১
সৎব্যক্তিদের আসরসমূহ থেকে চার আসর
লেখকঃ শাইখ আহমদ আর-রুমী আল-হানাফী রহ. • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২৭
নারীগণ কর্তৃক কবর যিয়ারত করার বিধান
আর নারীদের জন্য সমাধিস্থলের উদ্দেশ্যে বের হওয়া বৈধ নয়; কেননা আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বললেন:
« لعن رسول الله صلى الله عليه و سلم زوارات القبور » . ( أخرجه ابن ماجه ) .
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবর যিয়ারতকারিনী নারীদের প্রতি লানত করেছেন।” [ইবনু মাজাহ (১/৫০২), হাদিস নং- ১৫৭৪, যা হাসসান ইবন সাবেত রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, হাদিস নং- ১৫৭৫, যা আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, হাদিস নং- ১৫৭৬, যা আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, জানাযা অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: নারীগণ কর্তৃক কবর যিয়ারত করা নিষিদ্ধ হওয়া প্রসঙ্গে ( باب ما جاء في النهي عن زيارة النساء القبور ); তিরমিযী (৩/৩৭১), হাদিস নং- ১০৫৬, জানাযা অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: নারীদের জন্য কবর যিয়ারত করা অপছন্দ বা নিষিদ্ধ হওয়া প্রসঙ্গে ( باب ما جاء في كراهية زيارة القبور للنساء ); হাদিসটি আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত; আলবানী ‘সহীহ আল-জামে‘’ ( صحيح الجامع ) –এর মধ্যে (২/৯০৯) হাদিসটিকে বিশুদ্ধ বলেছেন, হাদিস নং- ৫১০৯] আর ‘নিসাবুল ইহতিসাব’ ( نصاب الاحتساب ) নামক গ্রন্থে উল্লেখ আছে যে, নারী কর্তৃক সমাধিস্থলের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার বৈধতা সম্পর্কে বিচারককে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: এ ধরনের কাজের বৈধতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করো না, বরং সে কী পরিমাণ লা‘নতের (অভিশাপের) উপযুক্ত হবে, সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা কর; কারণ, সে যখন সমাধিস্থলের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার নিয়ত করে, তখন সে আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর ফেরেশতাদের লা‘নতের উপযুক্ত হয়ে যায়; আর যখন বের হবে, তখন শয়তান তার সাথে শামিল হয়; আর যখন সমাধিস্থলে উপস্থিত হয়, তখন মৃত ব্যক্তির আত্মা তাকে অভিশাপ দেয়; আর যখন সে প্রত্যাবর্তন করে, তখন সে আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর ফেরেশতাদের লা‘নতের মধ্যে থাকে যতক্ষণ না সে তার গৃহের মধ্যে ফিরে আসে।
কোনো কোনো বর্ণনায় এসেছে,
« أيما امرأة خرجت إلى مقبرة يلعنها ملائكة السموات السبع و الأرضين السبع و أيما امرأة دعت للميت بخيىر و لم تخرج من بيتها يعطيها الله ثواب حجة و عمرة » .
“যে কোন নারী সমাধিস্থলের উদ্দেশ্যে বের হয়, তাকে সাত আসমান ও সাত যমীনের ফিরিশতাগণ লা‘নত করতে থাকে; আর যে নারী মৃত ব্যক্তির জন্য কল্যাণের দো‘আ করে এমতাবস্থায় যে, সে তার ঘর থেকে বের হয় না, তাকে আল্লাহ তা‘আলা হাজ্জ ও ওমরার সাওয়াব দান করবেন।” [তার ব্যাপারে আমার জানা নেই এবং আমি এটাকে হাদিস মনে করি না; তবে তার অর্থে একটি হাদিস রয়েছে: « لعن الله زوارات القبور » . (আল্লাহ তা‘আলা কবর যিয়ারতকারিনী নারীদের প্রতি লানত করেছেন)।]
আর সালমান ও আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত আছে: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন একদিন মসজিদ থেকে বের হলেন, অতঃপর তিনি তাঁর বাড়ির দরজায় দাঁড়ালেন, অতঃপর তাঁর কন্যা ফাতিমা রা. আসলেন, তারপর তিনি তাঁকে উদ্দেশ্য করে বললেন:
« من أين جئت ؟ فقالت : خرجت إلى منزل فلانة التي ماتت . فقال : هل ذهبت إلى قبرها ؟ فقالت : معاذ الله أن أفعل شيئا بعدما سمعت منك ما سمعت . فقال : لو ذهبت إلى قبرها لم ترحي رائحة الجنة » .
“তুমি কোথা থেকে এসেছ? জবাবে তিনি বলেন: আমি অমুকের বাসায় গিয়েছি, যে মারা গিয়েছে; অতঃপর তিনি আবার জিজ্ঞাসা করলেন: তুমি কি তার সমাধিস্থল পর্যন্ত গিয়েছ? জবাবে তিনি বলেন: আমি আপনার নিকট থেকে যা শুনার, তা শুনার পরেও এমন কিছু করা থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই (না‘উযুবিল্লাহ); তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: তুমি যদি তার সমাধিস্থল পর্যন্ত যেতে, তাহলে জান্নাতের ঘ্রাণও পেতে না।” [আবূ দাউদ (৩/৪৬০), হাদিস নং- ৩১২৩, জানাযা অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: শোকপ্রকাশ প্রসঙ্গে ( باب التعزية ); নাসায়ী (৪/২৭), জানাযা অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: ক্রন্দন করা প্রসঙ্গে ( باب النعي ), হাদিসটি আবূ আবদির রহমান আল-হুবুল্লী’র সূত্রে আবদুল্লাহ ইবন ‘আমর রা. থেকে মারফু‘ সনদে লম্বা কাহিনী আকারে বর্ণিত। ইমাম নাসায়ী র. বলেন: বর্ণনাকারী রবী‘আ দুর্বল, সে আবূ আবদির রহমান আল-হুবুল্লী থেকে বর্ণনা করেছে; হাকেম (১/৩৭৪), তিনি বলেন: হাদিসটি ইমাম বুখারী ও মুসলিম র. –এর শর্তের আলোকে বিশুদ্ধ, আর ইমাম যাহাবী র. অনুরূপ মত প্রকাশ করেছেন।]
« لعن رسول الله صلى الله عليه و سلم زوارات القبور » . ( أخرجه ابن ماجه ) .
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবর যিয়ারতকারিনী নারীদের প্রতি লানত করেছেন।” [ইবনু মাজাহ (১/৫০২), হাদিস নং- ১৫৭৪, যা হাসসান ইবন সাবেত রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, হাদিস নং- ১৫৭৫, যা আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, হাদিস নং- ১৫৭৬, যা আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, জানাযা অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: নারীগণ কর্তৃক কবর যিয়ারত করা নিষিদ্ধ হওয়া প্রসঙ্গে ( باب ما جاء في النهي عن زيارة النساء القبور ); তিরমিযী (৩/৩৭১), হাদিস নং- ১০৫৬, জানাযা অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: নারীদের জন্য কবর যিয়ারত করা অপছন্দ বা নিষিদ্ধ হওয়া প্রসঙ্গে ( باب ما جاء في كراهية زيارة القبور للنساء ); হাদিসটি আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত; আলবানী ‘সহীহ আল-জামে‘’ ( صحيح الجامع ) –এর মধ্যে (২/৯০৯) হাদিসটিকে বিশুদ্ধ বলেছেন, হাদিস নং- ৫১০৯] আর ‘নিসাবুল ইহতিসাব’ ( نصاب الاحتساب ) নামক গ্রন্থে উল্লেখ আছে যে, নারী কর্তৃক সমাধিস্থলের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার বৈধতা সম্পর্কে বিচারককে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: এ ধরনের কাজের বৈধতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করো না, বরং সে কী পরিমাণ লা‘নতের (অভিশাপের) উপযুক্ত হবে, সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা কর; কারণ, সে যখন সমাধিস্থলের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার নিয়ত করে, তখন সে আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর ফেরেশতাদের লা‘নতের উপযুক্ত হয়ে যায়; আর যখন বের হবে, তখন শয়তান তার সাথে শামিল হয়; আর যখন সমাধিস্থলে উপস্থিত হয়, তখন মৃত ব্যক্তির আত্মা তাকে অভিশাপ দেয়; আর যখন সে প্রত্যাবর্তন করে, তখন সে আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর ফেরেশতাদের লা‘নতের মধ্যে থাকে যতক্ষণ না সে তার গৃহের মধ্যে ফিরে আসে।
কোনো কোনো বর্ণনায় এসেছে,
« أيما امرأة خرجت إلى مقبرة يلعنها ملائكة السموات السبع و الأرضين السبع و أيما امرأة دعت للميت بخيىر و لم تخرج من بيتها يعطيها الله ثواب حجة و عمرة » .
“যে কোন নারী সমাধিস্থলের উদ্দেশ্যে বের হয়, তাকে সাত আসমান ও সাত যমীনের ফিরিশতাগণ লা‘নত করতে থাকে; আর যে নারী মৃত ব্যক্তির জন্য কল্যাণের দো‘আ করে এমতাবস্থায় যে, সে তার ঘর থেকে বের হয় না, তাকে আল্লাহ তা‘আলা হাজ্জ ও ওমরার সাওয়াব দান করবেন।” [তার ব্যাপারে আমার জানা নেই এবং আমি এটাকে হাদিস মনে করি না; তবে তার অর্থে একটি হাদিস রয়েছে: « لعن الله زوارات القبور » . (আল্লাহ তা‘আলা কবর যিয়ারতকারিনী নারীদের প্রতি লানত করেছেন)।]
আর সালমান ও আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত আছে: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন একদিন মসজিদ থেকে বের হলেন, অতঃপর তিনি তাঁর বাড়ির দরজায় দাঁড়ালেন, অতঃপর তাঁর কন্যা ফাতিমা রা. আসলেন, তারপর তিনি তাঁকে উদ্দেশ্য করে বললেন:
« من أين جئت ؟ فقالت : خرجت إلى منزل فلانة التي ماتت . فقال : هل ذهبت إلى قبرها ؟ فقالت : معاذ الله أن أفعل شيئا بعدما سمعت منك ما سمعت . فقال : لو ذهبت إلى قبرها لم ترحي رائحة الجنة » .
“তুমি কোথা থেকে এসেছ? জবাবে তিনি বলেন: আমি অমুকের বাসায় গিয়েছি, যে মারা গিয়েছে; অতঃপর তিনি আবার জিজ্ঞাসা করলেন: তুমি কি তার সমাধিস্থল পর্যন্ত গিয়েছ? জবাবে তিনি বলেন: আমি আপনার নিকট থেকে যা শুনার, তা শুনার পরেও এমন কিছু করা থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই (না‘উযুবিল্লাহ); তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: তুমি যদি তার সমাধিস্থল পর্যন্ত যেতে, তাহলে জান্নাতের ঘ্রাণও পেতে না।” [আবূ দাউদ (৩/৪৬০), হাদিস নং- ৩১২৩, জানাযা অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: শোকপ্রকাশ প্রসঙ্গে ( باب التعزية ); নাসায়ী (৪/২৭), জানাযা অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: ক্রন্দন করা প্রসঙ্গে ( باب النعي ), হাদিসটি আবূ আবদির রহমান আল-হুবুল্লী’র সূত্রে আবদুল্লাহ ইবন ‘আমর রা. থেকে মারফু‘ সনদে লম্বা কাহিনী আকারে বর্ণিত। ইমাম নাসায়ী র. বলেন: বর্ণনাকারী রবী‘আ দুর্বল, সে আবূ আবদির রহমান আল-হুবুল্লী থেকে বর্ণনা করেছে; হাকেম (১/৩৭৪), তিনি বলেন: হাদিসটি ইমাম বুখারী ও মুসলিম র. –এর শর্তের আলোকে বিশুদ্ধ, আর ইমাম যাহাবী র. অনুরূপ মত প্রকাশ করেছেন।]