hadith book logo

নবী মুহাম্মদ সা. এর আগমনের প্রেক্ষাপট, উদ্দেশ্য, দা‘ওয়াতের পদ্ধতি ও কৌশল

লেখকঃ ড. মো: আবদুল কাদের • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২২

দুই. ভয়ভীতি প্রদর্শন

আল্লাহ তা‘আলা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে نذير (ভীতি প্রদর্শক) রূপে প্রেরণ করেছেন। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বজাতিকে আল্লাহ প্রদত্ত শাস্তির ভয় প্রদর্শন করতেন। ভয়ভীতি মানুষকে সঠিক পথে পরিচালিত হতে সাহায্য করে। যখন মানুষ ভয়হীন হয়ে এ পৃথিবীর বুকে চলাফেরা করে তখন তার দ্বারা যে কোন ধরনের অন্যায় হতে বিরত থাকতে পারে এবং সরল সঠিক পথের দিশা পায়। সেজন্যে আল্লাহ তা‘আলা যুগে যুগে নবী-রাসূলদের মাধ্যমে তাদের অনুভূতিকে জাগ্রত করেছেন। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেকে স্বয়ং একজন প্রকাশ্য ভীতিপ্রদর্শকরূপে স্বজাতির কাছে পেশ করেছেন। এ মর্মে তিনি ওহী লাভের প্রাক্কালে আল্লাহর পক্ষ হতে আদিষ্ট হয়েছিলেন। আল্লাহ বলেন - قُمْ فَانْذرْ ‘‘হে নবী ! আপনি উঠুন এবং সতর্ক করুন।’’ ফলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় জাতিকে জাহান্নামের কঠিন আযাব সম্পর্কে সতর্ক ও সচেতন করে দিয়েছেন। সহীহ মুসলিম শরীফে এ মর্মে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত আছে যে, যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর

﴿ وَأَنذِرۡ عَشِيرَتَكَ ٱلۡأَقۡرَبِينَ ٢١٤ ﴾ [ الشعراء : ٢١٤ ]

আয়াতখানি নাযিল হয়, তখন তিনি কুরাইশদের সকল গোত্রকে একত্রিত করে প্রত্যেক গোত্রের নাম ধরে বলতে লাগলেন, হে বনী কা‘ব বিন লুয়াই তোমরা তোমাদের নিজেদের জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা কর। এভাবে তিনি মুররাহ বিন কা‘ব, আবদে শামস, আবদে মানাফ, হাশেম, বনী আব্দুল মোত্তালিবের বংশধরকে সমভাবে আহবান জানান। এমনকি স্বীয় কন্যা ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু আনহু-কেও একই সম্বোধন করেন এবং পরকালে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর রক্তের সম্পর্কের হওয়া সত্বেও কোন কাজে আসবে না মর্মে তাঁকে সাবধান করে দিয়েছিলেন। [ইমাম মুসলিম, প্রাগুক্ত, ১ম খন্ড, কিতাবুল ঈমান, হাদীস নং- ৩০৩।] ফলে একথা সহজেই অনুমেয় যে, ভয়-ভীতি প্রদর্শন দা‘ওয়াতের অন্যতম একটি মাধ্যম। তাছাড়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর অবতীর্ণ এ মহাগ্রন্থ আল-কুরআন ঐ সকল ভয়-ভীতি সম্পন্ন লোকদের জন্যই উপদেশস্বরূপ। এ মর্মে আল্লাহ তা‘আলা বলেন

﴿ طه ١ مَآ أَنزَلۡنَا عَلَيۡكَ ٱلۡقُرۡءَانَ لِتَشۡقَىٰٓ ٢ إِلَّا تَذۡكِرَةٗ لِّمَن يَخۡشَىٰ ٣ ﴾ [ طه : ١، ٣ ]

‘‘হে আমার প্রিয় বন্ধূ ! আপনাকে ক্লেশ দেবার জন্য আমি আপনার প্রতি কুরআন অবতীর্ণ করিনি, কিন্তু এটা তাদেরই উপদেশের জন্য যারা ভয় করে।’’ [আল-কুরআন, সূরা ত্বা-হা : ১-৩।]

এ ছাড়াও এ মহাগ্রন্থ আল-কুরআনে মানব জাতির জন্য অসংখ্য সতর্কবানী উচ্চারিত হয়েছে যেন, মানবজাতি উপদেশ গ্রহণ করে এবং নিজেদের অনুভূতি জাগ্রত রাখে। [এ মর্মে মহান আল্লাহ বলেন, ﴿ وَكَذَٰلِكَ أَنزَلۡنَٰهُ قُرۡءَانًا عَرَبِيّٗا وَصَرَّفۡنَا فِيهِ مِنَ ٱلۡوَعِيدِ لَعَلَّهُمۡ يَتَّقُونَ أَوۡ يُحۡدِثُ لَهُمۡ ذِكۡرٗا ١١٣ ﴾ [ طه : ١١٣ ] আল-কুরআন, সূরা ত্বা-হা : ১১৩।]