১
মুসলিম নারী এবং সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে তার দায়িত্ব ও কর্তব্য
লেখকঃ অধ্যাপক ড. ফালেহ ইবন মুহাম্মাদ আস-সুগাইর • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৩১
উপসংহার
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যার নি‘আমতেই যাবতীয় সৎকর্মসমূহ পূর্ণতা লাভ করে থাকে এবং যার একান্ত কৃপা ও অনুগ্রহে সাওয়াবের মধ্যে বৃদ্ধি করা হয়ে থাকে। আমি তাঁর গুণগানসহ প্রশংসা করি এবং আমি তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি, আর তিনি হলেন অনুগ্রহের অধিকারী ও দানবীর। আর সালাত (দুরূদ) ও সালাম তাঁর সৃষ্টির সর্বোত্তম ব্যক্তির ওপর, যিনি সৃষ্টির সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী এবং শান্তি বর্ষিত হউক তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর, তাঁর সাহাবীদের ওপর, পবিত্র মুমিনজননীদের ওপর, তাবে‘ঈদের ওপর এবং আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে তাদের পুনরুত্থানের দিন পর্যন্ত যারা ভালোভাবে তাঁদের অনুসরণ করবে, তাদের ওপর।
অতঃপর......
মুসলিম নারীর দায়িত্ব ও কর্তব্য বর্ণনার ব্যাপারে আমরা খুব দ্রুত একটি আলোচনা শেষ করে আনলাম। আল্লাহর জন্যই সকল প্রশংসা। আমি আলোচনাটিকে এজন্যই বিভাজন ও খণ্ডিতকরণের দিকে মনোনিবেশ করেছি, যাতে তা সুস্পষ্ট ও পরিপূর্ণ হয়ে উঠে। আর শুরুর দিকে আমি নারী সম্পর্কে আলোচনার গুরুত্ব নিয়ে বক্তব্য পেশ করেছি এবং এও বলেছি যে, নারীকে নিয়ে কথা বলা বিজ্ঞজন ও ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর অত্যাবশ্যক। অতঃপর আমি নারীর দায়িত্ব ও কর্তব্যকে চারটি ক্ষেত্র বা পরিমণ্ডলে কাঠামোবদ্ধ করেছি, যা এই দায়িত্ব ও কর্তব্যের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল কিছুকে একত্রিত করবে:
প্রথম ক্ষেত্র: তার নিজের ব্যাপারে দায়িত্ব ও কর্তব্য; এসব দায়িত্বের বর্ণনা করা হয়েছে নিম্নোক্ত শিরোনামের মাধ্যমে:
(ক) তার রবের প্রতি তার ঈমান তথা বিশ্বাস এবং অনুরূপভাবে ঈমানের বাকি রুকনসমূহ।
(খ) তার জ্ঞানগত দায়িত্ব ও কর্তব্য এবং এই প্রসঙ্গে বিস্তারিত কথা।
(গ) তার সৎকর্ম সম্পাদনের দায়িত্ব ও কর্তব্য।
(ঘ) নিজেকে পাপাচার ও অবাধ্যতা থেকে রক্ষাকরণ প্রসঙ্গে তার দায়িত্ব ও কর্তব্য।
দ্বিতীয় ক্ষেত্র: তার ঘরের ব্যাপারে তার দায়িত্ব ও কর্তব্য; আর এর অধীনে যা এসেছে:
(ক) এই দায়িত্ব ও কর্তব্যের ক্ষেত্রে শর‘ঈ সূচনা।
(খ) এসব দায়িত্ব ও কর্তব্যের বিস্তারিত বিবরণ হলো:
আদর্শ স্ত্রী হিসেবে তার দায়িত্ব ও কর্তব্য।
আদর্শ মা হিসেবে তার দায়িত্ব ও কর্তব্য।
আদর্শ কন্যা হিসেবে তার দায়িত্ব ও কর্তব্য।
আদর্শ বোন হিসেবে তার দায়িত্ব ও কর্তব্য।
তৃতীয় ক্ষেত্র: সমাজ ও জাতি কেন্দ্রীক তার দায়িত্ব ও কর্তব্য, আর এর অধীনে যা এসেছে:
এই দায়িত্ব ও কর্তব্যের শর‘ঈ সূচনা।
এই দায়িত্ব ও কর্তব্যের যৌক্তিকতা।
এই দায়িত্ব ও কর্তব্যের প্রয়োজনীয় বিষয়াদি; আর এর অধীনে যা এসেছে:
১. আত্মীয়-স্বজনের পক্ষে তার দায়িত্ব ও কর্তব্য।
২. প্রতিবেশীদের পক্ষে তার দায়িত্ব ও কর্তব্য।
৩. নারী সমাজের পক্ষে তার দায়িত্ব ও কর্তব্য।
৪. ক্লাবসমূহের পক্ষে তার দায়িত্ব ও কর্তব্য।
৫. তার চাকুরি জাতীয় কর্মের ব্যাপারে তার দায়িত্ব ও কর্তব্য।
৬. ছাত্রী হওয়ার দিক থেকে তার দায়িত্ব ও কর্তব্য।
চতুর্থ ক্ষেত্র: শত্রুদের ষড়যন্ত্রের বিপরীতে মুসলিম নারীর দায়িত্ব ও কর্তব্য; তন্মধ্য থেকে:
১. মুসলিম নারীর বিরুদ্ধে শত্রুদের পরিকল্পনাসমূহের সারসংক্ষেপ।
২. এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে মুসলিম নারীর দায়িত্ব ও কর্তব্য।
আর আমি আলোচনাটি শেষ করেছি এসব দায়িত্ব ও কর্তব্যের সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু সংক্ষিপ্ত অনুচ্ছেদের মাধ্যমে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: নারী কর্তৃক নিজেকে ঐ দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত করা।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: একজন সফল মহিলা দা‘ঈ’র গুণাবলী।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: নারীর দাওয়াতের নীতিমালা।
চতুর্থ অনুচ্ছেদ: দাওয়াতের ক্ষেত্রে সফল পদ্ধতি সমূহ।
পঞ্চম অনুচ্ছেদ: নারীর দাওয়াতী ক্ষেত্রসমূহ থেকে।
ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ: দাওয়াত ও প্রশিক্ষণের বিষয়সমূহ।
সপ্তম অনুচ্ছেদ: দায়িত্ব পালনের সহযোগী উপায়-উপকরণ।
অষ্টম অনুচ্ছেদ: মুসলিম নারীর কাজ করার নিয়মনীতি।
কতিপয় সুপারিশ বা পরামর্শ
উপসংহার: আর তাতে পুরো আলোচনাটির পয়েণ্টগুলোর সারসংক্ষেপ পেশ করা হয়েছে।
অতঃপর আমি আমার কথায় ফিরে যাচ্ছি: নিশ্চয় নারীর প্রতি নারীর দায়িত্ব ও কর্তব্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও মহৎ, আর অনুরূপভাবে তার প্রতি তার অভিভাবকদের দায়িত্ব ও কর্তব্যও অনেক বড় ও গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং এই দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে আল্লাহকে ভয় কর! আল্লাহকে ভয় কর! কারণ, এই প্রসঙ্গে নির্দেশ হলো খুবই ভয়াবহ ও মহান। আল-কুরআনের ভাষায়:
﴿إِنۡ أُرِيدُ إِلَّا ٱلۡإِصۡلَٰحَ مَا ٱسۡتَطَعۡتُۚ وَمَا تَوۡفِيقِيٓ إِلَّا بِٱللَّهِۚ عَلَيۡهِ تَوَكَّلۡتُ وَإِلَيۡهِ أُنِيبُ ٨٨﴾ [ سُورَةُ هُود : 88[
“আমি তো আমার সাধ্যমত সংস্কারই করতে চাই। আমার কর্মসাধন তো আল্লাহরই সাহায্যে। আমি তাঁরই ওপর নির্ভর করি এবং আমি তাঁরই অভিমুখী।” [সূরা হুদ, আয়াত: ৮৮]
আর আমি আল্লাহ তা‘আলার নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদেরকে, আমাদের নারীদেরকে, আমাদের পরিবারসমূহকে, আমাদের সমাজকে এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের সমাজসমূহকে সংশোধন ও সংস্কার করে দেন, আর তাদেরকে যাবতীয় অনিষ্টতা ও বিশৃঙ্খলা থেকে যেন তিনি রক্ষা করেন। আর তিনি যেন তাদের ব্যাপারে ষড়যন্ত্রকারীদের ষড়যন্ত্রকে, সীমালংঘনকারীদের বাড়াবাড়িকে, মুনাফিকদের নিফাকীকে ও বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের উপায়-উপকরণসমূহকে প্রত্যাখ্যান ও প্রতিরোধ করেন। আর তিনি যেন তাদের ধ্বংসকে তাদের শিক্ষায় পরিণত করেন, তিনি শ্রবণকারী, আহ্বানে সাড়াদানকারী।
এটা হলো চেষ্টা ও সাধনা, যার জন্য আমি আল্লাহ তা‘আলার নিকট প্রার্থনা করছি, তিনি যেন এটাকে এই জীবনে ও মৃত্যুর পরবর্তী জীবনের জন্য সঞ্চয় হিসেবে গ্রহণ করেন, আর তার মধ্যে যা কিছু সঠিক রয়েছে, তা তাঁরই পক্ষ থেকে, আর তার মধ্যে এর ব্যতিক্রম যা রয়েছে, তবে তো আমার পক্ষ থেকে। তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি সকল প্রকার ভুল-ক্রটি থেকে। আর পাঠক-পাঠিকা ভাই ও বোনদের মধ্য থেকে যিনি এমন কিছু পান, যা উপদেশ, দৃষ্টি আকর্ষণী অথবা প্রস্তাবনা আকারে আমার নিকট আসা প্রয়োজন, (তা যদি আমাকে জানানো হয়) তাতে আমি তার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকব, আহ্বান করব আল-কুরআনের ভাষায়:
﴿وَتَعَاوَنُواْ عَلَى ٱلۡبِرِّ وَٱلتَّقۡوَىٰۖ وَلَا تَعَاوَنُواْ عَلَى ٱلۡإِثۡمِ وَٱلۡعُدۡوَٰنِۚ وَٱتَّقُواْ ٱللَّهَۖ إِنَّ ٱللَّهَ شَدِيدُ ٱلۡعِقَابِ ٢﴾ [ سُورَةُ المَائِدَةِ : 2]
“সৎকর্ম ও তাকওয়ার ব্যাপারে তোমরা পরস্পর সাহায্য করবে এবং পাপ ও সীমালংঘনের ক্ষেত্রে একে অন্যের সাহায্য করবে না। আর আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করবে, নিশ্চয় আল্লাহ শাস্তিদানে কঠোর।”-[সূরা আল-মায়েদাহ, আয়াত: ২]
و صلى الله و سلم على نبينا محمد و على آله و صحبه أجمعين .
লেখক: ফালেহ ইবন মুহাম্মাদ ইবন ফালেহ আস-সগীর
রিয়াদ: ১৭/৪/১৪২২ হিজরী
অতঃপর......
মুসলিম নারীর দায়িত্ব ও কর্তব্য বর্ণনার ব্যাপারে আমরা খুব দ্রুত একটি আলোচনা শেষ করে আনলাম। আল্লাহর জন্যই সকল প্রশংসা। আমি আলোচনাটিকে এজন্যই বিভাজন ও খণ্ডিতকরণের দিকে মনোনিবেশ করেছি, যাতে তা সুস্পষ্ট ও পরিপূর্ণ হয়ে উঠে। আর শুরুর দিকে আমি নারী সম্পর্কে আলোচনার গুরুত্ব নিয়ে বক্তব্য পেশ করেছি এবং এও বলেছি যে, নারীকে নিয়ে কথা বলা বিজ্ঞজন ও ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর অত্যাবশ্যক। অতঃপর আমি নারীর দায়িত্ব ও কর্তব্যকে চারটি ক্ষেত্র বা পরিমণ্ডলে কাঠামোবদ্ধ করেছি, যা এই দায়িত্ব ও কর্তব্যের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল কিছুকে একত্রিত করবে:
প্রথম ক্ষেত্র: তার নিজের ব্যাপারে দায়িত্ব ও কর্তব্য; এসব দায়িত্বের বর্ণনা করা হয়েছে নিম্নোক্ত শিরোনামের মাধ্যমে:
(ক) তার রবের প্রতি তার ঈমান তথা বিশ্বাস এবং অনুরূপভাবে ঈমানের বাকি রুকনসমূহ।
(খ) তার জ্ঞানগত দায়িত্ব ও কর্তব্য এবং এই প্রসঙ্গে বিস্তারিত কথা।
(গ) তার সৎকর্ম সম্পাদনের দায়িত্ব ও কর্তব্য।
(ঘ) নিজেকে পাপাচার ও অবাধ্যতা থেকে রক্ষাকরণ প্রসঙ্গে তার দায়িত্ব ও কর্তব্য।
দ্বিতীয় ক্ষেত্র: তার ঘরের ব্যাপারে তার দায়িত্ব ও কর্তব্য; আর এর অধীনে যা এসেছে:
(ক) এই দায়িত্ব ও কর্তব্যের ক্ষেত্রে শর‘ঈ সূচনা।
(খ) এসব দায়িত্ব ও কর্তব্যের বিস্তারিত বিবরণ হলো:
আদর্শ স্ত্রী হিসেবে তার দায়িত্ব ও কর্তব্য।
আদর্শ মা হিসেবে তার দায়িত্ব ও কর্তব্য।
আদর্শ কন্যা হিসেবে তার দায়িত্ব ও কর্তব্য।
আদর্শ বোন হিসেবে তার দায়িত্ব ও কর্তব্য।
তৃতীয় ক্ষেত্র: সমাজ ও জাতি কেন্দ্রীক তার দায়িত্ব ও কর্তব্য, আর এর অধীনে যা এসেছে:
এই দায়িত্ব ও কর্তব্যের শর‘ঈ সূচনা।
এই দায়িত্ব ও কর্তব্যের যৌক্তিকতা।
এই দায়িত্ব ও কর্তব্যের প্রয়োজনীয় বিষয়াদি; আর এর অধীনে যা এসেছে:
১. আত্মীয়-স্বজনের পক্ষে তার দায়িত্ব ও কর্তব্য।
২. প্রতিবেশীদের পক্ষে তার দায়িত্ব ও কর্তব্য।
৩. নারী সমাজের পক্ষে তার দায়িত্ব ও কর্তব্য।
৪. ক্লাবসমূহের পক্ষে তার দায়িত্ব ও কর্তব্য।
৫. তার চাকুরি জাতীয় কর্মের ব্যাপারে তার দায়িত্ব ও কর্তব্য।
৬. ছাত্রী হওয়ার দিক থেকে তার দায়িত্ব ও কর্তব্য।
চতুর্থ ক্ষেত্র: শত্রুদের ষড়যন্ত্রের বিপরীতে মুসলিম নারীর দায়িত্ব ও কর্তব্য; তন্মধ্য থেকে:
১. মুসলিম নারীর বিরুদ্ধে শত্রুদের পরিকল্পনাসমূহের সারসংক্ষেপ।
২. এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে মুসলিম নারীর দায়িত্ব ও কর্তব্য।
আর আমি আলোচনাটি শেষ করেছি এসব দায়িত্ব ও কর্তব্যের সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু সংক্ষিপ্ত অনুচ্ছেদের মাধ্যমে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: নারী কর্তৃক নিজেকে ঐ দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত করা।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: একজন সফল মহিলা দা‘ঈ’র গুণাবলী।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: নারীর দাওয়াতের নীতিমালা।
চতুর্থ অনুচ্ছেদ: দাওয়াতের ক্ষেত্রে সফল পদ্ধতি সমূহ।
পঞ্চম অনুচ্ছেদ: নারীর দাওয়াতী ক্ষেত্রসমূহ থেকে।
ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ: দাওয়াত ও প্রশিক্ষণের বিষয়সমূহ।
সপ্তম অনুচ্ছেদ: দায়িত্ব পালনের সহযোগী উপায়-উপকরণ।
অষ্টম অনুচ্ছেদ: মুসলিম নারীর কাজ করার নিয়মনীতি।
কতিপয় সুপারিশ বা পরামর্শ
উপসংহার: আর তাতে পুরো আলোচনাটির পয়েণ্টগুলোর সারসংক্ষেপ পেশ করা হয়েছে।
অতঃপর আমি আমার কথায় ফিরে যাচ্ছি: নিশ্চয় নারীর প্রতি নারীর দায়িত্ব ও কর্তব্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও মহৎ, আর অনুরূপভাবে তার প্রতি তার অভিভাবকদের দায়িত্ব ও কর্তব্যও অনেক বড় ও গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং এই দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে আল্লাহকে ভয় কর! আল্লাহকে ভয় কর! কারণ, এই প্রসঙ্গে নির্দেশ হলো খুবই ভয়াবহ ও মহান। আল-কুরআনের ভাষায়:
﴿إِنۡ أُرِيدُ إِلَّا ٱلۡإِصۡلَٰحَ مَا ٱسۡتَطَعۡتُۚ وَمَا تَوۡفِيقِيٓ إِلَّا بِٱللَّهِۚ عَلَيۡهِ تَوَكَّلۡتُ وَإِلَيۡهِ أُنِيبُ ٨٨﴾ [ سُورَةُ هُود : 88[
“আমি তো আমার সাধ্যমত সংস্কারই করতে চাই। আমার কর্মসাধন তো আল্লাহরই সাহায্যে। আমি তাঁরই ওপর নির্ভর করি এবং আমি তাঁরই অভিমুখী।” [সূরা হুদ, আয়াত: ৮৮]
আর আমি আল্লাহ তা‘আলার নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদেরকে, আমাদের নারীদেরকে, আমাদের পরিবারসমূহকে, আমাদের সমাজকে এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের সমাজসমূহকে সংশোধন ও সংস্কার করে দেন, আর তাদেরকে যাবতীয় অনিষ্টতা ও বিশৃঙ্খলা থেকে যেন তিনি রক্ষা করেন। আর তিনি যেন তাদের ব্যাপারে ষড়যন্ত্রকারীদের ষড়যন্ত্রকে, সীমালংঘনকারীদের বাড়াবাড়িকে, মুনাফিকদের নিফাকীকে ও বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের উপায়-উপকরণসমূহকে প্রত্যাখ্যান ও প্রতিরোধ করেন। আর তিনি যেন তাদের ধ্বংসকে তাদের শিক্ষায় পরিণত করেন, তিনি শ্রবণকারী, আহ্বানে সাড়াদানকারী।
এটা হলো চেষ্টা ও সাধনা, যার জন্য আমি আল্লাহ তা‘আলার নিকট প্রার্থনা করছি, তিনি যেন এটাকে এই জীবনে ও মৃত্যুর পরবর্তী জীবনের জন্য সঞ্চয় হিসেবে গ্রহণ করেন, আর তার মধ্যে যা কিছু সঠিক রয়েছে, তা তাঁরই পক্ষ থেকে, আর তার মধ্যে এর ব্যতিক্রম যা রয়েছে, তবে তো আমার পক্ষ থেকে। তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি সকল প্রকার ভুল-ক্রটি থেকে। আর পাঠক-পাঠিকা ভাই ও বোনদের মধ্য থেকে যিনি এমন কিছু পান, যা উপদেশ, দৃষ্টি আকর্ষণী অথবা প্রস্তাবনা আকারে আমার নিকট আসা প্রয়োজন, (তা যদি আমাকে জানানো হয়) তাতে আমি তার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকব, আহ্বান করব আল-কুরআনের ভাষায়:
﴿وَتَعَاوَنُواْ عَلَى ٱلۡبِرِّ وَٱلتَّقۡوَىٰۖ وَلَا تَعَاوَنُواْ عَلَى ٱلۡإِثۡمِ وَٱلۡعُدۡوَٰنِۚ وَٱتَّقُواْ ٱللَّهَۖ إِنَّ ٱللَّهَ شَدِيدُ ٱلۡعِقَابِ ٢﴾ [ سُورَةُ المَائِدَةِ : 2]
“সৎকর্ম ও তাকওয়ার ব্যাপারে তোমরা পরস্পর সাহায্য করবে এবং পাপ ও সীমালংঘনের ক্ষেত্রে একে অন্যের সাহায্য করবে না। আর আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করবে, নিশ্চয় আল্লাহ শাস্তিদানে কঠোর।”-[সূরা আল-মায়েদাহ, আয়াত: ২]
و صلى الله و سلم على نبينا محمد و على آله و صحبه أجمعين .
লেখক: ফালেহ ইবন মুহাম্মাদ ইবন ফালেহ আস-সগীর
রিয়াদ: ১৭/৪/১৪২২ হিজরী