hadith book logo

একজন ঈমানদার দা‘ঈর গুণাবলী

লেখকঃ মুহাম্মদ শাহিদুল ইসলাম • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩৪

অত্যাচার না করা

৩২. অত্যাচার না করা: যুলুম-অত্যাচার ইসলামের একটি জঘন্য অপরাধ, যাকে সবাই ঘৃণা করে। এর কারণে পার্থিব জীবনে মানুষ হবে লাঞ্ছিত এবং পরকালে ভোগ করতে হবে কঠিন শাস্তি। এ সম্পর্কে আল্লাহ বলেন ‘যালিমদের জন্য পরকালে কোন দরদী বন্ধু থাকবে না এবং তাদের জন্য কোন সুপারিশকারীও হবে না যার কথা মান্য করা হবে’। [. সূরা আল মুমিন ১৮]

অন্যত্র তিনি আরো বলেন ‘যালিমদের জন্য কোন সাহায্যকারী থাকবে না’। [. সূরা আল হজ্জ ৭১]

আবূ হুরায়রাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: ‘তোমরা বলতে পার সবচেয়ে নিঃস্ব কে? ছাহাবীগণ বললেন: আমাদের মাঝে সবচেয়ে দরিদ্র সেই যার কোন অর্থ নেই। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: আমার উম্মতে সবচেয়ে গরীব এমন ব্যক্তি যে সালাত, সিয়াম ও যাকাতের নেকী নিয়ে ক্বিয়ামতের মাঠে উপস্থিত হবে। অপরদিকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা অন্যায়ভাবে সম্পদ ভক্ষণ করা, অপবাদ দেয়া ও গালি দেয়ার অভিযোগ নিয়ে উপস্থিত হবে। তখন তার নেকী হতে তাদেরকে পরিশোধ করা হবে। তার নেকী শেষ হয়ে গেলে তাদের পাপ নিয়ে তার উপর চাপানো হবে এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে’। [. মুসলিম,, হাদীস নং-৪৬৭৮]

অত্র হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, অত্যাচারে হক নষ্ট করা হয়, যা পাপের অন্তর্ভুক্ত। এটার দায় ক্বিয়ামতের দিন পরিশোধ করতে হবে। আবু মূসা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: ‘আল্লাহ তা‘আলা অত্যাচারীকে এক নির্দিষ্ট সময়সীমা পর্যন্ত অবকাশ দিয়ে থাকেন। অবশেষে তাকে যখন পাকড়াও করেন,তখন তাকে আর ছাড়েন না। অতঃপর তিনি এই আয়াতটি পাঠ করলেন ‘তোমার প্রতিপালকের ধরা এইরূপ যে যখন তিনি অত্যাচারী জনপদকে পাকড়াও করেন, তাঁর ধরা বড় কঠিন’। [. বুখারী, হাদীস নং-৪৩১৮]