১
নবী মুহাম্মদ সা. এর আগমনের প্রেক্ষাপট, উদ্দেশ্য, দা‘ওয়াতের পদ্ধতি ও কৌশল
লেখকঃ ড. মো: আবদুল কাদের • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৯
ক. ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও সুসম্পর্ক স্থাপন
ইসলামী দা‘ওয়াতের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত যোগাযোগ এর গুরুত্ব আপরিসীম। এর মাধ্যমে পরস্পরের মাঝে সৌহার্দ্যপূর্ণ ও সুসম্পর্ক সৃষ্টি হয় । ফলে পরষ্পারিক বিশস্ততা ও ভাতৃত্ববোধ বৃদ্ধি পায়। ব্যক্তিগতভাবে এ সম্পর্ক বৃদ্ধির অন্যতম রূপ হলো একত্রে আহার করা । রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবনে এ পদ্ধতির সমাবেশ ঘটেছিল। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রকাশ্যে দা‘ওয়াতের নির্দেশ পেয়ে আব্দুল মোত্তালিব পরিবারের লোকদের জন্য একটি ভোজের আয়োজন করলেন, এই ভোজে তাঁর চাচা হামযা রাদিয়াল্লাহু আনহু, আবুতালিব ও আব্বাসের ন্যায় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গও যোগদান করেন। আহারের পর তিনি সংক্ষিপ্ত ভাষণ দেন। তিনি বলেন ‘‘হে আব্দুল মুত্তালিবের বংশধর! আমি আপনাদের জন্য ইহকাল ও পরকালের এমন কল্যাণ নিয়ে আগমন করেছি, যা আরবের কোন ব্যক্তি তার স্বজাতির জন্য কোনদিন আনয়ন করেনি। আমি আপনাদেরকে সে কল্যাণের দিকে আহবান জানাচ্ছি। এ কাজে আমার সাথী হবার জন্য কে কে প্রস্তুত? সত্যের আহবানে আসুন। পথ প্রদর্শক কখনও তার সঙ্গীদের কাছে মিথ্যা বলে না। আল্লাহর শপথ ! যদি সকল লোক মিথ্যা কথা বলে, তবুও আমি আপনাদের নিকট মিথ্যা বলব না, যদি সকল লোক ধোঁকা দেয়, তবুও আমি ধোঁকা দিব না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই এবং আমি বিশেষভাবে আপনাদের ও সকল মানুষের নিকট আল্লাহর রাসূল হিসেবে মনোনীত। আল্লাহর শপথ! যেভাবে তোমরা নিদ্রা যাও সেভাবে মৃত্যুবরণ করবে, যেভাবে তোমরা নিদ্রা থেকে উঠ সেভাবে তোমরা কবর থেকে জাগ্রত হবে। তোমরা যে কাজই করো না কেন আল্লাহর কাছে তার অবশ্যই হিসেব দিতে হবে। ভাল কাজের জন্য ভাল পুরস্কার এবং মন্দ কাজের জন্য মন্দ পুরুস্কার পাবে। মনে রেখ, জান্নাত চিরস্থায়ী, জাহান্নামও চিরস্থায়ী। আল্লাহর শপথ! হে আব্দুল মোত্তালিবের বংশধর, আমি তোমাদের নিকট উত্তম জিনিস নিয়ে এসেছি, আমার জ্ঞাতসারে জাতির মধ্যে কোন যুবক তা নিয়ে আনে নি। আমি দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ নিয়ে এসেছি। এতদশ্রবণে উপস্থিত শ্রোতমন্ডলী সকলে একটু নরম সুরে কথা বলতে লাগল। আবু তালেব তাঁকে সাহায্য ও হেফাজত করার প্রতিশ্রুতি দিল। কিন্তু আব্দুল মোত্তালিব (পূর্ব পুরুষদের) ধর্ম ত্যাগের পক্ষপাতি নয়। আর আবু লাহাব বলল, চলো সে আমাদের ধবংস করে দিবে’’। [ড. আহমদ গালুশ, প্রাগুক্ত, পৃ. ৩১৫।]