১
নবী মুহাম্মদ সা. এর আগমনের প্রেক্ষাপট, উদ্দেশ্য, দা‘ওয়াতের পদ্ধতি ও কৌশল
লেখকঃ ড. মো: আবদুল কাদের • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২৬
ছয়. বিনয় ও নম্রভাবে দা‘ওয়াত উপস্থাপন
বিনয় ও নম্রতা এমন একটি গুণ, যার মাধ্যমে অন্যের নিকট খুব সহজেই গ্রহণযোগ্য হিসেবে দা‘ঈ নিজের স্থান করে নিতে পারে। ইসলামী দা‘ওয়াতের ক্ষেত্রে এর ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে। বিনয় একজন দা‘ঈর চারিত্রিক ভূষণ। বিনয়ের মাধ্যমে দা‘ঈ মানুষের নিকটবর্তী হয়ে যায়, ফলে দা‘ওয়াত উপস্থাপন সহজ হয় এবং সমাজের সকল শ্রেণীর লোক তা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ হয়। এ সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছেঃ
﴿ فَبِمَا رَحۡمَةٖ مِّنَ ٱللَّهِ لِنتَ لَهُمۡۖ وَلَوۡ كُنتَ فَظًّا غَلِيظَ ٱلۡقَلۡبِ لَٱنفَضُّواْ مِنۡ حَوۡلِكَۖ فَٱعۡفُ عَنۡهُمۡ وَٱسۡتَغۡفِرۡ لَهُمۡ وَشَاوِرۡهُمۡ فِي ٱلۡأَمۡرِۖ فَإِذَا عَزَمۡتَ فَتَوَكَّلۡ عَلَى ٱللَّهِۚ إِنَّ ٱللَّهَ يُحِبُّ ٱلۡمُتَوَكِّلِينَ ١٥٩ ﴾ [ ال عمران : ١٥٩ ]
‘‘আপনি আল্লাহর করুণায় সিক্ত হয়ে তাদের প্রতি দয়াপাবশ না হয়ে যদি কঠোর হৃদয়ের অধিকারী হতেন, তাহলে আপনার কাছ থেকে লোকজন দূরে সরে যেত। অতএব, আপনি তাদের ক্ষমা করুন, তাদের জন্য ক্ষমা প্রর্থনা করুন এবং যাবতীয় কাজে তাদের সাথে পরামর্শ করুন। সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর আল্লাহর উপর ভরসা করুন। নিশ্চয় আল্লাহ ভরসাকারীদের পছন্দ করেন।’’ [আল-কুরআন, সূরা আল-ইমরান : ১৫৯।]
বিনয়ের মুর্ত প্রতীক হচ্ছেন আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণ। বিনয় ও নম্রতা দ্বারাই তাঁরা মানুষকে আপন করে নিয়েছেন। বিনয়ী ব্যক্তিকে আল্লাহ যেমন ভালবাসেন মানুষও তাকে পছন্দ করে। সকল মু’মিনদের প্রতি বিনয়ী হবার ব্যাপারে তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর পক্ষ থেকে আদিষ্ট হয়েছিলেন। [আল্লাহ বলেন, ﴿ وَٱخۡفِضۡ جَنَاحَكَ لِمَنِ ٱتَّبَعَكَ مِنَ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ ٢١٥ ﴾ [ الشعراء : ٢١٥ ] ‘‘যারা তোমার অনুসরন করে সে সকল বিশ্বাসীদের প্রতি বিনয়ী হও।’’ আল-কুরআন, সূরা আশ্ শু‘আরা : ২১৫।] এ মর্মে হাদীসে এসেছে, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘আল্লাহ আমার নিকট ওহী পাঠিয়েছেন এ মর্মে যে, তোমরা পরস্পর পরস্পরের সাথে বিনয় নম্রতার আচরণ কর, যাতে কেউ কারো উপর গর্ব ও গৌরব না করে এবং পরস্পর পরস্পরের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি না করে। [হাদীসটি হচ্ছে, عن عياض بن حمار رضي الله تعالى عنه قال، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : «إن الله اوحي الي أن تواضعوا حتى لا يفخر أحد علي احد و لا يبغي أحد على أحد» ( مسلم )ইমাম মুসলিম, প্রাগুক্ত, ১ম খন্ড, কিতাবুল অযু, পৃ. ৩২২।] বিনয় ও নম্রতার প্রভাবে আরবের এক বেদুঈন মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি খুবই আকৃষ্ট হয়ে পড়ে। তার জঘন্য অপরাধের ক্ষেত্রেও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নম্র ব্যবহার লংঘিত হয়নি। এ মর্মে হাদীসে এসেছে,
‘‘এক বেদুঈন মসজিদে নববীতে এসে প্রস্রাব করতে শুরু করে। এ দেখে সহাবায়ে কেরাম তাকে ধমকাতে লাগলেন। কিন্তু মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে বারণ করে তাকে প্রস্রাব শেষ করার সুযোগ দিলেন। আর বালতি এনে পানি ঢেলে পরিস্কার করান। অতঃপর লোকটিকে ডেকে নরম ভাবে বলেন, ‘‘দেখ এটা মসজিদ, ইবাদতের স্থান। এখানে প্রস্রাব করা ঠিক না। তখন লোকটি তার নিজের ভুল বুঝতে পারল। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথায় এতই প্রভাবিত হয় যে, প্রায়ই সে জিকির">দু’আ করত, হে আল্লাহ! একমাত্র মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আমাকে দয়া কর, অন্য কাউকে নয়। [ইমাম বুখারী, প্রাগুক্ত, কিতাবুল ওযু, হাদীস নং ২১৩।]
﴿ فَبِمَا رَحۡمَةٖ مِّنَ ٱللَّهِ لِنتَ لَهُمۡۖ وَلَوۡ كُنتَ فَظًّا غَلِيظَ ٱلۡقَلۡبِ لَٱنفَضُّواْ مِنۡ حَوۡلِكَۖ فَٱعۡفُ عَنۡهُمۡ وَٱسۡتَغۡفِرۡ لَهُمۡ وَشَاوِرۡهُمۡ فِي ٱلۡأَمۡرِۖ فَإِذَا عَزَمۡتَ فَتَوَكَّلۡ عَلَى ٱللَّهِۚ إِنَّ ٱللَّهَ يُحِبُّ ٱلۡمُتَوَكِّلِينَ ١٥٩ ﴾ [ ال عمران : ١٥٩ ]
‘‘আপনি আল্লাহর করুণায় সিক্ত হয়ে তাদের প্রতি দয়াপাবশ না হয়ে যদি কঠোর হৃদয়ের অধিকারী হতেন, তাহলে আপনার কাছ থেকে লোকজন দূরে সরে যেত। অতএব, আপনি তাদের ক্ষমা করুন, তাদের জন্য ক্ষমা প্রর্থনা করুন এবং যাবতীয় কাজে তাদের সাথে পরামর্শ করুন। সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর আল্লাহর উপর ভরসা করুন। নিশ্চয় আল্লাহ ভরসাকারীদের পছন্দ করেন।’’ [আল-কুরআন, সূরা আল-ইমরান : ১৫৯।]
বিনয়ের মুর্ত প্রতীক হচ্ছেন আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণ। বিনয় ও নম্রতা দ্বারাই তাঁরা মানুষকে আপন করে নিয়েছেন। বিনয়ী ব্যক্তিকে আল্লাহ যেমন ভালবাসেন মানুষও তাকে পছন্দ করে। সকল মু’মিনদের প্রতি বিনয়ী হবার ব্যাপারে তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর পক্ষ থেকে আদিষ্ট হয়েছিলেন। [আল্লাহ বলেন, ﴿ وَٱخۡفِضۡ جَنَاحَكَ لِمَنِ ٱتَّبَعَكَ مِنَ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ ٢١٥ ﴾ [ الشعراء : ٢١٥ ] ‘‘যারা তোমার অনুসরন করে সে সকল বিশ্বাসীদের প্রতি বিনয়ী হও।’’ আল-কুরআন, সূরা আশ্ শু‘আরা : ২১৫।] এ মর্মে হাদীসে এসেছে, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘আল্লাহ আমার নিকট ওহী পাঠিয়েছেন এ মর্মে যে, তোমরা পরস্পর পরস্পরের সাথে বিনয় নম্রতার আচরণ কর, যাতে কেউ কারো উপর গর্ব ও গৌরব না করে এবং পরস্পর পরস্পরের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি না করে। [হাদীসটি হচ্ছে, عن عياض بن حمار رضي الله تعالى عنه قال، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : «إن الله اوحي الي أن تواضعوا حتى لا يفخر أحد علي احد و لا يبغي أحد على أحد» ( مسلم )ইমাম মুসলিম, প্রাগুক্ত, ১ম খন্ড, কিতাবুল অযু, পৃ. ৩২২।] বিনয় ও নম্রতার প্রভাবে আরবের এক বেদুঈন মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি খুবই আকৃষ্ট হয়ে পড়ে। তার জঘন্য অপরাধের ক্ষেত্রেও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নম্র ব্যবহার লংঘিত হয়নি। এ মর্মে হাদীসে এসেছে,
‘‘এক বেদুঈন মসজিদে নববীতে এসে প্রস্রাব করতে শুরু করে। এ দেখে সহাবায়ে কেরাম তাকে ধমকাতে লাগলেন। কিন্তু মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে বারণ করে তাকে প্রস্রাব শেষ করার সুযোগ দিলেন। আর বালতি এনে পানি ঢেলে পরিস্কার করান। অতঃপর লোকটিকে ডেকে নরম ভাবে বলেন, ‘‘দেখ এটা মসজিদ, ইবাদতের স্থান। এখানে প্রস্রাব করা ঠিক না। তখন লোকটি তার নিজের ভুল বুঝতে পারল। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথায় এতই প্রভাবিত হয় যে, প্রায়ই সে জিকির">দু’আ করত, হে আল্লাহ! একমাত্র মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আমাকে দয়া কর, অন্য কাউকে নয়। [ইমাম বুখারী, প্রাগুক্ত, কিতাবুল ওযু, হাদীস নং ২১৩।]