১
সৎব্যক্তিদের আসরসমূহ থেকে চার আসর
লেখকঃ শাইখ আহমদ আর-রুমী আল-হানাফী রহ. • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২
ভূমিকা
নিশ্চয় সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই, তাঁর কাছেই ক্ষমা প্রার্থনা করি; আর আমাদের নফসের খারাপি এবং আমাদের সকল প্রকার মন্দ আমল থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই; আর যাকে তিনি পথহারা করেন, তাকে পথ প্রদর্শনকারীও কেউ নেই। আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরীক নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বান্দা ও রাসূল।
﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱتَّقُواْ ٱللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِۦ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنتُم مُّسۡلِمُونَ ١٠٢ ﴾ [ ال عمران : ١٠٢ ]
“হে মুমিনগণ! তোমরা যথার্থভাবে আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর এবং তোমরা মুসলিম (পরিপূর্ণ আত্মসমর্পণকারী) না হয়ে কোনো অবস্থাতেই মারা যেও না।” [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১০২]
﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ ٱتَّقُواْ رَبَّكُمُ ٱلَّذِي خَلَقَكُم مِّن نَّفۡسٖ وَٰحِدَةٖ وَخَلَقَ مِنۡهَا زَوۡجَهَا وَبَثَّ مِنۡهُمَا رِجَالًا كَثِيرٗا وَنِسَآءٗۚ وَٱتَّقُواْ ٱللَّهَ ٱلَّذِي تَسَآءَلُونَ بِهِۦ وَٱلۡأَرۡحَامَۚ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ عَلَيۡكُمۡ رَقِيبٗا ١ ﴾ [ النساء : ١ ]
“হে মানুষ! তোমরা তোমাদের রবের তাকওয়া অবলম্বন কর, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন ও তার থেকে তার স্ত্রী সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের দুজন থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দেন; আর তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে নিজ নিজ হক দাবী কর এবং তাকওয়া অবলম্বন কর রক্ত-সম্পর্কিত আত্মীয়ের ব্যাপারেও। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের উপর সম্যক পর্যবেক্ষক।” [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১]
﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱتَّقُواْ ٱللَّهَ وَقُولُواْ قَوۡلٗا سَدِيدٗا ٧٠ يُصۡلِحۡ لَكُمۡ أَعۡمَٰلَكُمۡ وَيَغۡفِرۡ لَكُمۡ ذُنُوبَكُمۡۗ وَمَن يُطِعِ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ فَقَدۡ فَازَ فَوۡزًا عَظِيمًا ٧١ ﴾ [ الاحزاب : ٧٠، ٧١ ]
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর এবং সঠিক কথা বল; তাহলে তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের কাজ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য অর্জন করবে।” [সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৭০, ৭১]
অতঃপর
সর্বাধিক সত্য কথা হল আল্লাহর কিতাব; আর সব হিদায়াতের চেয়ে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হিদায়াতই উৎকৃষ্ট; আর দীনের মাঝে বিদ‘আত তথা নতুন কিছু উদ্ভাবন করা সর্বাপেক্ষা মন্দকাজ; আর প্রত্যেক বিদ‘আতই পথভ্রষ্টতা; আর প্রত্যেক পথভ্রষ্টতাই জাহান্নামে যাবে। তারপর:
আহমদ ইবন মুহাম্মদ আর-রুমী আল-হানাফী র. ইমাম বাগবী র. -এর ‘আল-মাসাবীহ’ ( المصابيح ) গ্রন্থ থেকে একশত হাদিসের ব্যাখ্যা করেছেন; তিনি তার গ্রন্থটির নাম দিয়েছেন: ‘মাজালিসুল আবরার ওয়া মাসালিকুল আখইয়ার’ ( مجالس الأبرار و مسالك الأخيار ) [ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিদের আসর ও ভাল মানুষগণের কর্মপদ্ধতি]। আর এই গ্রন্থটি শাইখ সুবহান বখশ আল-হিন্দী’র উর্দু অনুবাদসহ প্রাচীন পাথরী মুদ্রণে মুদ্রিত; তিনি তার অনুবাদের নাম দিয়েছেন ‘খাযীনাতুল আসরার’ ( خزينة الأسرار ) [গুপ্ত ভাণ্ডার]।
তাছাড়া শাইখ মুহাম্মদ ইবরাহীম আর-রানদীরী আস-সূরাতী আল-হিন্দীও এই গ্রন্থটি উর্দু ভাষায় অনুবাদ করেছেন এবং তিনি তার অনুবাদের নাম দিয়েছেন ‘নাফায়েসুল আযহার’ ( نفائس الأزهار ) [মূল্যবান পুষ্পরাজি]।
আর শাহ আবদুল আযীয দেহলবী ও মুফতি কেফায়াত উল্লাহ প্রমূখের মত হানাফী আলেমগণ এই গ্রন্থটির প্রতি মনোযোগ দিয়েছেন এবং তারা গ্রন্থটির ও তার লেখকের প্রশংসা করেছেন। [দেখুন: মুকাদ্দামাতু নাফায়েসুল আযহার ( مقدمة نفائس الأزهار ), পৃ. ৩৬]
হানাফী আলেমদের পক্ষ থেকে এই গ্রন্থটির প্রশংসা করার কারণে আমি তার থেকে চারটি আসর বা অধিবেশনকে নির্বাচন করেছি; আমি মনে করি তাতে মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য অনেক উপকারিতা ও কল্যাণ রয়েছে এবং আমি আরও মনে করি তাতে যা বর্ণিত আছে, তা জেনে নেওয়া তাদের জন্য খুবই প্রয়োজন; বিশেষ করে ইসলামী বিশ্বের দেশসমূহের অনেক অঞ্চলে কবর কেন্দ্রিক কুসংস্কার ছড়িয়ে পড়ার পর এই বিষয়ে জানার প্রয়োজন আরও বেড়ে গেছে।
[গ্রন্থের আরবী সম্পাদনায় যা যা করা হয়েছে]
১. মূল পাণ্ডলিপির কোনো হদিস আমার জানা না থাকার কারণে আমি পাথুরে মুদ্রণ বা সংস্করণকে আসল কপি হিসেবে গ্রহণ করেছি।
২. লেখকের সংক্ষিপ্ত জীবনী যোগ করেছি।
৩. আল-কুরআনের আয়াতকে যথাস্থানের দিকে সম্পৃক্তকরণ।
৪. হাদিসে নববীর (বিশুদ্ধতার) মান বর্ণনাসহ যথাসম্ভব তাখরীজ প্রদান।
৫. বিষয়সমূহের সূচিপত্র তৈরি এবং শেষে হাদিসে নববীর সূচি আরবি বর্ণমালার ক্রমানুসারে বিন্যস্তকরণ।
৬. উপ-শিরোনাম প্রবর্তন, যা গ্রন্থের মধ্যকার বিষয়কে ব্যাখ্যা করে।
আর আল্লাহর নিকট তা কবুল করার জন্য প্রার্থনা করি; তিনি হলেন এই কাজের ইচ্ছা ও উদ্যোগ গ্রহণের নেপথ্যশক্তি; আর তিনি আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং উত্তম অভিভাবক।
লেখেছেন:
মুহাম্মদ ইবন আবদির রহমান আল-খুমাইস
﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱتَّقُواْ ٱللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِۦ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنتُم مُّسۡلِمُونَ ١٠٢ ﴾ [ ال عمران : ١٠٢ ]
“হে মুমিনগণ! তোমরা যথার্থভাবে আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর এবং তোমরা মুসলিম (পরিপূর্ণ আত্মসমর্পণকারী) না হয়ে কোনো অবস্থাতেই মারা যেও না।” [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১০২]
﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ ٱتَّقُواْ رَبَّكُمُ ٱلَّذِي خَلَقَكُم مِّن نَّفۡسٖ وَٰحِدَةٖ وَخَلَقَ مِنۡهَا زَوۡجَهَا وَبَثَّ مِنۡهُمَا رِجَالًا كَثِيرٗا وَنِسَآءٗۚ وَٱتَّقُواْ ٱللَّهَ ٱلَّذِي تَسَآءَلُونَ بِهِۦ وَٱلۡأَرۡحَامَۚ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ عَلَيۡكُمۡ رَقِيبٗا ١ ﴾ [ النساء : ١ ]
“হে মানুষ! তোমরা তোমাদের রবের তাকওয়া অবলম্বন কর, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন ও তার থেকে তার স্ত্রী সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের দুজন থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দেন; আর তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে নিজ নিজ হক দাবী কর এবং তাকওয়া অবলম্বন কর রক্ত-সম্পর্কিত আত্মীয়ের ব্যাপারেও। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের উপর সম্যক পর্যবেক্ষক।” [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১]
﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱتَّقُواْ ٱللَّهَ وَقُولُواْ قَوۡلٗا سَدِيدٗا ٧٠ يُصۡلِحۡ لَكُمۡ أَعۡمَٰلَكُمۡ وَيَغۡفِرۡ لَكُمۡ ذُنُوبَكُمۡۗ وَمَن يُطِعِ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ فَقَدۡ فَازَ فَوۡزًا عَظِيمًا ٧١ ﴾ [ الاحزاب : ٧٠، ٧١ ]
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর এবং সঠিক কথা বল; তাহলে তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের কাজ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য অর্জন করবে।” [সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৭০, ৭১]
অতঃপর
সর্বাধিক সত্য কথা হল আল্লাহর কিতাব; আর সব হিদায়াতের চেয়ে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হিদায়াতই উৎকৃষ্ট; আর দীনের মাঝে বিদ‘আত তথা নতুন কিছু উদ্ভাবন করা সর্বাপেক্ষা মন্দকাজ; আর প্রত্যেক বিদ‘আতই পথভ্রষ্টতা; আর প্রত্যেক পথভ্রষ্টতাই জাহান্নামে যাবে। তারপর:
আহমদ ইবন মুহাম্মদ আর-রুমী আল-হানাফী র. ইমাম বাগবী র. -এর ‘আল-মাসাবীহ’ ( المصابيح ) গ্রন্থ থেকে একশত হাদিসের ব্যাখ্যা করেছেন; তিনি তার গ্রন্থটির নাম দিয়েছেন: ‘মাজালিসুল আবরার ওয়া মাসালিকুল আখইয়ার’ ( مجالس الأبرار و مسالك الأخيار ) [ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিদের আসর ও ভাল মানুষগণের কর্মপদ্ধতি]। আর এই গ্রন্থটি শাইখ সুবহান বখশ আল-হিন্দী’র উর্দু অনুবাদসহ প্রাচীন পাথরী মুদ্রণে মুদ্রিত; তিনি তার অনুবাদের নাম দিয়েছেন ‘খাযীনাতুল আসরার’ ( خزينة الأسرار ) [গুপ্ত ভাণ্ডার]।
তাছাড়া শাইখ মুহাম্মদ ইবরাহীম আর-রানদীরী আস-সূরাতী আল-হিন্দীও এই গ্রন্থটি উর্দু ভাষায় অনুবাদ করেছেন এবং তিনি তার অনুবাদের নাম দিয়েছেন ‘নাফায়েসুল আযহার’ ( نفائس الأزهار ) [মূল্যবান পুষ্পরাজি]।
আর শাহ আবদুল আযীয দেহলবী ও মুফতি কেফায়াত উল্লাহ প্রমূখের মত হানাফী আলেমগণ এই গ্রন্থটির প্রতি মনোযোগ দিয়েছেন এবং তারা গ্রন্থটির ও তার লেখকের প্রশংসা করেছেন। [দেখুন: মুকাদ্দামাতু নাফায়েসুল আযহার ( مقدمة نفائس الأزهار ), পৃ. ৩৬]
হানাফী আলেমদের পক্ষ থেকে এই গ্রন্থটির প্রশংসা করার কারণে আমি তার থেকে চারটি আসর বা অধিবেশনকে নির্বাচন করেছি; আমি মনে করি তাতে মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য অনেক উপকারিতা ও কল্যাণ রয়েছে এবং আমি আরও মনে করি তাতে যা বর্ণিত আছে, তা জেনে নেওয়া তাদের জন্য খুবই প্রয়োজন; বিশেষ করে ইসলামী বিশ্বের দেশসমূহের অনেক অঞ্চলে কবর কেন্দ্রিক কুসংস্কার ছড়িয়ে পড়ার পর এই বিষয়ে জানার প্রয়োজন আরও বেড়ে গেছে।
[গ্রন্থের আরবী সম্পাদনায় যা যা করা হয়েছে]
১. মূল পাণ্ডলিপির কোনো হদিস আমার জানা না থাকার কারণে আমি পাথুরে মুদ্রণ বা সংস্করণকে আসল কপি হিসেবে গ্রহণ করেছি।
২. লেখকের সংক্ষিপ্ত জীবনী যোগ করেছি।
৩. আল-কুরআনের আয়াতকে যথাস্থানের দিকে সম্পৃক্তকরণ।
৪. হাদিসে নববীর (বিশুদ্ধতার) মান বর্ণনাসহ যথাসম্ভব তাখরীজ প্রদান।
৫. বিষয়সমূহের সূচিপত্র তৈরি এবং শেষে হাদিসে নববীর সূচি আরবি বর্ণমালার ক্রমানুসারে বিন্যস্তকরণ।
৬. উপ-শিরোনাম প্রবর্তন, যা গ্রন্থের মধ্যকার বিষয়কে ব্যাখ্যা করে।
আর আল্লাহর নিকট তা কবুল করার জন্য প্রার্থনা করি; তিনি হলেন এই কাজের ইচ্ছা ও উদ্যোগ গ্রহণের নেপথ্যশক্তি; আর তিনি আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং উত্তম অভিভাবক।
লেখেছেন:
মুহাম্মদ ইবন আবদির রহমান আল-খুমাইস