hadith book logo

সৎব্যক্তিদের আসরসমূহ থেকে চার আসর

লেখকঃ শাইখ আহমদ আর-রুমী আল-হানাফী রহ. • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩৩

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবরের নিকট সহাবীগণের সালাম ও দো‘আর ধরন

তাঁদের কেউ যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর সালাম পেশ করতেন এবং দো‘আ করার ইচ্ছা পোষণ করতেন, তখন তিনি কিবলামুখী হতেন এবং তাঁর পিঠকে কবরের দেওয়ালের দিকে করতেন, অতঃপর তিনি দো‘আ করতেন; আর এটা এমন পদ্ধতি, যার ব্যাপারে আলেমদের মধ্যে কোন বিতর্ক নেই।

তাদের মাঝে মতবিরোধ তো কেবল রাসূলের উপর সালাম পেশ করার সময়ের অবস্থা নিয়ে। ইমাম আবূ হানিফা র. বলেন: সালাম দেওয়ার সময়ও কিবলামুখী হবে, কবরমুখী হবে না; আর অন্যরা বলেন: দো‘আর সময় কবরমুখী হবে না, বরং তারা বলেন: সে দো‘আর সময় কিবলামুখী হবে, কবরমুখী হবে না; যাতে করে কবরের নিকট কোনো দো‘আ না হয়; কারণ, দো‘আ হচ্ছে ইবাদত, যা মারফু‘ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

« إن الدعاء هو العبادة » . ( أخرجه أحمد وأبو داود والترمذي و ابن ماجه ) .

“নিশ্চয় দো‘আ হচ্ছে ইবাদত।” [আহমদ (২/২৬৭, ২৭, ২৭৬, ২৭৬, ২৭৭); আবূ দাউদ (২/১৬১), সালাত অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: জিকির">দোয়া বা প্রার্থনা ( باب الدعاء ), হাদিস নং- ১৪৭৯; তিরিমিযী (২১১), হাদিস নং- ২৯৬৯, তাফসীর অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: সূরা আল-বাকারা ( باب و من سورة البقرة ), (৫/৩৭৪), হাদিস নং- ৩২৪৭ পরিচ্ছেদ: সূরা আল-মুমিন (৫/৪৫৬), হাদিস নং- ৩৩৭২, দো‘য়া অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: দো‘য়া’র ফযিলত সম্পর্কে যা এসেছে ( باب ما جاء في فضل الدعاء ), আর তিনি বলেন: হাদিসটি হাসান, সহীহ। ইবনু মাজাহ (২/১২৫৮), হাদিস নং- ৩৮২৮, দো‘য়া অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: দো‘য়া’র ফযিলত ( باب فضل الدعاء ); বুখারী, শিষ্টাচার (আদব) অধ্যায় (পৃ. ১০৫); ইবনু আবি শায়বা, আল-মুসান্নাফ (২/২১), হাদিস নং- ২৯১৬৭, পরিচ্ছেদ: দো‘য়া’র ফযিলত ( باب فضل الدعاء ); ইবনু হাব্বান (২/১২৪), হাদিস নং- ৮৮৭ (ইহসান); বায়হাকী, আশ-শু‘য়াব [ الشعب ] (২ /৩৭), হাদিস নং- ১১০৫; হাকেম (১/৪৯১) এবং তিনি বলেছেন, সনদটি সহীহ, আর যাহাবীও এই ধরনের মত পেশ করেছেন; ইবনু জারির, আত-তাফসীর (২৪/৭৮, ৭৯, তাদের সকলেই ইয়াসই‘য়া আল-কিন্দী’র সূত্রে নু‘মান ইবন বাসীর থেকে মারফু‘ সনদে হাদিসখানা বর্ণিত; আলবানী ‘সহীহ আল-জামে‘’ ( صحيح الجامع ) –এর মধ্যে (১/৬৪১), হাদিসটিকে বিশুদ্ধ বলেছেন, হাদিস নং- ৩৪০৭]

আর সালাফে সালেহীন তথা সাহাবী ও তাবে‘য়ীগণ ইবাদতকে নির্ভেজালভাবে আল্লাহ তা‘আলার জন্য নির্ধারণ করেছেন এবং তারা ইবাদতের মধ্য থেকে কোন কিছুই কবরের নিকটে করেননি; তবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে ব্যাপারে অনুমতি দিয়েছেন, সেই বিষয়টি ভিন্ন; যেমন, কবরবাসীর উপর সালাম প্রেরণ, আল্লাহ তা‘আলার নিকট তাদের জন্য রহমত, ক্ষমা ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করা; আর এর কারণ হল, মৃত ব্যক্তির আমল করার পথ বন্ধ হয়ে গেছে; আর সে এখন ঐ ব্যক্তির মুখাপেক্ষী যে তার জন্য দো‘আ করবে এবং তার পক্ষে সুপারিশ করবে। আর এ জন্যই শরী‘আত তার সালাতে জানাযায় তার জন্য দো‘আ করাকে ওয়াজিব বা মুস্তাহাব করে দিয়েছে; অথচ জীবিত ব্যক্তির জন্য তেমনটি করেনি; কারণ, আমরা যখন জানাযার উদ্দেশ্যে দাঁড়াই, তখন আমরা তার জন্য দো‘আ করি এবং তার উদ্দেশ্যে সুপারিশ করি।