hadith book logo

মুসলিম নারী এবং সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে তার দায়িত্ব ও কর্তব্য

লেখকঃ অধ্যাপক ড. ফালেহ ইবন মুহাম্মাদ আস-সুগাইর • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৯

মুসলিম নারীর সাংস্কৃতিক ভিত্তির খুঁটিসমূহ:

১. বিশুদ্ধ ইসলামী ধ্যানধারণাকে মৌলিক বিষয় হিসেবে তার মধ্যে সুপ্রতিষ্ঠিত করা, যার ওপর শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রাসাদ নির্মিত হবে।

এই ধ্যানধারণা অন্তর্ভুক্ত করবে:

ঈমানের সাথে সম্পর্কিত বিষয়সমূহ, যা পূর্বে আলোচনা করা হয়েছে।

মুসলিম নারীর জীবনে আল-কুরআনুল কারীম ও পবিত্র সুন্নাহর মর্যাদার দৃষ্টিকোণ থেকে উভয়ের সাথে সম্পর্কিত বিষয়সমূহ।

ইসলামের স্তম্ভ ও তার বৈশিষ্ট্যসমূহের সাথে সম্পর্কিত বিষয়সমূহ।

আর মানুষের সাথে সম্পর্কিত জগতের বিষয়সমূহ।

জীবনের বিভিন্ন স্তর ও স্বভাব-প্রকৃতির সাথে সম্পর্কিত বিষয়সমূহ

এবং স্বয়ং মানুষের সাথে সম্পর্কিত বিষয়সমূহ।

আর যাতে করে এই ধ্যানধারণাটি বিশুদ্ধ হয়, সেই জন্য মুসলিম নারীর জন্য আবশ্যক হলো, সে ঐ ধ্যানধারণাটি ইসলামের মূল দু’টি উৎস আল-কুরআনুল কারীম ও পবিত্র সুন্নাহ থেকে গ্রহণ করবে; আর পূর্ববর্তী সত্যনিষ্ঠ আলিমগণ এই উভয় উৎস থেকে যা অনুধাবন করেছেন, তা থেকে।

২. তাফসীর, হাদীস, ফিকহ ও সীরাতসহ ইসলামের বিভিন্ন শাস্ত্রে ওপর প্রতিষ্ঠিত শরী‘আত কর্তৃক অনুমোদিত সংস্কৃতির পূর্ণতা বিধান করা। যা মুসলিম নারীর ব্যক্তিত্বের মধ্যে সুদৃঢ় সাস্কৃতিক ভিত প্রতিষ্ঠিত করবে। আর এই সিলেবাসের পরিমাণ কতটুকু? এখানে তার নির্ধারিত কোনো পরিমাণ নেই। কারণ, তা প্রত্যেক নারীর স্বভাব-প্রকৃতির ওপর নির্ভর করে; কিন্তু তাকে অবশ্যই নিম্নোক্ত বিষয়াদি সম্পর্কে সম্যক অবগত থাকতে হবে:

ক. সে বিভিন্ন শাস্ত্রের ভূমিকাসমূহের ব্যাপারে জানবে, যা ঐ শাস্ত্রের মূলনীতি হিসেবে বিবেচিত। যেমন, উসূলে তাফসীরের ভুমিকা, অনুরূপভাবে ‘উলুমুল হাদীসের ভূমিকা ...।

খ. ঐসব শাস্ত্রে নারীর ব্যাপারে যে বিশেষ আলোচনা রয়েছে, সে সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা।

গ. অনবরত শর‘ঈ তথা কুরআন ও হাদীসের জ্ঞান অর্জন এবং ইসলামী সংস্কৃতির লালন করতে সচেষ্ট থাকা।

৩. সমসাময়িক আলিমগণ যেসব লেখালেখি করেন, তা পাঠ করা। কেননা তারা যে পরিবেশ-পরিস্থিতিতে বসবাস করে, তার বাস্তব চিত্র তাদের জানা রয়েছে। আর মুসলিম নারীর জন্য পূর্ববর্তী লেখকদের লিখিত মূল গ্রন্থপঞ্জির ওপর নির্ভর করাই যথেষ্ট নয়। কারণ, তা বাস্তব অবস্থা থেকে দূরে সরিয়ে রাখবে এবং তার কার্যকারিতা হ্রাস করবে।

৪. চতুর্থ খুঁটি হলো, মুসলিম নারীকে অপরাপর সহযোগী বিদ্যা যেমন ভাষা, ইতিহাস, সাহিত্যের মত জ্ঞান-বিজ্ঞানের মাধ্যমে তার সংস্কৃতিকে লালন করা। কারণ, এটি তার জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে সমৃদ্ধ করবে, নিয়মনীতির প্রচলন করবে এবং চিন্তা-ভাবনার খোরাক বৃদ্ধি করবে।

৫. আরও একটি অন্যতম স্তম্ভ হলো মুসলিম নারীকে তার শিক্ষা ও সংস্কৃতির ভিত নির্মাণে যেসব প্রতিবন্ধকতা বাধা সৃষ্টি করে, সে দিকে মনোযোগ দেওয়া। কেননা প্রতিবন্ধকতাসমূহ কোনো কোনো সময় এই ভীতের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে অথবা তাতে ফাটল দেখা দেবে; আর যেসব বিষয় এই প্রতিবন্ধকতাসমূহ অতিক্রম করতে তাকে সহযোগিতা করবে, তা হলো:

ক. সে আকীদা-বিশ্বাস, শরী‘আতের বিধিবিধান, নৈতিকতা, পারিবারিক ইত্যাদি দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ইসলামী জীবনপদ্ধতি এমনভাবে অধ্যয়ন করবে যে, তা একটি পরিপূর্ণ প্রাসাদ, যার একাংশ অপর অংশের মাধ্যমে পূর্ণতা লাভ করে।

খ. সাংস্কৃতিক ভিত তৈরিতে ভারসাম্য রক্ষা করা, যাতে তার দৃষ্টিভঙ্গি ও চিন্তা-দর্শনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় থাকে। সুতরাং সে কোনো নির্দিষ্ট সিলেবাসের ওপর সীমাবদ্ধ থাকবে না অথবা সে তার মেধাকে একেবারে উন্মুক্ত করে দেবে না প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সংস্কৃতি থেকে যা ছড়িয়ে পড়েছে, তা গ্রহণ করার জন্য। সুতরাং এমনটি হলে সে পথভ্রষ্টতায় পতিত হবে।