hadith book logo

সৎব্যক্তিদের আসরসমূহ থেকে চার আসর

লেখকঃ শাইখ আহমদ আর-রুমী আল-হানাফী রহ. • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২২

প্রবৃত্তির অনুসরণ করা থেকে সতর্ক করা

কিন্তু হায়! আমরা যখন সেসব বিদ‘আতের কাজ করি তখন যদি অনুধাবন করতে পারতাম যে, এটি বিদ‘আত; কেননা, যদি আমাদের মধ্যে এ অনুভূতি আসত, তবে তাওবা ও ক্ষমা প্রার্থনা করাটা আশা করা যেত, কিন্তু আমরা তাকে গ্রহণ করেছি আনুগত্য ও ইবাদতরূপে এবং তাকে আমরা আমাদের দীনে পরিণত করেছি। এক্ষেত্রে আমরা আমাদের সেসব পূর্বসূরীদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে চলেছি ও আদর্শ বানিয়েছি, যারা হয়তো ভুলে গেছে অথবা ভুল করেছে, অথবা অসতর্কতাবশত তাদের থেকে তা সংঘটিত হয়েছে। অতঃপর যখন কোনো ব্যক্তি এসে আমরা যেসব বিদ‘আতপূর্ণ কর্মকাণ্ডসমূহে জড়িয়ে গেছি, সে ব্যাপারে আমাদের উপর প্রতিবাদ করে; তখন সে ব্যক্তির জন্য যদি আমাদের অন্তরে শ্রদ্ধাবোধ থাকে, তাহলে আমরা তাকে বলি: এটা জায়েয, অমুক ব্যক্তি তার বৈধতার ব্যাপারে মত দিয়েছেন এবং তাকে আমরা আমাদের পূর্ববর্তীদের মধ্য থেকে এমন কিছু সংখ্যক ব্যক্তির কথা বলে দেই, যারা (সঠিক বিষয়টি) ভুলে গেছে অথবা ভুল করেছে, অথবা অসতর্ক হয়েছে। পক্ষান্তরে যদি প্রতিবাদকারীর জন্য আমাদের অন্তরে কোনো শ্রদ্ধাবোধ না থাকে, তাহলে সে আমাদের পক্ষ এমন কথা শুনে, যা সে ধারণা করেনি এবং তার হৃদয়ে কল্পনাও করেনি। আর এ সবকিছুই মূলত আমাদের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত জাহিলিয়াত তথা মূর্খতার কারণে সংঘটিত হয। কেননা আমরা নিজেরা যে মূর্খতার উপর প্রতিষ্ঠিত আছি, তা যদি উপলব্ধি করতে পারতাম, তাহলে যিনি আমাদেরকে সঠিক পথ প্রদর্শন করেছেন, তার জবাব আমরা গ্রহণ করে নিতাম এবং যে ব্যক্তি (সঠিক বিষয়টি) ভুলে গেছে অথবা ভুল করেছে, অথবা অসতর্কতাবশত করেছে, তাকে আমরা আমাদের দীনের ব্যাপারে দলিল হিসেবে পেশ করতাম না; কারণ, মানুষের জন্য তার দীনের ব্যাপারে নিষ্পাপ ব্যক্তি ছাড়া অন্য কাউকে অনুসরণ করা বৈধ নয়, আর নিষ্পাপ ব্যক্তি হলেন শরী‘য়তপ্রবর্তক (মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), অথবা সে অনুসরণ করবে শরী‘য়তপ্রবর্তক যাকে উত্তম বলে স্বীকৃতি দিয়েছেন, তাকে। আর তাঁরা হলেন তিন যুগের বিশিষ্ট্য ব্যক্তিবর্গ, শরী‘য়তপ্রণেতা তার বিজ্ঞ সিদ্ধান্তে যাঁদের প্রত্যেক যুগকে বিশেষ মর্যাদায় বিশেষিত করেছেন।