hadith book logo

সাহিত্যিক মাওলানা আহমাদ আলী

লেখকঃ হাদীছ ফাউণ্ডেশন বাংলাদেশ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১০

বংশ চেতনা :

একদিন সকাল ১০-টার দিকে পুষ্পকাটির জমিদার তার সাথী-সঙ্গী নিয়ে বুলারাটি আসেন। তখন উভয় জমিদারের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক ছিল। তিনি বুলারাটি এসে স্বভাব সূলভ ভঙ্গিতে জনাব আফতাব মন্ডলের নাম ধরে ডেকে তিনি বাড়ী আছেন কি-না খোঁজ নেন। ঐ সময় পুরুষ লোক কেউ বাড়ীতে ছিলেন না ছিয়ামুদ্দীন মন্ডল ব্যতীত। জমিদারের লোক এসেছে শুনে তিনি বাইরে এলেন এবং ক্রুদ্ধ স্বরে বললেন, জমিদার! মন্ডল বংশের কোন ব্যক্তির নাম ধরে ডাকার সাহস তুমি কোথায় পেলে? জমিদার অবস্থা বেগতিক দেখে দ্রুত নৌকায় উঠে পালাতে থাকে। তখন ছিয়ামুদ্দীন মন্ডল একাই হাতে একটা লাঠি নিয়ে আরেকটি নৌকায় করে জমিদারের পিছু নেন। এইভাবে তাকে ও তার বাহিনীকে তাড়িয়ে পুষ্পকাটি পার করে দেন।

শিশু আহমাদ আলী

মৌলবীবাড়ীতে ২টি বৈঠকখানা ছিল, যাকে ‘দলুজ’ (দহলিজ) বলা হ’ত। একটি বংশের সাধারণ মেহমানখানা হিসাবে, অন্যটি বিচারালায় হিসাবে ব্যবহৃত হ’ত। সেখানে বিচারক চেয়ারে, গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ বেঞ্চে এবং অন্যেরা পিড়িতে অথবা চাটাইতে বসতেন। একদিন পিতা মুনশী যীনাতুল্লাহ একটি শালিশী বৈঠক করছেন। এমন সময় শিশু আহমাদ আলী সেখানে গিয়ে হাযির। সবাই তাকে বেঞ্চে বসানোর জন্য চেষ্টা করছে। কিন্তু তিনি কোথাও না বসে সোজা চেয়ারের পাশে গিয়ে দাঁড়ান। তখন বাড়ীর ভিতর থেকে একটা চেয়ার এনে দিলে তিনি খুশী মনে তাতে বসে পড়েন। এ দৃশ্য দেখে সকলে মন্তব্য করেন যে, এ শিশু একদিন সমাজের নেতা হবে।