hadith book logo

ঈমানের রুকনসমূহ

লেখকঃ ইলমী গবেষণা ডীনশীপ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, মদিনা মুনাওয়ারা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৪

(৪) কিতাবসমূহের ওপর ঈমান আনার নিয়ম:

আল্লাহর কিতাবসমূহের প্রতি সংক্ষিপ্ত ও বিস্তারিতভাবে ঈমান আনা যায়।

সংক্ষিপ্ত ঈমান: এ ঈমান আনা যে, আল্লাহ তা‘আলা তাঁর রাসূলগণের ওপর অনেক কিতাব অবতীর্ণ করেছেন।

বিস্তারিতভাবে ঈমান:

এ ঈমান আনা যে, আল্লাহ তা‘আলা কুরআনে কারীমে যে সকল কিতাবের নাম উল্লেখ করেছেন, তার ওপর ঈমান আনা। তা থেকে আমরা জেনেছি কুরআন, তাওরাত, যাবুর, ইনজীল এবং ইবরাহীম ও মূসা আলাইহিমাস সালামের প্রতি অবতীর্ণ পুস্তিকাসমূহ।

আরো ঈমান আনা যে, ঐ সকল কিতাব ছাড়াও আল্লাহর অনেক কিতাব রয়েছে, যা তিনি তাঁর নবীগণের ওপর অবতীর্ণ করেছেন। আর আল্লাহ ছাড়া ঐ সকল কিতাবের নাম ও সংখ্যা কেউ জানে না।

আরও ঈমান আনা যে, এ কিতাবগুলো অবতীর্ণ হয়েছে যাবতীয় সৎকর্ম ও ইবাদত একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার নিমিত্তে সম্পাদনের মাধ্যমে তাঁর তাওহীদ বাস্তবায়ন এবং পৃথিবী থেকে শির্ক ও অন্যায়-অনাচার দূরীভূত করার জন্য। মূলত সকল নবীদের দাওয়াত এক মূলনীতির (তাওহীদ প্রতিষ্ঠা ও শির্ক বর্জনের) ওপর ছিল, যদিও তারা নিয়ম কানুন ও বিধি-বিধানে কিছুটা ভিন্ন রকম ছিলেন।

এ ঈমানও রাখা যে, পূর্ববর্তী রাসূলদের প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে কিতাব অবতীর্ণ হয়েছিল। আর আল-কুরআনের ওপর ঈমান আনার অর্থ হলো, তা অন্তরে ও মুখে স্বীকৃতি দেওয়া এবং কুরআনে যা রয়েছে তা অনুসরণ করা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿ءَامَنَ ٱلرَّسُولُ بِمَآ أُنزِلَ إِلَيۡهِ مِن رَّبِّهِۦ وَٱلۡمُؤۡمِنُونَۚ كُلٌّ ءَامَنَ بِٱللَّهِ وَمَلَٰٓئِكَتِهِۦ وَكُتُبِهِۦ وَرُسُلِهِ﴾ [ البقرة : ٢٨٥ ]

“রাসূল বিশ্বাস রাখেন ঐ সমস্ত বিষয় সম্পর্কে যা তাঁর পালনকর্তার পক্ষ থেকে তাঁর কাছে অবতীর্ণ হয়েছে এবং মুমিনরাও। সকলেই বিশ্বাস রাখে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফিরিশতাদের প্রতি, তাঁর গ্রন্থসমূহের প্রতি এবং তাঁর রাসূলগণের প্রতি।” [সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৮৫]

তিনি আরো বলেন,

﴿ٱتَّبِعُواْ مَآ أُنزِلَ إِلَيۡكُم مِّن رَّبِّكُمۡ وَلَا تَتَّبِعُواْ مِن دُونِهِۦٓ أَوۡلِيَآءَۗ﴾ [ الاعراف : ٣ ]

“তোমরা অনুসরণ কর, যা তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হয়েছে। আর আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য সাথীদের অনুসরণ করো না।” [সূরা আল-আ‘রাফ, আয়াত: ৩]

পূর্ববতী কিতাবের চেয়ে কুরআনের কিছু ভিন্ন বৈশিষ্ট্য রয়েছে:

(১) আল-কুরআন স্বীয় শব্দ, অর্থ এবং ওতে যে জ্ঞান ও পার্থিব তথ্য রয়েছে তা সর্ববিষয়ে এক অলৌকিক শক্তি।

(২) আল-কুরআন সর্বশেষ আসমানী কিতাব, কুরআনের মাধ্যমে আসমানী কিতাবের পরিসমাপ্তি ঘটেছে। যেমন, আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রিসালাতের দ্বারা সকল রিসালাতের পরিসমাপ্তি ঘটেছে।

(৩) সকল প্রকার বিকৃতি ও পরিবর্তন হতে আল্লাহ কুরআনকে হিফাযত করবেন। আর তাই অন্যান্য কিতাব থেকে তা স্বতন্ত্র। কেননা সে সব কিতাবে বিকৃতি ও পরিবর্তন পরিবর্ধন ঘটেছে।

(৪) আল-কুরআন পূর্ববর্তী কিতাবের সত্যায়ন ও সংরক্ষণকারী।

(৫) কুরআন পূর্ববর্তী সকল কিতাবের রহিতকারী।

আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿مَا كَانَ حَدِيثٗا يُفۡتَرَىٰ وَلَٰكِن تَصۡدِيقَ ٱلَّذِي بَيۡنَ يَدَيۡهِ وَتَفۡصِيلَ كُلِّ شَيۡءٖ وَهُدٗى وَرَحۡمَةٗ لِّقَوۡمٖ يُؤۡمِنُونَ ١١١﴾ [ يوسف : ١١١ ]

“এটা কোনো মনগড়া কথা নয়, কিন্ত যারা ঈমান রাখে তাদের জন্য পূর্বেকার কালামের সমর্থন এবং প্রত্যেক বস্তুর বিবরণ রহমত ও হিদায়াত।” [সূরা ইউসুফ, আয়াত: ১১১]