১
মুসলিম নারী এবং সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে তার দায়িত্ব ও কর্তব্য
লেখকঃ অধ্যাপক ড. ফালেহ ইবন মুহাম্মাদ আস-সুগাইর • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২৯
অষ্টম অনুচ্ছেদ: মুসলিম নারীর কাজ কাজ করার নিয়ম-পদ্ধতি:
নারীর কাজের ব্যাপারে মূল কথা হচ্ছে তা শরী‘আত সম্মত। আর ইসলামের প্রাথমিক যুগের নারীদের কেউ কেউ কাজ করেছেন; কিন্তু তা কতগুলো নিয়মনীতির দ্বারা শরী‘আত সম্মত, যখন তা পুরাপুরি বিদ্যমান থাকবে, তখন কাজ করাটা বৈধ হবে এবং কোনো প্রকার নিষেধাজ্ঞা ছাড়াই তা শরী‘আত সম্মত হবে।
আর এসব নিয়মনীতির সারকথা হলো:
১. তার হৃদয় আল্লাহ তা‘আলার পর্যবেক্ষণে থাকা। সুতরাং সে অনুধাবন করবে যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা তার ব্যাপারে অবগত আছেন এবং তিনি তার সকল বিষয়ে হিসাব রাখেন; আল-কুরআনের ভাষায়:
﴿فَمَن يَعۡمَلۡ مِثۡقَالَ ذَرَّةٍ خَيۡرٗا يَرَهُۥ ٧ وَمَن يَعۡمَلۡ مِثۡقَالَ ذَرَّةٖ شَرّٗا يَرَهُۥ ٨﴾ [ سُورَةُ الزَّلۡزَلَةِ : 7-8[
“সুতরাং কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করলে সে তা দেখতে পাবে এবং কেউ অণু পরিমাণ অসৎকর্ম করলে সে তাও দেখতে পাবে” [সূরা আল-যিলযাল, আয়াত: ৭-৮]
২. তার ওপর ফরযকৃত পর্দাকে তার আবশ্যকীয় দায়িত্বরূপে গ্রহণ করা, যাতে চেহারা ঢেকে রাখার ব্যবস্থা থাকবে; আর এটা আবশ্যক হওয়ার ব্যাপারে দলীল পেশ করাটা আমাদের বিষয় নয়। কারণ, এই প্রসঙ্গে কতগুলো বিশেষ লেখা রয়েছে; কিন্তু এখানে আমরা এই ব্যাপারে তাগিদ দিচ্ছি যে, এটি হচ্ছে কাজের উদ্দেশ্যে নারীর বাইরে বের হওয়ার নিয়মনীতিসমূহের মধ্য থেকে একটি নিয়ম। আল-কুরআনের ভাষায়:
﴿يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّبِيُّ قُل لِّأَزۡوَٰجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَآءِ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ يُدۡنِينَ عَلَيۡهِنَّ مِن جَلَٰبِيبِهِنَّۚ ذَٰلِكَ أَدۡنَىٰٓ أَن يُعۡرَفۡنَ فَلَا يُؤۡذَيۡنَۗ وَكَانَ ٱللَّهُ غَفُورٗا رَّحِيمٗا ٥٩ ﴾ [ سورة الأحزاب : 59[
“হে নবী! তুমি তোমার স্ত্রীও কন্যাগণকে এবং মুমিনদের নারীগণকে বল, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের ওপর টেনে দেয়। এতে তাদেরকে চেনা সহজতর হবে, ফলে তাদেরকে উত্ত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” [সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৫৯]
৩. পুরুষদের সাথে মেলামেশা থেকে দূরে থাকা, এমনকি সে যদি নিকটতম এমন কেউ হয়, যে তার মাহরাম নয়। আর এই প্রসঙ্গে কুরআন ও হাদীসের অনেক ভাষ্য বিদ্যমান রয়েছে।
৪. বাইরের কাজ যাতে তার মূল দায়িত্ব ও কর্তব্যের ওপর প্রভাব সৃষ্টি না করে। বস্তুতঃ তার মূল দায়িত্ব হলো তার ঘর, তার স্বামীর বিষয়-আশয় ও তার শিশু সন্তানগণ। সুতরাং যখন (তার বাইরের কাজ) এসব মৌলিক কাজের ওপর প্রভাব বিস্তার করবে, তখন তা বৈধতা থেকে বের হয়ে হারাম পর্যায়ে চলে যাবে। কারণ, শরী‘আতের দৃষ্টিতে ওয়াজিব বা আবশ্যকীয় বিষয়টি নফল বা অতিরিক্ত বিষয়ের উপরে অগ্রাধিকার পাওয়ার যোগ্য।
৫. কাজটি এমন হওয়া, যা নারীর জন্য উপযুক্ত এবং আল্লাহ তাকে যে স্বভাব-প্রকৃতির ওপর সৃষ্টি করেছেন, তার সাথে যথাযথ ও লাগসই। সুতরাং সে ভারী কোনো কাজের দায়িত্ব বহন করবে না, শিল্পকারখানায় কাজ করবে না এবং পুলিশ বা প্রহরী হিসেবে কাজ করবে না অথবা মহাসড়ক বা রাস্তা পরিষ্কারের কোনো কাজে অংশগ্রহণ করবে না অথবা পুরুষদের জন্য পণ্য বিক্রেতা হিসেবে কাজ করবে না অথবা এমন কোনো কাজ করবে না, যা বিশৃঙ্খলার উপলক্ষ্য বা কারণ বলে বিবেচিত হয় ইত্যাদি ইত্যাদি।
আর সামাজিক সংস্কারমূলক কাজের ক্ষেত্রে নারী যেসব পরিমণ্ডল বা ক্ষেত্রকে গ্রহণ করেছে, যে দিকে আমরা পূর্বে ইঙ্গিত করেছি, তন্মধ্য থেকে কিছু দিক হলো: শিক্ষাদান, নারীদের মাঝে আল্লাহর দিকে আহ্বানমূলক দাওয়াতী কাজ, নারীদের চিকিৎসা ও সেবাদান, এমন প্রত্যেক কল্যাণমূলক কাজ, যা নারীদের সাথে নির্দিষ্ট এবং এগুলো ছাড়া আরও যেসব কাজ তার অবস্থা ও স্বভাব-প্রকৃতির সাথে যথোপযুক্ত ও মানানসই।
৬. তার অভিভাবকের অনুমতি মানে তার স্বামী অথবা পিতার অনুমতি। সুতরাং যখন কোনো কোনো নফল ইবাদতের ক্ষেত্রে তাদের নিকট অনুমতি চাওয়ার প্রয়োজন হয়, তখন এখানে (বাইরে কাজ করার ক্ষেত্রে) অনুমতি চাওয়ার বিষয়টি আরও বেশী ও সমীচীনভাবেই জরুরি।
আর এসব নিয়মনীতির সারকথা হলো:
১. তার হৃদয় আল্লাহ তা‘আলার পর্যবেক্ষণে থাকা। সুতরাং সে অনুধাবন করবে যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা তার ব্যাপারে অবগত আছেন এবং তিনি তার সকল বিষয়ে হিসাব রাখেন; আল-কুরআনের ভাষায়:
﴿فَمَن يَعۡمَلۡ مِثۡقَالَ ذَرَّةٍ خَيۡرٗا يَرَهُۥ ٧ وَمَن يَعۡمَلۡ مِثۡقَالَ ذَرَّةٖ شَرّٗا يَرَهُۥ ٨﴾ [ سُورَةُ الزَّلۡزَلَةِ : 7-8[
“সুতরাং কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করলে সে তা দেখতে পাবে এবং কেউ অণু পরিমাণ অসৎকর্ম করলে সে তাও দেখতে পাবে” [সূরা আল-যিলযাল, আয়াত: ৭-৮]
২. তার ওপর ফরযকৃত পর্দাকে তার আবশ্যকীয় দায়িত্বরূপে গ্রহণ করা, যাতে চেহারা ঢেকে রাখার ব্যবস্থা থাকবে; আর এটা আবশ্যক হওয়ার ব্যাপারে দলীল পেশ করাটা আমাদের বিষয় নয়। কারণ, এই প্রসঙ্গে কতগুলো বিশেষ লেখা রয়েছে; কিন্তু এখানে আমরা এই ব্যাপারে তাগিদ দিচ্ছি যে, এটি হচ্ছে কাজের উদ্দেশ্যে নারীর বাইরে বের হওয়ার নিয়মনীতিসমূহের মধ্য থেকে একটি নিয়ম। আল-কুরআনের ভাষায়:
﴿يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّبِيُّ قُل لِّأَزۡوَٰجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَآءِ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ يُدۡنِينَ عَلَيۡهِنَّ مِن جَلَٰبِيبِهِنَّۚ ذَٰلِكَ أَدۡنَىٰٓ أَن يُعۡرَفۡنَ فَلَا يُؤۡذَيۡنَۗ وَكَانَ ٱللَّهُ غَفُورٗا رَّحِيمٗا ٥٩ ﴾ [ سورة الأحزاب : 59[
“হে নবী! তুমি তোমার স্ত্রীও কন্যাগণকে এবং মুমিনদের নারীগণকে বল, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের ওপর টেনে দেয়। এতে তাদেরকে চেনা সহজতর হবে, ফলে তাদেরকে উত্ত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” [সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৫৯]
৩. পুরুষদের সাথে মেলামেশা থেকে দূরে থাকা, এমনকি সে যদি নিকটতম এমন কেউ হয়, যে তার মাহরাম নয়। আর এই প্রসঙ্গে কুরআন ও হাদীসের অনেক ভাষ্য বিদ্যমান রয়েছে।
৪. বাইরের কাজ যাতে তার মূল দায়িত্ব ও কর্তব্যের ওপর প্রভাব সৃষ্টি না করে। বস্তুতঃ তার মূল দায়িত্ব হলো তার ঘর, তার স্বামীর বিষয়-আশয় ও তার শিশু সন্তানগণ। সুতরাং যখন (তার বাইরের কাজ) এসব মৌলিক কাজের ওপর প্রভাব বিস্তার করবে, তখন তা বৈধতা থেকে বের হয়ে হারাম পর্যায়ে চলে যাবে। কারণ, শরী‘আতের দৃষ্টিতে ওয়াজিব বা আবশ্যকীয় বিষয়টি নফল বা অতিরিক্ত বিষয়ের উপরে অগ্রাধিকার পাওয়ার যোগ্য।
৫. কাজটি এমন হওয়া, যা নারীর জন্য উপযুক্ত এবং আল্লাহ তাকে যে স্বভাব-প্রকৃতির ওপর সৃষ্টি করেছেন, তার সাথে যথাযথ ও লাগসই। সুতরাং সে ভারী কোনো কাজের দায়িত্ব বহন করবে না, শিল্পকারখানায় কাজ করবে না এবং পুলিশ বা প্রহরী হিসেবে কাজ করবে না অথবা মহাসড়ক বা রাস্তা পরিষ্কারের কোনো কাজে অংশগ্রহণ করবে না অথবা পুরুষদের জন্য পণ্য বিক্রেতা হিসেবে কাজ করবে না অথবা এমন কোনো কাজ করবে না, যা বিশৃঙ্খলার উপলক্ষ্য বা কারণ বলে বিবেচিত হয় ইত্যাদি ইত্যাদি।
আর সামাজিক সংস্কারমূলক কাজের ক্ষেত্রে নারী যেসব পরিমণ্ডল বা ক্ষেত্রকে গ্রহণ করেছে, যে দিকে আমরা পূর্বে ইঙ্গিত করেছি, তন্মধ্য থেকে কিছু দিক হলো: শিক্ষাদান, নারীদের মাঝে আল্লাহর দিকে আহ্বানমূলক দাওয়াতী কাজ, নারীদের চিকিৎসা ও সেবাদান, এমন প্রত্যেক কল্যাণমূলক কাজ, যা নারীদের সাথে নির্দিষ্ট এবং এগুলো ছাড়া আরও যেসব কাজ তার অবস্থা ও স্বভাব-প্রকৃতির সাথে যথোপযুক্ত ও মানানসই।
৬. তার অভিভাবকের অনুমতি মানে তার স্বামী অথবা পিতার অনুমতি। সুতরাং যখন কোনো কোনো নফল ইবাদতের ক্ষেত্রে তাদের নিকট অনুমতি চাওয়ার প্রয়োজন হয়, তখন এখানে (বাইরে কাজ করার ক্ষেত্রে) অনুমতি চাওয়ার বিষয়টি আরও বেশী ও সমীচীনভাবেই জরুরি।