hadith book logo

ঈমানের রুকনসমূহ

লেখকঃ ইলমী গবেষণা ডীনশীপ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, মদিনা মুনাওয়ারা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪৪

(১৬) তাকদীরের ওপর ঈমান আনার ফলাফল:

ফায়সালা ও তাকদীরের ওপর ঈমান আনার অনেক শুভ-পরিণাম, সুন্দর প্রভাব রয়েছে যা জাতীয় ও ব্যক্তি জীবনে কল্যাণ নিয়ে আসে:

(ক) তাকদীরের ওপর ঈমান বিভিন্ন প্রকার নেক আমল ও ভাল গুণ অর্জন করার সুযোগ তৈরি করে। যেমন, আল্লাহর ইখলাস বা একনিষ্ঠতা, তাঁর ওপর ভরসা করা, তাঁকে ভয় করা, তাঁর কাছে কিছু পাওয়ার আশা করা, তাঁর প্রতি ভালো ধারণা রাখা, ধৈর্য ধারণ করা, প্রখর সহনশীলতা, নৈরাশ্য দূর করা, আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট থাকা, একমাত্র আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা, তাঁর অনুগ্রহ ও দয়া পেয়ে খুশী হওয়া। একমাত্র আল্লাহর জন্য বিনয়, নম্রতা প্রকাশ করা, উদাসীনতা ও অহংকার ত্যাগ করা। আল্লাহর প্রতি ভরসা করে ভালো পথে ব্যয় করার মন মানষিকতাও সৃষ্টি করে। বীরত্ব সৃষ্টি করে, ভালো কাজ করার দিকে অগ্রসর করে, অল্পে তুষ্ট থাকার গুণ তৈরী করে, আত্মসম্মানী করে, উচ্চাভিলাষী করে, কর্ম দক্ষতা সৃষ্টি করে, কর্ম সম্পাদনের প্রচেষ্টা তৈরী করে সুখে-দুখে মধ্য পথ অবলম্বনকারী তৈরি করে, হিংসা ও প্রতিবাদ করা থেকে নিরাপদে রাখে। বাজে গাল-গল্প, বাতিল কাজ থেকে বিবেককে মূক্ত রাখে। আত্মার প্রশান্তি ও তৃপ্তির ব্যবস্থা করে।

(খ) তাকদীরের ওপর ঈমান ওয়ালা ব্যক্তি তার জীবনে সঠিক ও সরল পথে পরিচালিত হয়।

অধিক নি‘আমত তাকে পথভ্রষ্ট করতে পারে না, আর বিপদে নিরাশ হয় না। আর সে নিশ্চিত বিশ্বাস রাখে যে, তাকে যে বিপদ র্স্পশ করেছে তা (তার জন্য) আল্লাহর নির্ধারণ মাত্র, তার পরীক্ষাস্বরূপ। ঘাবড়ায় না, বিচলিত হয় না; বরং ধৈর্য ধারণ করে ও সওয়াবের আশা রাখে।

(গ) তাকদীরের ওপর ঈমান তার লোককে পথভ্রষ্টতার কারণসমূহ ও জীবনের অশুভ সমাপনী থেকে হিফাযত করে। এটি মুমিনের জন্য সঠিক পথে প্রতিষ্ঠা থাকার স্থায়ী প্রচেষ্টা, নেক কাজ বেশি বেশি করার সুযোগ, নাফরমানীপূর্ণ ও ধ্বংসাত্মক কাজ থেকে বিরত থাকার সুযোগ করে দেয়।

(ঘ) তাকদীরের ওপর ঈমান মুমিনদের জন্য সুদৃঢ় অন্তর ও পূর্ণ বিশ্বাসের দ্বারা ভয়ানক ও কঠিন কর্মকে প্রতিহত করার মনোভাব তৈরি করে দেয়, মাধ্যম বা উপকরণ গ্রহণ করার দ্বারা। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«عجبا لأمر المؤمن إن أمره كله له خير وليس ذلك إلا للمؤمن، إن أصابته سراء شكر فكان خيرا له، وإن أصابته ضراء صبر فكان خيرا له» .

“কি আর্শ্চয্য! নিশ্চয় মুমিনের সকল কর্মই ভালো, আর তা শুধু মুমিনের জন্য খাস, যদি তাকে কোনো আনন্দ স্পর্শ করে সে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে, ফলে তা তাঁর জন্য কল্যাণ হয়। আর যদি তাকে কোনো বিপদ র্স্পশ করে তবে সে ধৈর্য ধারণ করে, ফলে তা তার জন্য কল্যাণ হয়।” (সহীহ মুসলিম)

সমাপ্ত