hadith book logo

একজন ঈমানদার দা‘ঈর গুণাবলী

লেখকঃ মুহাম্মদ শাহিদুল ইসলাম • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩৩

সালাম দেয়া

৩১. সালাম দেয়া: ‘সালাম’ আরবী শব্দ, এর আভিধানিক অর্থ শান্তি, নিরাপত্তা ইত্যাদি। পারিভাষিক অর্থে মুসলিমগণ পারস্পরিক সাক্ষাতে যে বাক্য বিনিময় করে থাকে তাকে সালাম বলে। পৃথিবীর সূচনাকাল থেকে প্রত্যেক জাতির মাঝে সালাম বা অভিবাদনের রীতি প্রচলিত ছিল এবং বর্তমানেও আছে। তবে এই রীতি-পদ্ধতির মাঝে ভিন্নতা রয়েছে। তবে ইসলামী সালাম রীতি একই যা আদি পিতা আদম আলাইহিস সালাম থেকে চলে আসছে। মুসলিমদেরকে সালামের নির্দেশ দিয়ে এরশাদ করেন :

﴿فَإِذَا دَخَلۡتُم بُيُوتٗا فَسَلِّمُواْ عَلَىٰٓ أَنفُسِكُمۡ تَحِيَّةٗ مِّنۡ عِندِ ٱللَّهِ مُبَٰرَكَةٗ طَيِّبَةٗۚ﴾ [ النور : ٦١ ]

‘যখন তোমরা ঘরে প্রবেশ করবে, তখন নিজেদের লোকদেরকে সালাম করবে। এটা আল্লাহর পক্ষ হতে বরকতময় ও পবিত্র অভিবাদন।’ [. সূরা আন নূর, ৬১]

অন্যত্র মহান আল্লাহ আরো বলেন:

﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لَا تَدۡخُلُواْ بُيُوتًا غَيۡرَ بُيُوتِكُمۡ حَتَّىٰ تَسۡتَأۡنِسُواْ وَتُسَلِّمُواْ عَلَىٰٓ أَهۡلِهَاۚ ذَٰلِكُمۡ خَيۡرٞ لَّكُمۡ لَعَلَّكُمۡ تَذَكَّرُونَ ٢٧ ﴾ [ النور : ٢٧ ]

‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদের ঘর ছাড়া অন্যের ঘরে প্রবেশ কর না, যতক্ষণ না অনুমতি গ্রহণ কর এবং তার বাসিন্দাকে সালাম কর। ওটা তোমাদের জন্য উত্তম। যাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর। [. সূরা আন নূর, ২৭]

তিনি আরো বলেন:

﴿ وَإِذَا حُيِّيتُم بِتَحِيَّةٖ فَحَيُّواْ بِأَحۡسَنَ مِنۡهَآ أَوۡ رُدُّوهَآۗ ﴾ [ النساء : ٨٦ ]

‘যখন তোমরা সালাম কর উত্তম পন্থায় সালাম কর। অথবা সালাম দাতার কথাগুলোই উত্তরে বলে দিবে। [. সূরা আন নিসা, ৮৬]

আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ‘তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না, যতক্ষণ না তোমরা ঈমান আনয়ন করবে। আর তোমরা ঈমানদার হিসাবে গণ্য হবে না যতক্ষণ না তোমরা পরস্পরকে ভালবাসবে। আমি কি তোমাদেরকে এমন উপায় নির্দেশ করব না যা অবলম্বন করলে তোমাদের পারস্পরিক ভালবাসা বৃদ্ধি পাবে? তোমরা পরস্পরের মধ্যে সালামের প্রচলন করবে। [. মুসলিম, হাদীস নং-৪৬৩১]

উপরোক্ত হাদীস থেকে বুঝা যায় যে, মানুষের জন্য সরাসরি জান্নাতে প্রবেশ করতে হলে পরিপূর্ণ ঈমানদার হতে হবে। আর পরিপূর্ণ ঈমানদার হওয়ার জন্য প্রয়োজন মুসলিমদের একে অপরকে ভালবাসা এবং পরস্পরকে ভালবাসার মাধ্যম হচ্ছে সালাম। পারস্পরিক সালাম বিনিময়ের মাধ্যমে একে অপরের সাথে ভালবাসা সৃষ্টি হয়। আর এ ভালবাসার মাধ্যমে মু’মিন জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে।

হাদিসের এক বর্ণনায় এসেছে, বারা ইবনু আযেব রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন সাতটি কাজের। (১) রোগীর খোঁজ-খবর নেয়া (২) জানাযার সঙ্গে গমন করা (৩) হাঁচিদাতার জন্য দো‘আ করা (৪) দুর্বলকে সাহায্য করা (৫) মাযলূমের সাহায্য করা (৬) সালামের উত্তর দেয়া (৭) কসমকারীর কসম পূর্ণ করা। [. বুখারী, হাদীস নং-৫৭৫৪]