচ্ছিলেন। তাঁর পরনে ছিল লুঙ্গী। তাঁর চাচা ‘আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁকে বললেন; ভাতিজা! তুমি লুঙ্গী খুলে কাঁধে পাথরের নীচে রাখলে ভাল হ’ত। জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, তিনি লুঙ্গী খুলে কাঁধে রাখলেন এবং তৎক্ষণাত বেহুশ হয়ে পরলেন। এরপর তাঁকে আর কখনও বিবস্ত্র অবস্থাই দেখা যায়নি। [বুখারী, হাদীস নং ৩৬৪, মুসলিম, হাদীস নং ৩৪০।]

عَنْ زَيْدِ بْنِ حَارِثَةَ، قَالَ : كَانَ صَنَمٌ مِنْ نُحَاسٍ يُقَالُ لَهُ : إِسَافٌ، أَوْ نَائِلَةُ، يَتَمَسَّحُ بِهِ الْمُشْرِكُونَ إِذَا طَافُوا . فَطَافَ رسول الله، صلى الله عليه وآله وَسَلَّمَ، فَطُفْتُ مَعَهُ، فَلَمَّا مَرَرْتُ مَسَحْتُ بِهِ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ، صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وآله وَسَلَّمَ : لَا تَمَسَّهُ ! فَقَالَ زَيْدٌ : فَطُفْتُ فَقُلْتُ فِي نَفْسِي لَأَمَسَّنَّهُ حَتَّى أَنْظُرَ مَا يَكُونُ، فَمَسَحْتُهُ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ، صَلَّى الله عليه وآله وَسَلَّمَ، أَلَمْ تُنْهَ؟ قُلْتُ : زَادَ فِيهِ غَيْرُهُ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو بِإِسْنَادِهِ : قال زيد : فو الذي هُوَ أَكْرَمَهُ وَأَنْزَلَ عَلَيْهِ الْكِتَابَ مَا اسْتَلَمَ صَنَمًا حَتَّى أَكْرَمَهُ اللهُ بِالَّذِي أكرمه وأنزل عليه .

যায়েদ ইবন হারিসাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কা’বা ঘরে ‘ইসাফ’ বা ‘নায়েলা’ মূর্তি ছিল। মুশরিকরা তাওয়াফের সময় তা স্পর্শ করত ও চুমো খেত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কা’বা তাওয়াফ করলেন, আমিও তাঁর সাথে তাওয়াফ করলাম। আমি যখন উক্ত মূর্তির কাছ দিয়ে যেতাম তখন তা স্পর্শ করতাম। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, এটা স্পর্শ কর না। যায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি যখন তাওয়াফ করছিলাম তখন মনে মনে ভাবলাম, আমি মূর্তিটি স্পর্শ করব, দেখব রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি বলেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাকে মূর্তি স্পর্শ করতে নিষেধ করা হয়নি? মুহাম্মদ ইবন আমরের সনদে অন্যান্যরা আরো বলেছেন, যায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, সেই সত্বার কসম, যিনি তাকে সম্মানিত করেছেন ও তাঁর উপর কিতাব নাযিল করেছেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আল্লাহ সম্মানিত ও কুরআন নাযিলের পূররে তিনি কখনও মূর্তি স্পর্শ করেননি। [দালায়েলুন নুবুওয়াহ লিলবাইহাক্বী, ২/৩৪। হাদীসটি হাসান।]