১
সৎব্যক্তিদের আসরসমূহ থেকে চার আসর
লেখকঃ শাইখ আহমদ আর-রুমী আল-হানাফী রহ. • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১২
বিদ‘আতের ব্যাপারে সাহাবীগণের অবস্থান
আর বিদ‘আতের এই অর্থকেই আবদুল্লাহ ইবন মাস‘উদ রা. বুঝাতে চেয়েছেন, যখন তাঁকে এমন এক দলের ব্যাপারে সংবাদ দেওয়া হলো, যারা মাগরিবের সালাতের পর বসে তাদের মধ্যকার এক ব্যক্তি বলতে থাকে: তোমরা এতবার ‘আল্লাহু আকবার’ পড়, তোমরা এতবার ‘সুবহানাল্লাহ’ পড় এবং তোমরা এতবার ‘আলহামদুলিল্লাহ’ পড়। অতঃপর শ্রোতারা তা করতে থাকে। একথা শুনে আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু তাদের নিকট উপস্থিত হয়ে বললেন: “আমি আবদুল্লাহ ইবন মাস‘উদ, ঐ আল্লাহর কসম, যিনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই, অবশ্যই তোমরা অন্ধকারপূর্ণ বিদ‘আত নিয়ে এসেছ অথবা তোমরা জ্ঞানের দিক থেকে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদেরকে ছাড়িয়ে গেছ।” অর্থাৎ তোমরা যা নিয়ে এসেছ, হয় তা অন্ধকারাচ্ছন্ন বিদ‘আত, নতুবা তোমরা সাহাবীগণের কর্মকাণ্ডের সাথে সেটা যুক্ত করছ যা তাদের হাতছাড়া হয়ে গেছে; তাদের মনোযোগের অভাবে অথবা তাঁদের অলসতার কারণে, ফলে ইবাদতের নিত্য-নতুন পদ্ধতি জানার মাধ্যমে তোমরা সাহাবীগণকে পরাজিত করছ; আর এ ক্ষেত্রে যেহেতু দ্বিতীয়টি অগ্রহণযোগ্য, যথাযথ নয়, সেহেতু প্রথমটিই সাব্যস্ত হলো, অর্থাৎ তোমাদের এ কর্মকাণ্ড অন্ধকারপূর্ণ বিদ‘আত হওয়া।
এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি। এর উপর ভিত্তি করে এমন প্রত্যেক ব্যক্তিকেই তা বলা যাবে, যে নির্ভেজাল শারীরিক ইবাদতের মধ্যে এমন ধরন বা বৈশিষ্ট্য নিয়ে আসবে, যা সাহাবীদের যুগে ছিল না। কারণ, সে যদি বিদ‘আতী কাজকে ইবাদত হিসেবে বর্ণনা করে তাকে ‘উত্তম বিদ‘আত’ (বিদআতে হাসানাহ) [বিদ‘আত শব্দটিকে " حسنة " (উত্তম) শব্দ দ্বারা বিশেষিত করাটা বিদ‘আতের বিশুদ্ধ প্রকারভেদ নয়। কেননা ইসলামে ‘উত্তম বিদ‘আত’ ( بدعة حسنة ) বলতে কিছু পাওয়া যায় না, যেহেতু সর্বজনবিদিত কথা হল: ‘প্রত্যেক বিদ‘আতই ভ্রষ্টতা’। তবে এখানে প্রনিধানযোগ্য যে, ওমর রাদিয়াল্লাহ ‘আনহুর কথা: " نعمت البدعة هذه " (এই বিদ‘আতটি কতইনা উত্তম) –এর দ্বারা উদ্দেশ্য হল তার শব্দগত অর্থ, যা " الجديد " (নতুন) শব্দের সমার্থবোধক শব্দ।আর ইমাম মালেক র. বলেন: যে ব্যক্তি ধারণা পোষণ করে যে, সেখানে ‘উত্তম বিদ‘আত’ ( بدعة حسنة ) বলতে কিছু একটা আছে, তাহলে সে বিশ্বাস করে যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রিসালাতের খিয়ানত করেছেন। অথচ আল্লাহ তা‘আলা বলেন: ﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱلرَّسُولُ بَلِّغۡ مَآ أُنزِلَ إِلَيۡكَ مِن رَّبِّكَۖ وَإِن لَّمۡ تَفۡعَلۡ فَمَا بَلَّغۡتَ رِسَالَتَهُۥۚ ﴾ [ المائدة : ٦٧ ] (হে রাসূল! আপনার রবের কাছ থেকে আপনার প্রতি যা নাযিল হয়েছে, তা প্রচার করুন; যদি না করেন, তবে তো আপনি তাঁর বার্তা প্রচার করলেন না) [সূরা আল-মায়িদা, আয়াত: ৬৭]; সুতরাং তুমি চিন্তা-ভাবনা করে দেখ, আল্লাহ তোমাকে হিদায়াত দান করবেন।] বলে গ্রহণ করে, তাহলে সে ইবাদতসমূহের মধ্যে অপছন্দনীয় ও নিন্দনীয় বিদ‘আত বলতে কিছু পাবে না; অথচ ইবাদতের মধ্যে অপছন্দনীয় বিদ‘আতের অস্তিত্ব অবশ্যই রয়েছে, যেমনটি আলেমগণ স্পষ্টভাবে তাদের গ্রন্থসমূহের মধ্যে বর্ণনা করেছেন।
এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি। এর উপর ভিত্তি করে এমন প্রত্যেক ব্যক্তিকেই তা বলা যাবে, যে নির্ভেজাল শারীরিক ইবাদতের মধ্যে এমন ধরন বা বৈশিষ্ট্য নিয়ে আসবে, যা সাহাবীদের যুগে ছিল না। কারণ, সে যদি বিদ‘আতী কাজকে ইবাদত হিসেবে বর্ণনা করে তাকে ‘উত্তম বিদ‘আত’ (বিদআতে হাসানাহ) [বিদ‘আত শব্দটিকে " حسنة " (উত্তম) শব্দ দ্বারা বিশেষিত করাটা বিদ‘আতের বিশুদ্ধ প্রকারভেদ নয়। কেননা ইসলামে ‘উত্তম বিদ‘আত’ ( بدعة حسنة ) বলতে কিছু পাওয়া যায় না, যেহেতু সর্বজনবিদিত কথা হল: ‘প্রত্যেক বিদ‘আতই ভ্রষ্টতা’। তবে এখানে প্রনিধানযোগ্য যে, ওমর রাদিয়াল্লাহ ‘আনহুর কথা: " نعمت البدعة هذه " (এই বিদ‘আতটি কতইনা উত্তম) –এর দ্বারা উদ্দেশ্য হল তার শব্দগত অর্থ, যা " الجديد " (নতুন) শব্দের সমার্থবোধক শব্দ।আর ইমাম মালেক র. বলেন: যে ব্যক্তি ধারণা পোষণ করে যে, সেখানে ‘উত্তম বিদ‘আত’ ( بدعة حسنة ) বলতে কিছু একটা আছে, তাহলে সে বিশ্বাস করে যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রিসালাতের খিয়ানত করেছেন। অথচ আল্লাহ তা‘আলা বলেন: ﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱلرَّسُولُ بَلِّغۡ مَآ أُنزِلَ إِلَيۡكَ مِن رَّبِّكَۖ وَإِن لَّمۡ تَفۡعَلۡ فَمَا بَلَّغۡتَ رِسَالَتَهُۥۚ ﴾ [ المائدة : ٦٧ ] (হে রাসূল! আপনার রবের কাছ থেকে আপনার প্রতি যা নাযিল হয়েছে, তা প্রচার করুন; যদি না করেন, তবে তো আপনি তাঁর বার্তা প্রচার করলেন না) [সূরা আল-মায়িদা, আয়াত: ৬৭]; সুতরাং তুমি চিন্তা-ভাবনা করে দেখ, আল্লাহ তোমাকে হিদায়াত দান করবেন।] বলে গ্রহণ করে, তাহলে সে ইবাদতসমূহের মধ্যে অপছন্দনীয় ও নিন্দনীয় বিদ‘আত বলতে কিছু পাবে না; অথচ ইবাদতের মধ্যে অপছন্দনীয় বিদ‘আতের অস্তিত্ব অবশ্যই রয়েছে, যেমনটি আলেমগণ স্পষ্টভাবে তাদের গ্রন্থসমূহের মধ্যে বর্ণনা করেছেন।