hadith book logo

মুসলিম নারী এবং সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে তার দায়িত্ব ও কর্তব্য

লেখকঃ অধ্যাপক ড. ফালেহ ইবন মুহাম্মাদ আস-সুগাইর • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩০

কতিপয় সুপারিশ বা পরামর্শ

দ্রুত এই আলোচনার পর এমন কিছু সুপারিশ বা পরামর্শকে একত্রিতভাবে পেশ করছি, যেগুলো আল্লাহর ইচ্ছায় উপকারী হবে বলে আমি আশাবাদী:

১. বিজ্ঞজন ও দা‘ঈদের পক্ষ থেকে মুসলিম নারীর সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে গুরুত্বারোপ করা, চাই তা গঠনমূলক হউক অথবা প্রতিরোধমূলক হউক বা অন্য কোনো ভাবে। কারণ, যুদ্ধ এখনো চলছে, আর ইসলামের শত্রুগণ নিরবচ্ছিন্ন ও ধারাবাহিকভাবে তাদের চেষ্টা-প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং তারা কখনও বিরক্তবোধ করে না। সুতরাং আলিম ও দা‘ঈগণের আবশ্যকীয় কর্তব্য হলো, তারা নিরবচ্ছিন্ন ও ধারাবাহিকভাবে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাবে এবং বিতর্ক করবে; আর তারা কর্তব্য কাজে অবহেলা করবে না অথবা ভুলে যাবে না অথবা মূর্খতার পরিচয় দেবে না। কারণ, বিষয়টি খুবই বিপজ্জনক। আল্লাহ আমাদেরকে সকল প্রকার অনিষ্টতা, খারাপি ও অন্যায়-অপরাধ থেকে রক্ষা করুন।

২. সরকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নারীর বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া। বিশেষ করে সরকারী কর্তৃপক্ষ তার শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ এবং তার প্রত্যেকটি অবস্থা সম্পর্কে নিম্নলিখিতভাবে গুরুত্বারোপ করবে:

শত্রুদের ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনাসমূহের ব্যাপারে সতর্ক করা; আর এই বরকতময় দেশটিকে ঐ দিকে টেনে না নেয়া, যেদিকে তাড়িত করেছে ইসলামী বিশ্বের কোনো কোনো দেশকে।

নারীশিক্ষার সিলেবাস বা পাঠ্যক্রম পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা, অতঃপর তার সাথে যেসব বিষয় নির্দিষ্ট, সেগুলোকে গুরুত্ব প্রদান করা, যাতে নারী শুধু তার রাজ্য তথা ঘরের বাইরে নয় বরং তার রাজ্যের অভ্যন্তরের মৌলিক কাজ সম্পাদনের জন্যে প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারে।

নারীদের অবসর গ্রহণের বয়সের প্রতি ঐকান্তিকতার সাথে লক্ষ্য রাখা, যাতে তার বিভিন্ন প্রকার দায়িত্ব ও কর্তব্যের মধ্যে সমন্বয় সাধনের উদ্যোগ নেয়া যায়।

নারী তার কর্মস্থল নির্ধারণ করবে, যেখানে সে থাকবে, আর তাকে দূরবর্তী কোনো জায়গায় সরিয়ে দেওয়ার চিন্তা না করা, যেখান গেলে তার বিপদ-মুসিবত বৃদ্ধি পেতে পারে।

রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সার্বজনীন গণপরিবহণের ব্যবস্থা করা, যাতে নারী চালক ও অনুরূপ ব্যক্তিদের শরণাপন্ন না হয়, যেমন ভাড়ায় চালিত ছোট গাড়ীসমূহ, কেননা এগুলোর মধ্যে সুস্পষ্ট নগ্নতা ও বেহায়াপনা রয়েছে।

নারীকে এমন স্থানে নিয়োগ না দেওয়া, যেখানে বিভিন্ন সময় ও পরিবেশ-পরিস্থিতিতে পুরুষগণ এসে তাদের সাথে মিশে যায়।

তাদের জন্য দৈনন্দিন কাজের সময় হ্রাস করা, যাতে সে অধিকাংশ সময় তার বাড়ি ও ঘরে কাটাতে পারে; ফলে সে ভালোভাবে তা সম্পন্ন করতে পারবে। যেমন, তাকে দৈনিক তিন ঘন্টা অথবা সপ্তাহে তিন দিন কাজ করার দায়িত্ব অর্পণ করা।

মেয়েদের জন্য স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দিয়ে পৃথক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা চালু করার জোর দাবি করা।

৩. ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক নারীর মধ্যে দাওয়াতী কার্যক্রম ব্যাপকভাবে পরিচালনার জন্য একটি অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করা, যার কার্যাবলী ও উদ্দেশ্য-লক্ষ্যের আওতার অন্তর্ভুক্ত হবে নারীদের জন্য বিশেষ দাওয়াতী কর্মসূচীর ব্যবস্থা করা। সুতরাং এ কথা সুস্পষ্ট যে, এ ধরনের ভূমিকা বা কর্মসূচী বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্পষ্ট দুর্বলতা রয়েছে; কেননা তারা হলো সমাজের অর্ধেক বা তার চেয়ে বেশি এবং পুরুষদের মা-জননী ও লালন-পালনকারিনী। সুতরাং সময় হয়েছে তাদের জন্য প্রত্যেক দাওয়াতী মাধ্যম বা মিডিয়ায় বিশেষ দাওয়াতী কর্মসূচী গ্রহণ করার; নারী সেশন বা কোর্স (বিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে কর্মসূচী গ্রহণ) সমাবেশমূলক সেশন... বিভিন্ন প্রকার প্রদর্শনী এবং এগুলো ছাড়া অন্যান্য কর্মসূচী, যা কারও নিকট অস্পষ্ট নয়।

৪. নারী জাগরণমূলক বেশি বেশি ম্যাগাজিন ও তার উপযোগী পুস্তকাদি বের করার জন্য শিক্ষা পরিক্রমায় কাজ করা। যেমন, তথ্য ও প্রচার কোম্পানীগুলো বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে তা প্রকাশ করবে, আর এই ব্যাপারে বিশেষ সুযোগ হলো ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক ও অন্যান্য মিডিয়া।

৫. দাওয়াতী ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচী থেকে প্রত্যেক নারী ঐ কাজটি করবে, যা তার জন্য ও তার পরিবারের জন্য যথাযথ হয়, সে জীবনকে উদাসীনভাবে পরিচালিত করবে না।