১
সাহিত্যিক মাওলানা আহমাদ আলী
লেখকঃ হাদীছ ফাউণ্ডেশন বাংলাদেশ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৭
(খ) খান বাহাদুর আহসানুল্লাহর সঙ্গে হৃদয়গ্রাহী বিতর্ক :
সাতক্ষীরা শহরের নামকরা এলোপ্যাথি চিকিৎসক ডাঃ মাহতাবুদ্দীন মাওলানা আহমাদ আলীর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। ডাক্তার ছাহেব ছিলেন হানাফী মাযহাবের অনুসারী এবং নলতার পীর খান বাহাদুর মুবারক আলীর জামাতা। সেই হিসাবে পীর খান বাহাদুর আহসানুল্লাহ ছিলেন ডাক্তার ছাহেবের আপন চাচা শ্বশুর। কোন এক উপলক্ষে তিনি সাতক্ষীরায় জামাতার বাড়ীতে এলে শহরের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে মাওলানা আহমাদ আলীও নিমন্ত্রিত হন। মাওলানার ‘নিয়ত ও দরূদ সমস্যা সমাধান’ বইটি তখন বাজারে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। প্রসঙ্গক্রমে জনৈক মুরীদের অনুরোধে খোদ পীর ছাহেব আকর্ষণীয় যুক্তির মাধ্যমে মাওলানা আহমাদ আলীকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আচ্ছা মাওলানা! আমি যদি আমার বন্ধুকে চিঠিতে লিখি ‘তুমি আমার ভালবাসা গ্রহণ কর’। অথবা লিখি ‘তুমি আমার হৃদয় নিংড়ানো অকৃত্রিম ভালবাসা গ্রহণ কর’ তাহলে কোন চিঠিতে বন্ধু অধিক খুশী হবেন? উপস্থিত সকলেই বললেন, দ্বিতীয় চিঠিতেই অধিক খুশী হবেন। এই ভূমিকার পর জনাব পীর ছাহেব বললেন, আচ্ছা! আমরা যদি দরূদ পাঠের সময় হাদীছ অনুযায়ী কেবল ‘আল্লাহুম্মা ছল্লে ‘আলা মুহাম্মাদ’ না বলে ‘আল্লাহুম্মা ছল্লে ‘আলা সাইয়েদেনা শাফী‘এনা হাবীবেনা ওয়া মাওলানা মুহাম্মাদ’ বলি, তাহলে সেটাই কি অধিক সুন্দর হয় না?
পীর ছাহেবের যুক্তির সারবত্তায় খুশী হয়ে সবাই মাওলানা আহমাদ আলীর মুখের দিকে জিজ্ঞাসুনেত্রে তাকিয়ে রইলেন। এমন সময় মাওলানা আহমাদ আলী এক গ্লাস পানি আনতে বললেন। গ্লাসটি হাতে নিয়ে তিনি সবাইকে লক্ষ্য করে বললেন, বন্ধুগণ! ভরা এই গ্লাসটিতে এক ফোঁটা পানি নিক্ষেপ করলে যদি ফোঁটাটি ছিটকে বাইরে পড়ে যায়, তাহলে একে পূর্ণ এক গ্লাস পানি বলা যাবে। কিন্তু যদি ফোঁটাটি গ্লাসে থেকে যায় তাহ’লে বুঝতে হবে যে, ওটি পূর্ণ ছিল না। বরং ওতে এক ফোঁটা পানির জায়গা খালি ছিল। এক্ষণে আমরা যদি সবাই একথা বিশ্বাস করি যে, ইসলাম একটি ‘পূর্ণাঙ্গ দ্বীন’ তাহ’লে সেখানে সাইয়েদেনা, শাফী‘এনা, হাবীবেনা বা মাওলানার ফোঁটাগুলি দেওয়ার কোন সুযোগ আর থাকে কি?
বলা বাহুল্য, মাওলানা আহমাদ আলীর এই যুক্তিপূর্ণ উত্তরে সবাই খুশী হলেন এবং শ্রদ্ধেয় পীর ছাহেব উঠে এসে মাওলানাকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন।
পীর ছাহেবের যুক্তির সারবত্তায় খুশী হয়ে সবাই মাওলানা আহমাদ আলীর মুখের দিকে জিজ্ঞাসুনেত্রে তাকিয়ে রইলেন। এমন সময় মাওলানা আহমাদ আলী এক গ্লাস পানি আনতে বললেন। গ্লাসটি হাতে নিয়ে তিনি সবাইকে লক্ষ্য করে বললেন, বন্ধুগণ! ভরা এই গ্লাসটিতে এক ফোঁটা পানি নিক্ষেপ করলে যদি ফোঁটাটি ছিটকে বাইরে পড়ে যায়, তাহলে একে পূর্ণ এক গ্লাস পানি বলা যাবে। কিন্তু যদি ফোঁটাটি গ্লাসে থেকে যায় তাহ’লে বুঝতে হবে যে, ওটি পূর্ণ ছিল না। বরং ওতে এক ফোঁটা পানির জায়গা খালি ছিল। এক্ষণে আমরা যদি সবাই একথা বিশ্বাস করি যে, ইসলাম একটি ‘পূর্ণাঙ্গ দ্বীন’ তাহ’লে সেখানে সাইয়েদেনা, শাফী‘এনা, হাবীবেনা বা মাওলানার ফোঁটাগুলি দেওয়ার কোন সুযোগ আর থাকে কি?
বলা বাহুল্য, মাওলানা আহমাদ আলীর এই যুক্তিপূর্ণ উত্তরে সবাই খুশী হলেন এবং শ্রদ্ধেয় পীর ছাহেব উঠে এসে মাওলানাকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন।