hadith book logo

নবী মুহাম্মদ সা. এর আগমনের প্রেক্ষাপট, উদ্দেশ্য, দা‘ওয়াতের পদ্ধতি ও কৌশল

লেখকঃ ড. মো: আবদুল কাদের • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৮

আট. তাকওয়া অবলম্বনের প্রতি আহবান

তাকওয়া হল উত্তম চারিত্রিক ভূষণ, যা একজন দা‘ঈর জীবনে প্রতিফলিত হওয়া অত্যাবশ্যক। তাকওয়া মানুষকে যাবতীয় অন্যায়-অবিচার, অশ্লীলতা-বেহায়াপনা, প্রভৃতি হতে রক্ষা করে সৎকর্ম সম্পাদনে সাহায্য করে। এ গুণে গুনান্বিত দা‘ঈর প্রভাব মাদ‘উদের উপর খুব সহজেই পড়ে। যুগে যুগে পৃথিবীতে প্রেরীত সকল নবী-রাসূল মানুষকে এ গুণের অধিকারী হওয়ার আহবান জানিয়েছেন। তাকওয়া ঢাল স্বরূপ, যা মানুষকে পাপকাজ থেকে ফিরিয়ে রাখতে সক্ষম হয়। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর নাযিলকৃত সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ মহাগ্রন্থ আল-কুরআন মুত্তাকীদের জন্যই হেদায়েতবর্তিকা। এ মহাগ্রন্থ থেকে তারাই উপদেশ গ্রহণ করে। অতএব, কুরআন অবতীর্ণের অন্যতম উদ্দেশ্য হল মানুষকে তাকওয়ার বিষয় সচেতন করে দেয়া। পবিত্র কুরআনে তাই ধ্বনিত হচ্ছে, ‘‘হে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আপনাকে কষ্ট দেয়ার জন্য আমি কুরআন অবতীর্ণ করিনি। এটা তাদের জন্য উপদেশ স্বরূপ যারা তাকওয়া অবলম্বন করে।’’ [আল-কুরআন, সূরা ত্বা-হা : ১-২।]

মানুষের পরিপূর্ণ সফলতা হচ্ছে পরকালীন সফলতা। আর এটা একমাত্র তাকওয়ার মাধ্যমেই অর্জিত হয়। সূরা ত্বা-হাতে এ বিষয়ে আল্লাহ বলেন- ‘‘ শুভ পরিণাম মুত্তাকীদের জন্য।’’ [আল-কুরআন, সূরা ত্বা-হা : ১৩২।]

এ তাকওয়ার গুণে গুনান্বিত করার লক্ষ্যেই আল্লাহ তা‘আলা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর মানব জাতির জন্যে গাইডবুক হিসেবে মহাগ্রন্থ আল-কুরআন নাযিল করেছেন। এটি মানুষকে তাকওয়ার পথ নির্দেশ করে চিরস্থায়ী জান্নাতে দীক্ষিত হওয়ার ব্যপারে উৎসাহ যোগায় এবং জাহান্নামের কঠিন আযাব হতে মুক্তি লাভের উপায় বাতলে দেয়। ফলে, এ মহামূল্যবান গ্রন্থে উৎসাহ-উদ্দীপনা প্রদানের পাশা-পাশি ভীতিসঞ্চারমূলক অসংখ্য বিধান ও বিষয় সন্নিবেশিত রয়েছে। এ মর্মে পবিত্র কুরআনে ঘোষিত হয়েছেঃ

﴿وَكَذَٰلِكَ أَنزَلۡنَٰهُ قُرۡءَانًا عَرَبِيّٗا وَصَرَّفۡنَا فِيهِ مِنَ ٱلۡوَعِيدِ لَعَلَّهُمۡ يَتَّقُونَ أَوۡ يُحۡدِثُ لَهُمۡ ذِكۡرٗا ١١٣ ﴾ [ طه : ١١٣ ]

‘‘অনুরূপভাবে আমি আরবী ভাষায় কুরআন নাযিল করেছি এবং এতে নানাভাবে সতর্কবাণী ব্যক্ত করেছি, যাতে তারা আল্লাহভীরু হয় অথবা তাদের অন্তরে চিন্তার খোরাক যোগায়।’’ [আল কুরআন, সূরা ত্বা-হা : ১১৩।]