hadith book logo

সাহিত্যিক মাওলানা আহমাদ আলী

লেখকঃ হাদীছ ফাউণ্ডেশন বাংলাদেশ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৫

লেখনী :

মাওলানা আহমাদ আলী ছাত্রজীবন থেকেই লেখার অভ্যাস গড়ে তুলেছিলেন। তবে বই আকারে তাঁর লেখা বের হয় অনেক পরে। এ ব্যাপারে মরহূম মাওলানা আকরম খাঁর উৎসাহ দানের কথা তিনি সবসময়ই শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতেন। ১৯৬৭ সালের দিকে তিনি কনিষ্ঠ পুত্র আসাদুল্লাহ আল-গালিবকে সাথে নিয়ে ঢাকায় দৈনিক আজাদ অফিসে মাওলানা আকরম খাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতে যান। তখন তাঁর হাতে ছিল স্বলিখিত পুস্তক ‘আক্বীদায়ে মোহাম্মাদী বা মযহাবে আহলেহাদীছ’। মাওলানা আকরম খাঁ পুত্রসহ প্রিয় শিষ্যকে সামনে দেখে আনন্দের সাথে স্বাগত জানালেন ও বললেন, তোমার হাতে ওটা কি? মাওলানা আহমাদ আলী বইটি তাঁর হাতে তুলে দিলেন। মাওলানা এক নিঃশ্বাসে বইটি পড়ে ফেললেন। অতঃপর বললেন, ‘আহমাদ আলী তুমি যে লিখতে শিখেছ’। জওয়াবে তিনি বলেন, ‘হুযুর! সমাজ ও জামা‘আত নিয়ে দিনরাত ব্যস্ত থাকি। ঠান্ডা মাথায় লেখার সময় পাই না’। মাওলানা বললেন, ‘আহমাদ আলী। মনে রেখ এ পৃথিবীতে যা কিছু হয়েছে, তা ব্যস্ত লোকেরাই করেছে। অলসরা কিছুই করেনি’।

তিনি ছোট-বড় সর্বমোট ষোলখানা বই লিখেছেন। তন্মধ্যে চারখানা পান্ডুলিপি আকারে এখনও অপ্রকাশিত রয়েছে। বাকী বারোখানা তাঁর জীবদ্দশাতেই প্রকাশিত হয়েছে। সংক্ষিপ্ত বিবরণসহ বইগুলির তালিকা নিম্নে প্রদত্ত হ’ল।-

১। সংসার পথে (পদ্য ছন্দে) : নবদম্পতির প্রতি ইসলামী আদব সম্বলিত উপদেশমালা। প্রথম প্রকাশ ১৩৩৪ বাংলা, পৃষ্ঠা সংখ্যা ৪২, রুবি প্রেস, যশোর। ২য় প্রকাশ ১৩৬৪।

২। তাহারৎ (পদ্য ছন্দে) : নারী-পুরুষের পবিত্রতা অর্জন সম্পর্কিত মাসায়েল। ১ম প্রকাশ ১৩৩৪, পৃষ্ঠা সংখ্যা ৩২, রুবি প্রেস, যশোর। ২য় প্রকাশ ১৩৬৪।

৩। আকীদায়ে মোহাম্মদী বা মযহবে আহলেহাদীছ : আহলেহাদীছের আকীদা বিষয়ক আলোচনা। ১ম প্রকাশ ১৩৫৯, পৃষ্ঠা সংখ্যা ৩৪, রুবি প্রেস, যশোর। ২য় প্রকাশ ১৩৬৯, দি মুসলিম স্কলার প্রিন্টিং প্রেস, আপার খান জাহান আলী রোড (ফেরীঘাট মোড়), খুলনা।

৪। ছলাতে মোস্তফা বা আদর্শ নামায শিক্ষা : ১ম প্রকাশ ১৩৬০, পৃষ্ঠা সংখ্যা ১৩১, রুবি প্রেস, যশোর।

৫। নিয়ত ও দরূদ সমস্যা সমাধান; বিতর্ক ও বিচার : ছালাতের শুরুতে মুখে আরবীতে নিয়ত পড়ার অযৌক্তিকতা ও প্রচলিত রকমারি ভিত্তিহীন দরূদ সমূহের প্রতিবাদে লিখিত। ১ম প্রকাশ ১৩৬১, পৃষ্ঠা সংখ্যা ৪৮,প্যারাডাইস প্রেস, ১০নং স্যান্ডেল স্ট্রীট, কলিকাতা।

৬। বঙ্গানুবাদ খোৎবা : জুম‘আ, উভয় ঈদ ও বিবাহের মোট ১১টি আরবী খুৎবা বঙ্গানুবাদসহ। খুৎবাগুলি বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক; চাঁদভিত্তিক নয়। ১ম প্রকাশ ১৩৬২, পৃষ্ঠা সংখ্যা ৮৬ (বড় সাইজ), আনছার প্রেস, যশোর। ২য় প্রকাশ ১৩৬৯, দি মুসলিম স্কলার প্রিন্টিং প্রেস, খুলনা। ৩য় প্রকাশ ১৩৮৪ (১৯৭৭ ইং) পুরাতত্তব প্রেস, ১৯ নবরায় লেন, জিন্দাবাহার, ঢাকা-১। কনিষ্ঠ পুত্র মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব কর্তৃক সংযোজিত ও পরিবর্ধিত বিভিন্ন বিষয়ে সর্বমোট ২১টি খুৎবাসহ মোট পৃষ্ঠা সংখ্যা ১৭৬।

৭। ছলাতুন্নবী বা মক্তব-মাদরাসার আদর্শ নামায শিক্ষা : ইতিপূর্বে প্রকাশিত ‘ছলাতে মোস্তফার’ তুলনায় অধিকতর সহজ ভাষায় ও সংক্ষিপ্তভাবে লিখিত। ১ম প্রকাশ ১৩৬৪, ২য় প্রকাশ ১৩৬৮, পৃষ্ঠা সংখ্যা ৮৬, রুবি প্রেস, যশোর। ৩য় প্রকাশ ১৩৮৩, বৈকালী প্রেস, খুলনা।

৮। সূরা ফাতেহা পাঠের সমস্যা সমাধান : ইমাম ও মুক্তাদী উভয়ের জন্য ছালাতে সূরা ফাতেহা যে অবশ্যই পড়তে হবে, সে বিষয়ে দলীলভিত্তিক বিস্তারিত আলোচনা। ১ম প্রকাশ ১৩৬৪, পৃঃ সংখ্যা ৪৮, রুবি প্রেস, যশোর।

৯। সশব্দে আমীন সমস্যা সমাধান; বিতর্ক ও বিচার : উস্তাদ-শিষ্যের আকর্ষণীয় প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে জেহরী ছালাতে সূরা ফাতেহা শেষে ইমাম ও মুক্তাদী সবাইকে যে আমীন সশব্দে বলতে হবে, সে বিষয়ে দলীলভিত্তিক আলোচনা। ১ম প্রকাশ ১৩৬৫, পৃষ্ঠা সংখ্যা ৪৬, রুবি প্রেস, যশোর।

১০। তারাবীহ সমস্যা সমাধান : ছালাতে তারাবীহর রাক‘আত সংখ্যা বিশ নয় বরং আট রাক‘আতই যে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ও খুলাফায়ে রাশেদীনের পালিত সুন্নাত সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা। ১ম প্রকাশ ১৩৬৬, পৃঃ সংখ্যা ৪৮, রুবি প্রেস, যশোর।

১১। রাফ‘উল ইয়াদায়েন ও বুকের উপর হাত সমস্যা সমাধান : ছালাতে বুকে হাত বেঁধে দাঁড়ানো এবং রুকূতে যাওয়ার কালে, রুকূ হ’তে উঠার সময় ও তৃতীয় রাক‘আতে উঠে দাঁড়ানোর সময় দু’হাত কাঁধ পর্যন্ত উঠানো যে সুন্নাত, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা। ১ম প্রকাশ ১৩৬৯, পৃঃ সংখ্যা ১২০, দি মুসলিম স্কলার প্রিন্টিং প্রেস, খুলনা।

১২। কুরআন ও কলেমাখানী : মৃতের নামে কুলখানী, চেহলাম ও ফাতেহাখানী করা, কুরআন খতম করে বখশে দেওয়া ও তার জন্য পারিশ্রমিক গ্রহণ করা প্রভৃতি প্রচলিত বিদ‘আতী রসম-রেওয়াজের বিরুদ্ধে দলীলভিত্তিক আলোচনা। ১ম প্রকাশ ১৩৭৫, পৃঃ সংখ্যা ৫৪, রুবি প্রেস, যশোর।

মরহূম মাওলানা আহমাদ আলীর অপ্রকাশিত চারখানা পান্ডুলিপির নাম হ’ল : (১) তিন তালাক সমস্যা সমাধান (২) বঙ্গানুবাদ মীযানুছ ছরফ (৩) হাদীছে আরবাঈন বা চল্লিশ হাদীছ (৪) সরল আরবী ব্যাকরণ।

তিনি তাঁর সাহিত্যে বংকিম-রবীন্দ্রের অনুসারী ছিলেন না। বরং আরবী-ফার্সী মিশানো বাংলা ব্যবহার করতেন। যা বাংলা সাহিত্যে ইসলামী ধারা প্রবর্তনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।