১
সাহিত্যিক মাওলানা আহমাদ আলী
লেখকঃ হাদীছ ফাউণ্ডেশন বাংলাদেশ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৪
মেধা এবং শিক্ষণীয় কিছু ঘটনা :
মেধাবী ছাত্র হিসাবে ছাত্র-শিক্ষক সকলের নিকট তিনি অত্যন্ত সুনাম কুড়িয়েছিলেন। বিশেষ করে আরবী ভাষা ও ব্যাকরণে তাঁর ব্যুৎপত্তি ছিল অসাধারণ। কলিকাতা আলিয়ার তৎকালীন সেরা ছাত্র আব্দুল মান্নান তাঁর নিকটে নিয়মিত আরবী ব্যাকরণ পড়তেন। দু’জনের মধ্যে পার্থক্য ছিল এই যে, আব্দুল মান্নান ছিল তীক্ষ্ণ মেধা সম্পন্ন এবং দ্রুত পড়া মুখস্ত হয়ে যেত। কিন্তু ব্যাকরণ বুঝত না তেমন কিছু। পক্ষান্তরে আহমাদ আলী অতটা তীক্ষ্ণধী ছিলেন না। কিন্তু ব্যাকরণ বুঝতেন সুন্দরভাবে।
বই বা হারিকেন কেনার সামর্থ্য ছিল না বলে তিনি বন্ধুদের নিকট থেকে বই ধার নিয়ে এশার ছালাতের পরে রাস্তার পার্শ্বে লণ্ঠন বাতির নীচে দাঁড়িয়ে দৈনন্দিন পড়া তৈরী করতেন।[2] কালি-কলম ছিল না বলে কাঠ পেন্সিল দিয়ে লিখতেন।
তাঁর মধুর কণ্ঠের আযান শুনে পাশের মহল্লা হ’তে তাঁকে লজিং রাখার জন্য উস্তাদ আইয়ূব বিহারীর নিকট প্রস্তাব আসতে থাকে। সকলের আবদার রক্ষা করতে গিয়ে অবশেষে উস্তাদের হুকুমে তাঁকে মাসে তের বাড়ী লজিং নিতে হয়। অধিকাংশই ছিল কুলি-মজুর শ্রেণীর কর্মজীবি মানুষ। সিকি ইঞ্চি পুরু যবের রুটি ও মহিষের গোশত অথবা যবের ছাতু ছিল তাঁর প্রায় নিত্য দিনের খাদ্য। কিন্তু তিনি ছিলেন সকলের চোখের পুত্তলী। তিনি খেতেন আর জায়গীরদার বা তার ছেলে তাঁকে বাতাস করতেন। উস্তাদ আইয়ূব বিহারী ঠাট্টা করে তাঁকে প্রায়ই বলতেন, ‘হামলোগ খানা খাতে হ্যায়, আওর আহমাদ আলী হাওয়া খাতা হ্যায়’ (আমরা খাদ্য খাই, আর আহমাদ আলী হাওয়া খায়)। মুরববীরা তাঁকে আদর করে দৈনিক বিকালে দামী কুলফী বরফ খাওয়াতেন। তিনি বলতেন, সম্ভবতঃ একারণেই তিনি মাত্র ৫২ বছর বয়সে সব দাঁত হারান।
বই বা হারিকেন কেনার সামর্থ্য ছিল না বলে তিনি বন্ধুদের নিকট থেকে বই ধার নিয়ে এশার ছালাতের পরে রাস্তার পার্শ্বে লণ্ঠন বাতির নীচে দাঁড়িয়ে দৈনন্দিন পড়া তৈরী করতেন।[2] কালি-কলম ছিল না বলে কাঠ পেন্সিল দিয়ে লিখতেন।
তাঁর মধুর কণ্ঠের আযান শুনে পাশের মহল্লা হ’তে তাঁকে লজিং রাখার জন্য উস্তাদ আইয়ূব বিহারীর নিকট প্রস্তাব আসতে থাকে। সকলের আবদার রক্ষা করতে গিয়ে অবশেষে উস্তাদের হুকুমে তাঁকে মাসে তের বাড়ী লজিং নিতে হয়। অধিকাংশই ছিল কুলি-মজুর শ্রেণীর কর্মজীবি মানুষ। সিকি ইঞ্চি পুরু যবের রুটি ও মহিষের গোশত অথবা যবের ছাতু ছিল তাঁর প্রায় নিত্য দিনের খাদ্য। কিন্তু তিনি ছিলেন সকলের চোখের পুত্তলী। তিনি খেতেন আর জায়গীরদার বা তার ছেলে তাঁকে বাতাস করতেন। উস্তাদ আইয়ূব বিহারী ঠাট্টা করে তাঁকে প্রায়ই বলতেন, ‘হামলোগ খানা খাতে হ্যায়, আওর আহমাদ আলী হাওয়া খাতা হ্যায়’ (আমরা খাদ্য খাই, আর আহমাদ আলী হাওয়া খায়)। মুরববীরা তাঁকে আদর করে দৈনিক বিকালে দামী কুলফী বরফ খাওয়াতেন। তিনি বলতেন, সম্ভবতঃ একারণেই তিনি মাত্র ৫২ বছর বয়সে সব দাঁত হারান।