১
নবী মুহাম্মদ সা. এর আগমনের প্রেক্ষাপট, উদ্দেশ্য, দা‘ওয়াতের পদ্ধতি ও কৌশল
লেখকঃ ড. মো: আবদুল কাদের • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৩
সমকালীন আরবের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক অবস্থা
ইসলাম আল্লাহ তা‘আলার একমাত্র মনোনীত দীন। এটি এক আল্লাহর একত্ববাদ ও সার্বিক বিষয়ে তাঁর সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি দিয়ে থাকে। যুগে যুগে প্রেরিত সকল নবী-রাসূল এ দীনের পতাকাবাহী ছিলেন। [সকল নবী-রাসূলের ধর্ম ছিল আল-ইসলাম। তাঁরা সবাই এ জীবনাদর্শের অনুসারী ছিলেন এবং স্ব স্বজাতিকে এ আদর্শের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। নূহ আলাইহিস সালাম ইবরাহিম আলাইহিস সালাম ইয়াকুব আলাইহিস সালাম, ইউসূফ আলাইহিস সালাম, সুলায়মান আলাইহিস সালামও মূসা আলাইহিস সালাম সহ সকলের বক্তব্যে এটি পরিদৃষ্ট হয়। আল-কুরআন, সূরা ইউনুস : ৭২; সূরা আল-বাকারা : ১২৮, ১৩২; ইউসূফ : ১০১ ; আন্ নমল : ৩০-৩১, ইউনুছ : ৮৪।] অতএব, আল্লাহ তা‘আলার নিকট একমাত্র ও গ্রহণযোগ্য জীবন ব্যবস্থা হলো ইসলাম। এ মর্মে আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ
﴿ إِنَّ ٱلدِّينَ عِندَ ٱللَّهِ ٱلۡإِسۡلَٰمُۗ وَمَا ٱخۡتَلَفَ ٱلَّذِينَ أُوتُواْ ٱلۡكِتَٰبَ إِلَّا مِنۢ بَعۡدِ مَا جَآءَهُمُ ٱلۡعِلۡمُ بَغۡيَۢا بَيۡنَهُمۡۗ وَمَن يَكۡفُرۡ بَِٔايَٰتِ ٱللَّهِ فَإِنَّ ٱللَّهَ سَرِيعُ ٱلۡحِسَابِ ١٩ ﴾ [ ال عمران : ١٩ ]
‘‘নিশ্চয় ইসলাম আল্লাহর নিকট একমাত্র মনোনীত জীবন ব্যবস্থা। অতএব, যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন দীন গ্রহণ করবে তা কখনো আল্লাহর নিকট গ্রহনযোগ্য হবে না। আর পারলৌকিক জীবনে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তভূর্ক্ত হবে।’’ [আল-কুরআন, সূরা আল-ইমরান : ১৯।] কিন্তু এ জীবনব্যবস্থা যুগে যুগে বিভিন্ন সময়ে বিকৃত, পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত হয়েছে। ফলে সর্বশেষ নবী মুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময়ে বিভিন্ন রকমের জাহেলী কুসংস্কারে এটি ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল। এসময়ে বিভিন্ন ধর্মের আবির্ভাব ঘটে। পূর্ববতী নবী-রাসূলগণের অনুসারীদের মধ্য হতে বিকৃত, পরিবর্ধিত ও পরিবর্তিত হয়ে ইয়াহূদী, খৃস্টান, অগ্নিপুজক প্রভৃতি জাতি ও গোষ্টীর সূচনা হয়। এগুলো বিশেষত: আরব, রোম, পারস্য, হিন্দুস্থান ও চীনদেশে বিস্তৃতি লাভ করেছিল। [ড. আব্দুর রহমান আনওয়ারী, মানহাজুদ দা‘ওয়াহ ওয়াদ দু‘আত ফিল কুরআনিল কারীম, (অপ্রকাশিত পি-এইচ.ডি. থিসিস, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া, ১৯৯৮), পৃ. ৮৭৬।] এ ধরনের অধঃপতনের অন্যতম কারণ ছিল ঈসা আলাইহিস সালাম-এর পৃথিবী থেকে উত্থিত হয়ে যাওয়ার পর থেকে ৫৭০ বছর পর্যন্ত পৃথিবীতে কোন নবী-রাসূলের আবির্ভাব না হওয়া। [তাহের সূরাটী, প্রাগুক্ত, ৫১৫।] ঐতিহাসিকগণ সে সময়কে আইয়্যামে জাহেলিয়্যা বলে আখ্যায়িত করেছেন। [ড. ওসমান গনী, মহানবী, (কলিকাতা: মল্লিক ব্রাদার্স, ১৯৯৬), পৃ. ১০৯ ; মুহাম্মদ আকরাম খাঁ, মোস্তফা চরিত, (কলিকাতা : রনি এন্টারপ্রাইজ, ১৯৮৭ খৃ.), পৃ. ১৪৯ ; ড. মুহাম্মদ হোসাইন হায়কল, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবন চরিত, অনু: মাওলানা আব্দুল আউয়াল, (ঢাকা : ইসলামিক ফাইন্ডেশন, ১৯৯৮ খৃ.), পৃ. ৮১ ; P.K Hitti, History of the Arabs, (London : Macmillan Education Ltd, 1986), p. 3 .] আইয়্যাম অর্থ যুগ। আর জাহেলিয়্যা অর্থ মূর্খতা, অজ্ঞতা ও সভ্যতা বিবর্জিত। ব্যাপক অর্থে কুসংস্কার, বর্বরতা, ধর্মহীনতা। [ড. ইবরাহীম মাদকুর, আল-মু’জামুল ওসীত, (দেওবন্দ : ইউপি, তা.বি) পৃ. ১৪৪ ; মনির আল-বা’লাবাক্কি, আল-মাওরিদ, (বৈরুত: দারুল ইলম্ লিল মালাঈন, ১৯৭৬ খৃ.), পৃ. ২৪৮ ; Thomas Patrick, Dictionary of Islam , (India: Cosmo Publication, 1986), opcit, p. 224.; আল-কুরআনে জাহেলিয়্যাহ শব্দটি চারবার ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন, ৩:১৫৪ ; ৫:৫০ ; ৩৩: ৩৩ ; ৪৮: ২৬।] মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আবির্ভাব কিংবা হিজরতের পূর্বে এক শতাব্দী পর্যন্ত আরব অধিবাসীদের সামাজিক এবং রাজনৈতিক কর্মকান্ড ওহী সমর্থিত ছিল না বিধায় ঐ সময়টাকে আইয়ামে জাহেলিয়্যাহ বলা হয়। [P.K Hitti, History of the Arabs, (London : Macmillan Education Ltd, 1986), p. 87 .]
মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আবির্ভাবের সময় তৎকালীন আরবের লোকেরা ধর্মীয় দিক থেকে সবচেয়ে খারাপ ও নিকৃষ্ট অবস্থানে পৌঁছে গিয়েছিল। এসময় তাদের ধর্ম বিশ্বাসে শির্ক, মুর্তিপূজা, গ্রহ-নক্ষত্র, দেব-দেবী, পাহাড়-পর্বত, পশু-পক্ষী, পাথর, ইত্যাদির উপাসনা বিরাজমান ছিল। এভাবে মানুষ এক আল্লাহর স্থলে বহু প্রভূর উপাসনার বেড়াজালে আবদ্ধ হয়ে পড়ে। সমকালীন আরবের ধর্মীয় অবস্থাকে নিম্নোক্ত কয়েকটি ভাগে বিশ্লেষণ করা যায়।
﴿ إِنَّ ٱلدِّينَ عِندَ ٱللَّهِ ٱلۡإِسۡلَٰمُۗ وَمَا ٱخۡتَلَفَ ٱلَّذِينَ أُوتُواْ ٱلۡكِتَٰبَ إِلَّا مِنۢ بَعۡدِ مَا جَآءَهُمُ ٱلۡعِلۡمُ بَغۡيَۢا بَيۡنَهُمۡۗ وَمَن يَكۡفُرۡ بَِٔايَٰتِ ٱللَّهِ فَإِنَّ ٱللَّهَ سَرِيعُ ٱلۡحِسَابِ ١٩ ﴾ [ ال عمران : ١٩ ]
‘‘নিশ্চয় ইসলাম আল্লাহর নিকট একমাত্র মনোনীত জীবন ব্যবস্থা। অতএব, যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন দীন গ্রহণ করবে তা কখনো আল্লাহর নিকট গ্রহনযোগ্য হবে না। আর পারলৌকিক জীবনে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তভূর্ক্ত হবে।’’ [আল-কুরআন, সূরা আল-ইমরান : ১৯।] কিন্তু এ জীবনব্যবস্থা যুগে যুগে বিভিন্ন সময়ে বিকৃত, পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত হয়েছে। ফলে সর্বশেষ নবী মুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময়ে বিভিন্ন রকমের জাহেলী কুসংস্কারে এটি ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল। এসময়ে বিভিন্ন ধর্মের আবির্ভাব ঘটে। পূর্ববতী নবী-রাসূলগণের অনুসারীদের মধ্য হতে বিকৃত, পরিবর্ধিত ও পরিবর্তিত হয়ে ইয়াহূদী, খৃস্টান, অগ্নিপুজক প্রভৃতি জাতি ও গোষ্টীর সূচনা হয়। এগুলো বিশেষত: আরব, রোম, পারস্য, হিন্দুস্থান ও চীনদেশে বিস্তৃতি লাভ করেছিল। [ড. আব্দুর রহমান আনওয়ারী, মানহাজুদ দা‘ওয়াহ ওয়াদ দু‘আত ফিল কুরআনিল কারীম, (অপ্রকাশিত পি-এইচ.ডি. থিসিস, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া, ১৯৯৮), পৃ. ৮৭৬।] এ ধরনের অধঃপতনের অন্যতম কারণ ছিল ঈসা আলাইহিস সালাম-এর পৃথিবী থেকে উত্থিত হয়ে যাওয়ার পর থেকে ৫৭০ বছর পর্যন্ত পৃথিবীতে কোন নবী-রাসূলের আবির্ভাব না হওয়া। [তাহের সূরাটী, প্রাগুক্ত, ৫১৫।] ঐতিহাসিকগণ সে সময়কে আইয়্যামে জাহেলিয়্যা বলে আখ্যায়িত করেছেন। [ড. ওসমান গনী, মহানবী, (কলিকাতা: মল্লিক ব্রাদার্স, ১৯৯৬), পৃ. ১০৯ ; মুহাম্মদ আকরাম খাঁ, মোস্তফা চরিত, (কলিকাতা : রনি এন্টারপ্রাইজ, ১৯৮৭ খৃ.), পৃ. ১৪৯ ; ড. মুহাম্মদ হোসাইন হায়কল, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবন চরিত, অনু: মাওলানা আব্দুল আউয়াল, (ঢাকা : ইসলামিক ফাইন্ডেশন, ১৯৯৮ খৃ.), পৃ. ৮১ ; P.K Hitti, History of the Arabs, (London : Macmillan Education Ltd, 1986), p. 3 .] আইয়্যাম অর্থ যুগ। আর জাহেলিয়্যা অর্থ মূর্খতা, অজ্ঞতা ও সভ্যতা বিবর্জিত। ব্যাপক অর্থে কুসংস্কার, বর্বরতা, ধর্মহীনতা। [ড. ইবরাহীম মাদকুর, আল-মু’জামুল ওসীত, (দেওবন্দ : ইউপি, তা.বি) পৃ. ১৪৪ ; মনির আল-বা’লাবাক্কি, আল-মাওরিদ, (বৈরুত: দারুল ইলম্ লিল মালাঈন, ১৯৭৬ খৃ.), পৃ. ২৪৮ ; Thomas Patrick, Dictionary of Islam , (India: Cosmo Publication, 1986), opcit, p. 224.; আল-কুরআনে জাহেলিয়্যাহ শব্দটি চারবার ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন, ৩:১৫৪ ; ৫:৫০ ; ৩৩: ৩৩ ; ৪৮: ২৬।] মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আবির্ভাব কিংবা হিজরতের পূর্বে এক শতাব্দী পর্যন্ত আরব অধিবাসীদের সামাজিক এবং রাজনৈতিক কর্মকান্ড ওহী সমর্থিত ছিল না বিধায় ঐ সময়টাকে আইয়ামে জাহেলিয়্যাহ বলা হয়। [P.K Hitti, History of the Arabs, (London : Macmillan Education Ltd, 1986), p. 87 .]
মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আবির্ভাবের সময় তৎকালীন আরবের লোকেরা ধর্মীয় দিক থেকে সবচেয়ে খারাপ ও নিকৃষ্ট অবস্থানে পৌঁছে গিয়েছিল। এসময় তাদের ধর্ম বিশ্বাসে শির্ক, মুর্তিপূজা, গ্রহ-নক্ষত্র, দেব-দেবী, পাহাড়-পর্বত, পশু-পক্ষী, পাথর, ইত্যাদির উপাসনা বিরাজমান ছিল। এভাবে মানুষ এক আল্লাহর স্থলে বহু প্রভূর উপাসনার বেড়াজালে আবদ্ধ হয়ে পড়ে। সমকালীন আরবের ধর্মীয় অবস্থাকে নিম্নোক্ত কয়েকটি ভাগে বিশ্লেষণ করা যায়।