১
একজন ঈমানদার দা‘ঈর গুণাবলী
লেখকঃ মুহাম্মদ শাহিদুল ইসলাম • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৯
লজ্জা ও শালীনতাবোধ
১৭. লজ্জা ও শালীনতাবোধ: লজ্জা ঈমানের অঙ্গ। যার লজ্জা নেই, সে যা ইচ্ছা করতে পারে। আর লজ্জা মানুষ প্রকৃত মানুষ রূপে গড়ে তোলে। লজ্জার গুরুত্ব সম্পর্কে নিম্নে আলোচনা করা হল:
আবু হুরায়রাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ‘ঈমানের সত্তরের অধিক শাখা-প্রশাখা রয়েছে। তন্মধ্যে সর্বোত্তম হল ‘আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোনো উপাস্য নেই’ একথা বলা এবং সর্বনিম্ন স্তর হল রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরানো। আর লজ্জা হল ঈমানের একটি শাখা’। [. বুখারী, হাদীস নং- ৯; মুসলিম, হাদীস নং-৩৫।]
ইবনু ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ‘লজ্জা ও ঈমান অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। সুতরাং এর একটি তুলে নেয়া হলে অপরটিও তুলে নেয়া হয়’। আব্দুল্লাহ ইবনু আববাস রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর এক বর্ণনায় আছে ‘যখন উভয়ের কোন একটিকে ছিনিয়ে নেয়া হয়, তখন অপরটিও তার পশ্চাতে অনুগমন করে। [. আত-তারগীব, হাদীস নং-২৬৩৬]
যায়েদ ইবনু তালহা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ‘প্রত্যেক দ্বীনের একটি বিশেষ স্বভাব আছে। আর দ্বীন ইসলামের বিশেষ স্বভাব হল লজ্জাশীলতা’। [. ছহীহ আত-তারগীব, হাদীস নং-২৬৩২]
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ‘নির্লজ্জতা কোন জিনিসের মধ্যে থাকলে তাকে ত্রুটিপূর্ণ করে। আর লাজুকতা কোনো জিনিসের মধ্যে থাকলে তার শ্রী বৃদ্ধি করে। [. ছহীহ আত-তারগীব, হাদীস নং-২৬৩৫; তিরমিযী হাদীস নং- ১৯৭৪।]
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: ‘হে আয়েশা! লজ্জা যদি কোন লোক হয় তাহলে সে হবে সৎ ব্যক্তি। আর অশ্লীলতা (লজ্জাহীনতা) কোন লোক হলে নিশ্চয়ই সে হবে নিকৃষ্ট লোক। [. ছহীহ আত-তারগীব, হাদীস নং-২৬৩১]
আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ‘পূর্ববর্তী নবীগণের বাণী হ’তে পরবর্তী লোকেরা (অবিকৃতাবস্থায়) যা পেয়েছে (এবং যা অদ্যাবধি বিদ্যমান) তা হ’ল তুমি যখন বেহায়া হয়ে যাবে তখন তুমি যা ইচ্ছা তাই কর। [. বুখারী, হাদীস নং-৩৪৮৩, ৩৪৮৪।]
কুররাহ ইবনু ইয়াস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত তিনি বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলাম। তাঁর নিকটে লজ্জাশীলতার কথা উল্লেখ করা হল। ছাহাবায়ে কেরাম বললেন:হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! লজ্জাশীলতা হচ্ছে দ্বীনের অংশ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:‘বরং সেটা (লাজুকতা) হচ্ছে পূর্ণাঙ্গ দ্বীন। [. আত-তারগীব, হাদীস নং-২৬৩০]
আব্দুল্লাহ ইবন মাস‘ঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ‘তোমরা আল্লাহকে যথাযথ লজ্জা কর। রাবী বলেন: আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমরা অবশ্যই আল্লাহর ব্যাপারে লজ্জা করি, আলহামদুলিল্লাহ। তিনি বলেন: এটা নয়। বরং আল্লাহকে যথাযথ লজ্জা করতে হবে। অর্থাৎ তুমি তোমার মাথাকে ও উহা যা স্মরণ রাখে তাকে হেফাযত করবে। পেট ও উহার অভ্যন্তরীণ বিষয়কে হেফাযত করবে। মৃত্যু ও পরীক্ষাকে স্মরণ করবে। আর যে আখিরাতের আশায় দুনিয়ার সৌন্দর্য ত্যাগ করে,সেই প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ্কে লজ্জা করে’। [. আত-তারগীব, হাদীস নং-২৬৩৮; তিরমিযী, ২৪৫৮।]
উপরোক্ত হাদীস থেকে প্রতীয়মান হয় যে, ঈমান ও লজ্জাশীলতা অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। যার লজ্জা নেই তার ঈমান নেই। আর যার ঈমান নেই, তার স্থান জাহান্নামে। অপরপক্ষে লজ্জাহীন মানুষ পশুতুল্য। বর্তমানে নারী-পুরুষ লজ্জাহীন হয়ে উঠছে। নিজেদের ইয্যত-আব্রু খোলা রাখার প্রতিযোগিতায় যেন তারা লিপ্ত হয়েছে। পুরুষের চেয়ে নারীরা বর্তমানে অধিকতর খোলামেলা পোষাক পরিধান করে চলাফেরা করে। যার পরিণতি হচ্ছে ধর্ষণ-অপহরণ ইত্যাদি। এসব থেকে পরিত্রাণের জন্য আমাদের স্ত্রী-কন্যাদের শালীন পোষাক পরিধানের পাশাপাশি যথাযথ পর্দায় রাখা একান্ত আবশ্যক। কোনো ঈমানদার লজ্জাশীল পুরুষ তার স্ত্রী-কন্যা, পরিবার-পরিজনকে অশালীন, নগ্ন পোষাক পরিয়ে অন্য মানুষের ঈমান হরণ করতে পারে না।
মোদ্দাকথা লজ্জা মু’মিনের ভূষণ। সুতরাং মু’মিন নর-নারীকে সেই ভুষণ আঁকড়ে থাকা অপরিহার্য।
আবু হুরায়রাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ‘ঈমানের সত্তরের অধিক শাখা-প্রশাখা রয়েছে। তন্মধ্যে সর্বোত্তম হল ‘আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোনো উপাস্য নেই’ একথা বলা এবং সর্বনিম্ন স্তর হল রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরানো। আর লজ্জা হল ঈমানের একটি শাখা’। [. বুখারী, হাদীস নং- ৯; মুসলিম, হাদীস নং-৩৫।]
ইবনু ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ‘লজ্জা ও ঈমান অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। সুতরাং এর একটি তুলে নেয়া হলে অপরটিও তুলে নেয়া হয়’। আব্দুল্লাহ ইবনু আববাস রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর এক বর্ণনায় আছে ‘যখন উভয়ের কোন একটিকে ছিনিয়ে নেয়া হয়, তখন অপরটিও তার পশ্চাতে অনুগমন করে। [. আত-তারগীব, হাদীস নং-২৬৩৬]
যায়েদ ইবনু তালহা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ‘প্রত্যেক দ্বীনের একটি বিশেষ স্বভাব আছে। আর দ্বীন ইসলামের বিশেষ স্বভাব হল লজ্জাশীলতা’। [. ছহীহ আত-তারগীব, হাদীস নং-২৬৩২]
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ‘নির্লজ্জতা কোন জিনিসের মধ্যে থাকলে তাকে ত্রুটিপূর্ণ করে। আর লাজুকতা কোনো জিনিসের মধ্যে থাকলে তার শ্রী বৃদ্ধি করে। [. ছহীহ আত-তারগীব, হাদীস নং-২৬৩৫; তিরমিযী হাদীস নং- ১৯৭৪।]
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: ‘হে আয়েশা! লজ্জা যদি কোন লোক হয় তাহলে সে হবে সৎ ব্যক্তি। আর অশ্লীলতা (লজ্জাহীনতা) কোন লোক হলে নিশ্চয়ই সে হবে নিকৃষ্ট লোক। [. ছহীহ আত-তারগীব, হাদীস নং-২৬৩১]
আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ‘পূর্ববর্তী নবীগণের বাণী হ’তে পরবর্তী লোকেরা (অবিকৃতাবস্থায়) যা পেয়েছে (এবং যা অদ্যাবধি বিদ্যমান) তা হ’ল তুমি যখন বেহায়া হয়ে যাবে তখন তুমি যা ইচ্ছা তাই কর। [. বুখারী, হাদীস নং-৩৪৮৩, ৩৪৮৪।]
কুররাহ ইবনু ইয়াস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত তিনি বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলাম। তাঁর নিকটে লজ্জাশীলতার কথা উল্লেখ করা হল। ছাহাবায়ে কেরাম বললেন:হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! লজ্জাশীলতা হচ্ছে দ্বীনের অংশ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:‘বরং সেটা (লাজুকতা) হচ্ছে পূর্ণাঙ্গ দ্বীন। [. আত-তারগীব, হাদীস নং-২৬৩০]
আব্দুল্লাহ ইবন মাস‘ঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ‘তোমরা আল্লাহকে যথাযথ লজ্জা কর। রাবী বলেন: আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমরা অবশ্যই আল্লাহর ব্যাপারে লজ্জা করি, আলহামদুলিল্লাহ। তিনি বলেন: এটা নয়। বরং আল্লাহকে যথাযথ লজ্জা করতে হবে। অর্থাৎ তুমি তোমার মাথাকে ও উহা যা স্মরণ রাখে তাকে হেফাযত করবে। পেট ও উহার অভ্যন্তরীণ বিষয়কে হেফাযত করবে। মৃত্যু ও পরীক্ষাকে স্মরণ করবে। আর যে আখিরাতের আশায় দুনিয়ার সৌন্দর্য ত্যাগ করে,সেই প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ্কে লজ্জা করে’। [. আত-তারগীব, হাদীস নং-২৬৩৮; তিরমিযী, ২৪৫৮।]
উপরোক্ত হাদীস থেকে প্রতীয়মান হয় যে, ঈমান ও লজ্জাশীলতা অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। যার লজ্জা নেই তার ঈমান নেই। আর যার ঈমান নেই, তার স্থান জাহান্নামে। অপরপক্ষে লজ্জাহীন মানুষ পশুতুল্য। বর্তমানে নারী-পুরুষ লজ্জাহীন হয়ে উঠছে। নিজেদের ইয্যত-আব্রু খোলা রাখার প্রতিযোগিতায় যেন তারা লিপ্ত হয়েছে। পুরুষের চেয়ে নারীরা বর্তমানে অধিকতর খোলামেলা পোষাক পরিধান করে চলাফেরা করে। যার পরিণতি হচ্ছে ধর্ষণ-অপহরণ ইত্যাদি। এসব থেকে পরিত্রাণের জন্য আমাদের স্ত্রী-কন্যাদের শালীন পোষাক পরিধানের পাশাপাশি যথাযথ পর্দায় রাখা একান্ত আবশ্যক। কোনো ঈমানদার লজ্জাশীল পুরুষ তার স্ত্রী-কন্যা, পরিবার-পরিজনকে অশালীন, নগ্ন পোষাক পরিয়ে অন্য মানুষের ঈমান হরণ করতে পারে না।
মোদ্দাকথা লজ্জা মু’মিনের ভূষণ। সুতরাং মু’মিন নর-নারীকে সেই ভুষণ আঁকড়ে থাকা অপরিহার্য।