১
ঈমানের রুকনসমূহ
লেখকঃ ইলমী গবেষণা ডীনশীপ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, মদিনা মুনাওয়ারা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৫
তাওহীদ বাস্তবায়ন বা তাওহীদ প্রতিষ্ঠা:
তাওহীদের বাস্তবায়ন হলো, তাওহীদকে শির্ক, বিদ‘আত ও পাপাচার মুক্ত করা।
তাওহীদকে কলুষমুক্ত করা দু’রকম:
(১) ফরয ও
(২) মুস্তাহাব।
তন্মধ্যে ফরয তাওহীদ তিন বিষয়ের মাধ্যমে হয়:
(১) তাওহীদকে এমন শির্ক থেকে মুক্ত করা, যা মূল তাওহীদের পরিপন্থী।
(২) তাওহীদকে এমন বিদ‘আত থেকে মুক্ত করা যা তাওহীদের পরিপূর্ণতার পরিপন্থী, অথবা মূল তাওহীদের পরিপন্থী সে বিদ‘আত যদি কুফুরী পর্যায়ের হয়ে থাকে।
(৩) তাওহীদকে এমন পাপকর্ম থেকে মুক্ত করা যা তাওহীদের (অর্জিত) পূণ্য হ্রাস করে এবং তাওহীদে কু-প্রভাব ফেলে।
আর মান্দুব (তাওহীদ) তা হলো সকল মুস্তাহাব কাজ। যেমন:
(ক) ইহসানের (ইখলাসের) পূর্ণ বাস্তবায়ন।
(খ) ইয়াকীনের পূর্ণ বাস্তবায়ন করা।
(গ) আল্লাহ ছাড়া কারো নিকট অভিযোগ না করে পূর্ণ ধৈর্য ধারণ করা।
(ঘ) সৃষ্টজীব থেকে মুক্ত হয়ে শুধুমাত্র আল্লাহর কাছে চাওয়াই যথেষ্ট মনে করা।
(চ) কিছু বৈধ উপকরণ ত্যাগের মাধ্যমে আল্লাহর ওপর পূর্ণ তাওয়াক্কুলের প্রকাশ। যেমন, ঝাড় ফুঁক ও দাগ (রোগ নিরাময়ের জন্য ছেঁক লাগানো) ছেড়ে দেওয়া।
(ছ) নফল ইবাদত করে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের মাধ্যমে পূর্ণ ভালোবাসা লাভ করা।
অতঃপর যারা তাওহীদকে বাস্তবায়ন করবে উপরের বর্ণনানুপাতে এবং বড় শির্ক থেকে বেঁচে থাকবে, তারা জাহান্নামে চিরস্থায়ী বসবাস করা থেকে পরিত্রান লাভ করবে।
আর যারা বড় ও ছোট শির্ক করা থেকে বেঁচে থাকবে এবং বড় ও ছোট পাপ থেকে দূরে থাকবে, তাদের জন্য দুনিয়াতে ও আখিরাতে পূর্ণ নিরাপত্তা রয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿إِنَّ ٱللَّهَ لَا يَغۡفِرُ أَن يُشۡرَكَ بِهِۦ وَيَغۡفِرُ مَا دُونَ ذَٰلِكَ لِمَن يَشَآءُۚ وَمَن يُشۡرِكۡ بِٱللَّهِ فَقَدِ ٱفۡتَرَىٰٓ إِثۡمًا عَظِيمًا ٤٨﴾ [ النساء : ٤٨ ]
“নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা তাঁর সাথে শির্কের অপরাধ ক্ষমা করবেন না। আর তা ব্যতীত যাকে ইচ্ছা করেন (তার অন্যান্য অপরাধ) তিনি ক্ষমা করে দেন।” [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৪৮]
তিনি আরো বলেন,
﴿ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَلَمۡ يَلۡبِسُوٓاْ إِيمَٰنَهُم بِظُلۡمٍ أُوْلَٰٓئِكَ لَهُمُ ٱلۡأَمۡنُ وَهُم مُّهۡتَدُونَ ٨٢﴾ [ الانعام : ٨٢ ]
“যারা ঈমান আনে এবং স্বীয় বিশ্বাসকে শির্কের সাথে মিশ্রিত করেনা,তাদের জন্যই শান্তি এবং তারাই সুপথগামী।” [সূরা আল- আন‘আম, আয়াত: ৮২]
তাওহীদের বিপরীত শির্ক, আর তা তিন প্রকার:
(১) বড় শির্ক, যা মূল তাওহীদের পরিপন্থী, আল্লাহ শির্কের গোনাহ্ তাওবাহ্ ছাড়া মাফ করেন না। যে ব্যক্তি শির্কের ওপর মারা যাবে, সে চিরস্থায়ী জাহান্নামী হবে।
শির্ক হল, আল্লাহর ইবাদতে কাউকে তাঁর সমকক্ষ নির্ধারণ করে যেমনিভাবে আল্লাহকে ডাকে তেমনিভাবে সে সমকক্ষ নির্ধারণকৃতকে ডাকা, তাকে উদ্দেশ্য করে কাজ করা, তার ওপর ভরসা করা, তার কাছে কোনো কিছুর আশা করা। তাকে সে রূপ ভালোবাসা ও সে রূপ ভয় করা যেরূপ আল্লাহকে ভালোবাসে ও ভয় করে।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿إِنَّهُۥ مَن يُشۡرِكۡ بِٱللَّهِ فَقَدۡ حَرَّمَ ٱللَّهُ عَلَيۡهِ ٱلۡجَنَّةَ وَمَأۡوَىٰهُ ٱلنَّارُۖ وَمَا لِلظَّٰلِمِينَ مِنۡ أَنصَارٖ ٧٢﴾ [ المائدة : ٧٢ ]
“নিশ্চয় যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে আংশিদার স্থির করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করেছেন এবং তার বাসস্থান হবে জাহান্নাম। আর অত্যাচারীদের (মুশরিকদের) কোনো সাহায্যকারী নেই।” [সূরা আল-মায়েদাহ, আয়াত: ৭২]
(২) ছোট শির্ক তাওহীদের পূর্ণতার পরিপন্থী। আর তা হচ্ছে, এমন প্রত্যেক মাধ্যম যা বড় শির্কের দিকে নিয়ে যায়। যেমন আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে শপথ করা। রিয়া বা লোক দেখানো কাজ।
(৩) গোপনীয় শির্ক, যা নিয়্যাত ও উদ্দেশ্যের সাথে সম্পৃক্ত থাকে। তা কখনো ছোট, আবার কখনো বড় শির্কে পরিণত হয়।
সাহাবী মাহমুদ ইবন লবীদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«إن أخوف ما أخاف عليكم الشرك الأصغر، قالوا وماالشرك الأصغر يارسول الله ؟ قال : الرياء» .
“আমি তোমাদের ওপর সব চেয়েবেশী ভয় পাই ছোট শির্কের। সাহাবারা জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! ছোট শির্ক কি? তিনি বললেন, তা হল রিয়া বা লোক দেখানো কাজ।” (আহমদ)
তাওহীদকে কলুষমুক্ত করা দু’রকম:
(১) ফরয ও
(২) মুস্তাহাব।
তন্মধ্যে ফরয তাওহীদ তিন বিষয়ের মাধ্যমে হয়:
(১) তাওহীদকে এমন শির্ক থেকে মুক্ত করা, যা মূল তাওহীদের পরিপন্থী।
(২) তাওহীদকে এমন বিদ‘আত থেকে মুক্ত করা যা তাওহীদের পরিপূর্ণতার পরিপন্থী, অথবা মূল তাওহীদের পরিপন্থী সে বিদ‘আত যদি কুফুরী পর্যায়ের হয়ে থাকে।
(৩) তাওহীদকে এমন পাপকর্ম থেকে মুক্ত করা যা তাওহীদের (অর্জিত) পূণ্য হ্রাস করে এবং তাওহীদে কু-প্রভাব ফেলে।
আর মান্দুব (তাওহীদ) তা হলো সকল মুস্তাহাব কাজ। যেমন:
(ক) ইহসানের (ইখলাসের) পূর্ণ বাস্তবায়ন।
(খ) ইয়াকীনের পূর্ণ বাস্তবায়ন করা।
(গ) আল্লাহ ছাড়া কারো নিকট অভিযোগ না করে পূর্ণ ধৈর্য ধারণ করা।
(ঘ) সৃষ্টজীব থেকে মুক্ত হয়ে শুধুমাত্র আল্লাহর কাছে চাওয়াই যথেষ্ট মনে করা।
(চ) কিছু বৈধ উপকরণ ত্যাগের মাধ্যমে আল্লাহর ওপর পূর্ণ তাওয়াক্কুলের প্রকাশ। যেমন, ঝাড় ফুঁক ও দাগ (রোগ নিরাময়ের জন্য ছেঁক লাগানো) ছেড়ে দেওয়া।
(ছ) নফল ইবাদত করে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের মাধ্যমে পূর্ণ ভালোবাসা লাভ করা।
অতঃপর যারা তাওহীদকে বাস্তবায়ন করবে উপরের বর্ণনানুপাতে এবং বড় শির্ক থেকে বেঁচে থাকবে, তারা জাহান্নামে চিরস্থায়ী বসবাস করা থেকে পরিত্রান লাভ করবে।
আর যারা বড় ও ছোট শির্ক করা থেকে বেঁচে থাকবে এবং বড় ও ছোট পাপ থেকে দূরে থাকবে, তাদের জন্য দুনিয়াতে ও আখিরাতে পূর্ণ নিরাপত্তা রয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿إِنَّ ٱللَّهَ لَا يَغۡفِرُ أَن يُشۡرَكَ بِهِۦ وَيَغۡفِرُ مَا دُونَ ذَٰلِكَ لِمَن يَشَآءُۚ وَمَن يُشۡرِكۡ بِٱللَّهِ فَقَدِ ٱفۡتَرَىٰٓ إِثۡمًا عَظِيمًا ٤٨﴾ [ النساء : ٤٨ ]
“নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা তাঁর সাথে শির্কের অপরাধ ক্ষমা করবেন না। আর তা ব্যতীত যাকে ইচ্ছা করেন (তার অন্যান্য অপরাধ) তিনি ক্ষমা করে দেন।” [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৪৮]
তিনি আরো বলেন,
﴿ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَلَمۡ يَلۡبِسُوٓاْ إِيمَٰنَهُم بِظُلۡمٍ أُوْلَٰٓئِكَ لَهُمُ ٱلۡأَمۡنُ وَهُم مُّهۡتَدُونَ ٨٢﴾ [ الانعام : ٨٢ ]
“যারা ঈমান আনে এবং স্বীয় বিশ্বাসকে শির্কের সাথে মিশ্রিত করেনা,তাদের জন্যই শান্তি এবং তারাই সুপথগামী।” [সূরা আল- আন‘আম, আয়াত: ৮২]
তাওহীদের বিপরীত শির্ক, আর তা তিন প্রকার:
(১) বড় শির্ক, যা মূল তাওহীদের পরিপন্থী, আল্লাহ শির্কের গোনাহ্ তাওবাহ্ ছাড়া মাফ করেন না। যে ব্যক্তি শির্কের ওপর মারা যাবে, সে চিরস্থায়ী জাহান্নামী হবে।
শির্ক হল, আল্লাহর ইবাদতে কাউকে তাঁর সমকক্ষ নির্ধারণ করে যেমনিভাবে আল্লাহকে ডাকে তেমনিভাবে সে সমকক্ষ নির্ধারণকৃতকে ডাকা, তাকে উদ্দেশ্য করে কাজ করা, তার ওপর ভরসা করা, তার কাছে কোনো কিছুর আশা করা। তাকে সে রূপ ভালোবাসা ও সে রূপ ভয় করা যেরূপ আল্লাহকে ভালোবাসে ও ভয় করে।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿إِنَّهُۥ مَن يُشۡرِكۡ بِٱللَّهِ فَقَدۡ حَرَّمَ ٱللَّهُ عَلَيۡهِ ٱلۡجَنَّةَ وَمَأۡوَىٰهُ ٱلنَّارُۖ وَمَا لِلظَّٰلِمِينَ مِنۡ أَنصَارٖ ٧٢﴾ [ المائدة : ٧٢ ]
“নিশ্চয় যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে আংশিদার স্থির করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করেছেন এবং তার বাসস্থান হবে জাহান্নাম। আর অত্যাচারীদের (মুশরিকদের) কোনো সাহায্যকারী নেই।” [সূরা আল-মায়েদাহ, আয়াত: ৭২]
(২) ছোট শির্ক তাওহীদের পূর্ণতার পরিপন্থী। আর তা হচ্ছে, এমন প্রত্যেক মাধ্যম যা বড় শির্কের দিকে নিয়ে যায়। যেমন আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে শপথ করা। রিয়া বা লোক দেখানো কাজ।
(৩) গোপনীয় শির্ক, যা নিয়্যাত ও উদ্দেশ্যের সাথে সম্পৃক্ত থাকে। তা কখনো ছোট, আবার কখনো বড় শির্কে পরিণত হয়।
সাহাবী মাহমুদ ইবন লবীদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«إن أخوف ما أخاف عليكم الشرك الأصغر، قالوا وماالشرك الأصغر يارسول الله ؟ قال : الرياء» .
“আমি তোমাদের ওপর সব চেয়েবেশী ভয় পাই ছোট শির্কের। সাহাবারা জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! ছোট শির্ক কি? তিনি বললেন, তা হল রিয়া বা লোক দেখানো কাজ।” (আহমদ)