১
ঈমানের রুকনসমূহ
লেখকঃ ইলমী গবেষণা ডীনশীপ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, মদিনা মুনাওয়ারা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৯
(৩) রাসূল প্রেরণের হিকমত বা রহস্য:
রাসূলগণের প্রেরণের হিকমত নিম্নরূপ:
প্রথমত: বান্দাদেরকে বান্দার ইবাদত করা থেকে মুক্ত করে বান্দার প্রতিপালকের (আল্লাহর) ইবাদতে নিয়ে যাওয়া এবং সৃষ্টিজীবের দাসত্বের বন্ধন থেকে মুক্ত করে স্বীয় রবের (আল্লাহর) স্বাধীন ইবাদতের পথ দেখানো।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿وَمَآ أَرۡسَلۡنَٰكَ إِلَّا رَحۡمَةٗ لِّلۡعَٰلَمِينَ ١٠٧﴾ [ الانبياء : ١٠٧ ]
“আর আমরা তো আপনাকে কেবল সৃষ্টিকুলের জন্যে রহমতস্বরূপই প্রেরণ করেছি।” [সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: ১০৭]
দ্বিতীয়ত: যে উদ্দেশ্যে আল্লাহ সৃষ্টিজীব সৃষ্টি করেছেন, সে উদ্দেশ্যের সাথে (মানুষকে) পরিচয় করানো।
আর সে উদ্দেশ্য হলো তাঁর একত্ববাদ বিশ্বাস ও ইবাদত করা। তা একমাত্র রাসূলগণের মাধ্যমে জানা যায়। যাদেরকে আল্লাহ তাঁর সৃষ্টজীব থেকে মনোনয়ন করেছেন এবং সকলের ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿وَلَقَدۡ بَعَثۡنَا فِي كُلِّ أُمَّةٖ رَّسُولًا أَنِ ٱعۡبُدُواْ ٱللَّهَ وَٱجۡتَنِبُواْ ٱلطَّٰغُوتَۖ﴾ [ النحل : ٣٦ ]
“আর অবশ্যই আমরা প্রত্যেক উম্মাতের মধ্যেই রাসূল প্রেরণ করেছি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর এবং তাগূতকে (আল্লাহ ব্যতীত অন্যের ইবাদত করা হয় তাদেরকে) বর্জন কর।” [সূরা আন-নাহল, আয়াত: ৩৬]
তৃতীয়ত: রাসূলগণকে প্রেরণের মাধ্যমে মানুষের ওপর হুজ্জাত (পক্ষ-বিপক্ষের দলীল) প্রতিষ্ঠিত করা।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿رُّسُلٗا مُّبَشِّرِينَ وَمُنذِرِينَ لِئَلَّا يَكُونَ لِلنَّاسِ عَلَى ٱللَّهِ حُجَّةُۢ بَعۡدَ ٱلرُّسُلِۚ وَكَانَ ٱللَّهُ عَزِيزًا حَكِيمٗا ١٦٥﴾ [ النساء : ١٦٥ ]
“সুসংবাদদাতা ও ভীতি-প্রদর্শনকারী রাসূলগণকে প্রেরণ করেছি, যাতে রাসূলগণের পরে আল্লাহর প্রতি অপবাদ আরোপ করার মতো কোনো অবকাশ মানুষের জন্য না থাকে, আর আল্লাহ পরাক্রমশীল, প্রজ্ঞাময়।” [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১৬৫]
চতুর্থত: কিছু গায়েবী বিষয়ের বিষয় বর্ণনা করা, যা মানুষ তাদের জ্ঞান দ্বারা উপলব্ধি করতে পারে না।
যেমন, আল্লাহর নামসমূহ ও তাঁর গুণসমূহ এবং ফিরিশতাদের ও শেষ দিবস সম্পর্কে জানা ইত্যাদি।
পঞ্চমত: যাতে রাসূলরা অনুসরণীয় উত্তম আদর্শ হয়; কেননা আল্লাহ তাদেরকে উত্তম চরিত্রে পূর্ণ করেছেন এবং তাদেরকে সংশয় ও প্রবৃত্তির অনুসরণ থেকে মুক্ত রেখেছেন।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿أُوْلَٰٓئِكَ ٱلَّذِينَ هَدَى ٱللَّهُۖ فَبِهُدَىٰهُمُ ٱقۡتَدِهۡۗ﴾ [ الانعام : ٩٠ ]
“তারা এমন ছিলেন, যাদেরকে আল্লাহ পথ-প্রদর্শন করেছিলেন, অতএব আপনিও তাদের পথ অনুসরণ করুন।” [সূরা আল-আন‘আম, আয়াত: ৯০]
তিনি আরো বলেন,
﴿لَقَدۡ كَانَ لَكُمۡ فِيهِمۡ أُسۡوَةٌ حَسَنَةٞ﴾ [ الممتحنة : ٦ ]
“তোমাদের জন্য রাসূলদের মধ্যে উত্তম আদর্শ-রয়েছে।” [সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ২১]
ষষ্ঠত: আত্মশুদ্ধি ও পবিত্রকরণ এবং আত্মবিনষ্টকারী থেকে সর্তক-সাবধান করা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿هُوَ ٱلَّذِي بَعَثَ فِي ٱلۡأُمِّيِّۧنَ رَسُولٗا مِّنۡهُمۡ يَتۡلُواْ عَلَيۡهِمۡ ءَايَٰتِهِۦ وَيُزَكِّيهِمۡ وَيُعَلِّمُهُمُ ٱلۡكِتَٰبَ وَٱلۡحِكۡمَةَ وَإِن كَانُواْ مِن قَبۡلُ لَفِي ضَلَٰلٖ مُّبِينٖ ٢﴾ [ الجمعة : ٢ ]
“তিনিই সে সত্তা, যিনি নিরক্ষরদের মধ্য থেকে একজন রাসূল প্রেরণ করেছেন, যিনি তাদের কাছে পাঠ করেন তাঁর আয়াতসমূহ, তাদেরকে পবিত্র করেন এবং শিক্ষা দেন কিতাব ও হিকমাত।” [সূরা আল-জুমু‘আ, আয়াত: ২]
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«إنما بعثت لأتمم مكارم الأخلاق» .
“আমি উত্তম আদর্শ পরিপূর্ণ করার জন্যেই প্রেরিত হয়েছি।” (আহমদ ও হাকেম)
প্রথমত: বান্দাদেরকে বান্দার ইবাদত করা থেকে মুক্ত করে বান্দার প্রতিপালকের (আল্লাহর) ইবাদতে নিয়ে যাওয়া এবং সৃষ্টিজীবের দাসত্বের বন্ধন থেকে মুক্ত করে স্বীয় রবের (আল্লাহর) স্বাধীন ইবাদতের পথ দেখানো।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿وَمَآ أَرۡسَلۡنَٰكَ إِلَّا رَحۡمَةٗ لِّلۡعَٰلَمِينَ ١٠٧﴾ [ الانبياء : ١٠٧ ]
“আর আমরা তো আপনাকে কেবল সৃষ্টিকুলের জন্যে রহমতস্বরূপই প্রেরণ করেছি।” [সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: ১০৭]
দ্বিতীয়ত: যে উদ্দেশ্যে আল্লাহ সৃষ্টিজীব সৃষ্টি করেছেন, সে উদ্দেশ্যের সাথে (মানুষকে) পরিচয় করানো।
আর সে উদ্দেশ্য হলো তাঁর একত্ববাদ বিশ্বাস ও ইবাদত করা। তা একমাত্র রাসূলগণের মাধ্যমে জানা যায়। যাদেরকে আল্লাহ তাঁর সৃষ্টজীব থেকে মনোনয়ন করেছেন এবং সকলের ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿وَلَقَدۡ بَعَثۡنَا فِي كُلِّ أُمَّةٖ رَّسُولًا أَنِ ٱعۡبُدُواْ ٱللَّهَ وَٱجۡتَنِبُواْ ٱلطَّٰغُوتَۖ﴾ [ النحل : ٣٦ ]
“আর অবশ্যই আমরা প্রত্যেক উম্মাতের মধ্যেই রাসূল প্রেরণ করেছি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর এবং তাগূতকে (আল্লাহ ব্যতীত অন্যের ইবাদত করা হয় তাদেরকে) বর্জন কর।” [সূরা আন-নাহল, আয়াত: ৩৬]
তৃতীয়ত: রাসূলগণকে প্রেরণের মাধ্যমে মানুষের ওপর হুজ্জাত (পক্ষ-বিপক্ষের দলীল) প্রতিষ্ঠিত করা।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿رُّسُلٗا مُّبَشِّرِينَ وَمُنذِرِينَ لِئَلَّا يَكُونَ لِلنَّاسِ عَلَى ٱللَّهِ حُجَّةُۢ بَعۡدَ ٱلرُّسُلِۚ وَكَانَ ٱللَّهُ عَزِيزًا حَكِيمٗا ١٦٥﴾ [ النساء : ١٦٥ ]
“সুসংবাদদাতা ও ভীতি-প্রদর্শনকারী রাসূলগণকে প্রেরণ করেছি, যাতে রাসূলগণের পরে আল্লাহর প্রতি অপবাদ আরোপ করার মতো কোনো অবকাশ মানুষের জন্য না থাকে, আর আল্লাহ পরাক্রমশীল, প্রজ্ঞাময়।” [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১৬৫]
চতুর্থত: কিছু গায়েবী বিষয়ের বিষয় বর্ণনা করা, যা মানুষ তাদের জ্ঞান দ্বারা উপলব্ধি করতে পারে না।
যেমন, আল্লাহর নামসমূহ ও তাঁর গুণসমূহ এবং ফিরিশতাদের ও শেষ দিবস সম্পর্কে জানা ইত্যাদি।
পঞ্চমত: যাতে রাসূলরা অনুসরণীয় উত্তম আদর্শ হয়; কেননা আল্লাহ তাদেরকে উত্তম চরিত্রে পূর্ণ করেছেন এবং তাদেরকে সংশয় ও প্রবৃত্তির অনুসরণ থেকে মুক্ত রেখেছেন।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿أُوْلَٰٓئِكَ ٱلَّذِينَ هَدَى ٱللَّهُۖ فَبِهُدَىٰهُمُ ٱقۡتَدِهۡۗ﴾ [ الانعام : ٩٠ ]
“তারা এমন ছিলেন, যাদেরকে আল্লাহ পথ-প্রদর্শন করেছিলেন, অতএব আপনিও তাদের পথ অনুসরণ করুন।” [সূরা আল-আন‘আম, আয়াত: ৯০]
তিনি আরো বলেন,
﴿لَقَدۡ كَانَ لَكُمۡ فِيهِمۡ أُسۡوَةٌ حَسَنَةٞ﴾ [ الممتحنة : ٦ ]
“তোমাদের জন্য রাসূলদের মধ্যে উত্তম আদর্শ-রয়েছে।” [সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ২১]
ষষ্ঠত: আত্মশুদ্ধি ও পবিত্রকরণ এবং আত্মবিনষ্টকারী থেকে সর্তক-সাবধান করা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿هُوَ ٱلَّذِي بَعَثَ فِي ٱلۡأُمِّيِّۧنَ رَسُولٗا مِّنۡهُمۡ يَتۡلُواْ عَلَيۡهِمۡ ءَايَٰتِهِۦ وَيُزَكِّيهِمۡ وَيُعَلِّمُهُمُ ٱلۡكِتَٰبَ وَٱلۡحِكۡمَةَ وَإِن كَانُواْ مِن قَبۡلُ لَفِي ضَلَٰلٖ مُّبِينٖ ٢﴾ [ الجمعة : ٢ ]
“তিনিই সে সত্তা, যিনি নিরক্ষরদের মধ্য থেকে একজন রাসূল প্রেরণ করেছেন, যিনি তাদের কাছে পাঠ করেন তাঁর আয়াতসমূহ, তাদেরকে পবিত্র করেন এবং শিক্ষা দেন কিতাব ও হিকমাত।” [সূরা আল-জুমু‘আ, আয়াত: ২]
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«إنما بعثت لأتمم مكارم الأخلاق» .
“আমি উত্তম আদর্শ পরিপূর্ণ করার জন্যেই প্রেরিত হয়েছি।” (আহমদ ও হাকেম)