১
ঈমানের রুকনসমূহ
লেখকঃ ইলমী গবেষণা ডীনশীপ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, মদিনা মুনাওয়ারা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৪১
(১৩) তাকদীরের দ্বারা দলীল দেওয়া:
ভবিষ্যতে কি হবে বা না হবে এই সম্পর্কে আল্লাহর পূর্ব জ্ঞান, যা গায়েবী বিষয় তা তিনি ব্যতীত কেউ জানে না। যা মানুষ ও জিন্নদের অজানা। এতে কোনো ব্যক্তিরই স্বীয় পক্ষ গ্রহণের দলীল নেই। আর যে বিষয় ফায়সালা হয়ে গেছে তার ওপর ভরসা করে কর্ম ত্যাগ করা ঠিক নয়। সুতরাং তাকদীরকে আল্লাহর বিরুদ্ধে ও তাঁর সৃষ্টির কারো জন্য দলীল বা হুজ্জাত হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।
যদি খারাপ কাজ করার ওপর তাকদীরের দ্বারা দলীল দেওয়া বৈধ হতো তাহলে অত্যাচারী শাস্তিপ্রাপ্ত হতো না, মুশরিক ব্যক্তির হত্যা হতো না, হদ বা বিধান প্রতিষ্ঠিত হতো না, আর কেউ অত্যাচার করা থেকে বিরত থাকতো না। আর তা দীন ও দুনিয়াতে অশান্তি সৃষ্টি করার মাধ্যম হত, যার ভয়াবহতা সকলের জানা।
আর যারা ভাগ্য দ্বারা দলীল দেয়, তাদেরকে আমরা বলবো তুমি জান্নাতী না জাহান্নামী এ ব্যাপারে তোমার নিকট তো নিশ্চিত জ্ঞান নেই। আর যদি তোমার নিকট এ ব্যাপারে নিশ্চিত জ্ঞান থাকত অবশ্যই আমরা তোমাকে সৎকাজের আদেশ দিতাম না ও অন্যায় থেকে নিষেধও করতাম না; বরং তুমি কর্ম সম্পাদন কর নিশ্চয় আল্লাহ তোমাকে তাওফীক প্রদান করবেন, আর তুমি জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হবে।
কিছু কিছু সাহাবী যখন তাকদীরের হাদীসসমূহ শুনতেন তখন বলতেন, এখন তুমি আমার চাইতে বেশি প্রচেষ্টাকারী নও। (অর্থাৎ আমি বেশি প্রচেষ্টাকারী, আমি তাকদীরের ওপর নির্ভর করে বসে থাকার মত লোক নই, তাকদীরকে বাহানা করে আমল ছেড়ে দেওয়ার লোক আমি নই)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আত্মপক্ষ সমর্থনে তাকদীরের দ্বারা দলীল দেওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন,
«اعملوا فكل ميسر لما خلق له فمن كان من أهل السعادة فسييسر لعمل أهل السعادة، ومن كان من أهل الشقاوة فسييسر لعمل أهل الشقاوة»
“তোমরা কর্ম সম্পাদন করতে থাকো, যাকে যার জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে তা তার জন্য সহজসাধ্য হবে। সুতরাং যে সৌভাগ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত তার জন্য সৌভাগ্যবান ব্যক্তিদের যে কাজ সেটা করা সহজ করে দেওয়া হবে। আর যে দূর্ভাগ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত, তার জন্য দূর্ভাগ্যবান ব্যক্তিদের যে কাজ সে কাজ সহজ করে দেওয়া হবে। অতঃপর নিম্নের আয়াত পাঠ করলেন,
﴿فَأَمَّا مَنۡ أَعۡطَىٰ وَٱتَّقَىٰ ٥ وَصَدَّقَ بِٱلۡحُسۡنَىٰ ٦ فَسَنُيَسِّرُهُۥ لِلۡيُسۡرَىٰ ٧ وَأَمَّا مَنۢ بَخِلَ وَٱسۡتَغۡنَىٰ ٨ وَكَذَّبَ بِٱلۡحُسۡنَىٰ ٩ فَسَنُيَسِّرُهُۥ لِلۡعُسۡرَىٰ ١٠﴾ [ الليل : ٥، ١٠ ]
“অতএব, যে দান করে এবং তাকওয়া অবলম্বন করে এবং উত্তম বিষয়কে সত্য মনে করে, আমরা তাকে সুখের বিষয়ের জন্য সহজ পথ দান করব। আর যে কৃপণতা করে ও বেপরওয়া হয় এবং উত্তম বিষয়কে মিথ্যা মনে করে, আমরা তাকে কষ্টের বিষয়ের জন্য সহজ পথ দান করব।” [সূরা আল-লাইল, আয়াত: ৫-১০]
যদি খারাপ কাজ করার ওপর তাকদীরের দ্বারা দলীল দেওয়া বৈধ হতো তাহলে অত্যাচারী শাস্তিপ্রাপ্ত হতো না, মুশরিক ব্যক্তির হত্যা হতো না, হদ বা বিধান প্রতিষ্ঠিত হতো না, আর কেউ অত্যাচার করা থেকে বিরত থাকতো না। আর তা দীন ও দুনিয়াতে অশান্তি সৃষ্টি করার মাধ্যম হত, যার ভয়াবহতা সকলের জানা।
আর যারা ভাগ্য দ্বারা দলীল দেয়, তাদেরকে আমরা বলবো তুমি জান্নাতী না জাহান্নামী এ ব্যাপারে তোমার নিকট তো নিশ্চিত জ্ঞান নেই। আর যদি তোমার নিকট এ ব্যাপারে নিশ্চিত জ্ঞান থাকত অবশ্যই আমরা তোমাকে সৎকাজের আদেশ দিতাম না ও অন্যায় থেকে নিষেধও করতাম না; বরং তুমি কর্ম সম্পাদন কর নিশ্চয় আল্লাহ তোমাকে তাওফীক প্রদান করবেন, আর তুমি জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হবে।
কিছু কিছু সাহাবী যখন তাকদীরের হাদীসসমূহ শুনতেন তখন বলতেন, এখন তুমি আমার চাইতে বেশি প্রচেষ্টাকারী নও। (অর্থাৎ আমি বেশি প্রচেষ্টাকারী, আমি তাকদীরের ওপর নির্ভর করে বসে থাকার মত লোক নই, তাকদীরকে বাহানা করে আমল ছেড়ে দেওয়ার লোক আমি নই)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আত্মপক্ষ সমর্থনে তাকদীরের দ্বারা দলীল দেওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন,
«اعملوا فكل ميسر لما خلق له فمن كان من أهل السعادة فسييسر لعمل أهل السعادة، ومن كان من أهل الشقاوة فسييسر لعمل أهل الشقاوة»
“তোমরা কর্ম সম্পাদন করতে থাকো, যাকে যার জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে তা তার জন্য সহজসাধ্য হবে। সুতরাং যে সৌভাগ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত তার জন্য সৌভাগ্যবান ব্যক্তিদের যে কাজ সেটা করা সহজ করে দেওয়া হবে। আর যে দূর্ভাগ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত, তার জন্য দূর্ভাগ্যবান ব্যক্তিদের যে কাজ সে কাজ সহজ করে দেওয়া হবে। অতঃপর নিম্নের আয়াত পাঠ করলেন,
﴿فَأَمَّا مَنۡ أَعۡطَىٰ وَٱتَّقَىٰ ٥ وَصَدَّقَ بِٱلۡحُسۡنَىٰ ٦ فَسَنُيَسِّرُهُۥ لِلۡيُسۡرَىٰ ٧ وَأَمَّا مَنۢ بَخِلَ وَٱسۡتَغۡنَىٰ ٨ وَكَذَّبَ بِٱلۡحُسۡنَىٰ ٩ فَسَنُيَسِّرُهُۥ لِلۡعُسۡرَىٰ ١٠﴾ [ الليل : ٥، ١٠ ]
“অতএব, যে দান করে এবং তাকওয়া অবলম্বন করে এবং উত্তম বিষয়কে সত্য মনে করে, আমরা তাকে সুখের বিষয়ের জন্য সহজ পথ দান করব। আর যে কৃপণতা করে ও বেপরওয়া হয় এবং উত্তম বিষয়কে মিথ্যা মনে করে, আমরা তাকে কষ্টের বিষয়ের জন্য সহজ পথ দান করব।” [সূরা আল-লাইল, আয়াত: ৫-১০]